৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৫৭/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৫৬১
খাইবার যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
সালামাহ্ ইবনু আক্ওয়া‘ (রাঃ)
খাইবারের যুদ্ধের দিন আমার ভাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে থেকে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। তাঁর তরবারি ফিরে এসে স্বয়ং তাঁকেই নিহত করে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর সাহাবীগণ তাঁর ব্যাপারে নানা মন্তব্য করতে থাকেন এবং তাঁর শাহাদাতের ব্যাপারে সন্দেহ করেন। তাঁরা বলাবলি করেন যে, সে এমন লোক যে তার নিজ অস্ত্রের আঘাতে মারা গেছে। আর তাঁরা তাঁর কোন কোন ব্যাপারেও সন্দেহ করেন।সালামা (রাঃ) বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খাইবার থেকে ফিরলে আমি বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তাঁর কবিতার কয়েকটি পংক্তি আবৃত্তি করি।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে অনুমতি দিলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তখন বলে উঠলেন, আমি জানি, তুমি কী বলবে।রাবী বলেন, তারপর আমি আবৃত্তি করলাম:“হে আল্লাহ! আপনি না করলে, আমরা হিদায়াত পেতাম না, আমরা সদাকা দিতাম না এবং সালাত আদায় করতাম না।” তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি যথার্থই বলেছো।তখন আমি আবৃত্তি করে চললাম: “আমাদের প্রশান্তি দান করুন এবং শত্রুর সম্মুখীন হলে আমাদের পা অটল রাখুন। মুশরিকরা আমাদের প্রতি বিদ্রোহী হল।”যখন আমি আমার কবিতা আবৃত্তি শেষ করলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ কবিতাটি কে রচনা করেছে? আমি বললাম, আমার ভাই। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ তাঁর প্রতি সদয় হোন।তখন আমি বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! কিছু লোক তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষণে দ্বিধাগ্রস্ত! তাঁরা বলেন, সে এমন লোক যে তার নিজ অস্ত্রের আঘাতে মারা গেছে।” তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সে জিহাদ করতে করতে মুজাহিদের মত মরেছে।রাবী ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, তারপর আমি সালামার এক পুত্রকে প্রশ্ন করলে তিনি আমাকে তাঁর পিতার সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ব্যতিক্রম এতটুকু যে, তিনি বলেন, আমি যখন বললাম, কিছু কিছু লোক তাঁর প্রতি দোয়া করতে দ্বিধাগ্রস্ত, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তারা মিথ্যা বলেছে। সে জিহাদ করতে করতে মুজাহিদের মত মারা গেছে। তার দুইটি পুরস্কার এজন্যে নির্ধারিত রয়েছে। এবং তিনি তখন তাঁর দুইটি অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করলেন।
৪৫৬২
আহযাব বা খন্দকের যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
বারা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খন্দকের যুদ্ধের দিন আমাদের সঙ্গে একত্রে মাটি বহন করেন। মাটি তাঁর পেটের শুভ্রতাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আর তখন তিনি আবৃত্তি করছিলেন:“আল্লাহর কসম! আপনি না করলে আমরা হিদায়াত পেতাম না, সদাকা দিতাম না এবং সালাতও আদায় করতাম না। আমাদের প্রতি প্রশান্তি দান করুন, আর তারা তো (মক্কাবাসীরা) আমাদেরকে মেনে নিলো না।”আবার কখনো কখনো বলছিলেন: “সে দলটি আমাদের মানতে অস্বীকার করল, তারা যখন ফিতনা (শিরক ও কুফরী) চাইল, তখন আমরা অস্বীকার করলাম।” আর তা উচ্চারণের সময় তিনি তাঁর স্বর উচ্চ করছিলেন।
