৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৫০৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৫০২২
মদ হারাম এবং আঙ্গুরের রস, কাঁচা-পাকা খেজুর এবং কিসমিস ইত্যাদি থেকে তৈরি পানীয় যা নেশাগ্রস্ত করে সেগুলোর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু জুরায়জ (রহঃ)
এ সূত্রে হুবহু বর্ণিত হয়েছে।
৫০২৩
মদ হারাম এবং আঙ্গুরের রস, কাঁচা-পাকা খেজুর এবং কিসমিস ইত্যাদি থেকে তৈরি পানীয় যা নেশাগ্রস্ত করে সেগুলোর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
‘আলী (রাঃ)
বদরের দিন আমি গনিমত থেকে আমার ভাগে একটি বয়স্ক উট পেয়েছিলাম। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেদিন ‘এক পঞ্চমাংশ’ থেকে আমাকে আর একটি উট দিয়েছিলেন। আমি যখন রসূল (ﷺ) তনয়া ফাতিমার সাথে বাসর যাপনের আকাঙ্ক্ষা করলাম, তখন বানু কাইনুকা গোত্রের জনৈক স্বর্ণকার ও আমি উভয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ হলাম। সে আমার সাথে যাবে আর আমরা (দুইজন) ইযখির (ঘাস) নিয়ে আসব। আমি ইচ্ছা করলাম, এগুলো স্বর্ণকারদের কাছে বিক্রি করে তা দিয়ে আমার বিয়ের ওয়ালীমার বিষয়ে সাহায্য নিব। আমি উট দুইটির জন্য বসার গদি, থলে এবং রশি ইত্যাদি জিনিস সংগ্রহ করছিলাম। আর আমার উট দুইটি একজন আনসারী লোকের গৃহের পাশে বাঁধা ছিল। আমিও যা সংগ্রহ করার সংগ্রহ করলাম। এমন সময় অকস্মাৎ লক্ষ্য করি সে দুইটি (উটের) কুঁজ কেটে ফেলা হয়েছে, পেটের দিক কেটে ফেলা হয়েছে এবং উভয়ের কলিজা বের করে নেয়া হয়েছে। আমার দুই নয়ন এ দৃশ্য সহ্য করতে পারল না। আমি বলে উঠলাম, এ কাজ কোন লোক করল? লোকেরা বলল, হামজা ইবন আবদুল মুত্তালিব। সে এ বাড়িতে আনসারদের একদল মদ্যপায়ীদের মাঝে আছে। তাকে ও তার সঙ্গীদেরকে গান শুনাচ্ছিল এক গায়িকা। সে তার গানে বললঃ أَلاَ يَا حَمْزَ لِلشُّرُفِ النِّوَاءِ অর্থাৎ- হে হামজা! তুমি হৃষ্টপুষ্ট উট দুইটির সন্মুখে যাবে কি? পরে হামজা তরবারি নিয়ে উঠলো, উট দুইটির কুঁজ কেটে ফেললো, পশ্চাৎদিক চিড়ে ফেললো। অতঃপর ও দুইটোর কলিজা নিয়ে গেল। আলি (রাঃ) বলেন, সরাসরি নবী (ﷺ)-এর নিকটে গিয়ে উপস্থিত হলাম, তখন তাঁর কাছে ছিল যায়দ ইবন হারিসা (রাঃ)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার অবয়ব দেখে বুঝতে পারলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার কি হয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম, আজকের দিনের মতো আমি আর কখনও দেখিনি! হামজা আমার উট দুইটির উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উভয়ের কুঁজ দুইটি কেটে ফেলেছে, পিছনের দিক কেটে ফেলেছে, এবং কলিজা খুলে নিয়েছে! সে ঐ গৃহে আছে আর তার সাথে আছে মদ্যপায়ীদের কিছু লোক। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর চাদর নিয়ে আসতে বললেন। অতঃপর তা পরিধান করে হাঁটতে লাগলেন। আমি এবং যায়দ ইবন হারিসা তাঁর পিছনে পিছনে অনুকরণ করলাম। পরিশেষে তিনি সে ঘরের দরজায় এসে অনুমতি চাইলেন যে ঘরে হামজা ছিল। তারা তাঁকে অনুমতি দিল। তিনি প্রবেশ করেই লক্ষ্য করলেন মদ্যপায়ীর দল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হামজার অপকর্মের জন্য তাকে শাসন ও নিন্দা করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় হামজার চোখ দুইটি লাল হয়ে গেল। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো। এরপর সে তার হাঁটুর দিকে তাকালো, তারপর আরো উঁচুতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করল তাঁর নাভির দিকে, এরপর দৃষ্টি উঠালো তার চেহারার দিকে। এরপর হামজা বলল, তোমরা তো আমার পিতার গোলাম ছাড়া কিছুই নও। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন বুঝতে পারলেন সে নেশাগ্রস্ত, তখন তিনি পিছনে হেঁটে বের হয়ে পড়লেন। আমরাও তাঁর সাথে বের হলাম।
৫০২৪
মদ হারাম এবং আঙ্গুরের রস, কাঁচা-পাকা খেজুর এবং কিসমিস ইত্যাদি থেকে তৈরি পানীয় যা নেশাগ্রস্ত করে সেগুলোর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রাঃ)
উপরোল্লিখিত সূত্রে হুবহু বর্ণিত আছে।
৫০২৫
মদ হারাম এবং আঙ্গুরের রস, কাঁচা-পাকা খেজুর এবং কিসমিস ইত্যাদি থেকে তৈরি পানীয় যা নেশাগ্রস্ত করে সেগুলোর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রহঃ)
মদ হারাম হওয়ার দিন আমি আবু তালহার ঘরে লোকদের মদ পান করাচ্ছিলাম। তারা শুকনো ও কাঁচা খেজুরের মদ পান করত (অর্থাৎ শুকনো ও কাঁচা খেজুর দ্বারা তৈরি ঘন তৈলাক্ত ও সিরকা পান করত)। হঠাৎ শোনা গেল, জনৈক লোক ঘোষণা দিচ্ছে। তিনি বললেন, ‘বের হয়ে দেখো।’ আমি বের হয়ে দেখলাম, এক লোক ঘোষণা দিচ্ছে: ‘শুনে রাখো, মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’তিনি বলেন, অতঃপর মদিনার চারপাশে ও অলিগলি দিয়ে মদের ঢল প্রবাহিত হতে লাগল। আবু তালহা আমাকে বললেন, ‘বের হও এবং এগুলো ঢেলে দিয়ে আসো।’ অতঃপর আমি সেগুলো ঢেলে দেই।তারা সবাই বা তাদের কেউ কেউ বললেন, ‘অমুক নিহত হয়েছে! অমুক নিহত হয়েছে! অথচ তাদের উদরে মদ আছে।’ রাবী বলেন, আমি জ্ঞাত নই যে, এ কথাও আনাস (রাঃ)-এর হাদিসের অন্তর্ভুক্ত কি-না।এরপর আল্লাহ তা'আলা নাযিল করেন: “যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা পূর্বে যা খেয়েছে তাতে তাদের কোনো গুনাহ নেই, যদি তারা সতর্ক হয় এবং ঈমান আনে ও সৎকাজ করে”– (সূরা আল-মায়িদা ৫:৯৩)।
৫০২৬
মদ হারাম এবং আঙ্গুরের রস, কাঁচা-পাকা খেজুর এবং কিসমিস ইত্যাদি থেকে তৈরি পানীয় যা নেশাগ্রস্ত করে সেগুলোর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুল ‘আযীয ইবনু সুহায়ব (রহঃ)
মানুষরা আনাস (রাঃ)-কে ‘ফাযীখ’ (খেজুরের তৈরি মদ) সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি বললেন, তোমরা যাকে ‘ফাযীখ’ বলে সম্বোধন কর, তোমাদের এ ফাযীখ ব্যতীত আমাদের আর কোন মদই ছিল না। আমি আমাদের ঘরে আবু তালহা, আবু আইয়ুব (রাঃ) এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আরো কতিপয় সাহাবীকে মদ পান করাতে মত্ত ছিলাম। এমন সময় এক লোক এসে বলল, তোমাদের নিকট কি কোন সংবাদ এসেছে? আমরা বললাম, না। সে বলল, মদ তো সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করা হয়েছে। তিনি (আবু তালহা) বললেন, হে আনাস! এ মদের কলসগুলো ঢেলে দাও। তারা উক্ত ব্যক্তির সংবাদের পর কোন খোঁজখবরও করেননি। এ সম্পর্কে কোন জিজ্ঞাসাবাদও করেননি।
৫০২৭
