৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৫২৬/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৫২৫১
রসুন খাওয়া বৈধ এবং যে লোক বড়দের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করে এটা তার জন্য খাওয়া পরিহার করা কর্তব্য, অন্যান্য দুর্গন্ধযুক্ত বস্তুর বিধানও তাই পরিচ্ছেদ নাই
আবূ আইয়ূব (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট কোন খাদ্য নিয়ে আসলে তিনি সামান্য খেতেন আর বাকিটুকু আমার নিকট প্রেরণ করতেন। একদা তিনি এমন কিছু খাবার প্রেরণ করলেন যা হতে তিনি কিছুই আহার করেননি, কেননা তাতে রসুন ছিল। আমি তার কাছে জানতে চাইলাম, এটা কি নিষিদ্ধ? তিনি বললেন, না, তবে গন্ধের কারণে ওটা আমার কাছে অপছন্দনীয়। তিনি বললেন, তাহলে আমিও তা পছন্দ করব না, যা আপনি পছন্দ করেননি।
৫২৫২
রসুন খাওয়া বৈধ এবং যে লোক বড়দের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করে এটা তার জন্য খাওয়া পরিহার করা কর্তব্য, অন্যান্য দুর্গন্ধযুক্ত বস্তুর বিধানও তাই পরিচ্ছেদ নাই
শু‘বাহ্ (রহঃ)
উল্লেখিত সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেন।
৫২৫৩
রসুন খাওয়া বৈধ এবং যে লোক বড়দের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করে এটা তার জন্য খাওয়া পরিহার করা কর্তব্য, অন্যান্য দুর্গন্ধযুক্ত বস্তুর বিধানও তাই পরিচ্ছেদ নাই
আবূ আইয়ূব (রাঃ)
(হিজরতের সময়) নবী (ﷺ) তাঁর গৃহে মেহমান হলেন। নবী (ﷺ) অবস্থান করতেন নিচতলায় এবং আবু আইয়ুব (রাঃ) অবস্থান করতেন উপরতলায়। একদা রাতে আবু আইয়ুব (রাঃ) জাগ্রত হয়ে বললেন, আমরা তো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাথার উপর চলাফেরা করি। তখন তিনি সে স্থান হতে দূরে গিয়ে এক কোণে রাত্রি যাপন করলেন। অতঃপর (সকালে) নবী (ﷺ)-কে তিনি ব্যাপারটি জানালে নবী (ﷺ) বললেন, নিচতলায়ই অনেক সুবিধা। তখন তিনি বললেন, আপনি নিচে থাকবেন এমন ছাদে আমি উঠবো না। অতঃপর নবী (ﷺ) উপরতলায় এবং আবু আইয়ুব (রাঃ) নিচতলায় জায়গা পরিবর্তন করলেন।তিনি নবী (ﷺ)-এর জন্য খাদ্য প্রস্তুত করতেন যখন (অবশিষ্ট) খাদ্য ফেরত আনা হতো, তখন তিনি জানতে চাইতেন, রাসূল (ﷺ) কোন জায়গায় তাঁর আঙ্গুল স্পর্শ করেছেন। অতঃপর তাঁর আঙ্গুলের স্থান অনুসরণ করে সেখান থেকে খেতেন। একবার তিনি তাঁর জন্য খানা প্রস্তুত করলেন, যার মধ্যে রসুন ছিল। তাঁর নিকট ফেরত নিয়ে আসলে তিনি নবী (ﷺ)-এর আঙ্গুল স্পর্শের স্থান সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন।তাঁকে বলা হলো, তিনি এগুলো খাননি। তখন তিনি হতভম্ব হয়ে গেলেন এবং তাঁর কাছে গেলেন। তিনি বললেন, এটি কি হারাম? নবী (ﷺ) বললেন, না, তবে আমি এটি অপছন্দ করি। তিনি বললেন, তাহলে আপনি যা অপছন্দ করেন, আমিও তাই অপছন্দ করি। নবী (ﷺ)-এর নিকট সে সময় ওহী আসত।
৫২৫৪
মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তার জন্য ত্যাগ স্বীকার করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
