৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৫৬/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৫৫১
মুনাফিকদের প্রদত্ত কষ্টে আল্লাহর নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দু‘আ ও ধৈর্যধারণ পরিচ্ছেদ নাই
উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ)
নবী (ﷺ) একটি গাধায় আরোহণ করলেন যার উপর জীন (বসার গদি) ছিল এবং তার নিচে একটি ফাদাকী মখমল বিছানো ছিল। তিনি তাঁর পশ্চাতে উসামা (রাঃ)-কে বসালেন। বনী হারিস ইবন খাজরাজ গোত্রের এলাকায় তিনি সাদ ইবন উবাদা (রাঃ)-কে (অসুস্থ অবস্থায়) দেখতে যাচ্ছিলেন। এটি ছিল বদর যুদ্ধের পূর্বের ঘটনা। তিনি এমন একটি মজলিস অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, যেখানে মুসলিম, মুশরিক, প্রতিমাপূজক ও ইহুদীরা একত্রে বসা ছিল। তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন উবাইও ছিল এবং মজলিসে আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রাঃ)-ও ছিলেন। যখন মজলিসটি সাওয়ারীর ধূলায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল, তখন আবদুল্লাহ ইবন উবাই তার নাক চাদর দিয়ে ঢেকে নিল। এরপর বলল, আপনারা আমাদের উপর ধূলি উঠাবেন না। তখন নবী (ﷺ) তাঁদের সালাম দিলেন। তারপর তিনি সেখানে থামলেন এবং নামলেন। আর তাঁদের আল্লাহর পথে দাওয়াত দিলেন এবং তাঁদের সম্মুখে কুরআন মাজিদ তিলাওয়াত করলেন। তখন আবদুল্লাহ ইবন উবাই বলে উঠলো, ওহে লোক! আপনি যা বলছেন তা যদি সত্য হয় তবে এর চাইতে উত্তম আর কিছু নয়, তবে আমার মজলিসে এসে আপনি আমাদের কষ্ট দিবেন না। আপনি আপনার বাসস্থানে ফিরে যান। সেখানে আমাদের মধ্যকার যে ব্যক্তি যায় তার কাছে আপনি এসব উপদেশ পরিবেশন করবেন।তখন আবদুল্লাহ ইবন রাওয়াহা (রাঃ) বলে উঠলেন, “(হে আল্লাহর রসূল!)” আমাদের মজলিসে (যতখুশি ইচ্ছা) ধূলি উড়াবেন। কেননা, আমরা তা পছন্দ করি। তখন মুসলিম, মুশরিক, ইহুদীরা পরস্পরে বাদানুবাদ ও গালাগালিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এমনকি রীতিমত একটি দাঙ্গা বাধার উপক্রম হয়। নবী (ﷺ) তাঁদের নিবৃত করতে লাগলেন। তারপর তাঁর বাহনে সাওয়ার হয়ে সাদ ইবন উবাদা (রাঃ)-এর বাড়িতে গিয়ে প্রবেশ করলেন এবং বললেন, আয় সাদ! তুমি কি শোননি আবু হুবাব অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবন উবাই কী বলেছে? সে এরূপ এরূপ কথা বলেছে।সাদ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! ওকে ক্ষমা করে দিন এবং উপেক্ষা করুন। আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে যে মর্যাদা দিয়েছেন, তা তো দিয়েছেনই। (কিন্তু তার ব্যাপার?) এ জনপদের লোকজন স্থির করেছিল যে, তাকে রাজ মুকুট ও পাগড়ি পরাবে। (অর্থাৎ -তাকে তাদের বাদশাহ বানাবে) কিন্তু আল্লাহ তা'আলা আপনাকে যে সত্য দান করেছেন, তা দিয়ে যখন আল্লাহ তা'আলা তার চাওয়া পাওয়াকে রুদ্ধ করে দিলেন, তাতে বিদ্বেষপ্রবণ হয়ে পড়ে। তাই সে এরূপ আচরণ করেছে যা আপনি প্রত্যক্ষ করেছেন। এতে নবী (ﷺ) তাঁকে মার্জনা করে দিলেন।
