৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৫২১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৫২০১
আঙ্গুল ও বাসন চেটে খাওয়া এবং পড়ে যাওয়া খাবারে যে আবর্জনা লেগেছে তা মুছে খাওয়া মুস্তাহাব, আর চেটে খাওয়ার আগে হাত মুছে ফেলা মাকরূহ; (কারণ ঐ বাকী অংশের মধ্যে খাদ্যের বারাকাত থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে) পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোনো খাদ্য খেতেন তখন তাঁর আঙুল তিনটি চেটে খেতেন এবং তিনি বলেছেন: তোমাদের কারো লোকমা যদি মাটিতে পড়ে যায় তবে সে যেন তা হতে ময়লা দূর করে এবং খাবারটুকু খেয়ে ফেলে, তা যেন শয়তানের জন্য রেখে না দেয়। আর তিনি আমাদের বাসন মুছে খেতে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘কারণ তোমরা জান না, তোমাদের খাবারের কোন অংশে কল্যাণ রয়েছে’।
৫২০২
আঙ্গুল ও বাসন চেটে খাওয়া এবং পড়ে যাওয়া খাবারে যে আবর্জনা লেগেছে তা মুছে খাওয়া মুস্তাহাব, আর চেটে খাওয়ার আগে হাত মুছে ফেলা মাকরূহ; (কারণ ঐ বাকী অংশের মধ্যে খাদ্যের বারাকাত থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে) পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তোমাদের কেউ যখন খাবার খায়, সে যেন তার আঙুলগুলো চেটে খায়। কারণ সে জানে না খাদ্যের কোন অংশে বরকত রয়েছে।
৫২০৩
আঙ্গুল ও বাসন চেটে খাওয়া এবং পড়ে যাওয়া খাবারে যে আবর্জনা লেগেছে তা মুছে খাওয়া মুস্তাহাব, আর চেটে খাওয়ার আগে হাত মুছে ফেলা মাকরূহ; (কারণ ঐ বাকী অংশের মধ্যে খাদ্যের বারাকাত থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে) পরিচ্ছেদ নাই
হাম্মাদ (রহঃ)
উপরোল্লিখিত সূত্রে হাদিসটি বর্ণিত। তবে তিনি বলেছেন, তোমাদের সবাই যেন বাসন চেটে খায়। আর তিনি (ﷺ) বলেছেন, তোমরা জান না তোমাদের কোন খাদ্যে বরকত রয়েছে অথবা কোন খাদ্যে বরকত দেয়া হয়।
৫২০৪
মেযবানের দাওয়াত ছাড়াই যদি কেউ মেহমানের পশ্চাদানুসরণ করে তবে মেহমান কি করবে? পশ্চাদানুসারীদের জন্য মেযবান থেকে অনুমতি নিয়ে নেয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মাসউদ আনসারী (রাঃ)
আবু শু‘আইব নামধারী এক আনসারী ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর একজন কসাই দাস ছিল। লোকটি একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখে তাঁর অবয়বে ক্ষুধার আভাস অনুভব করলো। পরে তার গোলামকে বলল, “তোমার কল্যাণ হোক, আমাদের পাঁচজনের জন্য তুমি খাবার তৈরী করো। কেননা আমি পঞ্চম ব্যক্তি হিসেবে নবী (ﷺ)-কে দাওয়াত দিতে ইচ্ছা পোষণ করেছি।”তখন সে খাবার তৈরী করলো। তারপর লোকটি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে তাঁকে সহ পাঁচজনকে দাওয়াত দিল। জনৈক লোক তাঁদের পিছু অনুসরণ করলো। দরজা পর্যন্ত পৌঁছলে নবী (ﷺ) বললেনঃ “এ লোকটি আমাদের পিছু পিছু এসেছে। তুমি চাইলে তাকে অনুমতি দিতে পার, আর যদি ইচ্ছা কর তবে সে প্রত্যাবর্তন করবে।” লোকটি বলল, “না। বরং আমি তাকে অনুমতি দিচ্ছি, হে আল্লাহর রাসূল!”
