৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৬১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৬০১
জনগণ কুরায়শদের অনুগামী এবং খিলাফত কুরায়শদের মধ্যে সীমিত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু সামুরাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেন। তিনি তাতে “লোকদের মধ্যে শাসন ক্ষমতা অব্যাহত গতিতে চলতে থাকবে” কথাটি উল্লেখ করেননি।
৪৬০২
জনগণ কুরায়শদের অনুগামী এবং খিলাফত কুরায়শদের মধ্যে সীমিত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু সামুরাহ্‌ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, বারোজন খলীফা অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলাম প্রবল শক্তিধর অবস্থায় চলতে থাকবে। তারপর তিনি যে কী বললেন, আমি তা বুঝতে পারিনি। তখন আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কী বলেছেন? তিনি বললেন, বলেছেন, তাঁদের সকলেই হবে কুরাইশ বংশ থেকে।
৪৬০৩
জনগণ কুরায়শদের অনুগামী এবং খিলাফত কুরায়শদের মধ্যে সীমিত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু সামুরাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেন, শাসন কর্তৃত্ব অতি শক্তিশালী থাকবে বারোজন খলীফা পর্যন্ত। রাবী বলেন, তারপর তিনি কিছু বললেন, যা আমি বুঝতে পারিনি। তাই আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কী বললেন? তিনি বললেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তাঁদের সকলেই হবে কুরায়শ বংশের।
৪৬০৪
জনগণ কুরায়শদের অনুগামী এবং খিলাফত কুরায়শদের মধ্যে সীমিত পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু সামুরাহ্‌ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গেলাম। আমার সাথে আমার পিতাও ছিলেন। আমি তখন তাঁকে বলতে শুনলাম, এ ধর্ম শক্তিমত্তাসম্পন্ন, সংরক্ষিত থাকবে বারোজন খলীফা অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত।তারপর তিনি কোন কথা বললেন, লোকজনের কথাবার্তার দরুন আমি তা বুঝতে পারিনি। তখন আমি আমার পিতাকে বললাম, তিনি কী বললেন? তিনি বললেন, বলেছেন, তাঁদের সকলেই হবে কুরাইশ বংশের লোক।
৪৬০৫
জনগণ কুরায়শদের অনুগামী এবং খিলাফত কুরায়শদের মধ্যে সীমিত পরিচ্ছেদ নাই
আমের ইবনু সা’আদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রহঃ)
আমি জাবির ইবন সামুরা (রাঃ)-এর নিকট আমার গোলাম নাফি এর মাধ্যমে চিঠি প্রেরণ করলাম যে, আপনি আমাকে এমন কিছু সম্পর্কে অবহিত করুন যা আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট শুনেছেন। রাবী বলেন, তিনি আমাকে লিখলেনঃ জুমআর দিন সন্ধ্যায় যে দিন (মায়েয) আসলামীকে রজম (ব্যভিচারজনিত অপরাধের শাস্তি হিসেবে পাথর মেরে হত্যা) করা হয়, সেদিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, এ দ্বীন অব্যাহতভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে যতক্ষণ কেয়ামত কায়েম হয় অথবা তোমরা বারোজন খলীফা কর্তৃক শাসিত হও, এঁদের সকলেই হবে কুরায়শ থেকে।আমি তাঁকে আরও বলতে শুনেছি, মুসলিমদের একটি ছোট দল জয় করবে শ্বেত ভবন যা কিসরা কিংবা কিসরা বংশীয় রাজমহল। আমি আরও বলতে শুনেছি, “কেয়ামতের প্রাক্কালে অনেক মিথ্যাবাদীর আবির্ভাব হবে, তোমরা তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।” আমি তাঁকে আরও বলতে শুনেছি, “তোমাদের কাউকে যখন আল্লাহ কল্যাণ (সম্পদ) দান করেন তখন সে নিজের এবং তার পরিবারস্থ লোকজন দ্বারা ব্যয় শুরু করবে।” আমি তাঁকে আরও বলতে শুনেছি, “হাওযে (কাউসারে) আমি তোমাদের অগ্রগামী হবো।”
৪৬০৬
জনগণ কুরায়শদের অনুগামী এবং খিলাফত কুরায়শদের মধ্যে সীমিত পরিচ্ছেদ নাই
আমীর ইবনু সা’দ (রহঃ)
তিনি ইবনু সামুরা আদাবীর কাছে চিঠি প্রেরণ করেন যে, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা শুনেছেন তা বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি... পরবর্তী অংশ হাতিমের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৪৬০৭
