৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৫৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৫৩১
প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করা পরিচ্ছেদ নাই
হুযাইফাহ্‌ ইবনু ইয়ামান (রাঃ)
আমাকে বদর যুদ্ধে যোগদান থেকে এছাড়া অন্য কিছু বিরত রাখেনি যে, আমি এবং আমার পিতা হুসাইল ঘর থেকে বেরিয়েছিলাম। এমন সময় কুরাইশ কাফিররা আমাদের ধরে বসল এবং বলল যে, তোমরা অবশ্যই মুহাম্মদ (ﷺ)-এর কাছে যেতে মনস্থ করেছ। জবাবে আমরা বললাম, আমরা তাঁর কাছে যেতে চাইনা বরং আমরা মদিনায় (ফিরে) যেতে চাই। তখন তারা আল্লাহর নামে আমাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিল যে, আমরা অবশ্যই মদিনায় ফিরে যাব এবং তাঁর সাথে যুদ্ধ করবো না। তারপর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলাম এবং সে সংবাদ তাঁকে জানালাম। তখন তিনি বললেন, ফিরে যাও। আমরা তাঁদের কৃত ওয়াদা পূর্ণ করব এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য চাইব।
৪৫৩২
আহযাবের (খন্দকের) যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
ইব্‌রাহীম তাইমীর
আমরা হুযাইফা (রাঃ)-এর কাছে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি বলে উঠল, “হায়, আমি যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে পেতাম, তবে তাঁর সাথে মিলে একত্রে যুদ্ধ করতাম এবং তাতে কোনরূপ পিছপা হতাম না।”হুযাইফা (রাঃ) বললেন, “হয়তো তুমি তা করতে, কিন্তু আমি তো আহযাবের রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম (সে রাতে) প্রচণ্ড বায়ু ও তীব্র শীত আমাদের কাবু করে ফেলেছিল। এমনি সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোষণা করলেন, “ওহে! এমন কেউ আছে কি যে আমাকে শত্রুর খবর এনে দেবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে কেয়ামতের দিন আমার সঙ্গে (মর্যাদার আসনে) রাখবেন?” আমরা তখন চুপ করে রইলাম এবং আমাদের মধ্যে কেউ তাঁর সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি।তিনি আবার বললেন, “ওহে! এমন কোন ব্যক্তি আছে কি যে আমাকে শত্রুপক্ষের খবর এনে দেবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে কেয়ামতের দিন আমার সঙ্গে রাখবেন?” এবারও আমরা চুপ রইলাম আর আমাদের মধ্যে কেউ তাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়নি।তিনি আবার ঘোষণা করলেন, “ওহে! এমন কেউ আছে কি যে আমাকে শত্রুপক্ষের খবর এনে দেবে, আল্লাহ তা’আলা কেয়ামতের দিন তাকে আমার সঙ্গে রাখবেন?” এবারও আমরা চুপ করে রইলাম এবং আমাদের মধ্যে কেউ তাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়নি।এবার তিনি বললেন, “হে হুযাইফা! ওঠো এবং তুমি শত্রুদের খবরাদি আমাকে এনে দাও।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন এবার আমার নাম ধরেই ডাক দিলেন, তাই উঠা ছাড়া আমার আর কোন উপায় ছিল না।এবার তিনি বললেন, “শত্রুপক্ষের খবর আমাকে এনে দাও, কিন্তু সাবধান, তাদের আমার বিরুদ্ধে উত্তেজিত করো না।” তারপর আমি যখন তাঁর নিকট থেকে প্রস্থান করলাম, তখন মনে হচ্ছিল আমি যেন উষ্ণ আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে চলেছি। এভাবে আমি তাদের (শত্রুপক্ষের) নিকটে পৌঁছে গেলাম। তখন আমি লক্ষ্য করলাম, আবু সুফইয়ান আগুনের দ্বারা তাঁর পিঠে ছেঁক দিচ্ছে। আমি তখন একটি তীর তুলে ধনুকে সংযোজন করলাম এবং তা নিক্ষেপ করতে মনস্থ করলাম। এমন সময় আমার মনে পড়ে গেল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলে দিয়েছেন, “তাদেরকে আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলো না।” আমি যদি তখন তীর নিক্ষেপ করতাম তবে তীর নির্ঘাত লক্ষ্যভেদ করতো, অগত্যা আমি ফিরে আসলাম এবং ফিরে আসার সময়ও উষ্ণতার মধ্য দিয়ে অতিক্রমের মতো উষ্ণতা অনুভব করলাম।তারপর যখন ফিরে এলাম, তখন প্রতিপক্ষের খবর তাঁকে প্রদান করলাম। আমার দায়িত্ব পালন করে অবসর হতেই আবার আমি শীতের তীব্রতা অনুভব করলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর অতিরিক্ত একটি কম্বল দিয়ে আমাকে আবৃত করে দিলেন, যা তিনি সাধারণত সালাত আদায়ের সময় গায়ে দিতেন। তারপর আমি ভোর পর্যন্ত একটানা নিদ্রায় বিভোর রইলাম। যখন ভোর হল তখন তিনি বললেন, “হে গভীর নিদ্রামগ্ন! এখন উঠে পড়ো।”
৪৫৩৩
