৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৫৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৫৭১
যী-কারাদ ও অন্যান্য যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইকরামাহ ইবনু আম্মার (রাঃ)
ইকরিমা ইবন আমার (রাঃ) সূত্রেও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৪৫৭২
যী-কারাদ ও অন্যান্য যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইকরামাহ ইবনু ‘আম্মার (রাঃ)
ইক্রিমা ইবন আমার (রাঃ) সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৪৫৭৩
মহান আল্লাহর বাণী : “তিনি সে সত্তা যিনি তাদের হাতকে তোমাদের উপর থেকে দূরে রেখেছেন” পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
মাক্কাবাসীদের মধ্য থেকে সশস্ত্র আশি ব্যক্তি একদা অতর্কিতে তানঈম পাহাড় থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে অবতরণ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণের অসতর্কতার সুযোগ গ্রহণ। তিনি তাদের বিনা যুদ্ধে বন্দী করলেন, এরপর তাদের জীবিত ছেড়ে দিলেন। তখন আল্লাহ তা'আলা নাজিল করলেন : (অর্থ) “তিনি সে পবিত্র সত্তা, যিনি মক্কা প্রান্তরে তাদের হাতকে তোমাদের উপর থেকে এবং তোমাদের হাতকে তাদের উপর থেকে বিরত রেখেছেন-তাদের উপর তোমাদের বিজয়ী করার পর”- (সূরা ফাতহ ৪৮ : ২৪)।
৪৫৭৪
পুরুষদের সাথে যুদ্ধে স্ত্রীলোকদের অংশগ্রহণ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
(তাঁর মা) উম্মু সুলাইম (রাঃ) হুনাইনের যুদ্ধের দিন একটি ছুরি ধারণ করেছিলেন, যা তাঁর সঙ্গে থাকত। (তাঁর স্বামী) আবু তালহা (রাঃ) তা দেখতে পেয়ে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইনি উম্মু সুলাইম (রাঃ)। আর তাঁর সাথে একটি ছুরি রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, “এ ছুরি কিসের জন্য?”তিনি বললেন, এটি এজন্য নিয়েছি যদি কোনো বিধর্মী মুশরিক আমার কাছাকাছি আসে, তবে এটি দিয়ে আমি তার পেট চিরে ফেলব। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাসতে লাগলেন। তখন তিনি (উম্মু সুলাইম) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! (মক্কা বিজয়ের দিন) আমাদের ছাড়া যারা ছাড়া পেয়ে গেছে এবং পরাজয়ের মুখে ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাদের হত্যা করে ফেলুন।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হে উম্মু সুলাইম! আল্লাহই (মুশরিকদের বিরুদ্ধে) যথেষ্ট। তিনি (আমাদের প্রতি) সদয় রয়েছেন।
৪৫৭৫
পুরুষদের সাথে যুদ্ধে স্ত্রীলোকদের অংশগ্রহণ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
উম্মু সুলাইমের কাহিনী বর্ণনা প্রসঙ্গে নবী (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে পূর্বে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪৫৭৬
পুরুষদের সাথে যুদ্ধে স্ত্রীলোকদের অংশগ্রহণ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু সুলাইম ও আনসারদের কতিপয় মহিলাকে তাঁর সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যেতেন। তারা আহতদের পানি পান করাতেন এবং আহতদের শুশ্রূষা করতেন।