৪৫৬৩
আহযাব বা খন্দকের যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইসহাক্ (রহঃ)
আমি বারা (রাঃ)-কে অনুরূপ বলতে শুনেছি। তবে তিনি বলেন যে, সর্দাররা আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল।
৪৫৬৪
আহযাব বা খন্দকের যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের কাছে এলেন, আমরা তখন পরিখা (খন্দক) খনন করছিলাম এবং কাঁধে করে মাটি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ফেলছিলাম। তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! আখিরাতের সুখ ছাড়া সুখ নেই, মুহাজির ও আনসারদেরকে ক্ষমা করুন।”
৪৫৬৫
আহযাব বা খন্দকের যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন, “হে আল্লাহ! আখিরাতের সুখ ছাড়া সুখ নেই। আপনি ক্ষমা করে দিন আনসার ও মুহাজিরদেরকে”।
৪৫৬৬
আহযাব বা খন্দকের যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলছিলেন: “হে আল্লাহ! সুখ তো (কেবল) আখিরাতের সুখই।” শু’বাহ (রাঃ) বলেন, অথবা তিনি বলেছেন: “ইয়া আল্লাহ! আখিরাতের সুখ ছাড়া কোন সুখ নেই। আনসার ও মুহাজিরদেরকে সম্মানিত করুন।”
৪৫৬৭
আহযাব বা খন্দকের যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
তাঁরা (সেদিন) সমবেত সুরে গাইতে ছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন। তাঁরা বলছিলেন : “হে আল্লাহ! প্রকৃত কল্যাণ তো আখিরাতে। আনসার ও মুহাজিরদের সাহায্য করুন। আর শাইবানের হাদীসفَانْصُرْ এর পরিবর্তেفَاغْفِرْ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।”
৪৫৬৮
আহযাব বা খন্দকের যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ খন্দকের দিন বলেছিলেন : আমরা সে লোক, যারা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর নিকট বাইআত হয়েছি এবং ইসলামের উপরই আছি। রাবী হাম্মাদ (রহঃ) সন্দেহ করে বলেন, অথবা বলেছিলেন : জিহাদের উপরই আছি সর্বদা। আর নবী (ﷺ) বলছিলেন : “হে আল্লাহ! আসল তো আখিরাতের কল্যাণ। আনসারদের এবং মুহাজিরদের ক্ষমা করুন।”
৪৫৬৯
যী-কারাদ ও অন্যান্য যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
সালামাহ্‌ ইবনু আকওয়া’ (রাঃ)
আমি ফজরের আযানের আগেই বের হয়ে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুধের উটনী তখন যিকারাদের (চারণভূমিতে) চরছিল। তখন আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ)-এর গোলাম আমার সাথে সাক্ষাৎ করে বলল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুধের উটনীসমূহকে নিয়ে গেছে।আমি জিজ্ঞেস করলাম, কে সেগুলো নিয়ে গেছে? সে বলল, গাতাফান গোত্রের লোকেরা। রাবী বলেন, তখন আমি উচ্চৈঃস্বরে তিনবার আওয়াজ দিলাম; সাহায্য চাই, সাহায্য চাই।রাবী (সালামা ইবন আকওয়া) বলেন, মদীনার উভয় প্রান্তের মধ্যবর্তী সবাইকে আমি আমার সে আওয়াজ শুনালাম তারপর বের হয়ে গেলাম। যী-কারাদে গিয়ে তাদের (লুটেরাদের)-কে পেলাম। তখন তারা তাদের পশুদেরকে পানি পান করাচ্ছিল। তখন আমি তীর নিক্ষেপ করতে শুরু করলাম। আমি ছিলাম একজন দক্ষ তীরন্দাজ। আর তখন আমি বীরত্বসূচক কবিতা আবৃত্তি করছিলাম, “আমি আকওয়ার পুত্র, আজ দুষ্টদের ধ্বংসের দিন।” (কিংবা আজ তার দিন যে শৈশব থেকে যুদ্ধের স্তন্য পান করেছে)।