৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৬২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৬১১
নেতৃত্ব, প্রার্থনা ও ক্ষমতার লোভ নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
(একদা) আমি এবং আমার দুই চাচাতো ভাই নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। দু’জনের একজন বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! মহান আল্লাহ আপনাকে যে সমস্ত রাজ্যের কর্তৃত্ব প্রদান করেছেন তার কতক অংশে আমাদেরকে প্রশাসক নিযুক্ত করুন।’ অপরজনও অনুরূপ বলল। তখন তিনি বললেনঃ “আল্লাহর কসম! আমরা এমন কাউকে নেতৃত্বে বসাই না, যে সেটির জন্য প্রার্থী হয় এবং যে তার জন্য লালায়িত হয়।”
৪৬১২
নেতৃত্ব, প্রার্থনা ও ক্ষমতার লোভ নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
একদা আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হলাম। তখন আমার সাথে আশআরী বংশের দুইজন লোক ছিল। তাদের একজন ছিল আমার ডানে, অপরজন আমার বামে। তারা দুইজনই (পদে) নিয়োগ প্রার্থনা করলো। নবী (ﷺ) তখন মিসওয়াক করছিলেন। তখন তিনি (আমাকে লক্ষ্য করে) বললেন, “হে আবু মূসা অথবা হে আবদুল্লাহ! তুমি কী বল?”তিনি বলেন, আমি বললাম, “যে পবিত্র সত্তা আপনাকে নবী করে পাঠিয়েছেন, তাঁর কসম! তাদের অন্তরে যে কী রয়েছে সে সম্পর্কে তারা আমাকে মোটেও জানায়নি, আর আমি মোটেও টের পাইনি যে, তারা আপনার কাছে (পদে) নিয়োগ প্রার্থনা করবে।” রাবী বলেন, “আমি যেন (স্পষ্টই) তাঁর ওষ্ঠ মুবারকের নিচে মিসওয়াক দেখতে পাচ্ছি।” তখন তিনি বললেন, “আমরা আমাদের কোন কাজে কখনো এমন লোককে নিয়োগ প্রদান করি না- যে তার জন্য লালায়িত। বরং তুমি যাও। হে আবু মূসা!” অথবা তিনি বললেন, “হে আবদুল্লাহ!”অতঃপর তিনি তাঁকে ইয়ামানের গভর্নর করে পাঠালেন। এরপর তিনি মুআয ইবন জাবালকে তাঁর সাহায্যার্থে পাঠালেন। তিনি (মুআয) যখন তাঁর (আবু মুসার) নিকট গিয়ে পৌঁছলেন, তখন তিনি বললেনঃ “অবতরণ করুন” এবং সাথে সাথে তিনি একটি আসন পেতে দিলেন। তখন তাঁর নিকট হাত পা বাঁধা অবস্থায় একটি লোক ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন : “এ লোকটি কে?” উত্তরে তিনি বললেন, “লোকটি প্রথমে ইহুদি ছিল, তারপর সে ইসলাম গ্রহণ করে। এরপর সে আবার তার বাতিল ধর্মে ফিরে যায় এবং ইহুদি হয়ে যায়।”মুআয (রাঃ) বললেন, “যতক্ষণ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-এর বিধান অনুসারে তাকে হত্যা করা না হবে, ততক্ষণ আমি বসবো না।” এরূপ তারা তিনবার কথোপকথন করলেন। এরপর তিনি তাকে হত্যার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে হত্যা করা হলো।তারপর তারা রাত্রি জাগরণ (তাহাজ্জুদ) সম্পর্কে পরস্পরের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করলেন। তাঁদের মধ্যে মুআয (রাঃ) বললেন- “আমার অবস্থা হচ্ছে এই যে, আমি (রাত্রির কিয়দংশে) নিদ্রাও যাই আবার (কিয়দংশে) ইবাদতে জাগরণও করি এবং আমার নিদ্রায়ও ও সেইরূপ সওয়াবই প্রত্যাশা করি যেরূপ সওয়াব প্রত্যাশা করি আমার জাগরণ ও ইবাদতে।
৪৬১৩
নিষ্প্রয়োজনে ক্ষমতায় যাওয়া অনভিপ্রেত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
আমি আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি কি আমাকে প্রশাসক পদে প্রদান করবেন? রাবী বলেন, তিনি তখন তাঁর হাত দিয়ে আমার কাঁধে আঘাত করে বললেনঃ হে আবু যার! তুমি দুর্বল অথচ এটি হচ্ছে একটি আমানত। আর কেয়ামতের দিন এ হবে লাঞ্ছনা ও অনুশোচনা। তবে যে এর হক সম্পূর্ণ আদায় করবে তার কথা ভিন্ন।
৪৬১৪
নিষ্প্রয়োজনে ক্ষমতায় যাওয়া অনভিপ্রেত পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ হে আবু যার! আমি দেখছি তুমি দুর্বল প্রকৃতির লোক আর আমি তোমার জন্য তাই পছন্দ করি, যা আমি নিজের জন্য পছন্দ করি। কোন দুই ব্যক্তির উপরও কর্তৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করো না এবং ইয়াতিমের সম্পদের দায়িত্বশীল হতে যেয়ো না।
