৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৪৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৪৭১
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বানী- আমরা (নাবীগন) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই সদাকাহ (বাইতুল মাল) পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ (রাঃ)
যখন নবী (ﷺ)-এর ইন্তিকাল হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সহধর্মিণীগণ উসমান (রাঃ)-কে আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট পাঠাতে মনস্থ করলেন, যেন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছ থেকে তাঁদের মিরাস তলব করেন।তখন আয়িশা (রাঃ) তাঁদের বললেন, নবী (ﷺ) কি এ কথা বলে যাননি যে, আমরা (নবীগণ) সম্পত্তিতে কাউকে ওয়ারিস রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হবে সদকা সর্বসাধারণের জন্য।
৪৪৭২
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বানী- আমরা (নাবীগন) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই সদাকাহ (বাইতুল মাল) পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ (রাঃ)
ফাতিমা বিনতু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবু বকর-এর নিকট লোক পাঠালেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সম্পদে তাঁর মীরাস এর দাবী করে, যা আল্লাহ তা’আলা তাঁকে মাদিনা ও ফিদাক-এর ফাই এবং খাইবারের অবশিষ্ট এক পঞ্চমাংশ থেকে প্রদান করেছেন। তখন আবু বকর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলে গিয়েছেন- আমরা আমাদের (নবীদের) পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে কাউকে ওয়ারিস রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হয় সাদাকা (বায়তুল মাল)। মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পরিবারবর্গ তা থেকে জীবিকা গ্রহণ করবেন। আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি, মুহাম্মাদ (ﷺ) এর সময়কালে সাদাকার যে অবস্থা চালু ছিল, তা আমি পরিবর্তন করব না। আর এতে আমি নিশ্চয়ই সে কাজ করবো, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করে গিয়েছেন।অতএব, আবু বকর (রাঃ) ফাতিমা (রাঃ)-কে তা থেকে কিছু প্রদান করতে অস্বীকার করলেন। সুতরাং ফাতিমা (রাঃ) এতে রাগান্বিত হয়ে তাঁকে পরিত্যাগ করলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কোন কথা বলেননি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পর তিনি ছয় মাস জীবিত ছিলেন। এরপর যখন তিনি ইন্তিকাল করলেন, তখন তাঁর স্বামী আলি ইবনু আবু তালিব (রাঃ) তাঁকে রাতে দাফন করলেন এবং ফাতিমা-এর মৃত্যু সংবাদ পর্যন্ত আবু বকর (রাঃ)-কে দেননি। আলি (রাঃ) তাঁর জানাজা সালাত আদায় করলেন। ফাতিমা (রাঃ)-এর জীবিতকাল পর্যন্ত আলি (রাঃ)-এর প্রতি জনগণের বিশেষ মর্যাদাবোধ ছিল। এরপর যখন তাঁর ইন্তিকাল হলো তখন তিনি লোকের চেহারায় অপছন্দনীয় ভাব দেখতে পেলেন।অতএব তিনি আবু বকর (রাঃ)-এর সঙ্গে ফায়সালা করে তাঁর বাইআতের প্রার্থনা করলেন। কেননা তিনি ঐ মাসগুলোতে তাঁর বাইআত গ্রহণ করেননি। তারপর আলি (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে সংবাদ দিলেন যে, আপনি একাকী আমার সাথে সাক্ষাৎ করুন। আপনার সাথে অন্য কাউকে আনবেন না। কেননা, তিনি উমর (রাঃ)-এর আগমন কে অপছন্দ করছিলেন। উমর (রাঃ) আবু বকরকে বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি একাকী তাঁদের কাছে যাবেন না। আবু বকর (রাঃ) বললেন, আমি আশঙ্কা করিনি যে, তাঁরা আমার সাথে কিছু করবেন। আল্লাহর কসম! আমি একাকীই যাব।