আমি আমার তীর নিক্ষেপ ও বীরত্বব্যঞ্জক কবিতা আবৃত্তি করতে থাকলাম। অবশেষে আমি দুধের উটনীসমূহ মুক্ত করলাম এমনকি আমি তাদের ত্রিশটি চাদরও ছিনিয়ে নিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও লোকজন এসে পড়লেন।তখন আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি তাদের পানির পথ রুদ্ধ করে রেখেছি, তাই তারা পিপাসার্ত। এবার আপনি একটি বাহিনী প্রেরণ করুন।তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ) বললেনঃ আকওয়া, এ সময় যা নেয়ার ছিল তুমি তা নিয়েছ। এবার ছেড়ে দাও।রাবী বলেন, তারপর আমরা ফিরে এলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তাঁরই উটনীর পিছনে বসিয়ে নিলেন। তারপর আমরা মদীনায় পৌঁছলাম।
৪৫৭০
যী-কারাদ ও অন্যান্য যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইয়াস ইবনু সালামাহ্ (রাঃ) তাঁর পিতা
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে হুদাইবিয়ায় পৌঁছলাম। তখন আমাদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দশ। তদুপরি সেখানে ছিল পঞ্চাশটি বকরী, যাদের পানি পানের জন্য পর্যাপ্ত পানি ছিল না। রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুয়ার কিনারায় বসলেন এবং দোয়া করলেন অথবা তাতে থুতু দিলেন। রাবী বলেন, আর অমনি পানি উথলে উঠলো। তখন আমরাও পানি পান করলাম এবং (পশুদেরকেও) পানি পান করালাম।রাবী বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বাইআতের জন্য বৃক্ষমূলে ডাকলেন। রাবী বলেন, তারপর লোকদের মধ্যে আমি সর্বাগ্রে বাইআত হলাম। তারপর একে একে অন্যান্য লোকেরাও বাইআত হলো। তিনি যখন বাইআত গ্রহণ করতে করতে লোকজনের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছলেন, তখন বললেন, ‘হে সালামা! তুমি বাইআত হও।’ রাবী বলেন, তখন আমি বললাম, ‘আমি তো, লোকদের মধ্যে প্রথমেই বাইআত হয়েছি, হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেনঃ ‘আবারও হও না?’ রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আমাকে ঢাল দিয়ে বাইআত করতে করতে লোকদের শেষ প্রান্তে পৌঁছলেন এবং বললেন, ‘তুমি কি আমার কাছে বাইআত হবে না, হে সালামা!’ রাবী বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো লোকদের মধ্যে প্রথমভাগে এবং মধ্যভাগে (দু দু’বার) আপনার কাছে বাইআত হয়েছি।’ তিনি বললেনঃ ‘আবারও হও না।’ তখন আমি তৃতীয় বার বাইআত গ্রহণ করলাম। এরপর তিনি আমাকে বললেন, ‘হে সালামা! তোমার সে বড় ঢালটি বা ছোট ঢালটি কোথায়, যা আমি তোমাকে দিয়েছিলাম?’রাবী (সালামা) বলেন, আমি বললাম : ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার চাচা আমির আমার সাথে অস্ত্রবিহীন অবস্থায় দেখা করেছিলেন। তখন আমি তাঁকে তা দিয়ে দিয়েছি।’ রাবী বলেন, এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে দিলেন এবং বললেনঃ ‘তুমি দেখছি পূর্ববর্তীযুগের সে লোকের মত, যে বলেছিল, হে আল্লাহ! আমি এমন একজন বন্ধু চাই, যে আমার প্রাণের চাইতেও আমার নিকট বেশি প্রিয় হবে।’এরপরে মুশরিকরা আমাদের কাছে প্রস্তাব পাঠালো। আমাদের একপক্ষের লোকজন অন্যপক্ষের শিবিরে যাতায়াত করতে লাগলো এবং শেষ পর্যন্ত আমরা উভয়পক্ষ পরস্পরে সন্ধিবদ্ধ হলাম।