৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৪৯/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৪৮১
যুদ্ধবন্দীদেরকে আটক করা, গ্রেফতার করা এবং বিনা মুক্তিপণে ছেড়ে দেয়া বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছু সংখ্যক অশ্বারোহী সৈন্যকে নাজদের দিকে পাঠান। অতঃপর বানু হানিফা গোত্রের এক ব্যক্তিকে তাঁরা ধরে নিয়ে এলো। তার নাম ছিল সুমামা ইবন উসাল। তিনি ইয়ামামাবাসীদের সরদার ছিলেন। তাঁরা মসজিদের একটি খুঁটির সাথে তাকে বেঁধে রাখলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কাছে আসলেন এবং বললেন, “হে সুমামা! তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে?”সে উত্তর দিল, “আমার কাছে তো ভালই মনে হচ্ছে। আপনি যদি আমাকে হত্যা করেন, তাহলে খুনী ব্যক্তিকেই হত্যা করলেন। আর যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তবে আপনার অনুগ্রহ হবে কৃতজ্ঞ ব্যক্তির উপর। আর যদি আপনি সম্পদ চান, তবে আপনাকে তাই দেয়া হবে, আপনি যা চাইবেন।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে যথাবস্থায় রেখে দিলেন।তারপর পরের দিনও তিনি বললেন, “হে সুমামা! তোমার কাছে কেমন মনে হচ্ছে?” তিনি বললেন, “আমার নিকট তাই মনে হচ্ছে যা আপনার কাছে বলে দিয়েছি। যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তবে আপনার অনুগ্রহ হবে একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির উপর। আর যদি আপনি হত্যা করেন, তবে আপনি একজন খুনী ব্যক্তিকেই হত্যা করবেন। আর যদি আপনি সম্পদ চান তবে আপনাকে তাই দেয়া হবে আপনি যা চাবেন।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পরের দিন পর্যন্ত তাকে ঐভাবে রাখলেন।তিনি বললেন, “হে সুমামা! তোমার নিকট কেমন লাগছে?” তিনি বললেন, “আমার নিকট তাই যা আমি আপনাকে ইতিপূর্বে বলেছি। যদি আপনি অনুগ্রহ করেন, তবে আপনি অনুগ্রহ করবেন একজন কৃতজ্ঞ ব্যক্তির উপর। আর যদি আপনি আমাকে হত্যা করেন, তবে হত্যার উপযুক্ত ব্যক্তিকেই হত্যা করবেন। আর যদি আপনি সম্পদ চান, তবে বলুন তাই দেয়া হবে যা আপনি চাইবেন।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তোমরা সুমামাকে ছেড়ে দাও।”তারপর তিনি মসজিদের নিকটবর্তী একটি খেজুর গাছের নিকট গেলেন। সেখানে তিনি গোসল করলেন। এরপর মসজিদে প্রবেশ করে বললেন, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল। হে মুহাম্মাদ! আল্লাহর শপথ! পৃথিবীতে আমার নিকট আপনার চেহারার চেয়ে খারাপ চেহারা আর ছিল না। আর এখন সকল মানুষের চেহারা থেকে আপনার চেহারাই আমার নিকট অধিক প্রিয়। আল্লাহর শপথ! আপনার ধর্ম থেকে অধিক খারাপ ধর্ম আমার কাছে আর ছিল না। আর এখন আপনার ধর্মই আমার নিকট সকল ধর্ম থেকে অধিক প্রিয়। আল্লাহর কসম! আপনার জনপদ থেকে অধিক নিকৃষ্ট জনপদ আমার কাছে আর ছিল না। আর এখন আপনার জনপদই আমার নিকট সকল জনপদের চেয়ে অধিক প্রিয়। আপনার অশ্বারোহী সৈনিকরা আমাকে ধরে নিয়ে এসেছে। অথচ আমি তখন উমরাহ করার ইচ্ছা করেছিলাম। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?”এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে সুসংবাদ দিলেন এবং উমরাহ করার নির্দেশ দিলেন। এরপর যখন তিনি মক্কায় ফিরে এলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, “তুমি কি ধর্মান্তরিত হয়েছ?” তখন তিনি বললেন, “না। বরং আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ইসলাম গ্রহণ করেছি। আল্লাহর কসম! ইয়ামামা থেকে একটি গমের দানাও তোমাদের কাছে পৌঁছাবে না, যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাতে সম্মতি দেন।”
৪৪৮২
যুদ্ধবন্দীদেরকে আটক করা, গ্রেফতার করা এবং বিনা মুক্তিপণে ছেড়ে দেয়া বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
