৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৮৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৮২১
নিয়্যাত অনুসারে ‘আমালের সাওয়াব, জিহাদ প্রভৃতি ‘আমালও এর অন্তর্ভুক্ত পরিচ্ছেদ নাই
উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ প্রত্যেক আমলের ফলাফল নিয়তের উপর নির্ভরশীল এবং কোন ব্যক্তি কেবল তাই লাভ করবে যা সে নিয়ত করে। যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে, তার হিজরত আল্লাহ ও রাসূলের উদ্দেশ্য হিজরত বলে গণ্য হবে, আর যার হিজরত পার্থিব কোন মহিলাকে বিবাহ গ্রহণের উদ্দেশ্যে হবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যের হিজরত বলেই গণ্য হবে।
৪৮২২
নিয়্যাত অনুসারে ‘আমালের সাওয়াব, জিহাদ প্রভৃতি ‘আমালও এর অন্তর্ভুক্ত পরিচ্ছেদ নাই
সুফ্ইয়ান (রহঃ)
আমি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-কে মিম্বারে উপবিষ্ট অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বরাতে বলতে শুনেছি .....।
৪৮২৩
আল্লাহর পথে শাহাদাত কামনা করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা করে আল্লাহ তাকে তা (অর্থাৎ, তার সাওয়াব) দিয়ে থাকেন যদিও সে শাহাদাত লাভের সুযোগ না পায়।
৪৮২৪
আল্লাহর পথে শাহাদাত কামনা করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
সাহ্‌ল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে আল্লাহর নিকট শাহাদাত প্রার্থনা করে আল্লাহ তাকে শহীদের মর্যাদায় অভিষিক্ত করবেন যদিও সে আপন শয্যায় ইন্তিকাল করে।
৪৮২৫
আল্লাহর পথে জিহাদ না করে এমন কি জিহাদের আকাঙ্ক্ষা না করে যে মারা যায় তার পরিণাম অশুভ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল, অথচ কখনো জিহাদ করল না বা জিহাদের কথা তার মনে কোনো দিন উদিতও হলো না, সে যেন মুনাফিকের মৃত্যুবরণ করল।আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ) বলেন, আমাদের মতে, এ হুকুম একান্তই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগের জন্য প্রযোজ্য।
৪৮২৬
অসুস্থতা বা ওযরের কারণে যে জিহাদে যেতে পারলো না, তার সাওয়াব পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
একদা আমরা কোনো এক যুদ্ধে নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ মদীনায় এমন কতিপয় লোক রয়েছে যারা তোমাদের প্রতিটি পথ চলায় এবং প্রান্তর অতিক্রম করায় তোমাদেরই সঙ্গে রয়েছে (সওয়াব লাভের বেলায়)। রোগ ব্যাধি তাদেরকে আটকে রেখেছে।
৪৮২৭
অসুস্থতা বা ওযরের কারণে যে জিহাদে যেতে পারলো না, তার সাওয়াব পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
আ’মাশ (রহঃ) হতে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে ওকী’ (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে “তাঁরা প্রতিদান পাওয়ার ক্ষেত্রে তোমাদের সঙ্গে শরীক রয়েছেন।”
৪৮২৮
সামুদ্রিক জিহাদের মাহাত্ম্য পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু হারাম বিনতু মিলহান (রাযিঃ) এর ঘরে যেতেন। তিনি তাকে আপ্যায়ন করতেন। উম্মু হারাম (রাযিঃ) ছিলেন, উবাদাহ ইবনু সামিত (রাযিঃ) এর স্ত্রী। একদা তিনি তার ঘরে গেলেন এবং তিনি তাকে (চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী) আপ্যায়ন করলেন। তারপর তিনি তার (রাসূলাল্লাহর) মাথার উকুন দেখতে বসলেন এবং এ অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে পড়লেন। তারপর তিনি যখন জাগ্রত হলেন তখন তিনি হাসছিলেন। উম্মু হারাম (রাযিঃ) বলেন, আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার হাসির কারণ কী? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের এমন কিছু সংখ্যক লোককে আমার সম্মুখে পেশ করা হলো, যারা আল্লাহর পথের যোদ্ধারূপে রাজা-বাদশাহের ন্যায় সাগর পৃষ্ঠে সিংহাসনে আসীন হবেন। অথবা বলেছেন, রাজা-বাদশাহর মতো সিংহাসনে আসীন হবেন। রাবী সন্দেহ পোষণ করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বাক্যটি বলেছেন। উম্মু হারাম (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন যেন তিনি আমাকেও তাদের সঙ্গে শামিল করেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্যে দু’আ করলেন। এরপর তিনি মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন। আবার জেগে হাসতে লাগলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাকে কিসে হাসাচ্ছে? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের কিছু সংখ্যক লোককে আমার সম্মুখে পেশ করা হয়, আল্লাহর পথের যোদ্ধারূপে... পূর্বের বাক্যের অনুরূপ। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর কাছে দু’আ করুন! তিনি যেন আমাকেও তাদের সঙ্গে শামিল করেন। তিনি বললেন, তুমি হবে তাদের প্রথম সারির একজন। তারপর উম্মু হারাম বিনতু মিলহান মু’আবিয়াহ (রাযিঃ) এর আমলে (সত্যিসত্যি) সমুদ্রপৃষ্ঠে (সাইপ্রাসের যুদ্ধ উপলক্ষে) আরোহণ করেন এবং সমুদ্র থেকে বের হওয়ার কালে সওয়ার থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
৪৮২৯
সামুদ্রিক জিহাদের মাহাত্ম্য পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
একদা নবী (ﷺ) আমাদের ঘরে এলেন এবং আমাদের এখানেই মধ্যাহ্ন বিশ্রাম করলেন। তারপর তিনি যখন জাগলেন তখন তিনি হাসছিলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার হাসবার কারণ কী? আপনার প্রতি আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক! তখন জবাবে তিনি বললেন, আমাকে (স্বপ্নে) দেখানো হলো যে, আমার উম্মতের মধ্যকার একদল লোক রাজা-বাদশাহদের সিংহাসনে আরোহণের মতো সমুদ্রপৃষ্ঠে আরোহণ করবে। তখন আমি আরজ করলাম, আপনি আমার জন্য দোয়া করুন যেন তিনি আমাকে তাদের সঙ্গে শামিল করে নেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তাদের মধ্যে শামিল থাকবে।তারপর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন এবং পুনরায় জেগে আবারও হাসতে থাকেন। আমি তাঁকে কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি পূর্বের মতো উত্তর দিলেন। অতঃপর আমি বললাম, আপনি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন যেন তিনি আমাকে তাদের সঙ্গে শামিল রাখেন। তিনি বললেন, তুমি হবে তাদের প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত।রাবী বলেন, পরবর্তীকালে উবাদা ইবনু সামিত (রাঃ) তাঁকে বিয়ে করেন। তিনি সমুদ্রযুদ্ধে যাত্রা করেন এবং তাঁকেও সঙ্গে নিয়ে যান। যখন তিনি ফিরে আসছিলেন তখন একটি খচ্চর তাঁর সামনে আনা হলো। তিনি তাতে আরোহণ করলেন তখন খচ্চরটি তাঁকে নিচে ফেলে দেয়। তাতে তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে যায়। (এবং এভাবে তিনি শহীদ হন।)
৪৮৩০
সামুদ্রিক জিহাদের মাহাত্ম্য পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)-এর খালা উন্মু হারাম বিনত মিলহান (রাঃ)
একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে ঘুমালেন, তারপর মুচকি হাসতে লাগলেন। আমি তখন বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার হাসবার কারণ কী? তিনি বললেন, আমার উম্মাতের একদল লোককে আমার সম্মুখে পেশ করা হলো যারা এ সবুজ সাগরের পিঠে আরোহণ করবে ...... তারপর হাম্মাদ ইবনু যায়দের অনুরূপ বর্ণনা করেন।