৪৬১৫
ন্যায়পরায়ণ শাসকের মর্যাদা ও অত্যাচারী শাসকের পরিণাম, শাসিতদের প্রতি কোমল আচরণ ও কঠোরতা বর্জন পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্‌র (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ন্যায় বিচারকগণ (কেয়ামতের দিন) আল্লাহর নিকটে নূরের মিম্বারসমূহে মহামহিম দয়াময় প্রভুর ডানপার্শ্বে উপবিষ্ট থাকবেন। তাঁর উভয় হাতই ডান হাত (অর্থাৎ সমান মহিমান্বিত)। যারা তাদের শাসনকার্যে, তাদের পরিবারের লোকদের ব্যাপারে এবং তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্বসমূহের ব্যাপারে সুবিচার করে।
৪৬১৬
ন্যায়পরায়ণ শাসকের মর্যাদা ও অত্যাচারী শাসকের পরিণাম, শাসিতদের প্রতি কোমল আচরণ ও কঠোরতা বর্জন পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু শুমাসাহ্ (রহঃ)
আমি একদা আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট কোনো এক ব্যাপারে প্রশ্ন করার জন্য গেলাম। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কোথাকার লোক? আমি জবাব দিলাম, আমি একজন মিসরবাসী। তখন তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের সে গৃহযুদ্ধকালীন গভর্নর (মুহাম্মাদ ইবন আবু বকর) কেমন লোক ছিলেন?রাবী বলেন, আমরা তো তার নিকট থেকে অন্যায়মূলক কিছু পাইনি। যদি আমাদের কোনো ব্যক্তির উট মারা যেত তিনি তাকে উট দিতেন। গোলাম মারা গেলে গোলাম দিতেন, কারো জীবিকার প্রয়োজন হলে তিনি তাকে তা প্রদান করতেন।তখন তিনি বললেন, আমার সহোদর মুহাম্মাদ ইবন আবু বকরের সাথে যে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে, তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমার এ ঘরে যা বলতে শুনেছি তা তোমাকে অবহিত করা থেকে আমাকে বিরত রাখতে পারছি না। (তিনি বলেছিলেন) হে আল্লাহ! যে আমার উম্মতের কোনোরূপ কর্তৃত্বভার লাভ করে এবং তাদের প্রতি রূঢ় আচরণ করে তুমি তার প্রতি রূঢ় হও, আর যে আমার উম্মতের উপর কোনোরূপ কর্তৃত্ব লাভ করে তাদের প্রতি নম্র আচরণ করে তুমি তার প্রতি নম্র ও সদয় হও।
৪৬১৭
ন্যায়পরায়ণ শাসকের মর্যাদা ও অত্যাচারী শাসকের পরিণাম, শাসিতদের প্রতি কোমল আচরণ ও কঠোরতা বর্জন পরিচ্ছেদ নাই
নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন
নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৪৬১৮
ন্যায়পরায়ণ শাসকের মর্যাদা ও অত্যাচারী শাসকের পরিণাম, শাসিতদের প্রতি কোমল আচরণ ও কঠোরতা বর্জন পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। তোমাদের প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্ববান এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। আমীর বা নেতা তার অধীনস্থ লোকদের উপর দায়িত্ববান এবং সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। প্রত্যেক ব্যক্তি তার পরিবারের লোকদের উপর দায়িত্বশীল, সে তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী স্বীয় স্বামীর বাড়ি ও সন্তানের উপর দায়িত্ববান, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। গোলাম তার মুনিবের মাল-সম্পদের উপর দায়িত্ববান, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে, ওহে! তোমাদের প্রত্যেকেই (স্ব-স্ব স্থানে) একজন দায়িত্ববান এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
৪৬১৯
ন্যায়পরায়ণ শাসকের মর্যাদা ও অত্যাচারী শাসকের পরিণাম, শাসিতদের প্রতি কোমল আচরণ ও কঠোরতা বর্জন পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবা
ইবন উমর (রাঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৪৬২০
ন্যায়পরায়ণ শাসকের মর্যাদা ও অত্যাচারী শাসকের পরিণাম, শাসিতদের প্রতি কোমল আচরণ ও কঠোরতা বর্জন পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
উপরে বর্ণিত হাদিসটি লাইস ‘আন নাফি (রহঃ)-এর হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।