এক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, আমি চরম অনাহারে ভুগছি। তিনি তাঁর কোনো এক সহধর্মিণীর নিকট লোক প্রেরণ করলে তিনি বললেন, ‘যে স্রষ্টা আপনাকে সঠিক দীনসহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম! আমার নিকট পানি ব্যতীত আর কিছু নেই।’ তিনি অপর এক স্ত্রীর নিকট লোক প্রেরণ করলে তিনিও অনুরূপ কথা বললেন। এভাবে তাঁরা সবাই একই কথা বললেন যে, ‘সে সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন, আমার কাছে পানি ব্যতীত আর কিছু নেই।’তখন তিনি বললেন, “আজ রাত্রে লোকটির কে অতিথিপরায়ণ হবে? আল্লাহ তার উপর দয়া করুন!” তখন এক আনসারী লোক উঠে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি।’ অতঃপর লোকটিকে নিয়ে আনসারী নিজ বাড়িতে গেলেন এবং তাঁর সহধর্মিণীকে বললেন, ‘তোমার নিকট কিছু আছে কি?’ সে বলল, ‘না। তবে সন্তানদের জন্য অল্প কিছু খাবার আছে।’ তিনি বললেন, ‘তুমি তাদের কিছু একটা দিয়ে ব্যস্ত রাখো। আর যখন অতিথি ঘরে ঢুকবে, তখন তুমি আলোটা নিভিয়ে দেবে। আর তাকে বুঝাবে যে, আমরাও খাবার খাচ্ছি। সে (মেহমান) যখন খাওয়া আরম্ভ করবে তখন তুমি আলোর পাশে যেয়ে সেটা নিভিয়ে দেবে।’রাবী বলেন, অতঃপর তারা বসে থাকলেন এবং অতিথি খেতে শুরু করলো। সকালে তিনি (আনসারী) নবী (ﷺ) এর কাছে আসলে, তিনি বললেনঃ “আজ রাত্রে অতিথির সঙ্গে তোমাদের উভয়ের ব্যবহারে আল্লাহ খুশী হয়েছেন।”
৫২৫৫
মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তার জন্য ত্যাগ স্বীকার করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রহঃ)
এক আনসারী লোকের বাড়িতে এক অতিথি রাত কাটালেন। তাঁর কাছে তাঁর ও সন্তানদের জন্য অল্প কিছু খাদ্য ব্যতীত আর কিছু ছিল না। তিনি তার স্ত্রীকে বললেন, “বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও, আলোটা নিভিয়ে দাও এবং তোমার নিকট যা কিছু আছে তাই অতিথির জন্য পেশ করো।” রাবী বলেন, এরপর এ আয়াতটি নাযিল হয়: “তারা তাদের উপর অপরকে প্রাধান্য দেয়, যদিও তারা অনাহারে থাকে” - (সূরা আল হাশর ৫৯ : ৯)।
৫২৫৬
মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তার জন্য ত্যাগ স্বীকার করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মেহমান হয়ে এক লোক তাঁর নিকট এলেন। কিন্তু তাঁর কাছে এমন কিছু ছিল না যা দিয়ে তিনি সে ব্যক্তির আপ্যায়ন করবেন। তখন তিনি বললেন, “এর মেহমানদারী করার মতো কেউ কি আছে? আল্লাহ তার উপর দয়া করুক!”এ সময় আবু তালহা নামক এক আনসারী লোক দাঁড়ালেন এবং লোকটিকে আপন গৃহে নিয়ে গেলেন। অতঃপর রাবী শেষ পর্যন্ত হাদীসটি জারীর (রহঃ)-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। আর তিনি ওকী' (রহঃ)-এর মতো আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কথাও বর্ণনা করেছেন।
৫২৫৭
মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তার জন্য ত্যাগ স্বীকার করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
মিক্‌দাদ (রাঃ)
