৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৮১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৮০১
আল্লাহর রাহের মুজাহিদগনকে বাহন ও অন্য কিছু দিয়ে সাহায্য করা এবং তাদের পরিবারবর্গের দেখা-শুনা করার ফযীলাত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ খুদ্‌রী (রাঃ)
একদা নবী (ﷺ) লিহইয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে একটি বাহিনী পাঠান। তখন তিনি বললেন, “প্রতি দুইজনের মধ্যে একজনকে অবশ্যই যুদ্ধে বেরিয়ে যাওয়া উচিত।”তারপর তিনি বাড়ীতে অবস্থানকারীদেরকে বললেন, “তোমাদের মধ্যকার যে কেউ যুদ্ধে গমনকারীর পরিবার-পরিজন ও তার সহায়-সম্পদের দেখাশোনা করবে, সেও গমনকারীর অর্ধেক সওয়াব লাভ করবে।
৪৮০২
মুজাহিদদের রমণীদের পবিত্রতা এবং তাতে খিয়ানাতকারীদের পাপ পরিচ্ছেদ নাই
বুরাইদাহ্‌ (রাঃ)
মুজাহিদদের নারীদের ইজ্জত রক্ষা বাড়িতে অবস্থানকারীদের জন্য তাদের মায়েদের ইজ্জতের তুল্য। বাড়িতে অবস্থানকারী যে ব্যক্তি কোনো মুজাহিদের পক্ষে তার পরিবারবর্গের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকে এবং তাতে সে কোনো রূপ খিয়ানত বা বিশ্বাসভঙ্গ করে, কেয়ামতের দিন সে মুজাহিদকে তার সম্মুখে দাঁড় করানো হবে এবং সে তার খিয়ানতকারীর নেক আমল থেকে যে পরিমাণ ইচ্ছা নিয়ে যাবে। তোমাদের ধারণা কী? (অর্থাৎ, সে কি আর কম নেবে? সমুদয় সওয়াবই সে কেড়ে নিয়ে যাবে।)
৪৮০৩
মুজাহিদদের রমণীদের পবিত্রতা এবং তাতে খিয়ানাতকারীদের পাপ পরিচ্ছেদ নাই
বুরাইদাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বাকী অংশ সাওরী (রহঃ)-এর অনুরূপ।
৪৮০৪
মুজাহিদদের রমণীদের পবিত্রতা এবং তাতে খিয়ানাতকারীদের পাপ পরিচ্ছেদ নাই
আলকামাহ্ ইবনু মারসাদ (রহঃ)
তিনি আরও রিওয়ায়াত করেন যে, মুজাহিদকে বলা হবে তুমি তার নেক আমল থেকে যে পরিমাণ ইচ্ছা নিয়ে নাও। এ কথাটি বলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের দিকে তাকালেন এবং বললেন, তোমাদের কী ধারণা? (মুজাহিদ কি তখন তার কোন সওয়াব আর বাকী রাখবে?)
৪৮০৫
ওযরগ্রস্ত ব্যক্তিদের থেকে জিহাদের আবশ্যকতা নিষ্পতিত হওয়া। পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইসহাক্‌ (রহঃ)
তিনি বারা (রাঃ)-কে কুরআন মাজীদের আয়াতঃ “মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে ও যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে তারা সমান নয়” সম্পর্কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যায়দ (রাঃ)-কে একটি হাড় নিয়ে আসতে আদেশ করলেন এবং তিনি তাতে তা লিখলেন। তখন ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ) তাঁর (অন্ধত্বের) ওজর সম্পর্কে অনুযোগ করলেন। এ বিষয়ে নাযিল হলোঃ “মুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে তারা সমান নয়।” শু’বা (রহঃ) বলেন, আমার কাছে সাদ ইবনু ইব্রাহিম বর্ণনা করেছেন এক ব্যক্তি সূত্রে তিনি যায়দ (রাঃ) হতে এ আয়াত সম্পর্কে “যারা বসে থাকে তারা সমান নয়।” বাকী হাদিস বারা হাদিসের অনুরূপ। ইবনু বাশশার তাঁর বর্ণনায় বলেছেন, সাদ ইবনু ইব্রাহিম (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে তিনি এক ব্যক্তি থেকে তিনি যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) থেকে।
৪৮০৬
ওযরগ্রস্ত ব্যক্তিদের থেকে জিহাদের আবশ্যকতা নিষ্পতিত হওয়া। পরিচ্ছেদ নাই
বারা (রাঃ)
যখন لاَ يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ আয়াত নাযিল হলো, তখন ইবন উম্মু মাকতূম (রাঃ) সে ব্যাপারে তাঁর (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর) সঙ্গে আলাপ করলেন। তখন নাযিল হলো غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ অর্থাৎ, যাদের কোন ওজর নেই।
৪৮০৭
শহীদের জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আম্‌র (রহঃ)
তিনি জাবির (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, এক ব্যক্তি (এসে) বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি যদি আল্লাহর রাস্তায় নিহত হই তবে কোথায় থাকব?উত্তরে তিনি (ﷺ) বললেন, জান্নাতে। লোকটি তখন তার হাতের খেজুরগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হলো, অবশেষে শহীদ হলো।সুওয়াইদ (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে, উহুদ যুদ্ধের দিন এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-কে বলল।
