৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৫০২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৫০১২
যে ব্যক্তি যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশদিনে প্রবেশ করল এবং কুরবানী দেয়ার ইচ্ছা করল তার জন্য চুল ও নখ কর্তন নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন (যিলহজ্জ মাসের) প্রথম দশদিন উপস্থিত হয় আর কারো নিকট কুরবানির পশু উপস্থিত থাকে, যা সে যবেহ করার নিয়ত রাখে, তবে সে যেন তার চুল ও নখ না কাটে।
৫০১৩
যে ব্যক্তি যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশদিনে প্রবেশ করল এবং কুরবানী দেয়ার ইচ্ছা করল তার জন্য চুল ও নখ কর্তন নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন: যখন তোমরা যিলহজ্জ মাসের (নতুন চাঁদ দেখতে পাও) আর তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল না ছাঁটে ও নখ না কাটে।
৫০১৪
যে ব্যক্তি যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশদিনে প্রবেশ করল এবং কুরবানী দেয়ার ইচ্ছা করল তার জন্য চুল ও নখ কর্তন নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
উমার কিংবা ‘আমর ইবনু মুসলিম (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৫০১৫
যে ব্যক্তি যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশদিনে প্রবেশ করল এবং কুরবানী দেয়ার ইচ্ছা করল তার জন্য চুল ও নখ কর্তন নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোকের কাছে কুরবানির পশু আছে সে যেন যিলহজ্জের নতুন চাঁদ দেখার পর কুরবানি করা পর্যন্ত তার চুল ও নখ না কাটে।
৫০১৬
যে ব্যক্তি যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশদিনে প্রবেশ করল এবং কুরবানী দেয়ার ইচ্ছা করল তার জন্য চুল ও নখ কর্তন নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
‘আম্‌র ইবনু মুসলিম ইবনু ‘আম্মার আল-লাইসী (রহঃ)
আমরা গোসলখানায় ছিলাম কুরবানির ঈদের কিছুদিন আগে। কতিপয় লোক চুন দিয়ে নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করল। গোসলখানায় উপস্থিত লোকদের একজন বললেন, সাঈদ ইবন মুসাইয়্যিব (রাঃ) এটা অপছন্দ করেন। পরে আমি সাঈদ ইবন মুসাইয়্যিব (রাঃ)-এর সাথে দেখা করে বিষয়টি তাঁকে জানালাম। তিনি বললেন, “হে ভাতিজা! এ হাদিসটি তো মানুষ ভুলে গেছে এবং ছেড়ে দিয়েছে। নবী (ﷺ)-এর স্ত্রী উম্মু সালমা (রাঃ) আমার কাছে হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ........ রাবী মুহাম্মাদ ইবনু আমর (রহঃ) হতে মু’আয (রহঃ) বর্ণিত হাদিসের মতই অর্থবোধক শব্দাবলী উল্লেখ করেন।"
৫০১৭
যে ব্যক্তি যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশদিনে প্রবেশ করল এবং কুরবানী দেয়ার ইচ্ছা করল তার জন্য চুল ও নখ কর্তন নিষেধ পরিচ্ছেদ নাই
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রী উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন ...... অন্যান্যদের বর্ণিত হাদিসের সমার্থক।
৫০১৮
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর নামে যাবাহ করা হারাম হওয়া প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ তুফায়ল ‘আমির ইবনু ওয়াসিলাহ্‌ (রহঃ)
আমি আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। এক লোক তাঁর নিকট এসে বলল, নবী (ﷺ) আপনাকে আড়ালে কী বলেছিলেন?রাবী বলেন, তিনি রেগে গেলেন এবং বললেন, নবী (ﷺ) লোকদের কাছ থেকে গোপন রেখে আমার নিকট একান্তে কিছু বলেননি। তবে তিনি আমাকে চারটি (বিশেষ শিক্ষণীয়) কথা বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকটি বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন! সে চারটি কথা কী? তিনি বললেন:১. যে লোক তার পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করে, আল্লাহ তাকে অভিসম্পাত করেন,২. যে লোক আল্লাহ ব্যতীত ভিন্ন কারো নামে যবেহ করে আল্লাহ তার উপরও অভিসম্পাত করেন,৩. ঐ ব্যক্তির উপরও আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, যে কোন বিদআতি লোককে আশ্রয় দেয় এবং৪. যে ব্যক্তি জমিনের (সীমানার) চিহ্নসমূহ অন্যায়ভাবে পরিবর্তন করে, তার উপরও আল্লাহ অভিসম্পাত করেন।