৫২০৫
মেযবানের দাওয়াত ছাড়াই যদি কেউ মেহমানের পশ্চাদানুসরণ করে তবে মেহমান কি করবে? পশ্চাদানুসারীদের জন্য মেযবান থেকে অনুমতি নিয়ে নেয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মাসউদ (রাঃ)
নবী (ﷺ) হতে জারীর (রাঃ)-এর হাদিসের অবিকল হাদিস বর্ণনা করেছেন।কিন্তু নাসর ইবনু আলী পুরো সানাদ হাদ্দাসানা দিয়ে বর্ণনা করেছেন এবং পুরো হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
৫২০৬
মেযবানের দাওয়াত ছাড়াই যদি কেউ মেহমানের পশ্চাদানুসরণ করে তবে মেহমান কি করবে? পশ্চাদানুসারীদের জন্য মেযবান থেকে অনুমতি নিয়ে নেয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
ভিন্ন সূত্রে সালামা ইবন শাবীব (রহঃ) ... আবু মাসউদ (রাঃ)-এর সনদে নবী (ﷺ) হতে হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন।
৫২০৭
মেযবানের দাওয়াত ছাড়াই যদি কেউ মেহমানের পশ্চাদানুসরণ করে তবে মেহমান কি করবে? পশ্চাদানুসারীদের জন্য মেযবান থেকে অনুমতি নিয়ে নেয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একজন ইরানী প্রতিবেশী ভালো সালুন রান্না করতে পারত। একদা সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য সামান্য খাবার তৈরি করে তাঁকে দাওয়াত করতে আসলো। তিনি আয়িশা (রাঃ)-এর দিকে ইশারা করে বললেনঃ “এই যে, আয়িশা আছেন।” সে বলল, না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “(তাহলে আমিও) না।” লোকটি আবার তাঁকে দাওয়াত করল। রাসূলুল্লাহ বললেনঃ “ইনিও [আয়িশা (রাঃ)]?” সে বলল, না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “(আমিও) না।” এরপর সে পুনরায় তাঁকে দাওয়াত করতে আসলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “ইনিও?” লোকটি তৃতীয়বার বলল, হ্যাঁ। তারপর তাঁরা উভয়েই দাঁড়ালেন এবং একজনের পিছনে আরেকজন চলে তার গৃহে এসে পৌঁছলেন।
৫২০৮
মেযবানের সন্তুষ্টি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকলে অন্যকে সাথে নিয়ে তার গৃহে উপস্থিত হওয়া জায়িয, আর একত্র থেকে খাওয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
একদিন রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (তাঁর বাড়ী থেকে) বের হয়ে আবু বকর (রাঃ) ও উমর (রাঃ)–কে দেখতে পেলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, “এ সময়ে কিসে তোমাদের গৃহ হতে বের করেছে?” তারা বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! উপবাসের যন্ত্রনায়।” তিনি (ﷺ) বললেন, “যে মহান আল্লাহর হাতে আমার জীবন, তাঁর কসম, যা তোমাদের বের করে এনেছে, আমাকেও তাই বের করে এনেছে, চলো।” তারা উভয়ে তাঁর সাথে চলতে লাগলেন। এরপর তিনি এক আনসারীর গৃহে এলেন। তখন তিনি বাড়ীতে ছিলেন না। তাঁর স্ত্রী তাঁকে [রাসূলুল্লাহ (ﷺ)] দেখে বলল, “মারহাবা ওয়া আহলান مَرْحَبًا وَأَهْلاً।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে প্রশ্ন করলেন, “অমুক কোথায়?” স্ত্রীলোকটি বলল, “তিনি আমাদের জন্য মিষ্টি পানি আনতে গেছেন।” তখনই আনসারী ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর দুই সাথীকে দেখতে পেয়ে বললেন, “আল্লাহর প্রশংসা, আজ মেহমানের দিক হতে আমার থেকে সৌভাগ্যবান আর কেউ নেই।” তারপর সে গিয়ে একটি খেজুরের ছড়া নিয়ে আসলেন। তাতে কাঁচা, পাকা ও শুকনো খেজুর ছিল। তিনি বললেন, “আপনারা এ ছড়া থেকে খান।” এরপর তিনি ছুরি নিলেন (ছাগল যবেহ করার জন্য)। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন, “সাবধান, দুধওয়ালা বকরি যবেহ করবে না।” অতঃপর তাদের জন্য (বকরি) যবেহ করলে তারা বকরির গোশত ও কাঁদির খেজুর খেলেন এবং (মিঠা) পানি পান করলেন। তারা সকলে ক্ষুধা মেটালেন ও পরিতৃপ্ত হলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আবু বকর ও উমর (রাঃ)–কে লক্ষ্য করে বললেনঃ “যে সত্তার হাতে আমার জীবন, তাঁর কসম! কেয়ামতের দিন এ নিয়ামত সম্বন্ধে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে। ক্ষুধা তোমাদের বাড়ি হতে বের করে এনেছে অথচ তোমরা এ নিয়ামত লাভ না করে ফেরত যাওনি।”
