৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৫৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৫২১
হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ)
‘হুদায়বিয়া দিবসে’ আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ) নবী (ﷺ) এবং মুশরিকদের মধ্যে সন্ধিপত্র লিপিবদ্ধ করলেন, “এ সন্ধিটি লিখিয়েছেন মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (ﷺ)। তখন তারা বলল, ‘রসূলুল্লাহ’ কথাটি লিখবেন না। যদি আমরা বিশ্বাস করতাম যে, আপনি আল্লাহর রসূল, তবে তো আপনার সাথে আমরা যুদ্ধ করতাম না। তখন নবী (ﷺ) আলী (রাঃ)–কে বললেন, এ অংশটি কেটে দাও। তখন আলী বললেন, আমি তা কেটে দেয়ার লোক নই। এরপর নবী (ﷺ)–ই নিজ হাতে তা কেটে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, সন্ধির একটি শর্ত এই ছিল যে, তারা মক্কায় প্রবেশ করে তিন দিন অবস্থান করতে পারবে এবং তখন তারা কোন অস্ত্র নিয়ে ঢুকতে পারবে না। কিন্তু কোষবদ্ধ তলোয়ার নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে। আমি আবু ইসহাককে জিজ্ঞেস করলাম, جُلُبَّانُ السِّلاَحِ এর অর্থ কী? তখন তিনি বলেন, এর অর্থ খাপ এবং এর মধ্যে যা থাকে।
৪৫২২
হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুদায়বিয়াবাসীদের মধ্যে সন্ধি করলেন, আলী (রাঃ) উভয়ের মধ্যে একটি সন্ধিপত্র লিখলেন। আলী (রাঃ) লিখলেন, মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ, তারপর মু’আয বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি তার হাদীসে مَا كَاتَبَ কথাটি উল্লেখ করেননি।
৪৫২৩
হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
বারা (রাঃ)
নবী (ﷺ) যখন বাইতুল্লাহ শরীফের নিকট বাধাগ্রস্ত হলেন, তখন মক্কাবাসীরা এ মর্মে তাঁর সঙ্গে সন্ধি করলো যে, (পরবর্তী বছর) তিনি মক্কায় প্রবেশ করবেন এবং সেখানে তিনদিন অবস্থান করবেন এবং কোষবদ্ধ তরবারি ছাড়া আর কিছু নিয়ে সেখানে প্রবেশ করবেন না এবং কোনো মক্কাবাসী কাউকে নিয়ে মক্কা থেকে বেরিয়ে যেতে পারবেন না। পক্ষান্তরে তাঁর সাথীদের কেউ যদি সেখানে থেকে যেতে চায়, তবে তাকে বারণ করবেন না। তখন তিনি আলী (রাঃ)–কে বললেনঃ আমাদের মধ্যকার শর্তগুলো এভাবে লিখে নাওঃ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম...এ হচ্ছে সেই সন্ধি যা মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চূড়ান্ত করেছেন। তখন মুশরিকরা তাঁকে বলল, আমরা যদি আপনাকে আল্লাহর রাসূলই জানতাম তবে আপনার অনুসরণই করতাম, বরং লিখুন, মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ। তখন তিনি আলী (রাঃ) –কে তা মুছে ফেলতে নির্দেশ দিলেন। আলী (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তা মুছতে পারব না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাহলে আমাকেই সে স্থান দেখিয়ে দাও। তিনি সে স্থান দেখিয়ে দিলেন আর তিনি তা (স্বহস্তে) মুছে ফেললেন এবং লিখালেন মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ। তারপর (পরের বছর তিনি সাহাবীদের নিয়ে তাশরীফ আনলেন) সেখানে তিনি তিনদিন অবস্থান করলেন। যখন তৃতীয়দিন সমাগত হলো, তখন তারা আলী (রাঃ) –কে বললেন এটা হচ্ছে তোমার সাথীর শর্তের স্থিরীকৃত শেষ দিবস। তাঁকে বেরিয়ে যেতে বলে দাও। তখন তিনি তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করলেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। এরপর তিনি বেরিয়ে গেলেন। ইবনু জানাব بَايَعْنَاكَ স্থলে تَابَعْنَاكَ বলে বর্ণনা করেছেন।
৪৫২৪
হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
কুরায়শরা নবী (ﷺ)–এর সাথে সন্ধি করল। তাদের মধ্যে সুহাইল ইবন আমরও ছিলেন। তখন নবী (ﷺ) আলী (রাঃ)-কে বললেনঃ লিখ ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’। সুহাইল বলল, কি বিসমিল্লাহ? আমরা তো জানি না বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম কী? তবে আমরা জানি বি ইসমিকা আল্লাহুম্মা, তাই লিখ। তারপর নবী (ﷺ) বললেনঃ লিখ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে। তখন তারা বলে উঠলো, আমরা যদি আপনাকে আল্লাহর রাসূলই জানতাম, তাহলে তো আমরা আপনার অনুসরণই করতাম। বরং আপনি আপনার নাম এবং আপনার পিতার নাম লিখুন। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ লিখ, মুহাম্মাদ ইবন আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে। তারা নবী (ﷺ)-এর উপর এ মর্মে শর্ত আরোপ করল যে, যারা আপনাদের নিকট থেকে চলে আসবে, আমরা তাকে ফেরত পাঠাবো না, কিন্তু আমাদের কেউ যদি আপনাদের নিকট চলে যায়, তবে আপনারা তাকে অবশ্যই ফিরিয়ে দেবেন। তখন সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি এরূপ লিখব? জবাবে তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি তাদের কাছে যায় তবে আল্লাহই তাকে (রহমত থেকে) সরিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের মধ্য থেকে যে আমাদের কাছে আসবে (তাকে ফেরত দিলেও) আল্লাহ অচিরেই তার জন্য কোন ব্যবস্থা ও পথ বের করে দেবেন।