রাবী (সালামা (রাঃ)) বলেন, আমি তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহর খিদমাতে নিয়োজিত ছিলাম। আমি তাঁর ঘোড়াকে পানি পান করাতাম এবং তার পিঠ মালিশ করতাম এবং তাঁর অন্যান্য খিদমাতও করতাম। আমি তাঁর ওখানে খাওয়া-দাওয়া করতাম। নিজের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ পরিত্যাগ করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের রাহে মুহাজির হয়েছি। রাবী বলেন, তারপর যখন আমরা ও মক্কাবাসীরা সন্ধিতে আবদ্ধ হলাম এবং আমাদের একপক্ষ অপরপক্ষের সাথে মিলেমিশে থাকতে লাগলাম। আমি একটি গাছ তলায় গিয়ে তার নীচের কাঁটা প্রভৃতি পরিষ্কার করে তার গোড়ায় একটু শুয়ে পড়ি। এমন সময় মাক্কাবাসী চারজন মুশরিক এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলতে লাগলো। আমার কাছে ওদের কথাবার্তা অত্যন্ত খারাপ লাগলো এবং আমি স্থান পরিবর্তন করে আর একটি গাছের তলায় চলে গেলাম। তারা তাদের অস্ত্রাদি গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখে শুয়ে পড়লো।এমন সময় প্রান্তরের নিম্নাঞ্চল থেকে কে যেন চীৎকার করে বললো, ‘হে মুহাজিরগণ! ইবনু যুনায়মকে কতল কর।’ আমি তৎক্ষণাৎ আমার তরবারি উঠিয়ে ধরলাম এবং ঐ চারজনের উপর ধাবিত হলাম। তখন তারা ঘুমিয়ে ছিল। আমি তাদের অস্ত্রগুলো হস্তগত করলাম এবং তা আঁটি বেঁধে আমার হাতে নিলাম। এরপর আমি বললাম, ‘যে মহান সত্তা মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে সম্মানিত করেছেন তাঁর কসম! তোমাদের মধ্যে কেউ যদি মাথা তোলো, তবে তার সে অঙ্গে আঘাত করব যেখানে তার চোখ দু’টো রয়েছে।’ রাবী বলেন, তারপর তাদেরকে আমি হাঁকিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পর্যন্ত নিয়ে গেলাম।এমন সময় আমার চাচা আমির আবালাত গোত্রের একজনকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে এসেছেন। তাকে বলা হতো মিকরিয। সে ছিল বর্ম সজ্জিত একটি ঘোড়ায় আসীন। আর তার সাথে সত্তর জন মুশরিক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের দিকে তাকালেন এবং বললেনঃ “ওদেরকে ছেড়ে দাও, যাতে আক্রমণ ওদের পক্ষ থেকেই হয় এবং দ্বিতীয়বার তারাই অপরাধী প্রতিপন্ন হয়।” এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের ক্ষমা করে দিলেন। তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন : “সে পবিত্র সত্তা যিনি তাদের হাতকে তোমাদের উপর থেকে এবং তোমাদের হাতকে তাদের উপর থেকে মক্কাপ্রান্তরে তাদের উপর তোমাদের বিজয়ী করার পর বিরত রেখেছেন”-(সূরা আল-ফাতহ ৪৮:২৪) আয়াতের শেষ পর্যন্ত।রাবী বলেন, তারপর মদিনায় প্রত্যাবর্তনের জন্য বেরিয়ে পড়লাম। পথে এমন একটি মানযিলে আমরা অবতরণ করলাম যেখানে আমাদের ও লেহিয়ান গোত্রের মধ্যে কেবল একটি পাহাড়ের ব্যবধান ছিল। আর তারা ছিল মুশরিক। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে ব্যক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন, যে ব্যক্তি রাতে নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীদের পক্ষ থেকে পাহারা দেয়ার জন্য পাহাড়ের উপর আরোহণ করবে। সালামা বলেন, সে রাতে আমি দুই কি তিনবার ঐ পাহাড়ে আরোহণ করেছিলাম।