৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৫২২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৫২১১
মেযবানের সন্তুষ্টি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকলে অন্যকে সাথে নিয়ে তার গৃহে উপস্থিত হওয়া জায়িয, আর একত্র থেকে খাওয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইব্‌নে মালিক (রাঃ)
(একদা) আবু তালহা (রাঃ) উম্মু সুলাইম (রাঃ)-কে বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুর্বল শব্দ শ্রবণ করে বুঝতে পেরেছি যে, তিনি ক্ষুধার্ত। তাই তোমার কাছে কিছু আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি যবের কয়েক খণ্ড রুটি বের করলেন। তারপর তার ওড়না নিলেন এবং এটির একাংশ দিয়ে রুটিগুলো পেঁচিয়ে আমার কাপড়ের তলায় গুঁজে দিলেন এবং ওপর অংশ আমার দেহে জড়িয়ে দিলেন। অতঃপর আমাকে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে প্রেরণ করলেন।তিনি (আনাস) বলেন, আমি এগুলো নিয়ে এসে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখতে পেলাম তিনি মসজিদে বসে আছেন। তাঁর সাথে আরও মানুষ ছিলেন। আমি তাঁদের নিকট গিয়ে দাঁড়ালাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমাকে আবু তালহা প্রেরণ করেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, খাওয়ার ব্যাপারে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তারপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাথীদের বললেন, সবাই চলো।আনাস (রাঃ) বলেন, তারপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) গেলেন। আর আমি তাদের সামনে চলতে লাগলাম। পরিশেষে আমি আবু তালহা (রাঃ)-এর কাছে এসে তাঁকে (ঘটনা) খবর দিলাম তখন আবু তালহা (রাঃ) বললেন, হে উম্মু সুলাইম (রাঃ)! রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তো লোকদের নিয়ে আসছেন, অথচ আমাদের কাছে সে পরিমাণ খাদ্য নেই যা দিয়ে তাঁদের আপ্যায়ন করতে পারি। [উম্মু সুলাইম (রাঃ) বললেন, (তুমি উদ্বিগ্ন হয়ো না) আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।আনাস (রাঃ) বলেন, তারপর আবু তালহা (রাঃ) যেয়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে দেখা করলেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাথে এসে (উভয়ে) ঘরে ঢুকলেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু সুলাইম (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, হে উম্মু সুলাইম! তোমার কাছে যা আছে নিয়ে আসো। তিনি সে রুটিগুলো তাঁর সাথে করে নিয়ে আসলেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দান করলেন সেগুলো টুকরা টুকরা করা হলো। আর উম্মু সুলাইম (রাঃ) চামড়া দ্বারা তৈরী ঘি-এর পাত্রটি চিপে সেটি সালুন হিসেবে দিলেন। আর এর ভিতরে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী কিছু পড়লেন। অতঃপর বললেন, দশজনকে আসতে বলো। তাদের ডাকা হলে এসে তৃপ্তির সাথে খাবার খেয়ে বেরিয়ে গেলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আরো দশজনকে আসতে বলো। তাদের ডাকা হলে তারা পেট ভরে খেয়ে চলে গেলেন। পুনরায় তিনি বললেন, দশজনকে ডাক। এভাবে দলের সকলে পেটপুরে খাবার খেলেন। সত্তর কিংবা আশিজন লোক তাদের দলে ছিল।
৫২১২
মেযবানের সন্তুষ্টি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকলে অন্যকে সাথে নিয়ে তার গৃহে উপস্থিত হওয়া জায়িয, আর একত্র থেকে খাওয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইব্‌নে মালিক (রাঃ)