৪৫২৫
হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
আবুল ওয়ায়িল (রাঃ)
সাহল ইবন হুনাইফ (রাঃ) সিফফীন দিবসে উঠে দাঁড়ালেন এবং বললেন, “হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের অভিযুক্ত মনে করবে। আমরা হুদাইবিয়ার দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। আমরা এটিকে যুদ্ধ মনে করলে সেদিন অবশ্যই আমরা যুদ্ধ করতাম। এটি হচ্ছে সেই সন্ধির কথা যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং মুশরিকদের মধ্যে হয়েছিল।তখন উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি সত্যের উপর নই, আর তারা বাতিলের উপর নয়?” তিনি বললেনঃ “হ্যাঁ, তাই।” তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, “আমাদের নিহতরা কি জান্নাতী এবং তাদের নিহতরা কি জাহান্নামী নয়?” তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন, “তাহলে কী কারণে আমরা দ্বীনের ব্যাপারে লাঞ্ছনা মেনে নিয়ে ফিরে যাব, অথচ এখনো এ ব্যাপারে তাদের ও আমাদের মধ্যে আল্লাহর কোন ফায়সালা আসেনি?”তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “হে খাত্তাব পুত্র! নিঃসন্দেহে আমি আল্লাহর রাসূল। আর তিনি অবশ্যই কখনো আমাকে ধ্বংস করবেন না।”রাবী বলেন, তখন উমর (রাঃ) চলে গেলেন। তিনি ক্রোধে ধৈর্যধারণ করতে পারছিলেন না। তাই তিনি আবু বকর-এর কাছে এলেন এবং তাঁকে বললেন, “হে আবু বকর! আমরা কি হকের উপর এবং তারা কি বাতিলের উপর নয়?” তিনি বললেন, “অবশ্যই।” আবার তিনি বললেন, “আমাদের নিহতরা কি জান্নাতী এবং তাদের নিহতরা কি জাহান্নামী নয়?” তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই।” তখন তিনি বললেন, “তাহলে কী কারণে আমরা দ্বীনের ব্যাপারে লাঞ্ছনা মেনে নিয়ে ফিরে যাব, অথচ এখনো এ ব্যাপারে আমাদের এবং তাদের মধ্যে আল্লাহ কোন ফায়সালা দেননি?”তখন তিনি বললেন, “হে খাত্তাব তনয়! নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আল্লাহ কখনও তাঁর বিনাশ করবেন না।”রাবী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর প্রতি বিজয়ের সুসংবাদ নিয়ে কুরআন অবতীর্ণ হলো। তখন তিনি উমরকে ডেকে পাঠালেন এবং তাঁর সম্মুখে তা পাঠ করলে তখন তিনি বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! এ কি বিজয়?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” তখন তাঁর অন্তর শান্ত হলো এবং তিনি ফিরে গেলেন।
৪৫২৬
হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
শাকীক (রহঃ)
সিফফীন দিবসে সাহল ইবনু হুনাইফ (রাঃ)-কে আমি বলতে শুনেছি, হে লোক সকল! তোমাদের নিজেদের অভিমতকে অভিযুক্ত মনে করবে। আল্লাহর কসম! আমি আবু জান্দালের সে দিনটি দেখেছি। যদি আমার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আদেশ প্রত্যাখ্যান করার সাধ্য থাকতো, তবে অবশ্যই তা প্রত্যাখ্যান করতাম। আল্লাহর কসম! আমরা আমাদের তরবারি স্বীয় গর্দানে উঠাতাম না যতক্ষণ না আমাদের কোন বিষয় বোধগম্য ছিল। কিন্তু তোমাদের এ ব্যাপারটির কথা তার বিপরীত। ইবনু নুমায়র তাঁর বর্ণনায় إِلَى أَمْرٍ কথাটি উল্লেখ করেননি।
৪৫২৭
হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
তবে তাদের হাদিসে إِلَى أَمْرٍ يُفْظِعُنَا উল্লেখ রয়েছে।
৪৫২৮
হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ওয়ায়িল (রহঃ)
আমি সাহল ইবন হুনাইফ (রাঃ)-কে সিফফীনে বলতে শুনেছি, “তোমরা তোমাদের নিজেদের মতকে তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে অভিযুক্ত মনে করবে। কারণ আমি আবু জান্দালের দিনটি প্রত্যক্ষ করেছি। যদি আমার সেদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার সামর্থ্য থাকত (তবে তাই করতাম, এখন ব্যাপার এত সঙ্গীন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে,) আমরা এক দিকের ছিদ্র বন্ধ করলে ওপর দিকের ছিদ্র খুলে যায়।
৪৫২৯
হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
কাতাদাহ্‌ (রহঃ)
আনাস ইবন মালিক (রাঃ) তাঁদের বলেছেন, হুদাইবিয়া থেকে প্রত্যাবর্তনের সময় যখন এ আয়াত নাযিল হলোঃ “নিশ্চয় আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়, যেন আল্লাহ তোমার ত্রুটিসমূহ মার্জনা করেন ..... মহা সাফল্য” পর্যন্ত (সূরা ফাতহ ৪৮ : ১-৪), তখন তাঁদের সব দুঃখ বেদনা ক্ষোভে পূর্ণ ছিল। আর হুদাইবিয়াতেই (কুরবানির) পশুগুলো কুরবানি করা হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার প্রতি এমন আয়াত নাযিল হয়েছে, যা সমগ্র দুনিয়া থেকে আমার কাছে অধিক প্রিয়।
৪৫৩০
হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু মুসান্না, আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) আনাস (রাঃ)
ইবনু আরুবা (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।