৪৫৫২
মুনাফিকদের প্রদত্ত কষ্টে আল্লাহর নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দু‘আ ও ধৈর্যধারণ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু শিহাব (রহঃ)
এ সনদে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে এতটুকু বর্ধিত অংশ উল্লেখ করেছেন, এটি আব্দুল্লাহর (বাহ্যত) ইসলাম গ্রহণের পূর্বের কথা।
৪৫৫৩
মুনাফিকদের প্রদত্ত কষ্টে আল্লাহর নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর দু‘আ ও ধৈর্যধারণ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
একদা নবী (ﷺ)-কে বলা হলো, (হে আল্লাহর রসূল!) যদি আপনি আবদুল্লাহ ইবন উবাইর কাছে যেতেন! তিনি তখন একটি গাধায় চড়ে তার কাছে রওনা হলেন। একদল মুসলিমও তাঁর সঙ্গে গেলেন। তাদের পথে পড়ল একটি লোনা ঊষর ভূমি।নবী (ﷺ) যখন তার কাছে উপস্থিত হলেন, তখন সে বলল, আমার কাছ থেকে দূরে থাকবেন। আল্লাহর কসম! আপনার গাধার দুর্গন্ধ আমাকে বিরক্ত করেছে।রাবী বলেন, তখন আনসারদের একজন উঠে (তৎক্ষণাৎ) জবাব দিলেন, “আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গাধার গন্ধ তোমার দুর্গন্ধের চেয়ে অনেক উত্তম।” রাবী বলেন, তখন আবদুল্লাহর সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি ক্ষেপে গেল। রাবী বলেন, তারপর উভয় পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। রাবী বলেন, তখন তাদের মধ্যে লাঠি, হাত ও জুতার দ্বারা মারামারি লেগে গেল।তারপর আমরা জানতে পারলাম তাদের উদ্দেশে কুরআনের আয়াত “যদি ঈমানদারদের দুইটি দল পরস্পর হানাহানিতে লিপ্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে সমঝোতা করে দাও”-(সূরা হুজুরাত ৪৯:৯) নাযিল হয়েছে।
৪৫৫৪
আবূ জাহ্‌লের নিধন পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
(বদর যুদ্ধের দিন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আবু জাহলের কী হলো, কে আমাদের জানাবে?তখন ইবনু মাসউদ বেরিয়ে গেলেন এবং (যুদ্ধক্ষেত্রে) গিয়ে দেখলেন, আফরার দুই পুত্র তাকে এমনি আঘাত করেছে যে, সে ঠান্ডা হয়ে গেছে। রাবী বলেন, তখন ইবনু মাসউদ তার দাড়ি ধরে বললেন, তুমিই কি আবু জাহল? সে বলল, তার চাইতেও উত্তম কাউকে তোমরা হত্যা করেছ? অথবা সে বলল, “যাকে তার সম্প্রদায়ের লোকেরা হত্যা করেছে?”রাবী বলেন, আবু মিজলয (রহঃ) বলেছেন, আবু জাহল বলেছে, হায়! চাষা ছাড়া অন্য কেউ যদি আমাকে হত্যা করতো।
৪৫৫৫
আবূ জাহ্‌লের নিধন পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
তাতে তিনি বলেন, আল্লাহর নবী (ﷺ) বলেছিলেন, “আবু জাহল কি করলো, তা কে আমার পক্ষ থেকে জেনে আসবে?” অতঃপর তিনি ইবন উলাইয়্যাহ ও আবু মিজলয (রহঃ)-এর অনুরূপ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, যেমন ইসমাঈল (রহঃ) বর্ণনা করেছেন।
৪৫৫৬