খলীফা মনোনয়ন করা এবং বর্জন করা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
আমার পিতা যখন আহত হলেন তখন আমি তাঁর কাছে গিয়ে উপস্থিত হই। লোকজন তাঁর প্রশংসা করল তারপর বলল, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন! তিনি তখন বললেন, আমি আশাবাদী ও শঙ্কিত। তখন লোকেরা বললো, আপনি কাউকে খলীফা মনোনীত করে যান।তখন তিনি বললেন, আমি কি জীবিত ও মৃত উভয় অবস্থায়ই তোমাদের বোঝা বহন করব? আমার আকাঙ্খা খিলাফাতের ব্যাপারে আমার ভাগ্যে শুধু নিষ্কৃতি লাভ হোক। আমার উপর কোনো অভিযোগও অর্পিত না হোক, আর আমি লাভবানও না হই। আমি যদি কাউকে খলীফা মনোনীত করি (তবে তার দৃষ্টান্ত হলো) আমার চেয়ে যিনি উত্তম ছিলেন তিনি [অর্থাৎ আবু বকর (রাঃ)] খলীফা মনোনীত করে গেছেন, আর যদি আমি তোমাদের (খলীফা মনোনীত করা ছাড়াই) ছেড়ে যাই, তবে আমাদের চেয়ে উত্তম যিনি ছিলেন (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) তার (নীতির) উপরেই তোমাদের রেখে গেছেন।রাবী আবদুল্লাহ (ইবনু উমর) বলেন, তিনি যখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা উল্লেখ করলেন তখনই আমি বুঝেছি যে, তিনি কাউকে খলীফা মনোনীত করবেন না।
৪৬০৮
খলীফা মনোনয়ন করা এবং বর্জন করা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
আমি হাফসা (রাঃ)-এর ঘরে প্রবেশ করলাম। তখন তিনি বললেন, “তুমি কি জানো যে, তোমার পিতা কাউকে খলীফা মনোনীত করছেন না?” আমি বললাম, “তিনি এমনটি করবেন না।” তিনি বললেন, “তিনি তাই করবেন।” ইবন উমর (রাঃ) বললেন, “তখন আমি এ মর্মে শপথ করলাম যে, আমি অবশ্যই এ ব্যাপারে তাঁর সঙ্গে আলাপ করব।” এরপর আমি নীরব থাকলাম। পরের দিন ভোর পর্যন্ত আমি তাঁর সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ করিনি। রাবী বলেন, “আমার মনে হলো যে, আমি আমার শপথের পাহাড় বহন করছি। অবশেষে আমি ফিরে এলাম এবং তাঁর [উমর (রাঃ)-এর] কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি আমার কাছে লোকদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। আমি তাঁকে তা জানালাম। তারপর আমি তাঁকে বললাম, ‘আমি লোকজনকে একটি কথা বলাবলি করতে শুনে আমি তা আপনাকে বলব বলে শপথ করেছি। লোকেরা বলছে যে, আপনি কাউকে খলীফা মনোনীত করবেন না। অথচ আপনার যদি কোনো উটের রাখাল বা ছাগলের রাখাল থাকে আর সে তার পাল পরিত্যাগ করে আপনার কাছে চলে আসে, তাহলে আপনি নিশ্চয়ই মনে করবেন যে, সে পশুপালের সর্বনাশ করেছে। মানুষের রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারটি তার চাইতেও গুরুতর।’”আমার কথা তাঁর অন্তরে রেখাপাত করলো এবং তিনি কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে থাকলেন। তারপর মাথা উঠিয়ে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, “অবশ্যই মহিমান্বিত ও গৌরবান্বিত আল্লাহ তাঁর দ্বীনের হিফাযাত করবেন। আমি যদি কাউকে খলীফা মনোনীত না করি তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খলীফা মনোনীত করে যাননি। আর আমি যদি কাউকে খলীফা মনোনীত করি তবে আবু বকর (রাঃ) খলীফা মনোনীত করে গেছেন।” তিনি বলেন, “আল্লাহর কসম! তিনি যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাঃ)-এর কথা উল্লেখ করলেন, তখনই আমি বুঝে ফেলি যে, তিনি আর কাউকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সমকক্ষ করবেন না এবং তিনি কাউকে খলীফাও মনোনীত করে যাবেন না।”
৪৬০৯
নেতৃত্ব, প্রার্থনা ও ক্ষমতার লোভ নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আবদুর রহমান! তুমি শাসন ক্ষমতা চাইবে না। কারণ যদি চাওয়ার মাধ্যমে তা পাও, তবে তার দায়িত্ব তোমার উপর ন্যস্ত হবে। আর যদি তুমি চাওয়া ছাড়া তা পেয়ে যাও, তবে এ ব্যাপারে তুমি (আল্লাহর তরফ থেকে) সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
৪৬১০
নেতৃত্ব, প্রার্থনা ও ক্ষমতার লোভ নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ)
অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।