৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৮২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৮১১
শহীদের জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
কতিপয় লোক নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, আমাদের সঙ্গে এমন কিছু লোক দিন যাঁরা আমাদেরকে কুরআন এবং সুন্নাহ শিক্ষা দেবেন। তখন তিনি আনসারদের সত্তর ব্যক্তিকে তাদের সাথে পাঠালেন। তাদেরকে ক্বারী সমাজ বলা হতো। এঁদের মধ্যে আমার মামা হারাম (রাঃ)ও ছিলেন। তাঁরা কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং রাতে এর অর্থ অনুধাবন ও শিক্ষায় নিমগ্ন থাকতেন, আর দিনের বেলায় জলাশয়ে গিয়ে পানি এনে মসজিদে রাখতেন এবং কাঠ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে বিক্রিলব্ধ অর্থে সুফফাবাসী এবং নিঃস্ব ফকীরদের জন্যে আহার্য সামগ্রী ক্রয় করতেন। এঁদেরকে নবী (ﷺ) তাদের সঙ্গে পাঠিয়েছিলেন। ওরা তাঁদের উপর আক্রমণ করলো এবং তাঁরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছার পূর্বেই তাঁদেরকে হত্যা করলো।তখন তাঁরা বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের নবীর নিকট সংবাদ পৌঁছিয়ে দিন যে, আমরা আপনার সন্নিধানে পৌঁছে গিয়েছি এবং আপনার প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছি। আর আপনিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট রয়েছেন। রাবী বলেন, এক লোক আনাস (রাঃ)-এর মামা হারাম (রাঃ)-এর পিছন দিক দিয়ে এসে বর্শা দিয়ে বিদ্ধ করে হত্যা (শহীদ) করে দিল। হারাম (রাঃ) বলে উঠলেন, কাবার প্রভুর কসম! আমি সাফল্যমন্ডিত হয়েছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমাদের ভাইগণ নিহত হয়েছেন। আর (অন্তিম মুহূর্তে) তাঁরা বলেছেন, হে আল্লাহ! আমাদের নবীকে সংবাদ পৌঁছিয়ে দিন যে, আমরা আপনার সন্নিধানে পৌঁছে গেছি এ অবস্থায় যে, আমরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট আর আপনিও আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট।
৪৮১২
শহীদের জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
আমার যে চাচার নামানুসারে আমার নামকরণ করা হয়েছে, সেই আনাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে বদরের যুদ্ধে শরীক হতে পারেননি। রাবী বলেন, এটা ছিল তাঁর জন্যে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তিনি (প্রায়ই) বলতেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথম যে যুদ্ধটি করেছিলেন, তাতে আমি শরীক হতে পারলাম না। এরপর যদি আল্লাহ তা’আলা আমাকে তাঁর কোন যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করার সুযোগ দান করেন তাহলে আমি কী করি তা আল্লাহ দেখবেন।রাবী বলেন, এর বেশি কিছু বলতে তিনি ভয় পেতেন। তারপর উহুদ যুদ্ধের দিন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। রাবী বলেন, সাদ ইবনু মু'আয (রাঃ) যখন অগ্রসর হলেন তখন আনাস (রাঃ) তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবু আমর! কোথায় (যাচ্ছো)? তিনি বললেন, বাহ! জান্নাতের ঘ্রাণ আমি উহুদ প্রান্ত থেকে পাচ্ছি।রাবী বলেন, তারপর তিনি কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়ে গেলেন। রাবী বলেন, তারপর তাঁর মৃত দেহে আশিটিরও অধিক তরবারি, বর্শা ও তীরের চিহ্ন পাওয়া যায়। রাবী আনাস (রাঃ) বলেন, তাঁর বোন এবং আমার ফুফু রুবাইয়্যি বিনত নযর (রাঃ) বলেন, (শহীদের ক্ষতবিক্ষত দেহের) কেবল তাঁর আঙ্গুলের জোড়া দেখেই তাঁকে আমি শনাক্ত করেছি। (অন্য কোন পরিচয়ই অবশিষ্ট ছিল না।) তখন আয়াত নাজিল হলোঃ “এরা হচ্ছে সেসব ব্যক্তি, যারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূরণ করে দেখিয়েছে। তাদের কেউ অঙ্গীকার ইতোমধ্যেই পূরণ করে ফেলেছে, আর কেউ তার প্রতীক্ষায় রয়েছে। তারা মোটেই পরিবর্তিত হয়নি”-(সূরা আহযাব ৩৩ঃ২৩)। রাবী বলেন, সাহাবীগণ মনে করতেন যে এ আয়াতটি তাঁর এবং তাঁর সাথীদের সম্পর্কেই নাজিল হয়েছিল।