মদ হারাম এবং আঙ্গুরের রস, কাঁচা-পাকা খেজুর এবং কিসমিস ইত্যাদি থেকে তৈরি পানীয় যা নেশাগ্রস্ত করে সেগুলোর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আমি আমার সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যখানে দাঁড়িয়ে আমার চাচাদের ‘ফাযীখ’ পান করাচ্ছিলাম। আর বয়সে আমি তাদের সবার ছোট ছিলাম। এ সময় এক লোক এসে বলল, মদ তো হারাম করা হয়েছে। তারা সবাই বললেন, হে আনাস! এ হাঁড়িগুলো উল্টিয়ে দাও। আমি সেগুলো উপুড় করে ফেলে দিলাম। সুলাইমান বলেন, আমি আনাসকে বললাম, ফাযীখ কি জিনিস? তিনি বললেন, কাঁচা-পাকা খেজুর দ্বারা তৈরিকৃত মদ। আবু বকর ইবনু আনাস বলেছেন, তখন এটাই ছিল তাদের একমাত্র নেশাজাতীয় দ্রব্য। সুলাইমান বলেন, আমার নিকটে জনৈক লোক আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে রিওয়ায়াত করেছেন যে, তিনিও (আনাস) এ কথা বলেছেন।
৫০২৮
মদ হারাম এবং আঙ্গুরের রস, কাঁচা-পাকা খেজুর এবং কিসমিস ইত্যাদি থেকে তৈরি পানীয় যা নেশাগ্রস্ত করে সেগুলোর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
আমি সম্প্রদায়ের মাঝে দাঁড়িয়ে তাদের মদ পান করাচ্ছিলাম। এরপর বর্ণনাকারী ইবন উলাইয়ার মতো বর্ণনা করেন। তবে তিনি বলেন, তারপর আবু বকর ইবন আনাস (রাঃ) বললেন, সেকালে ওটাই ছিল তাদের মদ। আনাস (রাঃ) তথায় উপস্থিত ছিলেন, তিনি এ কথা অস্বীকার করেননি।ইবন আবদুল আ’লা মু’তামির-এর সূত্রে তাঁর বাবা হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যারা তাঁর সাথে ছিল তাঁদের একজন আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, ‘তৎকালীন সময়ে সেটাই ছিল তাদের মদ।’
৫০২৯
মদ হারাম এবং আঙ্গুরের রস, কাঁচা-পাকা খেজুর এবং কিসমিস ইত্যাদি থেকে তৈরি পানীয় যা নেশাগ্রস্ত করে সেগুলোর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রহঃ)
আমি আবু তালহা, আবু দুজানা ও মুয়াজ ইবন জাবাল (রাঃ)-কে আনসারীদের একদল মানুষের মাঝে মদ পান করাচ্ছিলাম। তখন এক লোক আমাদের নিকট এসে বলল, একটি নতুন ব্যাপার ঘটেছে, মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতঃপর আমরা তখন পাত্রগুলো উপুড় করে ঢেলে দিয়েছিলাম। সে মদ ছিল কাঁচা-পাকা মিশ্রিত খেজুরের বানানো।কাতাদাহ বলেন, আনাস ইবন মালিক (রাঃ) বলেছেন, মদকে হারাম করা হয়েছে। সেকালে তাদের সাধারণ মদ ছিল কাঁচা-পাকায় সংমিশ্রিত খেজুরের তৈরি।
৫০৩০
মদ হারাম এবং আঙ্গুরের রস, কাঁচা-পাকা খেজুর এবং কিসমিস ইত্যাদি থেকে তৈরি পানীয় যা নেশাগ্রস্ত করে সেগুলোর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আমি এমন একটি মদপাত্র হতে আবু তালহা, আবু দুজানাহ ও সুহাইল ইবনু বাইযা (রাঃ)-কে পান করাচ্ছিলাম, যার মধ্যে কাঁচা-পাকা খেজুরের মদ ছিল। অতঃপর বর্ণনাকারী সাঈদ (রহঃ)-এর হুবহু রিওয়ায়াত করেন।
৫০৩১
মদ হারাম এবং আঙ্গুরের রস, কাঁচা-পাকা খেজুর এবং কিসমিস ইত্যাদি থেকে তৈরি পানীয় যা নেশাগ্রস্ত করে সেগুলোর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাঁচা ও পাকা খেজুর দিয়ে মদ তৈরি করা এবং তা পান করা থেকে বারণ করেছেন। যেদিন মদ হারাম করা হয়, সেদিন তা-ই ছিল তাদের সাধারণ নেশাজাতীয় দ্রব্য।