ইয়াহূদী নেতা কা‘ব ইবনু আশরাফের হত্যা পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কা‘ব ইবনু আশরাফের (নিধনের) জন্য কে আছ? কেননা, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে কষ্ট দিয়েছে। তখন মুহাম্মাদ ইবনু মাসলামা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি চান যে, আমি তাকে হত্যা করি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তবে আমাকে (প্রয়োজনমত যা ইচ্ছা) বলার অনুমতি দিন। তিনি বললেন, বলো।তারপর তিনি তার কাছে এলেন। তিনি (কথা প্রসঙ্গে তাদের পূর্বেকার) পারস্পরিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করলেন এবং বললেন, “এ ব্যক্তি তো (অর্থাৎ নবী (ﷺ)) সদাকা আদায় করতে চায় এবং সে আমাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে।” সে যখন তা শুনতে পেলো, তখন বললো, আরো অপেক্ষা কর। আল্লাহর কসম, সে তোমাদের কষ্ট দেবেই। তখন তিনি বললেন, আমরা সবেমাত্র তার অনুসারী হয়েছি। তাই ব্যাপারটি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা না দেখে এ মুহূর্তে তাকে ছেড়ে যাওয়াটা ঠিক মনে করছি না। এখন আমি চাই তুমি আমাকে কিছু ধার দাও। সে বলল, তুমি আমার কাছে কিছু বন্ধক রাখবে? তিনি বললেন, তুমি কী চাও? সে বলল, তোমাদের নারীদের আমার কাছে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, “তুমি হলে আরবের সবচাইতে সুন্দর পুরুষ। তোমার কাছে বন্ধক রাখব আমাদের নারীদের?” তখন সে বলল, ‘তাহলে তোমাদের সন্তানদের আমার কাছে বন্ধক রাখ।’ জবাবে তিনি বললেন, “আমাদের কারো সন্তানকে এ বলে গালি দেয়া হবে যে, তাকে মাত্র দুই ওসাক (৫ মণ আড়াই সের পরিমাণ) খেজুরের বিনিময়ে বন্ধক রাখা হয়েছিল। আমরা বরং তোমার কাছে যুদ্ধাস্ত্র বন্ধক রাখবো। সে বলল, “ঠিক আছে।”তখন তার সাথে ওয়াদাবদ্ধ হলেন যে, হারিস, আবু আবস ইবনু জাবর ও আব্বাদ ইবনু বিশরসহ তার কাছে আসবেন। তারপর রাতের বেলা তাঁরা তার কাছে আসলেন এবং তাকে ডাকলেন। সে তাদের কাছে নেমে এল। রাবী সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, রাবী আমর ব্যতীত অন্য রাবী বলেন, তখন তার স্ত্রী তাকে বলল, আমি এমন একটি আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি তা যেন খুনের স্বর। সে বলল, এ হচ্ছে মুহাম্মাদ আর তার দুধভাই আবু নায়িলাহ। সম্ভ্রান্ত লোককে যদি রাতের বেলা বর্শাবিদ্ধ হওয়ার দিকে ডাকা হয় তবুও সে ডাকে সাড়া দেয়।মুহাম্মাদ (তার সঙ্গীদের) বললেন, সে যখন আসবে, তখন আমি তার মাথা লক্ষ্য করে আমার হাত বাড়াবো। যখন আমি তা ভালমতো ধরে নেবো, তখন তোমরা তোমাদের কাজ সেরে নেবে। তারপর সে গায়ে চাদর জড়িয়ে নীচে নেমে এল। তাঁরা বললেন, আমরা তোমার নিকট থেকে অতি সুঘ্রাণ পাচ্ছি। সে বলল, হ্যাঁ, আমার স্ত্রী অমুক হচ্ছে আরবের সর্বাধিক সুগন্ধ-পছন্দ মহিলা। তখন তিনি বললেন, “আমাকে তা থেকে একটু সুবাস নিতে অনুমতি দিবেন?” তখন সে বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি তার মাথা শুঁকলেন। তারপর আবার শুঁকলেন। এরপর পুনরায় বললেন, আমাকে কি আবারও একটু ঘ্রাণ নিতে দিবেন? এ কথা বলে তিনি তার মাথা শক্ত করে ধরে সাথীদের বললেন, তোমরা সেরে ফেল। তখন তাঁরা তাকে হত্যা করে ফেললো।
৪৫৫৭