প্রচুর খাদ্য সংকটে আমার ও দুসাথীর দৃষ্টিশক্তি ও শ্রুতিশক্তি কমে যায়। অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের নিকটে নিজেদের উত্থাপন করতে লাগলাম। কিন্তু তাঁদের কেউ আমাদের কথা শুনলেন না। সবশেষে আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট আগমন করলে তিনি আমাদের সাথে নিয়ে তার পরিবারের নিকটে গেলেন। সেখানে তিনটি বকরী ছিল। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা দুধ দোহন করবে। এ দুধ আমরা বণ্টন করে পান করবো। এরপর থেকে আমরা দুধ দোহন করতাম। আমাদের সবাই যার যার অংশ পান করতো। আর আমরা নবী (ﷺ) এর জন্য তাঁর অংশ উঠিয়ে রাখতাম।মিকদাদ (রাঃ) বলেন, তিনি রাত্রে এসে এমনভাবে সালাম দিতেন যাতে নিদ্রারত লোক উঠে না যায় এবং জাগ্রত লোক শুনতে পায়। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি মসজিদে এসে সালাত আদায় করতেন। প্রত্যাবর্তন করে দুধ পান করতেন। একদা রাতে আমার নিকটে শয়তান আগমন করলো। আমি তো আমার অংশ পান করে ফেলেছিলাম। সে বলল, মুহাম্মাদ (ﷺ) আনসারীদের নিকটে গেলে তারা তাঁকে উপঢৌকন দিবে এবং তাদের নিকটে তাঁর এ অল্প দুধের প্রয়োজনীয়তাও ফুরিয়ে যাবে। অতঃপর আমি এসে সেটুকুও পান করে ফেললাম। দুধ যখন উত্তমভাবে আমার পেটে ঢুকে গেলে আমি বুঝলাম, এ দুধ বের করার আর কোন উপায় নেই তখন শয়তান আমার থেকে দূরে সরে গিয়ে বলল, তোমার ধ্বংস হোক, তুমি একি করলে! তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর দুধ পান করে ফেলেছ? তিনি জাগ্রত হয়ে যখন তা পাবেন না, তখন তোমার উপর বদ-দোয়া করবেন এতে তুমি সর্বনাশ হয়ে যাবে এবং তোমার ইহকাল ও পরকাল নিঃশেষ হয়ে যাবে।আমার শরীরে একটা চাদর ছিল। আমি যদি তা আমার পাদ্বয়ের উপর রাখি তাহলে আমার মাথা বের হয়ে পড়ে, আর যদি আমি তা আমার মাথার উপর রাখি তাহলে আমার পাদ্বয় বেরিয়ে পড়ে। কিছুতেই আমার ঘুম আসছিল না। আমার সাথীদ্বয় তো নিদ্রাচ্ছন্ন ছিল। তারা তো আমার মতো কাজ করেনি।অতঃপর নবী (ﷺ) আগমন করে যেভাবে সালাম করতেন সেভাবেই সালাম করলেন। অতঃপর তিনি মসজিদে এসে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দুধের নিকটে এসে ঢাকনা খুলে সেখানে কিছুই পেলেন না। এরপর তিনি নিজ মাথা আকাশের দিকে তুললেন। আমি তখন (মনে মনে) বললাম, এখনই হয়তো আমার উপর তিনি বদদোয়া করবেন, আর আমি নিঃশেষ হয়ে যাবো। তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! যে লোক আমার খাবারের ব্যবস্থা করে তুমি তার খাদ্যের ব্যবস্থা কর। আর যে আমাকে পান করায় তাকে তুমি পান করাও।”মিকদাদ (রাঃ) বলেন, তখন আমি চাদরটি নিয়ে গায়ে বাঁধলাম এবং একটি ছুরি নিলাম, অতঃপর (এ ভেবে) বকরীগুলোর কাছে গেলাম যে, এদের মধ্যে যেটি সবচেয়ে বেশি মোটাতাজা আমি সেটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য যবেহ করবো। সেখানে গিয়ে দেখলাম, সেটি দুধে পরিপূর্ণ এবং অন্যান্য সব বকরীও দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অতঃপর আমি মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পরিবারের একটি বাসন নিয়ে এলাম যার মধ্যে তাঁরা দুধ দোহাতেন না। তিনি [মিকদাদ (রাঃ)] বলেন, আমি তার মধ্যেই দুধ দোহন করলাম, এমনকি বাসনের উপরের অংশ ফেনা ফেসে উঠলো। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আগমন করলাম। তিনি বললেন, তোমরা কি রাত্রের দুধ পান করেছো? তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি পান করুন। তিনি পান করে আমাকে দিলেন। আমি যখন বুঝতে পারলাম যে, নবী (ﷺ) পরিতৃপ্ত হয়ে গেছেন এবং আমি তাঁর নেক দোয়া পেয়ে গেছি, তখন আমি খুশীতে হাসতে হাসতে মাটিতে নুয়ে পড়লে নবী (ﷺ) বললেনঃ হে মিকদাদ! এটা তোমার এক মন্দকাজ? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এ ঘটনা ঘটে গেছে। কিংবা তিনি বলেছেন, আমার দ্বারা এরূপ কাজ হয়ে গেছে। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ এটা একমাত্র আল্লাহর মেহেরবানী! তুমি কেন আমাকে জানালে না? আমরা আমাদের সঙ্গীদ্বয়কে জাগাতাম, তাহলে তারাও এর অংশ পেত। আমি তখন বললাম, যে মহান স্রষ্টা আপনাকে সত্য দীনসহ প্রেরণ করেছেন তাঁর কসম! আপনি যখন পেয়েছেন এবং আমি যখন আপনার সঙ্গে ভাগ পেয়েছি, তখন ভিন্ন কোন ব্যক্তি পাওয়া না পাওয়ার আমি তোয়াক্কা করি না।
৫২৫৮
মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তার জন্য ত্যাগ স্বীকার করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
সুলাইমান ইবনু মুগীরাহ্ (রহঃ)
উল্লেখিত সূত্রে হাদিসটি বর্ণিত রয়েছে।
৫২৫৯
মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তার জন্য ত্যাগ স্বীকার করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)
আমরা একশ ত্রিশ জন ব্যক্তি (এক সফরে) নবী (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমাদের মাঝে কারো নিকট খাবার আছে কি? দেখা গেল, এক লোকের নিকটে এক সা বা সমপরিমাণ খাদ্য রয়েছে। তা (মিশিয়ে) খামীর করা হলো। অতঃপর এলোমেলো চুলে দীর্ঘাঙ্গ এক মুশরিক লোক কিছু ছাগল হাঁকিয়ে নিয়ে আসল। নবী (ﷺ) বললেনঃ এগুলো বিক্রি করে দিবে না উপঢৌকন হিসেবে দিবে? কিংবা উপঢৌকন শব্দের স্থলে তিনি দান করবে বলেছিলেন। লোকটি বলল, না; আমি বরং বিক্রি করবো। নবী (ﷺ) তার নিকট থেকে একটি বকরী ক্রয় করলেন। বকরীটা যবেহ করা হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কলিজা ভূনা করতে নির্দেশ দিলেন। বর্ণনাকারী আবদুর রহমান (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! একশ ত্রিশজনের মাঝে একজনও এমন ছিল না যাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক টুকরো কলিজা দেননি। যারা সমবেত ছিল তাদেরকে তো তখনই দিয়েছেন। আর যারা উপস্থিত ছিল না তাদের জন্য পৃথকভাবে তুলে রেখেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, গোশত দুটি বাসনে বণ্টন করে রাখলেন। আমরা সবাই তৃপ্তি সহকারে খেলাম। তারপরও বাসন দু’টিতে গোশত অতিরিক্ত থাকল। আমি তা উটের উপর বহন করে নিয়ে গেলাম। কিংবা তিনি (রাবী) যেভাবে রিওয়ায়াত করেছেন।
৫২৬০
মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তার জন্য ত্যাগ স্বীকার করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু আবূ বকর (রাঃ)
