৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৯০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৮৯১
হিংস্র পশু ও নখরওয়ালা পাখি খাওয়া হারাম পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিষেধ করেছেন...। অবশিষ্ট অংশ শু’বাহ হতে হাকাম (রহঃ)-এর মাধ্যমে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
৪৮৯২
সাগরের মৃত হালাল পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু উবাইদা (রাঃ)-কে আমাদের আমীর বানিয়ে আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন কুরাইশদের একটি কাফিলাকে রোধ করার জন্য। তিনি আমাদের সাথে এক থলে খেজুর দিয়ে দিলেন। এছাড়া আমাদের অন্য কিছু দেয়ার মত পেলেন না। আবু উবাইদা (রাঃ) আমাদেরকে একটি করে খেজুর দিতেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, এই একটি মাত্র খেজুর দিয়ে আপনারা কিভাবে কী করতেন? আমি বললাম, আমরা তা চুষতাম- যেভাবে শিশুরা চুষে থাকে। তারপর পানি পান করতাম, আর এটাই আমাদের দিবারাত্রের জন্য যথেষ্ট হতো। এছাড়া আমরা আমাদের লাঠি দিয়ে গাছের পাতা পেড়ে পানিতে তা ভিজিয়ে নিয়ে তা খেতাম।বর্ণনাকারী বলেন, তারপর আমরা সাগর উপকূল দিয়ে চলতে লাগলাম। হঠাৎ সমুদ্রোপকূলে উঁচু ঢিবির মতো কী যেন একটি আমাদের সামনে ভেসে উঠলো। আমরা সেটির কাছে গিয়ে দেখলাম, তা একটি জন্তু, যাকে ‘আম্বর’ বলে অভিহিত করা হয়। বর্ণনাকারী বলেন, আবু উবাইদা (রাঃ) বললেন, এতো মৃত জন্তু। তারপর বললেন, না, বরং আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রেরিত দূত এবং আমরা আল্লাহর পথেই আছি। এখন তো তোমরা প্রাণান্তকর অবস্থায় রয়েছ, সুতরাং তোমরা তা খেতে পারো।বর্ণনাকারী বলেন, তারপর দীর্ঘ একমাস আমরা তিনশ লোক তা খেয়েই কাটালাম এবং আমরা মোটাতাজা হয়ে উঠলাম। রাবী বলেন, আমি দেখেছি, কিভাবে কলসীর পর কলসী ভরে তৈল (চর্বি) আমরা তার চক্ষুর কোটর থেকে বের করি এবং তার দেহ থেকে এক একটি ষাঁড় পরিমাণ গোশতের টুকরা কেটে নেই। তারপর আবু উবাইদা (রাঃ) আমাদের মধ্যকার তের জনকে ডেকে নিলেন এবং ঐ জন্তুটির চোখের কোটরে বসিয়ে দিলেন। তিনি জন্তুটির পাঁজরের একটি অস্থি তুলে দাঁড় করিয়ে আমাদের সর্বাধিক বড় উটটির উপর হাওদা চড়ালেন আর সে উটটি দিব্যি তার নিচ দিয়ে অতিক্রম করে গেল। তারপর অবশিষ্ট গোশত আমরা সিদ্ধ করে আমাদের পাথেয় রূপে নিয়ে আসলাম।যখন আমরা মদীনায় ফিরে এলাম তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি তাঁকে জানালাম। তখন তিনি বললেন, এটা হচ্ছে রিজক যা আল্লাহ তোমাদের জন্যই বের করেছিলেন। তোমাদের কাছে তার অবশিষ্ট কিছু গোশত আছে কি আমাকে তা থেকে দিতে পারবে? বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে তার কিছু অংশ পাঠালাম এবং তিনি তা খেলেন।
৪৮৯৩