তারপর আমরা মদিনায় এলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর গোলাম রাবাহকে দিয়ে তাঁর উটসমূহ পাঠালেন। আর আমিও তালহার ঘোড়ায় চড়ে তাঁর সাথে সাথে উটগুলো হাঁকিয়ে চারণ ভূমির দিকে নিয়ে গেলাম। যখন আমাদের ভোর হলো আবদুর রহমান ফাজারী চড়াও হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সমস্ত উট ছিনিয়ে নিয়ে গেল এবং পশুপালের রাখালকে হত্যা করলো। আমি তখন রাবাহকে বললাম, ‘হে রাবাহ! লও এ ঘোড়া নিয়ে তুমি তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহকে পৌঁছে দিও আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সংবাদ দাও যে, মুশরিকরা তাঁর উটগুলো লুটে নিয়ে গেছে।’তিনি বলেন, তখন আমি একটি টিলার উপর দাঁড়ালাম। তারপর মদিনার দিকে মুখ করে তিনবার চিৎকার দিলাম, ‘ইয়া সাবাহা!’ তারপর আমি লুটেরাদের পিছু ধাওয়া করলাম ও তাদের উপর তীর নিক্ষেপ করতে লাগলাম। আর আমি মুখে এ চরণ উচ্চারণ করছিলাম,“আমি আকওয়ার পুত্র, আজ সেদিন, আজকে মায়ের দুধ (কতখানি খেয়েছো তা) স্মরণের দিন।”তখন আমি তাদের যে কাউকে পেয়েছি, তার উপর এ রকমভাবে তীর নিক্ষেপ করেছি যে, তীরের অগ্রভাগ তার কাঁধ ছেদ করে বেরিয়েছে। আমি বলতে লাগলাম,“এ আঘাত নাও, আমি আকওয়ার পুত্র, আজ দুধপান স্মরণের দিন।”তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! আমি তীর নিক্ষেপ করতে থাকলাম এবং ঘায়েল করতে লাগলাম এবং যখনই কোন ঘোড় সওয়ার আমার দিকে ফিরত তখনই আমি গাছের আড়ালে এসে তার গোড়ায় বসে তার প্রতি তীর নিক্ষেপ করতাম। আর তাকে যখম করে ফেলতাম। অবশেষে যখন তারা পাহাড়ের সংকীর্ণ পথে আসে এবং তারা সে সংকীর্ণ পথে ঢোকে আমি তখন পাহাড়ের উপর উঠে সেখান থেকে অবিরাম তাদের উপর পাথর নিক্ষেপ করতে থাকলাম। এভাবে আমি তাদের পশ্চাদ্ধাবন করতে থাকলাম যে পর্যন্ত না আল্লাহর সৃষ্ট উটগুলো যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাওয়ারী হিসেবে ছিল তা আমার পেছনে রেখে না যাই। তারা এগুলো আমার আওতায় ফেলে চলে গেল। তারপরও আমি তাদের অনুসরণ করে তাদের উপর তীর নিক্ষেপ করতে থাকলাম। এমনিকি তারা ত্রিশটির বেশী চাদর এবং ত্রিশটি বল্লম নিজের বোঝা হালকা করার উদ্দেশ্যে ফেলে গেল। তারা যেসব বস্তু ফেলে যাচ্ছিল আমি তার প্রত্যেকটিকে পাথর দ্বারা চিহ্নিত করে যাচ্ছিলাম যাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ তা দেখে চিনতে পারেন। অবশেষে তারা পাহাড়ের একটি সংকীর্ণ স্থানে গিয়ে পৌঁছলো। এমন সময় বাদ্র ফাজারীর অমুক পুত্র এসে তাদের সাথে মিলিত হলো। এবার তারা সকলে মিলে সকালের খাবার খেতে বসলো। আমি পাহাড়ের একটি শৃঙ্গে বসে পড়লাম। তখন সে ফাজারী বললো, ‘ঐ যে লোকটিকে দেখছি সে কে?’ তারা বলল, ‘লোকটির হাতে আমরা অনেক দুর্ভোগ পোহায়েছি। আল্লাহর কসম! রাতের আধাঁর থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত লোকটি আমাদের পিছন থেকে সরছে না, সে আমাদের প্রতি অবিরত তীর নিক্ষেপ করছে, এমনকি আমাদের যথাসর্বস্ব সে কেড়ে নিয়েছে।’ তখন সে বলল, ‘তোমাদের মধ্যকার চারজন উঠে গিয়ে তার উপর চড়াও হও।’ তখন তাদের চার ব্যক্তি পাহাড়ে উঠে আমার দিকে এগিয়ে এলো। তারপর তারা যখন আমার কথা শোনার মত নিকটবর্তী স্থানে এসে পৌঁছলো, তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, ‘তোমরা কি আমাকে চেন?’ তারা বলল, ‘না।’ তিনি বলেন, আমি বললাম, ‘আমি সালামা ইবনু আকওয়া।’ কসম সে পবিত্র সত্তার, যিনি মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে সম্মানিত করেছেন! আমি তোমাদের যাকেই পাই তাকে ধরে ফেলব। কিন্তু তোমাদের কেউ চাইলেই আমাকে ধরতে পারবে না।’ তখন তাদের একজন বলল, ‘আমিও তাই মনে করি।’ তিনি বলেন, তারপর তারা ফিরে গেল। আর আমি সে স্থানেই বসে রইলাম। অবশেষে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অশ্বারোহীদের গাছ-গাছালির মাঝ দিয়ে অগ্রসর হতে দেখলাম। তাদের মধ্যে সর্বাগ্রে ছিলেন আখরাম আসাদী। তাঁর পিছনে আবু কাতাদাহ আনসারী। তাঁর পিছনে মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ কিন্দী। আমি তখন আখরামের ঘোড়ার লাগাম ধরলাম। তখন লুটেরা (শত্রুরা) পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে পালিয়ে গেল। আমি বললাম, ‘হে আখরাম! ওদের থেকে সতর্ক থাকবে। তারা যেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ এসে মিলিত হওয়ার পূর্বেই তোমাদের বিচ্ছিন্ন করে না ফেলে।’ আখরাম বললেন, ‘হে সালামা! তুমি যদি আল্লাহ ও কেয়ামতের দিনের প্রতি বিশ্বাসী হও এবং জান্নাত ও জাহান্নামকে সত্য মনে কর তবে আমার এবং শাহাদাতের মধ্যে বাধা সৃষ্টি করো না।’ সালামা বলেন, তখন আমি তাঁর পথ ছেড়ে দিলাম। তিনি তখন আবদুর রহমানের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। আখরাম আবদুর রহমানের ঘোড়াকে আহত করলেন। আর আবদুর রহমান বর্শার আঘাতে তাঁকে কতল করে দিল এবং আখরামের ঘোড়ার উপর চড়ে বসলো। ইতোমধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ঘোড়সাওয়ার আবু কাতাদাহ (রাঃ) এসে পৌঁছলেন। তিনি আবদুর রহমানকে বর্শার আঘাতে হত্যা করলেন।সে পবিত্র সত্তার কসম! যিনি মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে মর্যাদামন্ডিত করেছেন, আমি তখন এতই দ্রুতগতিতে তাদের পিছু ধাওয়া করে যাচ্ছিলাম যে, আর পিছনে (অনেক দূর পর্যন্ত) মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর কোন সাহাবীকেই দেখতে পেলাম না, এমনকি তাদের ঘোড়ার খুরের ধূলিও আমার দৃষ্টিগোচর হলো না। এভাবে চলতে চলতে সূর্যাস্তের প্রাক্কালে তারা এমন একটি গিরিপথে উপনীত হল যেখানে যু-কারাদ নামক একটি প্রস্রবণ রয়েছে। অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত অবস্থায় তারা পানি পান করতে অবতরণ করলো। তখন তারা আমাকে তাদের পিছু ধাওয়া করে দৌড়ে আসতে দেখতে পেলো। এক জায়গায় পানি পান করার পূর্বেই আমি সেখান থেকে তাদের তাড়িয়ে দিলাম। তখন তারা পাহাড়ের একটি ঢালু উপত্যকার দিকে দৌড়াতে লাগলো আর আমিও তাদের পিছু ধাওয়া করতে লাগলাম। আমি তাদের যে কোন একজনের নিকটবর্তী হতাম তার কাঁধের অস্থিতে তীর নিক্ষেপ করে বললাম, “আমি আকওয়ার পুত্র, আজ দুধ স্মরণের দিন”। সে তখন বলল, ‘তার মা তার জন্য কাঁদুক-তুমি কি সে আকওয়া যে আমাদের সেই ভোর থেকে অতিষ্ঠ করে রেখেছ?’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, তোমার জানের দুশমন, আমি সেই তোমার ভোরবেলার আকওয়া।’ তিনি বলেন, অতঃপর তারা দু’টি ক্লান্ত ঘোড়া উপত্যকায় ছেড়ে চলে গেল। তখন আমি ঐ দু’টোকে হাঁকিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে এলাম।সেখানে একটি সাতীহা (চামড়ার পাত্র) এবং একটি পানি ভর্তি সাতীহা নিয়ে এসে আমির আমার সাথে মিলিত হলেন। আমি তখন ওযু করলাম এবং (দুধ) পান করলাম। তারপর এমন অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এলাম, যখন তিনি ঐ পানির কাছে ছিলেন যা থেকে আমি ওদেরকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম।এদিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ সমস্ত উট ও মুশরিকদের নিকট থেকে আমার ছিনিয়ে আনা বর্শা ও চাদর প্রভৃতি হস্তগত করেছেন। তখন বিলাল ঐ লোকদের কাছ থেকে আমার উদ্ধারকৃত একটি উট যাবাহ করে তার কলিজা এবং কুঁজ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য ভুনা করছিলেন। আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে সুযোগ দিন, আমি আমাদের লোকদের থেকে একশ’ জনকে বাছাই করে নিয়ে সে দুশমনের পিছু ধাওয়া করি যাতে তাদের সকলকে এমনিভাবে হত্যা করব যে, তাদের খবর বয়ে নিয়ে যাবার মত একটি লোকও অবশিষ্ট থাকবে না।’ তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমনভাবে হাসলেন যে, চুলোর আগুনের আভায় তাঁর চোয়ালের দাঁতগুলো প্রকাশ পেলো। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ‘হে সালামা! আমি বললাম, হ্যাঁ, পবিত্র সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন।’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেনঃ ‘এতক্ষণে তো তারা গাতফান পল্লীতে আতিথ্য ভোগ করছে।’তিনি বলেন, এমন সময় গাতফান গোত্রের একটি লোক এল। সে বলল, ‘অমুক তাদের জন্য একটি উট যাবাহ করেছে। তারা যখন তাঁর চামড়া খসাচ্ছিল তখন তাঁরা ধুলো রাশি উড়তে দেখতে পায়। তখন তার বলে উঠলো ওরা (আকওয়া ও তাঁর বাহিনী) তোমাদের নিকট এসে পড়েছে।’ তখন তারা পালিয়ে যায়। এরপর আমাদের ভোর হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ‘আমাদের আজকে সেরা অশ্বারোহী হচ্ছে আবু কাতাদাহ আর আমাদের সেরা পদাতিক হচ্ছে সালামা।’ তিনি বলেন, তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে অশ্বারোহী ও পদাতিক হিসেবে গনীমাতের দু’ অংশ দিলেন। আমাকে তিনি একত্রে দু’ অংশ দিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মদিনায় ফিরে আসার কালে আমাকে তাঁর সাথে তাঁর উট্নী আযবার পিছনে বসিয়ে নিলেন।তারপর যখন আমরা পথ অতিক্রম করছিলাম, এমন সময় আনসারের এমন এক ব্যক্তি-যাকে পদব্রজে চলার ব্যাপারে কেউ পরাজিত করতে পারতো না-বলতে লাগলো-কেউ কি আছে যে, মদিনায় সর্বাগ্রে পৌঁছার ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করবে? এ কথাটি সে বারবার বলছিল। যখন আমি তার এ (চ্যালেঞ্জমূলক) কথাটি শুনলাম তখন বললাম, ‘তুমি কি কোন সম্মানিত লোককে সম্মান দিতে জাননা বা কোন ভদ্রলোককেই পরোয়া করবে না?’ সে বলল, ‘রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ব্যতীত অন্য কারো নয়।’ তিনি বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান, আপনি আমায় অনুমতি দিন যেন আমি ওই ব্যক্তির সাথে প্রতিযোগিতা করি।’ তখন তিনি বললেনঃ ‘তোমার ইচ্ছা হলে।’ তিনি বলেন, তখন আমি বললাম, ‘ওহে! আমি তোমার দিকে আসছি।’ তারপর আমি লাফ দিয়ে নিচে দৌড়ালাম। তারপর এক বা দু’ টিলা অতিক্রম করার দূরত্বে রইলাম তখন পর্যন্ত আমার দম বন্ধ রেখে তার পিছু পিছু দৌড় দিলাম। আরও দু’ এক টিলা পর্যন্ত ধীরগতিতে চলার পর সজোরে দৌড় দিয়ে তার নিকট পৌঁছে গেলাম। এবং তার দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে একটি ঘুষি মেরে বললাম, ‘ওহে! আল্লাহর কসম! তুমি হেরে গেছ।’ তখন সে বলল, ‘আমিও তাই মনে করছি।’ তিনি বলেন, অতএব আমি তার পূর্বেই মদিনায় পৌঁছে গেলাম।তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এরপর আমরা তিনরাতের অধিক মদিনায় থাকতে পারিনি। এমনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে আমরা খাইবারের দিকে বেড়িয়ে পড়লাম। তখন আমার চাচা আমির (রাঃ) উৎসাহমূলক কবিতা আবৃত্তি করতে লাগলেন :“আল্লাহর কসম! আল্লাহর অনুগ্রহ না হলে আমরা হিদায়াত পেতাম না।