৪৮১৩
যে আল্লাহর কালিমা সমুন্নত করার উদ্দেশে যুদ্ধ করে সে আল্লাহর পথের মুজাহিদ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ)
জনৈক বেদুঈন নবী (ﷺ) এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করলো, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এক ব্যক্তি গনীমত লাভের জন্য যুদ্ধ করে, অন্য এক ব্যক্তি স্মরণীয় হওয়ার জন্য, আর এক ব্যক্তি যুদ্ধ করে নিজের উচ্চমর্যাদা প্রদর্শনের জন্যে। এগুলোর মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে বলে গণ্য হবে?” তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমা সমুন্নত করার উদ্দেশে যুদ্ধ করে সে ব্যক্তিই আল্লাহর পথে (যুদ্ধ করে)।”
৪৮১৪
যে আল্লাহর কালিমা সমুন্নত করার উদ্দেশে যুদ্ধ করে সে আল্লাহর পথের মুজাহিদ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করা হলো, যে ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, যে ব্যক্তি গোত্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য যুদ্ধ করে, যে ব্যক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশে যুদ্ধ করে এগুলোর মধ্যে কোনটি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ (বলে গণ্য হবে)? তখন (জবাবে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি এ উদ্দেশে যুদ্ধ করে যে, আল্লাহর বাণী সমুন্নত হবে, (কেবল) সে আল্লাহর রাস্তায় (বলে গণ্য হবে)।
৪৮১৫
যে আল্লাহর কালিমা সমুন্নত করার উদ্দেশে যুদ্ধ করে সে আল্লাহর পথের মুজাহিদ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এলাম এবং আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যকার এক ব্যক্তি বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য লড়াই করে। তারপর অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেন।
৪৮১৬
যে আল্লাহর কালিমা সমুন্নত করার উদ্দেশে যুদ্ধ করে সে আল্লাহর পথের মুজাহিদ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা আশ’আরী (রাঃ)
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আল্লাহর পথে যুদ্ধ সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তখন সে ব্যক্তি বলল, এক ব্যক্তি ক্রোধের বশে যুদ্ধ করে এবং গোত্রের টানে যুদ্ধ করে। তখন তিনি তার দিকে মাথা তুলে তাকালেন। তাঁর এ মাথা তোলা শুধু এজন্যই ছিল যে, সে লোকটি দণ্ডায়মান অবস্থায় ছিল। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি এজন্য যুদ্ধ করে যে, আল্লাহর বাণী সমুন্নত হবে, কেবল সে আল্লাহর রাহে (যুদ্ধ করে)।
৪৮১৭
লোক দেখানো এবং খ্যাতির উদ্দেশে যে যুদ্ধ করে সে জাহান্নামের যোগ্য হয় পরিচ্ছেদ নাই
সুলাইমান ইবনু ইয়াসার (রহঃ)
একদা লোকজন যখন আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর নিকট থেকে বিদায় নিচ্ছিল, তখন শামবাসী নাতিল (রহঃ) বললেন, “হে শায়খ! আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট থেকে শুনেছেন এমন একখানা হাদিস আমাদেরকে শুনান।” তিনি বলেন, “হ্যাঁ! (শুনাব)। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে, সে হচ্ছে এমন একজন যে শহীদ হয়েছিল। তাঁকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাঁর নিয়ামতসমূহের কথা তাকে বলবেন এবং সে তার সবটাই চিনতে পারবে (এবং যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে)। তখন আল্লাহ বলবেন, ‘এর বিনিময়ে কী আমল করেছিলে?’ সে বলবে, ‘আমি তোমারই পথে যুদ্ধ করেছি এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি।’ তখন আল্লাহ বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি বরং এ জন্যেই যুদ্ধ করেছিলে যাতে লোকেরা তোমাকে বলে, তুমি বীর।’ তা বলা হয়েছে, এরপর নির্দেশ দেওয়া হবে। সে মতে তাকে উপুড় করে হিঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার করা হবে যে জ্ঞান অর্জন ও বিতরণ করেছে এবং কুরআন মাজীদ অধ্যয়ন করেছে। তখন তাকে হাজির করা হবে। আল্লাহ তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতের কথা তাকে বলবেন এবং সে তা চিনতে পারবে (এবং যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে)। তখন আল্লাহ বলবেন, ‘এত বড় নিয়ামত পেয়ে বিনিময়ে তুমি কী করলে?’ জবাবে সে বলবে, ‘আমি জ্ঞান অর্জন করেছি এবং তা শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমারই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরআন অধ্যয়ন করেছি।’ জবাবে আল্লাহ বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি তো জ্ঞান অর্জন করেছিলে এজন্যে যাতে লোকেরা তোমাকে জ্ঞানী বলে। কুরআন তিলাওয়াত করেছিলে এ জন্যে যাতে লোকেরা বলে, তুমি একজন কারী।’ তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেওয়া হবে, সে মতে তাকেও উপুড় করে হিঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার হবে যাকে আল্লাহ সচ্ছলতা এবং সর্ববিধ বিত্ত-বৈভব দান করেছেন। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে প্রদত্ত নিয়ামতসমূহের কথা তাঁকে বলবেন। সে তা চিনতে পারবে (স্বীকারোক্তিও করবে)। তখন আল্লাহ বলবেন, ‘এসব নিয়ামতের বিনিময়ে তুমি কী আমল করেছ?’ জবাবে সে বলবে, ‘সম্পদ ব্যয়ের এমন কোন খাত নেই যাতে সম্পদ ব্যয় করা তুমি পছন্দ কর, আমি সে খাতে তোমার সন্তুষ্টির জন্যে ব্যয় করেছি।’ তখন আল্লাহ বলবেন, ‘তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি বরং এ জন্যে তা করেছিলে যাতে লোকেরা তোমাকে ‘দানবীর’ বলে অভিহিত করে।’ তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেওয়া হবে। সে মতে তাকেও উপুড় করে হিঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
৪৮১৮
লোক দেখানো এবং খ্যাতির উদ্দেশে যে যুদ্ধ করে সে জাহান্নামের যোগ্য হয় পরিচ্ছেদ নাই
সুলাইমান ইবনু ইয়াসার (রহঃ)
সুলায়মান ইবন ইয়াসার (রহঃ) হতে হাদীসখানা বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর বর্ণনায় ‘তাফাররাকা’-এর স্থলে ‘তাফাররাজা’ এবং ‘নাতিল আহলিশ শাম’-এর স্থলে ‘নাতিলুশ শাম’ বলে উল্লেখ করেছেন। অবশিষ্ট হাদীস খালিদ ইবন হারিস (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪৮১৯
যুদ্ধ করে যারা গনীমাত লাভ করল ও যারা করেনি তাঁদের সাওয়াবের পরিমাণ সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে বাহিনী আল্লাহর পথে জিহাদ করলো এবং তাতে গনীমত লাভ করলো তারা এ দুনিয়াতেই আখিরাতের দুই-তৃতীয়াংশ বিনিময় নগদ পেয়ে গেল। তাদের জন্য কেবল এক-তৃতীয়াংশ বিনিময় অবশিষ্ট রইলো। আর যে বাহিনী কোন গনীমত লাভ করলো না, তাদের পূর্ণ বিনিময়ই পাওনা রয়ে গেল।
৪৮২০
যুদ্ধ করে যারা গনীমাত লাভ করল ও যারা করেনি তাঁদের সাওয়াবের পরিমাণ সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বাহিনী মাত্রই যারা আল্লাহর পথে জিহাদ করলো এবং গনীমত লাভ করলো, তারপর নিরাপদে প্রত্যাবর্তন করলো তাঁরা আখিরাতের দুই-তৃতীয়াংশ বিনিময়ই নগদ পেয়ে গেল। যারা খালি হাতে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ফিরে আসলো, তাদের পুরো বিনিময়ই পাওনা রয়ে গেল।