সাগরের মৃত হালাল পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন। আমরা তিনশ আরোহী ছিলাম এবং আবু উবাইদা ইবন জাররাহ (রাঃ) ছিলেন আমাদের দলনেতা। আমরা কুরাইশের একটি কাফেলার জন্য ওৎ পেতে ছিলাম। অর্ধমাস পর্যন্ত আমরা সমুদ্রোপকূলে অবস্থান করলাম। তখন আমরা খুবই খাদ্যাভাবে পড়লাম এবং আমরা (বাধ্য হয়ে) গাছের পাতা খেলাম। তাই এ বাহিনীর নাম দেয়া হলো ‘জাইশুল খাবাত’ বা লতা-পাতার বাহিনী।এ সময় সমুদ্রে আমাদের জন্য একটি জন্তু (বিরাট মাছ) নিক্ষেপ করলো- যাকে ‘আম্বর’ বলা হয়। আমরা অর্ধমাস পর্যন্ত তা খেলাম এবং তার তেল আমাদের গায়ে মালিশ করলাম, তাতে আমাদের দেহ মোটাতাজা হয়ে উঠলো।বর্ণনাকারী বলেন, আবু উবাইদা (রাঃ) জন্তুটির পাঁজরের একটি হাড় নিয়ে খাড়া করলেন, তারপর বাহিনীর সবচেয়ে লম্বা লোকটি এবং উচ্চতর উটটির উপরে তুলে ধরলেন। তারপর ঐ ব্যক্তিটিকে ঐ উটের উপর চড়িয়ে দিলেন। আর সে অনায়াসে এর নিচ দিয়ে অতিক্রম করে গেল। ঐ জন্তুটির চোখের কোটরে অনেকগুলো লোক একত্রে বসলেন।রাবী বলেন, আর আমরা তার চোখ থেকে এত এত কলস ভর্তি চর্বি বের করি। বর্ণনাকারী আরও বলেন, তখন আমাদের নিকট এক বস্তা খেজুর ছিল। আবু উবাইদা (রাঃ) প্রথমে আমাদের প্রত্যেককে এক মুঠি করে খেজুর দিলেন। তারপর শেষদিকে তিনি আমাদের জনপ্রতি একটি করে খেজুর দিতেন। যখন তাও শেষ হয়ে গেল তখন আমরা অভাব অনুভব করলাম।
৪৮৯৪
সাগরের মৃত হালাল পরিচ্ছেদ নাই
আমর (রহঃ)
আমর (রহঃ)-কে 'জাইশুল খাবাত' সম্পর্কে বলতে শুনেছেনঃ এক ব্যক্তি প্রথমে তিনটি উট যবেহ করল, তারপর আরও তিনটি, অতঃপর আরও তিনটি। তারপর আবু উবাইদা (রাঃ) তাঁকে এরূপ করতে নিষেধ করেন।
৪৮৯৫
সাগরের মৃত হালাল পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ) একদা আমাদেরকে একটি অভিযানে পাঠালেন। বাহিনীতে আমরা ছিলাম তিনশ জন। আমরা আমাদের রসদপত্র আমাদের কাঁধে বহন করেছিলাম।
৪৮৯৬
সাগরের মৃত হালাল পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রাঃ)-কে তাঁদের আমীর নিযুক্ত করে তিনশ’ লোকের একটি বাহিনী পাঠালেন। তাঁদের পাথেয় প্রায় শেষ হয়ে গেলে আবু উবাইদা (রাঃ) সকলের পাথেয় একই পাত্রে জমা করে আমাদের প্রত্যেকের দৈনন্দিন খাদ্য সরবরাহ করতেন। তখন আমাদের প্রত্যেকের ভাগে দৈনিক একটি করে খেজুর পড়তো।
৪৮৯৭
সাগরের মৃত হালাল পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি বাহিনীকে সমুদ্রোপকূলে প্রেরণ করেন। আমি সে দলেই ছিলাম। হাদিসের অবশিষ্ট অংশ আমর ইবন দীনার ও আবু যুবাইর (রহঃ) বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত। তবে ওহব ইবন কায়সান (রহঃ)-এর হাদিসে রয়েছে যে, ‘সেনাবাহিনী আঠারো দিন পর্যন্ত মাছটি খেয়েছিল’।
৪৮৯৮
সাগরের মৃত হালাল পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি বাহিনীকে জুহাইনা গোত্রের এলাকায় পাঠালেন এবং এক লোককে তার সেনাপতি নিযুক্ত করলেন। অবশিষ্ট অংশ পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ।
৪৮৯৯
গৃহপালিত গাধা খাওয়া হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ)
খাইবার যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মহিলাদের সাথে মুত‘আ বিবাহ করতে এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।
৪৯০০
গৃহপালিত গাধা খাওয়া হারাম পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্, ইবনু নুমায়র, যুহায়র ইবনু হারব, ইবনু নুমায়র (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আবু তাহির, হারমালাহ, ইসহাক ও আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... যুহরী (রহঃ) হতে এ সানাদে বর্ণনা করেছেন। তবে ইউনুসের বর্ণনায় রয়েছে, গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।