আবু হুরাইরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদল অশ্বারোহী সৈনিক প্রেরণ করলেন ‘নাজদ’ প্রদেশের দিকে। তারা এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে এলো, যার নাম ছিল সুমামা ইবন উসাল আল-হানাফি। তিনি ছিলেন ইয়ামামাবাসীদের নেতা। এরপর তিনি লায়স (রহঃ)-এর অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি বলেছেন, “যদি আপনি আমাকে হত্যা করেন, তবে খুনের উপযুক্ত ব্যক্তিকেই হত্যা করবেন।”
৪৪৮৩
হিজায রাজ্য থেকে ইয়াহূদীদেরকে বহিষ্কার করা পরিচ্ছেদ নাই
আবু হুরাইরাহ (রাঃ)
একদা আমরা মসজিদে বসা ছিলাম। হঠাৎ আমাদের দিকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বেরিয়ে এলেন। তারপর তিনি বললেন, তোমরা ইয়াহুদের দিকে যাও। সুতরাং আমরা তাঁর সঙ্গে বের হলাম। পরিশেষে তাদের কাছে এলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়ালেন এবং তাদেরকে (ধর্মের দিকে) আহ্বান করে বললেন, হে ইয়াহুদী সম্প্রদায়! তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর, তাহলে শান্তিতে থাকতে পারবে। তখন তারা বলল, হে আবুল কাসেম! নিশ্চয়ই আপনি (আল্লাহর নির্দেশ) প্রচার করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেন: আমি এ কথাই শুনতে চেয়েছি।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেন: তোমরা ইসলাম গ্রহণ কর, তাহলে শান্তিতে থাকতে পারবে। তখন তারা বলল, হে আবুল কাসেম! নিশ্চয়ই আপনি প্রচার করেছেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আমি তাই চেয়েছিলাম।এরপর তৃতীয়বার তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা জেনে রেখো! নিশ্চয়ই পৃথিবী আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। আর আমার ইচ্ছা যে, তোমাদেরকে আমি এ ভূমিখণ্ড থেকে বহিষ্কার করবো। অতএব তোমাদের মধ্যে হতে যদি কারো কিছু মালামাল থাকে তাহলে সে যেন তা বিক্রি করে দেয়। নতুবা জেনে রেখো যে, সমগ্র ভুমণ্ডল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের।
৪৪৮৪
হিজায রাজ্য থেকে ইয়াহূদীদেরকে বহিষ্কার করা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমর (রাঃ)
বানু নাযীর এবং বানু কুরাইযা গোত্র দুটির ইহুদীরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে যুদ্ধ করেছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বানু নাযীরকে দেশান্তর করেন এবং বানু কুরাইযাকে সেখানে থাকার অনুমতি দিলেন এবং তিনি তাদের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন করলেন। পরিশেষে বানু কুরাইযাও যুদ্ধ করল। ফলে তিনি তাদের পুরুষদেরকে হত্যা করলেন এবং তাদের নারী, শিশু ও সম্পদসমূহ মুসলিমদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন। কিন্তু তাদের কিছু সংখ্যক লোক যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সঙ্গে মিলিত হয়েছিল তাদেরকে তিনি নিরাপত্তা প্রদান করেন। তখন তারা মুসলিম হয়ে গিয়েছিল।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাদীনায় সকল ইহুদীকে দেশান্তর করেন। বানূ কায়নুকা গোত্রের ইহুদী (আবদুল্লাহ ইবন সালামের ইহুদী গোত্র), বানু হারিসাহর ইহুদী এবং মাদীনায় বসবাসরত সকল ইহুদীকেই দেশ থেকে বহিষ্কার করেন।
৪৪৮৫
হিজায রাজ্য থেকে ইয়াহূদীদেরকে বহিষ্কার করা পরিচ্ছেদ নাই
মুসা (রহঃ)
এ সনদে এ হাদিসটি বর্ণনা করেন। আর ইবনু জুরাইয (রহঃ)-এর হাদিসটি অনেক সূত্রে বর্ণিত এবং সেটিই পূর্ণাঙ্গ।
৪৪৮৬
ইয়াহূদী ও নাসারাদের আরব উপ-দ্বীপ থেকে বের করে দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেনঃ নিশ্চয়ই আমি ইহুদি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে আরব উপদ্বীপ থেকে বের করে দেব। তারপর মুসলিম ব্যতীত অন্য কাউকে এখানে থাকতে দেব না। যুহায়র ইবনু হারব ও সালামাহ ইবনু শাবীব (রহঃ) --- উভয়েই আবূ যুবায়র (রহঃ) থেকে এ সানাদ-এ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪৪৮৭