৫০১৯
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর নামে যাবাহ করা হারাম হওয়া প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ তুফায়ল (রহঃ)
আমরা ‘আলী (রাঃ)-কে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনাকে গোপনে যা জানিয়েছেন, সে বিষয়ে আমাদের কিছু বলুন। তিনি বললেন, মানুষের নিকট গোপন রেখেছেন এমন কিছুই তিনি আমার নিকট একান্তে বলেননি। তবে আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে যবেহ করে, আল্লাহ তাকে লা‘নাত করেন; যে লোক কোন বিদ‘আতীকে ঠাঁই দেয়, আল্লাহ তাকে লা‘নাত করেন; যে লোক আপন পিতা-মাতাকে লা‘নাত করে, আল্লাহ তাকে লা‘নাত করেন এবং যে ব্যক্তি (জমিনের) চিহ্নসমূহ পরিবর্তন করে, আল্লাহ তাকে লা‘নত করেন।
৫০২০
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন কিছুর নামে যাবাহ করা হারাম হওয়া প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ তুফায়ল (রাঃ)
‘আলী (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হলো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি আপনাদের নিকট বিশেষভাবে কিছু বলে গেছেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বসাধারণের কাছে প্রকাশ করেননি এমন কোনো ব্যাপারে আমাদেরকে বিশেষভাবে কিছু বলে যাননি, তবে একমাত্র আমার তলোয়ারের এ খাপটিতে যা আছে তা ব্যতীত। রাবী বলেন, তারপর তিনি তাঁর তরবারির খাপ থেকে একটি সহিফা (লিখিত কাগজ) বের করলেন, যাতে লেখা ছিল- ‘আল্লাহ অভিশাপ করেন সে ব্যক্তিকে, যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে যবেহ করে, আল্লাহ অভিশাপ করেন সে লোককে, যে জমিনের সীমানা চিহ্নসমূহ চুরি করে, আল্লাহ অভিশাপ করেন সে ব্যক্তিকে, যে তার পিতাকে অভিশাপ করে। আল্লাহ অভিশাপ করেন সে ব্যক্তিকে, যে কোনো বিদআতিকে আশ্রয় দেয়।’
৫০২১
মদ হারাম এবং আঙ্গুরের রস, কাঁচা-পাকা খেজুর এবং কিসমিস ইত্যাদি থেকে তৈরি পানীয় যা নেশাগ্রস্ত করে সেগুলোর বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)
রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে বদর দিবসে আমি গনিমত (যুদ্ধলব্ধ মাল) হতে একটি বয়স্ক উট পেয়েছিলাম। আর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে আর একটি বয়স্ক উট দিয়েছিলেন। একদিন আমি জনৈক আনসারী ব্যক্তির দরজার সামনে সেই দুইটি বেঁধে রাখলাম। আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেই দুইটি পিঠে করে কিছু ইযখির ঘাস বয়ে আনবো, আর তা বিক্রয় করে ফাতিমা (রাঃ)-এর ওয়ালীমায় সাহায্য নিব। আমার সঙ্গে ছিল বানু কাইনুকা গোত্রের জনৈক স্বর্ণকার। হামজা ইবন আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) সেই বাড়িতেই মদ পান করছিল। তার সাথে ছিল একজন গায়িকা। সে (তার গানের মধ্যে) বলল: أَلاَ يَا حَمْزَ لِلشُّرُفِ অর্থাৎ- হে হামজা! হৃষ্টপুষ্ট উট দুইটি কাছে যাও এবং মেহমানদের জন্য তা যবেহ করো। তারপর হামজা ওই দুইটি উটের নিকট ছুটে গেল। পরে দুইটি উটেরই কুঁজ কেটে ফেললো এবং তাদের পেট ফেড়ে দিল। তারপর সে এই দুইটি উটের কলিজা বের করে নিল। আমি ইবনে শিহাবকে বললাম, তিনি কুঁজ দুইটি কি করলেন? তিনি বললেন, কুঁজ দুইটি কেটে সাথে নিয়ে চললেন। ইবনে শিহাব বলেন, আলি (রাঃ) বলেছেন, এ মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গেলাম। তাঁর নিকট ছিল যায়দ ইবন হারিসা (রাঃ)। এরপর আমি তাঁকে পুরো ঘটনা জানালাম। তিনি যায়দ (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে বের হলেন। আমিও তাঁর সাথে চললাম। হামজা (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে তিনি তাকে কিছু কঠিন কথা বললেন। হামজা (রাঃ) চোখ তুলে বলল, তোমরা তো আমার বাবার ক্রিতদাস ছাড়া কিছু নও। এরপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) পিছন দিকে ফিরে আসলেন। এমনকি তিনি তাদের নিকট থেকে বেরিয়ে চলে এলেন।