আবু তালহা (রাঃ) কিছু খাদ্যের ব্যবস্থা করে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে দাওয়াত করার জন্য আমাকে প্রেরণ করলেন। আমি তাঁর নিকট গেলাম। তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাহাবীদের সাথে ছিলেন। তিনি আমার প্রতি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। আমি লজ্জার সাথে বললাম, আপনি আবু তালহার দাওয়াত কবুল করুন। তখন তিনি লোকদের বললেনঃ তোমরা সবাই চলো।আবু তালহা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো শুধুমাত্র আপনার জন্য সামান্য খাবার ব্যবস্থা করেছি। আনাস (রাঃ) বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) খাবারগুলো ছুঁয়ে দেখলেন এবং এতে বরকতের দোয়া করলেন। অতঃপর বললেন, আমার সাহাবীদের মধ্য থেকে দশজন করে ঘরে নিয়ে এসো। তিনি তাঁদের বললেন, তোমরা খেতে থাক। তিনি তাঁদের জন্য তাঁর আঙুলের মধ্য থেকে কিছু বের করে দিলেন। তাঁরা সকলে তৃপ্তি সহ খাওয়ার পর বেরিয়ে গেলেন। অতঃপর বললেন, আরো দশজনকে ঘরে নিয়ে এসো। তারাও আহার শেষে বের হয়ে গেলেন। এভাবে দশজন ঘরে প্রবেশ করে এবং দশজন বের হয়ে যায়। এমনকি তাদের মাঝে একজনও বাকী থাকেনি যে ঘরে ঢুকেনি। অতঃপর তিনি পাত্র খুলে দেখলেন, সকলে আহার করার পূর্বে যেমন ছিল এখনও ঠিক তেমনি আছে।
৫২১৩
মেযবানের সন্তুষ্টি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকলে অন্যকে সাথে নিয়ে তার গৃহে উপস্থিত হওয়া জায়িয, আর একত্র থেকে খাওয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইব্‌নে মালিক (রাঃ)
আবু তালহা (রাঃ) আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে প্রেরণ করলেন। রাবী ইবনে নুমাইর (রহঃ)-এর হাদিসের হুবহু বর্ণনা করেন। তবে হাদিসটির শেষাংশে তিনি বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাকী অংশ জমা করে এতে বরকতের প্রার্থনা করলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, ফলে তা (পূর্বে) যেমনি ছিল আবার তেমনি হয়ে গেল এবং তিনি বললেনঃ এবার তোমরা নাও।
৫২১৪
মেযবানের সন্তুষ্টি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকলে অন্যকে সাথে নিয়ে তার গৃহে উপস্থিত হওয়া জায়িয, আর একত্র থেকে খাওয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইব্‌নে মালিক (রাঃ)
আবু তালহা (রাঃ) উম্মু সুলাইম (রাঃ)-কে একমাত্র নবী (ﷺ)-এর জন্য খাবার তৈরী করতে আদেশ করলেন। অতঃপর তিনি আমাকে তাঁর কাছে প্রেরণ করলেন। অতঃপর রাবী (হাদিস বর্ণনাকারী) শেষ পর্যন্ত হাদিসটি রিওয়ায়াত করেন।এ হাদিসে তিনি বলেছেন, অতঃপর নবী (ﷺ) তাতে হাত রাখলেন এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করলেন। অতঃপর বললেন, দশজনকে ডাকো। তাদের ডাকলে তারা ঘরে ঢুকলো। তিনি বললেন, তোমরা ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে) বলে খাওয়া শুরু করো। তারা আহার করলো। এভাবে আশিজনের সাথে এ রকম করলেন। সবশেষে নবী (ﷺ) ও ঘরের লোকেরা খাবার খেলেন এবং কিয়দংশ রেখে গেলেন।
৫২১৫
মেযবানের সন্তুষ্টি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকলে অন্যকে সাথে নিয়ে তার গৃহে উপস্থিত হওয়া জায়িয, আর একত্র থেকে খাওয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)
আবু তালহা (রাঃ)-এর খাবারের এ বর্ণনাটি নবী (ﷺ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন। এর মধ্যে রাবী বলেছেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আগমনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আবু তালহা (রাঃ) দরজায় দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারপর তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ তো কিছু মাত্র (অল্প খাবার)। তিনি বললেন, তাই নিয়ে আসো। আল্লাহ অবশ্যই এতে বরকত দান করবেন।
৫২১৬
মেযবানের সন্তুষ্টি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকলে অন্যকে সাথে নিয়ে তার গৃহে উপস্থিত হওয়া জায়িয, আর একত্র থেকে খাওয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)
নবী (ﷺ) হতে এ হাদিস বর্ণনা করেছেন। এতে বর্ণনাকারী বলেছেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাবার খেলেন। ঘরের অধিকারীরাও খাবার খেলেন এবং তাদের প্রতিবেশীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য কিয়দাংশ রাখলেন।