আসহাবে সুফ্ফার মানুষজন দরিদ্র ছিলেন। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার বললেনঃ “যার কাছে দুইজনের খাদ্য আছে সে যেন তৃতীয় একজনকে নিয়ে যায়। আর যার নিকটে চারজনের খাদ্য রয়েছে, সে যেন পঞ্চম অথবা ষষ্ঠ ব্যক্তিকে নিয়ে যায়।” কিংবা রাবী যেভাবে বর্ণনা করেছেন।রাবী বলেন, আবু বকর (রাঃ) তিনজনকে সাথে নিয়ে আগমন করলেন। আর আল্লাহর নবী (ﷺ) দশজনকে নিয়ে রওনা হলেন। আমার পরিবারে আমরা ছিলাম তিনজন—আমি, আমার আব্বা ও আমার আম্মা। রাবী বলেন, আমি জানি না, তিনি বলেছেন কিনা যে, আমার সহধর্মিণী আমাদের ও আবু বকরের গৃহে শরীক খাদিম।বর্ণনাকারী বলেন, আবু বকর (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর বাড়িতে রাতের খাবার খেলেন। অতঃপর তিনি প্রতীক্ষা করলেন। পরিশেষে ‘ইশার সালাত আদায় করা হলো। সালাত শেষে ফিরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিদ্রাচ্ছন্ন হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রতীক্ষা করলেন। অতঃপর আল্লাহর ইচ্ছায় রাত্রির কিছু অংশ পার হতে তিনি (বাড়িতে) প্রত্যাবর্তন করলেন। তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, “অতিথি রেখে দেরি করলেন কেন?” তিনি বললেন, “কেন? তুমি কি তাঁদের রাতের খাবার খাওয়াওনি?” তাঁর সহধর্মিণী বললেন, “আপনি না ফেরা পর্যন্ত তারা খাবার খেতে নারাজ। কয়েকবারই খাবার দেয়া হয়েছে কিন্তু মেহমানরা তাদের কথা হতে ফিরে আসেনি।”আবদুর রহমান (রাঃ) বলেন, “আমি যেয়ে পালিয়ে রইলাম।” তিনি বললেন, “হে নির্বোধ!” অতঃপর তিনি আমাকে বকাঝকা করলেন। আর (মেহমানদের) বললেন, “ভাল হলো না। আপনারা খাবার গ্রহণ করুন।” তিনি আরও বললেন, “আল্লাহর শপথ! আমি এ খাবার গ্রহণ করব না।”আবদুর রহমান (রাঃ) বলেন, “আল্লাহর কসম! আমরা যে লোকমাই মুখে দিচ্ছিলাম তার নিচে এর থেকে বহু পরিমাণে বৃদ্ধি পেলে আবু বকর (রাঃ) খাবারের প্রতি খেয়াল করে দেখলেন, তা যেমন ছিল তেমনি আছে বা তার চেয়েও বেশি হয়েছে। তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন, ‘হে উখ্‌ত (বোন) বানী ফিরাস! একি অবস্থা,’ তিনি বললেন, ‘কিছু না। আমার চোখের প্রশান্তি এগুলো যা আগে ছিল তার থেকে তিন গুণ বর্ধিত হয়েছে।”আবদুর রহমান বলেন, অতঃপর আবু বকর (রাঃ) কিছু খেয়ে বললেন, “ওটা অর্থাৎ- শপথটা ছিল শয়তানের নিকট থেকে,” তারপর আরও এক লোকমা খেলেন। অতঃপর সেগুলো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে চললেন। আমিও তার নিকটে সকাল পর্যন্ত ছিলাম।আমাদের এবং কোন এক গোত্রের মধ্যে একটি অঙ্গীকারনামা ছিল। যার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আমরা (বারটি দল করে) বার জন ব্যক্তি নিযুক্ত করলাম। প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গে অনেক ব্যক্তি ছিল। আল্লাহই ভালো জানেন, প্রত্যেক লোকের সাথে কতজন ব্যক্তি ছিল। তাদের প্রত্যেকের কাছে এ খাদ্য প্রেরণ করা হলো এবং তারা সকলেই সে খাবার খেলেন। কিংবা রাবী যেভাবে বর্ণনা করেছেন।