৪৫৭৭
পুরুষদের সাথে যুদ্ধে স্ত্রীলোকদের অংশগ্রহণ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
উহুদ যুদ্ধের দিন যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে কতিপয় লোক নবী (ﷺ)-কে আড়াল করে রেখেছিলেন। আর আবু তালহা (রাঃ) ছিলেন একজন অতি দক্ষ তীরন্দাজ। সেদিন (যুদ্ধে) তিনি দুই বা তিনটি ধনুক ভেঙে ফেলেন।রাবী বলেন, যখনই কোন ব্যক্তি তীর নিয়ে তাঁর পাশ দিয়ে গমন করতো, তখনই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেন, এগুলো আবু তালহার জন্য রেখে যাও।রাবী বলেন, যখনই নবী (ﷺ) মাথা তুলে লোকজনের প্রতি তাকাতেন, তখনই আবু তালহা (রাঃ) বলে উঠতেন, ‘হে আল্লাহর নাবী! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান! আপনি মাথা উঠাবেন না; এমন না হয় শত্রুপক্ষের তীর এসে আপনার গায়ে লাগে। আপনার বক্ষ রক্ষার্থে আমার বক্ষ নিবেদিত।’আবু তালহা বলেন, আমি (সেদিন) আবু বকর কন্যা আয়িশা (রাঃ) ও উম্মু সুলাইম (রাঃ)-কে এমন অবস্থায় দেখেছি, তাঁরা তাঁদের পিঠে পানির মশক বয়ে আনছিলেন। তখন তাঁরা এমনভাবে কাপড় গুছিয়ে চলছিলেন যে, আমি তাঁদের পায়ে পরিহিত অলংকার দেখতে পাচ্ছিলাম। তাঁরা আহতদের মুখে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। তাঁরা আবার গিয়ে মশক ভরে পানি এনে আহতদের মুখে পানি দিচ্ছিলেন। আবু তালহার হাত থেকে সেদিন তন্দ্রার ঘোরে দুইবার বা তিনবার তলোয়ার পড়ে যায়।
৪৫৭৮
জিহাদ অভিযানে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের জন্য গনীমাতের কোন অংশ নেই, তবে স্বেচ্ছায় তাদের কিছু দেয়া এবং শত্রুপক্ষের শিশুদের হত্যা করা নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইয়াযীদ ইবনু হুরমুয (রহঃ)
নাজদা (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে পাঁচটি ব্যাপারে প্রশ্ন করে পত্র লিখলেন। তখন ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন, “যদি আমি ইলম গোপনকারী হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে আমি তার কাছে জবাব লিখতাম না।”নাজদা সে পত্রে তাঁকে লিখেছিলেন, “হামদ ও সালাতের পর আমাকে অবহিত করুন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি মহিলাদেরকে নিয়ে যুদ্ধযাত্রা করতেন? তিনি তাদেরকে কি গনীমতের ভাগ দিতেন? তিনি কি শত্রুপক্ষের শিশুদের হত্যা করতেন? আর কখন ইয়াতীমের ইয়াতীম অবস্থার সমাপ্তি হয়? আর গনীমতের এক পঞ্চমাংশের হকদার কারা?”জবাবে ইবন আব্বাস (রাঃ) লিখলেন, “তুমি আমাকে লিখিত প্রশ্ন করেছ যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি মহিলাদেরকে নিয়ে যুদ্ধযাত্রা করতেন? হ্যাঁ, তিনি তাদেরকে নিয়ে যুদ্ধ যাত্রা করতেন এবং তাঁরা আহতদের সেবা-শুশ্রূষা করতেন এবং গনীমতের মাল থেকে তাঁদেরকে পুরস্কৃত করা হতো, কিন্তু গনীমতের ভাগ তাঁদের জন্য বরাদ্দ করা হতো না। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনও শিশুদের হত্যা করতেন না। সুতরাং তুমিও শিশুদেরকে হত্যা করবে না।আর তোমার চিঠিতে আমাকে এও প্রশ্ন করেছ যে, কখন ইয়াতীমের ইয়াতীম অবস্থা সমাপ্ত হয়? আমার জীবনের শপথ! অনেক সময় কোন ব্যক্তির দাড়ি গজিয়ে যায়; অথচ সে তার নিজের হক গ্রহণে দুর্বল থাকে এবং অন্য কারো হক প্রদানের বেলায়ও দুর্বল থাকে। সুতরাং যখন সে লোকদের মতো নিজের অধিকার বুঝে নিতে পারে তখনই তার ইয়াতীম অবস্থার সমাপ্তি হয়।আর তুমি লিখেছ, গনীমতের এক পঞ্চমাংশ কাদের প্রাপ্য? আমরা বলি, তা আমাদের (আহলে বায়তদের) জন্যই, কিন্তু আমাদের গোত্রের লোকেরা (বানু উমাইয়্যাহ) তা অস্বীকার করছে।