৫২১৭
মেযবানের সন্তুষ্টি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকলে অন্যকে সাথে নিয়ে তার গৃহে উপস্থিত হওয়া জায়িয, আর একত্র থেকে খাওয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইব্‌নে মালিক (রাঃ)
আবু তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মসজিদে শয়ন করে ও পিঠ উপর-নিচ করতে দেখলেন। তখন তিনি উম্মু সুলায়ম (রাঃ)-এর সন্নিকটে এসে বসলেন। তিনি বললেন, “আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মসজিদে শয়ন করে পেট ও পিঠ উপর-নীচ করতে লক্ষ্য করেছি। আমার ধারণা হল, তিনি ক্ষুধার্ত।”তারপর রাবী (বর্ণনাকারী) শেষ পর্যন্ত হাদিসটি বর্ণনা করেন। এতে তিনি বলেছেন, “অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ), আবু তালহা (রাঃ), উম্মু সুলায়ম (রাঃ) ও আনাস (রাঃ) খাবার খেলেন। সামান্য অবশিষ্ট রয়ে গেলে আমরা সেটা প্রতিবেশীদের কাছে উপঢৌকন (উপহার) প্রেরণ করলাম।”
৫২১৮
মেযবানের সন্তুষ্টি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকলে অন্যকে সাথে নিয়ে তার গৃহে উপস্থিত হওয়া জায়িয, আর একত্র থেকে খাওয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইব্‌নে মালিক (রাঃ)
আমি একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে তাকে দেখলাম, তিনি সাহাবীদের সাথে বসে আলোচনায় রত আছেন এবং তিনি তাঁর পেট একটি কাপড়ের টুকরো দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। বর্ণনাকারী উসামা বলেন, পাথরসহ ছিল কি না এতে আমার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে। আমি তাঁর কোন এক সাহাবীকে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর পেট কেন বেঁধে রেখেছেন? তাঁরা বললেন, ক্ষুধার তাড়নায়।তারপর আমি আবু তালহা (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তিনি উম্মু সুলায়ম বিনতে মিলহান (রাঃ)–এর স্বামী ছিলেন। আমি বললাম, আব্বা! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–কে প্রত্যক্ষ করলাম, তিনি বস্ত্র দ্বারা তাঁর পেট বেঁধে রেখেছেন। আমি তাঁর এক সাহাবীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বললেন, ক্ষুধার যন্ত্রণায়।অতঃপর আবু তালহা (রাঃ) আমার মায়ের নিকট গিয়ে বললেন, কিছু আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ; আমার কাছে কয়েক টুকরা রুটি আর কিছু খেজুর আছে। যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের ঘরে একাকী আসেন, তাহলে আমরা তাঁকে তৃপ্তি সহকারে আহার করাতে পারি। আর যদি ভিন্ন কেউ তাঁর সাথে তাহলে তাঁদের সামান্য হবে। অতঃপর বর্ণনাকারী ঘটনা সহ পূর্ব হাদিসটি বর্ণনা করেন।
৫২১৯
মেযবানের সন্তুষ্টি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকলে অন্যকে সাথে নিয়ে তার গৃহে উপস্থিত হওয়া জায়িয, আর একত্র থেকে খাওয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ)
নবী (ﷺ) থেকে আবু তালহার আহারের ব্যাপারে তাঁদের (উপরোল্লিখিত রাবীদের) হাদিসের হুবহু বর্ণনা করেন।
৫২২০
ঝোল খাওয়া জায়িয এবং লাউ খাওয়া মুস্তাহাব আর মেযবান অপছন্দ না করলে, মেহমান হয়েও একই দস্তরখানে উপবেশনকারীদের একজন অন্যজনকে এগিয়ে দেয়া জায়িয। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ)
এক দর্জি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য কিছু খাদ্য প্রস্তুত করে তাঁকে দাওয়াত করলো। আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেন, সে দাওয়াতে আমি ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে গেলাম।রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সম্মুখে যবের রুটি, ঝোল বিশিষ্ট লাউ ও শুকনা গোশত পেশ করা হলো। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে লক্ষ্য করলাম, তিনি থালার চারপাশে থেকে লাউ সন্ধান করছেন। সেদিন থেকে আমিও লাউ পছন্দ করতে লাগলাম।