যে ব্যক্তি চুক্তি ভঙ্গ করে তাকে হত্যা করা বৈধ হওয়া এবং দুর্গের অধিবাসীদের কোন ন্যায়পরায়ণ ক্ষমতা প্রদত্ত বিচারকের নির্দেশে অবতরণ বৈধ হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ)
বানু কুরাইযার অবরুদ্ধ লোকেরা সা’দ ইবন মু‘আয (রাঃ)-এর নির্দেশ মেনে নিতে সম্মত হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সা’দ (রাঃ)-এর নিকট লোক পাঠালেন। সুতরাং তিনি একটি গাধার উপর আরোহণ করে আসলেন। যখন তিনি মসজিদের কাছাকাছি আসলেন তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের বললেনঃ তোমরা তোমাদের নেতার অথবা বললেন, উত্তম ব্যক্তির দিকে উঠে যাও।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ সমস্ত অবরুদ্ধ দুর্গবাসীরা তোমার নির্দেশ মান্য করতে সম্মত হয়েছে। তখন তিনি বললেন, তাদের মধ্যেকার যুদ্ধের উপযুক্ত (যুবক) লোকদেরকে হত্যা করা হোক এবং তাদের নারী ও শিশুদেরকে বন্দী করা হোক। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছো। বর্ণনাকারী কখনো বলেছেন, নবী (ﷺ) বলেন, তুমি রাজাধিরাজ আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছ। বর্ণনাকারী ইবনু মুসান্না (রহঃ) কোন কোন সময় তিনি বলেছেনঃ ‘তুমি রাজাধিরাজ আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছো’ কথাটি উল্লেখ করেননি।
৪৪৮৮
যে ব্যক্তি চুক্তি ভঙ্গ করে তাকে হত্যা করা বৈধ হওয়া এবং দুর্গের অধিবাসীদের কোন ন্যায়পরায়ণ ক্ষমতা প্রদত্ত বিচারকের নির্দেশে অবতরণ বৈধ হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
শু’বাহ (রহঃ)
আর তিনি এ কথাটুকু তাঁর হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, “রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী বিচার করেছ।” আর একবার বলেছেন, “তুমি রাজাধিরাজ আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছ।”
৪৪৮৯
যে ব্যক্তি চুক্তি ভঙ্গ করে তাকে হত্যা করা বৈধ হওয়া এবং দুর্গের অধিবাসীদের কোন ন্যায়পরায়ণ ক্ষমতা প্রদত্ত বিচারকের নির্দেশে অবতরণ বৈধ হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
খন্দকের যুদ্ধের দিন সা’দ (রাঃ) আঘাতপ্রাপ্ত হন। কুরাইশের ইবনুল আরিকা নামক এক ব্যক্তি তাঁর শিরায় তীর নিক্ষেপ করেছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সা’দ (রাঃ)-এর জন্য মসজিদে একটি তাঁবু স্থাপন করে দিলেন, যেন নিকট থেকে তাঁকে দেখাশোনা করা যায়। যখন তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) খন্দকের যুদ্ধ থেকে ফিরে অস্ত্র রেখে সবেমাত্র গোসলের কাজ সমাপ্ত করেছেন এমন সময় জিবরাঈল (আঃ) স্বীয় মাথা থেকে ধূলিবালি ঝাড়তে ঝাড়তে আগমন করলেন।এরপর বললেন, আপনি অস্ত্র রেখে দিয়েছেন? আল্লাহর শপথ! আমরা তো অস্ত্র রাখিনি। তাদের দিকে গমন করুন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, কোন্‌ দিকে? তখন তিনি বানু কুরাইযার দিকে ইঙ্গিত করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের সাথে যুদ্ধ করলেন। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশে দুর্গ থেকে অবতরণ করলো। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের বিচারের ভার (তাদের নেতা) সা’দ (রাঃ) এর উপর অর্পণ করলেন। সা’দ (রাঃ) বললেন : তাদের মধ্যে যুদ্ধের উপযুক্ত (যুবক) লোকদেরকে হত্যা করা হোক, নারী ও শিশুদেরকে বন্দি করা হোক এবং তাদের সম্পদগুলো ভাগ করা হোক।
৪৪৯০
যে ব্যক্তি চুক্তি ভঙ্গ করে তাকে হত্যা করা বৈধ হওয়া এবং দুর্গের অধিবাসীদের কোন ন্যায়পরায়ণ ক্ষমতা প্রদত্ত বিচারকের নির্দেশে অবতরণ বৈধ হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম (রহঃ)
আমার পিতা বলেছেন, আমাকে খবর দেওয়া হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “নিশ্চয়ই তুমি তাদের সম্পর্কে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী বিচার করেছ।”