৫২০৯
মেযবানের সন্তুষ্টি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকলে অন্যকে সাথে নিয়ে তার গৃহে উপস্থিত হওয়া জায়িয, আর একত্র থেকে খাওয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরা (রাঃ)
একবার আবু বকর (রাঃ) বসে ছিলেন। তাঁর সাথে উমর (রাঃ)-ও ছিলেন। সে সময় রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের পাশে এসে বললেনঃ কোন জিনিস তোমাদের এ স্থানে বসিয়ে রেখেছে? তাঁরা বললেন, আল্লাহর কসম! যিনি আপনাকে সত্য দ্বীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন। ক্ষুধা আমাদের ঘর থেকে আমাদের বাইরে নিয়ে এসেছে। অতঃপর বর্ণনাকারী খালাফ ইবনে খলীফা (রহঃ)-এর হাদিসের অবিকল বর্ণনা করেন।
৫২১০
মেযবানের সন্তুষ্টি সম্পর্কে নিশ্চিত থাকলে অন্যকে সাথে নিয়ে তার গৃহে উপস্থিত হওয়া জায়িয, আর একত্র থেকে খাওয়া মুস্তাহাব। পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইব্‌নে ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
(খন্দক যুদ্ধের প্রাক্কালে) পরিখা খোঁড়ার সময় আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর দেহে ক্ষুধার যন্ত্রণা লক্ষ্য করলাম। অতঃপর আমার সহধর্মিণীর নিকট ফিরে এসে তাঁকে বললাম, “তোমার কাছে কিছু আছে কি? কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–কে চরম ক্ষুধার্ত অবস্থায় দেখেছি।” অতঃপর সে একটি চামড়ার ব্যাগ বের করলো, যার মধ্যে এক সা পরিমাণ যব ছিল। আর আমাদের একটা গৃহপালিত বকরী ছিল। আমি ওটা জবাই করলাম, আর স্ত্রী যবগুলো ভালোভাবে পিষে নিলো। আমার কাজ সম্পাদনের সঙ্গে সঙ্গে সেও তার কাজ শেষ করলো। আমি (রান্নার জন্য) গোশত কেটে ডেগচিতে রাখলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর কাছে ফিরে এলাম। (যাওয়ার সময়) আমার স্ত্রী আমাকে বলল, “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাথীদের দিয়ে তুমি আমাকে লাঞ্ছিত করো না।” তিনি বলেন, তারপর আমি তাঁর নিকট এসে চুপি চুপি তাঁকে বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! আমরা একটি বকরী জবাই করেছি আর আমাদের এক সা’ পরিমাণ যব ছিল, আমার স্ত্রী তাই পিষে নিয়েছে। সুতরাং আপনি কয়েকজনকে সাথে নিয়ে আসুন।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দরাজ কণ্ঠে বললেন, “হে পরিখা খননকারীরা! জাবির তোমাদের জন্য কিছু খাবার তৈরী করেছে। তোমরা সকলে চলো।” আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (আমাকে বললেন): “আমি না আসা পর্যন্ত তোমাদের ডেগ (চুলা থেকে) নামাবে না এবং খামীর দ্বারা রুটি প্রস্তুত করবে না।” আমি আসলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মানুষদের আগে আগে আসলেন। আমি আমার স্ত্রীর নিকট এলে সে আমাকে (তিরস্কার করে) বলল, “তোমার ধ্বংস হোক, তোমার ধ্বংস হোক।” আমি বললাম, “আমি তাই করেছি, তুমি যা আমাকে বলেছিলে।” অতঃপর সে খামিরগুলো বের করলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার মধ্যে একটু লালা দিলেন এবং বারাকাতের দোয়া করলেন। অতঃপর তিনি বললেন, “রুটি প্রস্তুতকারিণীকে ডাকো, যে তোমার সঙ্গে রুটি প্রস্তুত করবে। আর তুমি পাতিল হতে পেয়ালা ভরে ভরে নিবে। আর ডেগ (চুলা হতে) নামাবে না।” তাঁরা ছিলেন মোট এক হাজার মানুষ। আল্লাহর নামে শপথ করছি! তাঁরা সকলে খাবার খেলেন। পরিশেষে তাঁরা তা রেখে এমনভাবে ফিরে গেলেন যে, আমাদের ডেগ আগের মতো টগবগ করে ফুটছিল। আর আমাদের খামীর পূর্বের মতো রুটি প্রস্তুত করা হচ্ছিল।