৪৮০৮
শহীদের জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
বারা (রাঃ)
বানু নবীতের এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট এলো। আহমাদ ইবনু জানাব মিস্সিসী (রহঃ)... বারা (রাঃ) হতে বর্ণিত। আনসারদের অন্তর্ভুক্ত একটি কাবিলা বানু নবীতের এক ব্যক্তি আসলো এবং বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই এবং আপনি তাঁর বান্দা ও রাসূল (ﷺ)। তারপর সে অগ্রসর হলো এবং যুদ্ধে প্রবৃত্ত হলো। এমনকি শেষ পর্যন্ত সে শহীদ হলো। তখন নবী (ﷺ) বললেন, সে খুবই সহজ কাজ করলো তবে তাকে প্রচুর সওয়াব দেয়া হয়েছে।
৪৮০৯
শহীদের জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বুসাইসা (রাঃ)-কে আবু সুফিয়ানের বাণিজ্যিক কাফিলার গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য পাঠান। তারপর তিনি ফিরে আসলেন। তখন আমি ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাড়া ঘরে আর কেউই ছিল না। রাবী বলেন, আমি স্মরণ করতে পারছি না, তিনি (আনাস) নবী (ﷺ)-এর কোন সহধর্মিণীর কথাও বলেছেন কি-না।এরপর তিনি সমুদয় ঘটনা বর্ণনা করলেন। অতঃপর বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হলেন এবং (লোকদের লক্ষ্য করে) তিনি বললেন, আমি দুশমনের খোঁজে বের হচ্ছি। যার সাওয়ারী মওজুদ আছে সে যেন আমাদের সঙ্গে সাওয়ার হয়ে যায়। তখন কিছু লোক মদীনার উপরাঞ্চল থেকে তাদের সাওয়ারী নিয়ে আসার অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি বললেন, না; কেবল যাদের সাওয়ারী প্রস্তুত আছে তারাই যাবে।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ রওনা করলেন এবং মুশরিকদের পূর্বেই বদরে গিয়ে পৌঁছলেন। এর পরপরই মুশরিকরা এসে পৌঁছলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের কেউ যেন কোন ব্যাপারে আমার অগ্রবর্তী না হয়, যতক্ষণ না আমি তার সামনে থাকি।এরপর মুশরিকরা নিকটবর্তী হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা জান্নাতের দিকে অগ্রসর হও যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের প্রশস্ততার মত। রাবী বলেন, উমাইর ইবনু হুমাম আনসারী (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতের প্রশস্ততা কি আসমান ও যমীনের প্রশস্ততার ন্যায়? তিনি বললেন, হ্যাঁ। উমাইর বলে উঠলেন, বাহ, বাহ, কী চমৎকার!তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বাহ, বাহ বলতে তোমাকে কিসে উদ্বুদ্ধ করলো হে? তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! বরং আল্লাহর কসম! আমি তার অধিবাসী হওয়ার আশায়ই এরূপ বলেছি। তখন তিনি বললেন, তুমি নিশ্চয়ই তার অধিবাসী (হবে)।রাবী বলেন, তারপর তিনি তাঁর তূণ থেকে কয়েকটি খেজুর বের করলেন এবং তা খেতে লাগলেন। তারপর বললেন, আমি যদি এ খেজুরগুলো খেয়ে শেষ করা পর্যন্ত বেঁচে থাকি তবে তাও হবে এক দীর্ঘ জীবন। রাবী বলেন, তারপর তিনি তাঁর কাছে রক্ষিত খেজুরগুলো ছুঁড়ে ফেলে দিলেন তারপর জিহাদে প্রবৃত্ত হলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হলেন।
৪৮১০
শহীদের জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু কায়স (রহঃ)
আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি—আর তিনি ছিলেন তখন শত্রুর মুখোমুখি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “নিশ্চয়ই জান্নাতের দরজাসমূহ রয়েছে তরবারির ছায়ায় নীচে।”তখন আলুথালু এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়ালো এবং বলল, “হে আবু মূসা! আপনি কি নিজে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” তখন সে ব্যক্তি তাঁর সাথীবর্গের কাছে ফিরে গেলো। তারপর বলল, “আমি তোমাদেরকে (বিদায়ী) সালাম জানাচ্ছি।” এরপর সে তার তরবারির কোষ ভেঙ্গে ফেলে তা দূরে নিক্ষেপ করলো। তারপর নিজ তরবারিসহ শত্রুদের কাছে গিয়ে তা দিয়ে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হয়ে গেল।