৪৫৭৯
জিহাদ অভিযানে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের জন্য গনীমাতের কোন অংশ নেই, তবে স্বেচ্ছায় তাদের কিছু দেয়া এবং শত্রুপক্ষের শিশুদের হত্যা করা নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনূ হুরমু্য (রহঃ)
নাজদা (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে কয়েকটি ব্যাপারে প্রশ্ন করে পত্র লিখেন। পরবর্তী অংশ সুলাইমান ইবন বিলালের হাদীসের অনুরূপ। তবে হাতিমের এ হাদীসে রয়েছে যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শিশুদেরকে হত্যা করতেন না। সুতরাং তুমিও বালকদেরকে হত্যা করবে না। তবে যদি তুমি তা জানতে পারো, যা খিজির সেই বালক সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন, যাকে তিনি হত্যা করেছিলেন, তবে স্বতন্ত্র কথা। এ হাদীসের একজন রাবী ইসহাক (রহঃ) তাঁর বর্ণনায় হাদীসের সূত্রে এতটুকু বাড়িয়েছেন-আর যদি তুমি বেছে বের করতে পারো মুমিনকে, তবে তুমি কাফিরকে হত্যা করবে এবং মুমিনকে ছেড়ে দেবে।
৪৫৮০
জিহাদ অভিযানে অংশগ্রহণকারী মহিলাদের জন্য গনীমাতের কোন অংশ নেই, তবে স্বেচ্ছায় তাদের কিছু দেয়া এবং শত্রুপক্ষের শিশুদের হত্যা করা নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইয়াযীদ ইবনু হুরমুয (রহঃ)
নাজদা ইবন আমার হারূরী ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট পত্র লিখে জানতে চাইলেন, জিহাদে উপস্থিত গোলাম ও মহিলাদের গনীমাতের অংশ দেয়া হবে কি? আর (শত্রুপক্ষের) শিশুদের হত্যা সম্পর্কে এবং ইয়াতিম সম্পর্কে যে, কখন তার ইয়াতিম অবস্থার সমাপ্তি ঘটে? এবং ‘যাবিল কুরবা’ বা নিকটাত্মীয় কারা?তখন তিনি ইয়াজিদকে বললেন, তুমি তাকে লিখ, তার নির্বুদ্ধিতায় পতিত হবার আশঙ্কা না থাকলে আমি তাকে পত্র লিখাতাম না। লিখ, তুমি আমাকে লিখেছ এ প্রশ্ন করে যে, যারা জিহাদে যোগ দিয়েছে এমন নারী এবং গোলামকে কি গনীমাতের কিছু দেয়া হবে? তাদের (নির্ধারিত) কিছুই দেয়া হবে না। তবে সবার কাছ থেকে কিছু কিছু নিয়ে (বকশিশরূপে) দেয়া হবে।তুমি আমাকে প্রশ্ন করে লিখেছ শিশুদের হত্যা সম্পর্কে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনও তাদেরকে হত্যা করেননি এবং তুমিও তাদেরকে হত্যা করবে না। তবে (তা স্বতন্ত্র কথা) যদি তুমি তাদের ব্যাপারে তা জানতে পারো যা মূসা (আঃ)-এর সঙ্গী [খিজির (আঃ)] জানতে পেরেছিলেন, যে ছেলেটিকে তিনি হত্যা করেছিলেন তার সম্পর্কে।তার ইয়াতিম নাম ঘুচবে না যতক্ষণ না সে বালেগ হবে এবং তার মধ্যে বুদ্ধিমত্তা পরিলক্ষিত হবে। আর তুমি আমাকে ‘যাবিল কুরবা’ সম্বন্ধে প্রশ্ন করে লিখেছ যে, তারা কারা? আমরা মনে করি, আমরাই তাঁরা। কিন্তু আমাদের লোকেরা তা অস্বীকার করেছে।