৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৫১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৫০১
বিধর্মী শাসকদের নিকট মহামহিম আল্লাহর প্রতি আহবান জানিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পত্রাবলী পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) ‘কিসরা’ (পারস্যের সম্রাট), ‘কায়সার’ (রোমের সম্রাট) ও নাজাশী এবং অন্যান্য প্রভাবশালী শাসকগণের নিকট পত্র লিখেন, যাতে তিনি তাদের আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেন। ইনি সে নাজাশী নন, যাঁর জানাজার সালাত নবী (ﷺ) আদায় করেছিলেন।
৪৫০২
বিধর্মী শাসকদের নিকট মহামহিম আল্লাহর প্রতি আহবান জানিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পত্রাবলী পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
আনাস ইবন মালিক (রাঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এ কথা বলেননি যে, “তিনি সে নাজাশী নন, যাঁর জানাযার সালাত নবী (ﷺ) আদায় করেছিলেন।”
৪৫০৩
বিধর্মী শাসকদের নিকট মহামহিম আল্লাহর প্রতি আহবান জানিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পত্রাবলী পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
উল্লিখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি এ কথা উল্লেখ করেননি যে, “তিনি সে নাজাশী নন, যাঁর জানাযার সালাত নবী (ﷺ) আদায় করেছিলেন।”
৪৫০৪
হুনায়ন যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আব্বাস (রাঃ)
আমি হুনাইনের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। আমি এবং আবু সুফিয়ান ইবন হারিস ইবন আবদুল মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একেবারে সঙ্গেই ছিলাম। আমরা কখনও তাঁর থেকে আলাদা হইনি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি সাদা বর্ণের খচ্চরের উপর আরোহণ করেছিলেন। সে খচ্চরটি ফারওয়া ইবন নুফাসা জুযামী তাঁকে হাদিয়া স্বরূপ দিয়েছিলেন। (তাকে দুলদুল নামে ডাকা হতো।)যখন মুসলিম এবং কাফির পরস্পর সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হল তখন মুসলিমগণ (যুদ্ধের এক পর্যায়ে) পেছনের দিকে পলায়ন করতে লাগলেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় পায়ের গোড়ালি দিয়ে নিজের খচ্চরকে আঘাত করে কাফিরদের দিকে ধাবিত করছিলেন। আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি তাঁর খচ্চরের লাগাম ধরে রেখেছিলাম এবং একে থামিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম যেন দ্রুত গতিতে অগ্রসর হতে না পারে। আর আবু সুফিয়ান (রাঃ) তাঁর খচ্চরের রেকাব (হাউদাজের বন্ধনের পট্টি) ধরে রেখেছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হে আব্বাস! আসহাবে সামুরাকে আহবান করো। আব্বাস (রাঃ) বলেন- আর তিনি ছিলেন উচ্চ আওয়াজের অধিকারী ব্যক্তি-তখন আমি উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ দিয়ে বললাম, হে আসহাবে সামুরাহ! তোমরা কোথায় যাচ্ছ?তিনি বলেন, আল্লাহর কসম! তা শুনামাত্র তারা এমনভাবে প্রত্যাবর্তন করতে শুরু করলেন যেমনভাবে গাভী তার বাছুরের আওয়াজ শুনে দ্রুত দৌড়ে আসে। এবং তারা বলতে লাগল, আমরা আপনার নিকট হাজির, আমরা আপনার নিকট হাজির। রাবী বলেন, এরপর তারা কাফিরদের সাথে পুনরায় যুদ্ধে লিপ্ত হন। তিনি আনসারদেরকেও এমনিভাবে আহবান করলেন যে, হে আনসারগণ! রাবী বলেন, এরপর আহবান সমাপ্ত করা হলো বানি হারিস ইবন খাযরাজের মাধ্যমে। (তাঁরা আহবান করলেন, হে বানি হারিস ইবনু খাযরাজ।)রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় খচ্চরের উপর আরোহিত অবস্থায় আপন ঘাড় উঁচু করে তাদের যুদ্ধের অবস্থা দেখেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: এটাই হল যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ চরম মুহূর্ত।রাবী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কয়েকটি পাথরের টুকরা হাতে নিলেন এবং এগুলো তিনি বিধর্মীদের মুখের উপর ছুঁড়ে মারলেন। এরপর বললেন, মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর রবের কসম! তারা পরাজিত হয়েছে। আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধের অবস্থান পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখলাম যে, যথারীতি যুদ্ধ চলছে। এমন সময় তিনি পাথরের টুকরাগুলো নিক্ষেপ করলেন। আল্লাহর শপথ! তখন হঠাৎ দেখি যে, কাফিরদের শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেল এবং তাদের যুদ্ধের মোড় ঘুরে গেল।
৪৫০৫