খাইবার যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বারের যুদ্ধে যাত্রা করেন। আমরা সেদিন তাঁর সঙ্গে সকালের সালাত (ফজর) অন্ধকারে আদায় করি। তারপর আল্লাহর নবী (ﷺ) তাঁর বাহনে আরোহণ করলেন এবং আবু তালহা (রাঃ)-ও তাঁর সওয়ারীতে আরোহণ করলেন। আর আমি (আরোহী) ছিলাম আবু তালহার পশ্চাতে।আল্লাহর নবী (ﷺ) খায়বারের গলিপথে চললেন। (আমরা এত পাশাপাশি পথ চলছিলাম যে) আমার হাঁটু আল্লাহর নবী (ﷺ)-এর ঊরু স্পর্শ করেছিল। এমন সময় আল্লাহর নবী (ﷺ)-এর লুঙ্গি তাঁর ঊরুদেশ থেকে সরে গেল। আর আমি আল্লাহর নবী (ﷺ)-এর ঊরুর শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তিনি যখন খায়বারের জনপদে প্রবেশ করলেন, তখন বললেনঃ আল্লাহু আকবার, খায়বার ধ্বংস হলো। আমরা যখন কোন কওমের আঙ্গিনায় পৌঁছি, তখন যাদের সতর্ক করা হয়েছে, তাদের প্রভাত অশুভ হয়ে যায়। তিনি এ কথা তিনবার বললেন।রাবি বলেন, লোকজন তাদের কাজকর্মে বেরিয়ে গেল। তারা বলে উঠলো, “মুহাম্মদ (ﷺ) (এসে পড়েছেন দেখছি)”। রাবি আবদুল আজিজ বলেন, আমাদের কোন কোন সঙ্গী বললেন, আর তাঁর পঞ্চভুজবিশিষ্ট বাহিনীও। রাবি বলেন, আমরা প্রভাব বিস্তার করে তা জয় করে নিলাম।
৪৫৫৮
খাইবার যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
খাইবারের যুদ্ধের দিন আমি আবু তালহার পিছনে (একই ঘোড়ার পিঠে সওয়ার) ছিলাম। আমার দুই পা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পদদ্বয়কে স্পর্শ করছিল।রাবী বলেন, সূর্যোদয়ের সময়ে আমরা সেখানে এলাম। তখন লোকজন তাদের পশুগুলো সবেমাত্র ঘর থেকে বের করেছে এবং তারা তাদের কোদাল, কুড়াল, রশি-জাম্বিল নিয়ে (কাজের জন্য) বেরিয়ে পড়েছে। তখন তারা (সবিস্ময়ে) বলল, “মুহাম্মদ এবং পঞ্চভুজবিশিষ্ট বাহিনী!”রাবী বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ খাইবার ধ্বংস হলো। আমরা যখন কোন কওমের আঙ্গিনায় অবতরণ করি তখন সতর্ককৃতদের প্রভাত অশুভ হয়ে যায়। রাবী বলেন, মহান আল্লাহ তা‘আলা তাদের ধ্বংস করে দিলেন।
৪৫৫৯
খাইবার যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খাইবারে এলেন, তখন বললেন, “আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিনায় পৌঁছি, তখন সতর্ককৃতদের প্রভাত অশুভ হয়ে যায়।”
৪৫৬০
খাইবার যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
সালামাহ্ ইবনু আকওয়া (রাঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে খাইবার অভিযানে বের হলাম। আমরা রাতের বেলা এ অভিযানে বেরিয়েছিলাম। তখন এক ব্যক্তি আমার ভাই আমির ইবনু আকওয়া (রাঃ)-কে বললো: “ওহে! তুমি কি তোমার রণ সঙ্গীত থেকে আমাদেরকে কিছু শুনাবে না?” আমির (রাঃ) ছিলেন একজন কবি। তখন তিনি সওয়ারী থেকে অবতরণ করে সকলকে শুনিয়ে শুনিয়ে তাঁর হুদী সঙ্গীত আবৃত্তি করতে করতে লোকদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে চললেন: “ইয়া আল্লাহ! আপনি না হলে আমরা হিদায়াত পেতাম না, আমরা সদাকা ও সালাত আদায় করতাম না। আপনার জন্য আমাদের জান কুরবান, আমাদের পিছনের সকল অপরাধ আপনি ক্ষমা করে দিন, যতদিন আমরা আপনার আনুগত্য করব। শত্রুর সম্মুখীন হলে আমাদের পা অটল রাখুন। আমাদের উপর শান্তি বর্ষণ করুন। যখন আমাদের ডাকা হয় আমরা উপস্থিত হই। এবং তারাই চিৎকার দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে লোক জমা করে।” তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “এ চালকটি কে?” সাহাবীগণ বললেন, ‘আমির’। তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তার প্রতি রহমত করুন।’ তখন গোত্রের এক ব্যক্তি বলল, “তাঁর জন্য তো শাহাদাত অবধারিত হয়ে গেছে, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)। আমাদের যদি তাঁর দ্বারা আরো উপকৃত করতেন, (তবে ভাল হত)।”রাবী বলেন, তারপর আমরা খাইবারে এসে তাদের ঘেরাও করলাম। (অবরোধ দীর্ঘ হল) এমনকি আমাদের দারুণ খাদ্যভাব দেখা দিল। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তাদের বিজয় দান করেছেন।” তারপর বিজয়ের দিন যখন লোকদের সন্ধ্যা হলো তখন তারা বহু স্থানে আগুন জ্বালালো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “এ আগুন কিসের? কিসের উপর (কী রান্না করার জন্যে) লোকজন এ আগুন জ্বালাচ্ছে?” তারা বললেন, গোশ্ত। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: “কিসের গোশ্ত?” তারা বললেন, গৃহপালিত গাধার গোশ্ত। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “এগুলো ফেলে দাও আর রান্নার পাত্রগুলো ভেঙ্গে ফেল।” এক ব্যক্তি বলল, “তারা কি এগুলো ফেলে দেবে এবং রান্নার পাত্রগুলো ধুয়ে ফেলবে?” তিনি বললেন: “তা হতে পারে।”রাবী বলেন, এরপর যখন লোকজন (যুদ্ধের জন্য) সারিবদ্ধ হল, আমিরের তরবারিখানা ছিল খাটো। তিনি জনৈক ইয়াহুদির পায়ের নলা লক্ষ্য করে যে আঘাত করলেন সে আঘাত ফিরে এসে আমিরের হাঁটুতে লাগে, এতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তারপর যখন লোকজন (খাইবার থেকে) ফিরে এলো, তখন সালামা আমার হাত ধরে বললেন, (রাবী বললেন) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আমাকে নির্বাক অবস্থায় দেখতে পেলেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার কী হয়েছে?” আমি বললাম, “আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! লোকজনের ধারণা আমির (আত্মহত্যা) করে তাঁর (সারা জীবনের) আমল বরবাদ করে দিয়েছেন।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তা কে বলেছে?” আমি বললাম, অমুক অমুক এবং উসাইদ ইবনু হুজাইর আনসারী। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “যে এরূপ বলেছে, সে মিথ্যা বলেছে। অবশ্যই তাঁর (আমিরের) জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে।” তখন তিনি তাঁর দুইটি আঙুল একত্রিত করলেন (এবং বললেন), “সে (আল্লাহর রাস্তায়) সত্যিকার যোদ্ধা ও মুজাহিদ। খুব কম আরবই তাঁর মতো চলেছে (বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছে)।” কুতাইবাহ এ হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মাদের সাথে দুইটি শব্দে দ্বিমত করেছেন। ইবনু আব্বাদ (রহঃ)-এর রিওয়ায়াতে আছে وَأَلْقِ سَكِينَةً عَلَيْنَا।