উহুদ যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উহুদ যুদ্ধের দিন কেবল সাতজন আনসার ও দুইজন কুরায়শ (মুহাজির) সাথীসহ (শত্রুবাহিনী কর্তৃক) অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং তা তাঁকে (চতুর্দিক থেকে) বেষ্টন করে ফেলে, তিনি বললেন, কে আমার পক্ষ থেকে শত্রুদের প্রতিহত করবে, তার জন্য রয়েছে জান্নাত। অথবা বললেন, সে জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে?তখন আনসারদের মধ্যকার এক ব্যক্তি অগ্রসর হয়ে যুদ্ধ শুরু করলেন এবং পরিশেষে শহীদ হলেন। তারপর পুনরায় তারা তাঁকে ঘেরাও করে ফেললো এবং অনুরূপভাবে লড়াই করতে করতে তাঁদের সাতজনই শহীদ হলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সঙ্গীদ্বয়কে লক্ষ্য করে বললেন, আমরা (কুরায়শরা) সঙ্গীদের প্রতি সুবিচার করিনি। (আমরা বেঁচে রইলাম, অথচ আনসাররা শহীদ হলেন।)
৪৫৩৪
উহুদ যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ)
তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উহুদ যুদ্ধের দিন আহত হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর (পবিত্র) মুখমণ্ডল যখম করা হয়, তাঁর রিবাইয়াত (চতুর্থ দাঁত) ভেঙ্গে দেয়া হয় এবং তাঁর মাথায় লৌহ শিরস্ত্রাণ ভেঙ্গে ঢুকে যায়।রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) রক্ত ধুইয়ে দিচ্ছিলেন এবং আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ) ঢাল দিয়ে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। ফাতিমা (রাঃ) যখন দেখলেন যে, তাতে রক্তপড়া আরো বেশী বৃদ্ধি পাচ্ছে, তখন তিনি একটি মাদুর খণ্ড পোড়ালেন এবং ছাই হয়ে গেলে তা যখমের উপর চেপে ধরলেন। এতে রক্তপাত বন্ধ হয়ে গেল।
৪৫৩৫
উহুদ যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
কুতাইবাহ্‌ ইবনু সা’ঈদ (রহঃ)
সাহল ইবন সা‘ঈদ (রাঃ)-কে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আহত হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, তখন তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই জানি, কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যখম ধুয়ে দিচ্ছিলেন, কে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন এবং কিসের দ্বারা তাঁর চিকিৎসা করা হয়েছিল। তারপর তিনি আবদুল ‘আযীযের মাধ্যমে বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। অবশ্য তাঁর বর্ণনায় এ পার্থক্য রয়েছে: “তাঁর মুখমণ্ডল যখম করা হয় এবং هُشِمَتْ এর স্থলেكُسِرَتْ শব্দ ব্যবহার করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আহত হওয়া সংক্রান্ত সাহল ইবন সা‘ঈদ (রাঃ)-এর এ বর্ণনাটি সামান্য শাব্দিক পরিবর্তনসহ অন্য সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে।
৪৫৩৬
উহুদ যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইবনু আবূ হিলাল-এর হাদীসে আছে, রাসূল (ﷺ)-এর মুখমণ্ডলে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। আর মুতাররিফ-এর হাদীসে আছে তাঁর মুখমণ্ডলে যখম হয়েছিল।
৪৫৩৭
উহুদ যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
উহুদ দিবসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রুবাইয়াত দাঁত ভেঙে দেওয়া হয়, তাঁর মাথায় আঘাত করা হয় এবং তিনি তাঁর শরীর থেকে রক্ত মুছতে মুছতে বলছিলেন, “সে জাতি কিভাবে সাফল্য অর্জন করবে, যারা তাদের নবীকে আহত করলো এবং তাঁর সম্মুখের দুইটি দাঁত ভেঙে দিল অথচ তিনি তাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাচ্ছিলেন?” তখন আল্লাহ তা’আলা আয়াত নাজিল করলেন : “হে রসূল! এ ব্যাপারে আপনার করণীয় কিছুই নেই”- (সূরা আ-লি ইমরান : ১২৮)।
৪৫৩৮
উহুদ যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমি যেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখতে পাচ্ছি যে, তিনি এমন একজন নবীর কথা কাহিনীরূপে বর্ণনা করছেন, যাঁকে তাঁর সম্প্রদায়ের লোকজন আঘাত করেছে। আর তিনি তাঁর নিজের কপাল থেকে রক্ত মুছছেন এবং বলছেন, “প্রভু! আমার সম্প্রদায়কে ক্ষমা কর, কেননা তারা বুঝে না।” আ‘মাশ (রহঃ) থেকে সামান্য পার্থক্যসহ অন্য সূত্রেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
৪৫৩৯
উহুদ যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি তাঁর কপাল থেকে রক্ত মুছছিলেন।
৪৫৪০
রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাকে হত্যা করেন তার উপর আল্লাহ্‌র ভয়াবহ গযব পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যে সব হাদীস বর্ণনা করেছেন এর মধ্যে তিনি এটিও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “সে সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর গজব ভয়াবহ হয়, যারা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি এরূপ আচরণ করে।” এ কথা বলতে বলতে তিনি তাঁর সম্মুখের দুইটি (ভগ্ন) দাঁতের দিকে ইঙ্গিত করছিলেন।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেন, “মহামহিম আল্লাহর গজব তাঁর উপরও ভয়াবহ হয়, যাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আল্লাহর পথে হত্যা করেন।