হুনায়ন যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি ‘ফারওয়াহ ইবনু নুয়ামা জুযামী’ কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, “তারা পরাজিত হয়েছে, কাবার রবের কসম! তারা পরাজিত হয়েছে কাবার রবের কসম!” তিনি তাঁর হাদীসে এ কথাটিও বাড়তি বর্ণনা করেছেন যে, “অবশেষে আল্লাহ তাদেরকে পরাজিত করলেন।” রাবী বলেন, “আমি যেন নবী (ﷺ)-কে তাদের পিছন থেকে দেখলাম যে, তিনি স্বীয় খচ্চরের উপর থেকে নিজ পায়ের গোড়ালি দিয়ে একে প্রহার করছিলেন (দ্রুত গতিতে চলার জন্য)।”
৪৫০৬
হুনায়ন যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আব্বাস (রাঃ)
আমি হুনাইন যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। ...এরপর তিনি উল্লিখিত হাদীসটি বর্ণনা করেন। তবে ইউনুস ও মা'মার (রাঃ) বর্ণিত হাদীস বর্ণনার দিক দিয়ে অধিক বিস্তারিত ও পরিপূর্ণ।
৪৫০৭
হুনায়ন যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইসহাক (রহঃ)
এক ব্যক্তি বারা (রাঃ)-কে বললেন, হে আবু উমারাহ! আপনারা কি হুনাইনের যুদ্ধে পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন, না। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পলায়ন করেননি। বরং তাঁর কয়েকজন হালকা-পাতলা, চালাক-চতুর তরুণ সাথী, অস্ত্র-শস্ত্র ও বেশি হাতিয়ারবিহীন তাঁরা সরে পড়েন। তাঁরা এমন একদল তীরন্দাজের মুকাবিলা করছিলেন, যাদের তীরের লক্ষ্যস্থল ব্যর্থ হবার নয়। তারা ছিল হাওয়াজিন ও নায্‌র গোত্রের লোক। তারা এমনভাবে তীর ছুঁড়ছিল যে, লক্ষ্যস্থল ব্যর্থ হওয়ার ছিল না। তখন তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে এগিয়ে এলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে সময় তাঁর সাদা রঙের খচ্চরের উপর ছিলেন। আর আবু সুফিয়ান ইবনু হারিস ইবনু আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) একে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি নামলেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলেন। রাবী বলেন, যেন তিনি বলেছিলেনঃ “আমি অবশ্যই নাবী, এ কথা মিথ্যা নয়। আমি ইবনু আবদুল মুত্তালিব”। তারপর তিনি স্বীয় সেনাদলকে শ্রেণীবদ্ধ করলেন।
৪৫০৮
হুনায়ন যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইসহাক (রহঃ)
এক ব্যক্তি বারা (রাঃ)-এর নিকট এসে বলল, আপনারা কি হুনায়নের দিনে পলায়ন করেছিলেন? তখন তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নবী (ﷺ) পলায়ন করেননি।কিন্তু কিছু সংখ্যক চালাকচতুর হালকাপাতলা লোক ‘হাওয়াযিন’ গোত্রের দিকে গিয়েছিল। আর তারা ছিল তীরন্দাজ সম্প্রদায়। তারা তাদের প্রতি তীর ছুঁড়লো, যেন সেগুলো পঙ্গপালের পায়ের মত। তখন তারা পিছন দিকে হটে গেল। আর লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এগিয়ে এলো। আবু সুফিয়ান ইবনু হারিস (রাঃ) তাঁর খচ্চর টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি অবতরণ করলেন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে দু’আ করলেন এবং তিনি বললেনঃ আমি অবশ্যই আল্লাহর নবী, এ কথা মিথ্যে নয়। আমি ইবনু আবদুল মুত্তালিব। “হে আল্লাহ! আপনার সাহায্য অবতীর্ণ করুন”।বারা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! যুদ্ধের উত্তেজনা যখন ঘোরতর হয়ে উঠত, তখন আমরা তাঁর মাধ্যমে আত্মরক্ষা করতাম। নিশ্চয়ই আমাদের মাঝে বীরপুরুষ তিনিই যাঁকে যুদ্ধে তাঁর সামনে রাখা হয়, অর্থাৎ নবী (ﷺ)।
৪৫০৯
হুনায়ন যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইসহাক (রহঃ)
আমি বারা (রাঃ)-এর কাছে শুনেছি, বানী কায়সের এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিল, আপনারা কি হুনায়নের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে পলায়ন করেছিলেন? তখন বারা (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অবশ্য পলায়ন করেননি। (তবে ব্যাপার এই ছিল যে,) হাওয়াজিন গোত্রের লোকেরা দক্ষ তীরন্দাজ ছিল। আমরা যখন তাদের উপর আক্রমণ করলাম তখন তারা পলায়ন করল।এমন সময় আমরা গনীমাতের মালের দিকে ঝুঁকে পড়লাম। তখন তারা ফিরে এসে আমাদের উপর অতর্কিতে তীর ছুঁড়তে শুরু করল। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর সাদা বর্ণের খচ্চরের উপর দেখতে পেলাম। আর আবু সুফিয়ান ইবন হারিস (রাঃ) খচ্চরের লাগাম ধরে রেখেছিলেন। আর নবী (ﷺ) বলেছিলেনঃ “আমি অবশ্যই নবী, এ কথা মিথ্যে নয়। আমি ইবন আবদুল মুত্তালিব”।
৪৫১০
হুনায়ন যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
বারা (রাঃ)
তাকে এক ব্যক্তি বলল, হে আবু উমরাহ! .... তারপর অবশিষ্ট হাদিস বর্ণনা করেন। এ হাদিস ছিল তাঁদের বর্ণিত হাদিস থেকে সংক্ষিপ্ত। আর তাঁদের হাদিস ছিল পূর্ণ।