সদাকাহও দিতাম না আর সালাতও আদায় করতাম না।আমরা আপনার অনুগ্রহ থেকে কখনো বেপরওয়া হতে পারি না,তাই আপনি আমাদের কদম দৃঢ় রাখুন, যখন আমরা শত্রুদের সম্মুখীন হইএবং আপনি আমাদের প্রতি প্রশান্তি বর্ষণ করুন।”তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ‘এ ব্যক্তি কে?’ তিনি বললেন, ‘আমি আমির।’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তোমার রব তোমাকে ক্ষমা করুন।” রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন যার জন্য বিশেষভাবে ক্ষমার দোয়া করতেন সে শহীদ হতো। তখন স্বীয় উটের উপর আসীন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) চীৎকার করে বললেন, ‘ইয়া নবী আল্লাহ! আমিরকে দিয়ে আমাদের আরো উপকৃত করলেন না কেন?’তিনি বলেন, তারপর যখন আমরা খাইবারে উপস্থিত হলাম, তখন খাইবার অধিপতি মারহাব তরবারি দোলাতে দোলাতে বেরিয়ে এলো এবং বলল,“খাইবার জানে যে, আমি মারহাব, পূর্ণ অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত, অভিজ্ঞতাপূর্ণ এক বীরপুরুষযখন যুদ্ধ বিগ্রহ ঘনীভূত হয় তখন সে তরবারিসমূহ চমকাতে থাকে।”রাবী বলেন, আমার চাচা আমির (রাঃ) কবিতা আবৃত্তি করতে করতে বললেন-“খাইবার জানে যে, আমি আমির অস্ত্রে-শস্ত্রে সুসজ্জিত যুদ্ধে অবতীর্ণ।এক বীর বাহাদুর ভয়হীন ব্যক্তি।”রাবী বলেন, তারপর তাদের মধ্যে আঘাত বিনিময় হলো। আমির (রাঃ) নীচে থেকে যখন তাঁকে আঘাত করতে চাইলেন, তখন তা ফিরে এসে তাঁর নিজের উপরই পতিত হলো, আর তাতে তাঁর পায়ের গোছার সংযোগশিরা কেটে গিয়ে মৃত্যু হল।(রাবী) সালামা (রাঃ) বলেন, তখন আমি বের হলাম। নবী (ﷺ)-এর কয়েকজন সাহাবীকে বলাবলি করতে শুনলাম যে, আমিরের আমল বরবাদ হয়ে গেছে, সে আত্মহত্যা করেছে। তখন আমি কাঁদতে কাঁদতে নবী (ﷺ)-এর নিকটে এসে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমিরের আমলগুলো বরবাদ হয়ে গেল?’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ‘(এ-কথা)-কে বলেছে?’ রাবী বলেন, আমি বললাম, ‘আপনারই কয়েকজন সাহাবী।’ তিনি বললেন, ‘যারা এরূপ বলেছে তারা মিথ্যা বলেছে এবং তার প্রতিদান সে দু’বার পাবে।’তারপর তিনি আমাকে আলী (রাঃ)-এর নিকট পাঠালেন। তখন তিনি চক্ষুরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ‘আমি এমন এক ব্যক্তিকে (আজ) পতাকা সমর্পণ করবো, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাঁকে ভালবাসেন।’ তিনি বলেন, তারপর আমি আলী (রাঃ)-এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসলাম। আর তখন তাঁর চোখ ব্যাথাগ্রস্ত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর চোখে থুথু দিলেন। আর (তাতেই) তিনি সুস্থ হলেন। তখন তিনি তাঁর হাতে পতাকা দিলেন। এবারও মারহাব বেরিয়ে এলো এবং কবিতা আওড়াতে লাগল-“খাইবার জানে যে, আমি মারহাব, যুদ্ধের অস্ত্রে সজ্জিত এক অভিজ্ঞতাপূর্ণ বীর বাহাদুর ব্যক্তি।”তখন আলী (রাঃ) বললেন-“আমি সে ব্যক্তি যাকে আমার মা ‘হায়দার’ নামে ডাকে,যার দর্শন বন্য সিংহের মত ভীতিপ্রদ, আমি দুশমনের প্রতিদান দেই বিরাট পরিমাণের পাত্র দিয়ে অর্থাৎ- তাদের নির্দ্বিধায় হত্যা করি”।এরপর তিনি মারহাবের মাথায় তলোয়ার মারলেন এবং তাঁকে হত্যা করলেন। তারপর তাঁরই হাতে (খাইবার) বিজয় হলো।