পরিশেষে আবু বকর (রাঃ) তাঁদের কাছে গেলেন। এরপর আলি ইবনু আবু তালিব (রাঃ) তাশাহহুদ [তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য বাণী] পাঠ করলেন, তারপর বললেন, হে আবু বকর! আপনার মর্যাদা এবং আল্লাহ তা’আলা আপনাকে যে সম্মান প্রদান করেছেন, তা আমরা জানি। আর আল্লাহ তা’আলা আপনাকে যে নি‘আমাত প্রদান করেছেন, তাতে আমাদের কোন হিংসা নেই। কিন্তু আপনি আমাদের উপেক্ষা করে খিলাফাতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আত্মীয়ের কারণে আমরা মনে করতাম যে, আমাদেরও অধিকার আছে। আবু বকরের সঙ্গে তিনি এভাবে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পরিশেষে আবু বকর (রাঃ)-এর দুই চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হলো।এরপর যখন আবু বকর (রাঃ) কথা বলতে শুরু করলেন, তখন তিনি বললেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ করে বলছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আত্মীয়ের প্রতি উত্তম আচরণ করা আমার কাছে অধিক প্রিয় আমার নিজ আত্মীয়ের প্রতি ভাল আচরণের চেয়েও। তবে আমার এবং আপনাদের মধ্যে এ সম্পদ নিয়ে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে তাতে আমি সত্য পরিহার করব না। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে এতে যা করতে দেখেছি তা আমি পরিত্যাগ করব না।এরপর আলি (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-কে বললেন যে, আমি বাইআতের জন্য আপনাকে আজ বিকাল বেলায় কথা দিলাম। যখন আবু বকর (রাঃ) যুহরের সালাত শেষ করলেন তখন তিনি মিম্বারে আরোহণ করলেন এবং তাশাহহুদ পাঠ করলেন। এরপর তিনি আলি (রাঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করেন এবং তাঁর বাইআত গ্রহণে বিলম্ব ও এ বিষয়ে তাঁর ওযর বর্ণনা করেন, যা তাঁর কাছে বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর তিনি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তারপর আলি ইবনু আবু তালিব (রাঃ) তাশাহহুদ পাঠ করলেন এবং আবু বকর (রাঃ)-এর মহত্ত্ব বর্ণনা করলেন। আর তিনি ব্যক্ত করলেন যে, তিনি যা করেছেন, তা আবু বকর (রাঃ)-এর প্রতি হিংসা পোষণ করে নয়। আর না আছে আমাদের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত কোন সম্মান ও নি‘আমাতের অস্বীকৃতি। বরং আমরা মনে করতাম যে, খিলাফাতের মধ্যে আমাদেরও অংশ আছে। কিন্তু আবু বকর (রাঃ) আমাদের উপেক্ষা করে এ কাজের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এতে আমরা মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছি। এ কথা শুনে মুসলিমগণ আনন্দিত হলেন এবং তাঁরা বললেন যে, আপনি তা ঠিক বলেছেন। তখন তিনি কল্যাণের প্রতি ফিরে এলেন অর্থাৎ- তখন মনোমালিন্যের অবসান হলো এবং আবু বকর (রাঃ) এর বাইআত গ্রহণ করা হলো, তখন থেকে মুসলিমগণ আলি (রাঃ)-এর সংস্পর্শে আসতে লাগলেন।
৪৪৭৩
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বানী- আমরা (নাবীগন) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই সদাকাহ (বাইতুল মাল) পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ (রাঃ)
ফাতিমা ও আব্বাস (রাঃ) উভয়েই আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট আগমন করলেন, তখন তারা উভয়ে ফাদাক-এর ভূমি ও খাইবার-এর প্রাপ্য অংশ দাবী করলেন। তখন আবু বকর (রাঃ) উভয়কেই বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি...এরপর যুহরী (রহঃ) হতে উকায়ল কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের মর্মার্থের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। কিন্তু তিনি তাছাড়া এতে বর্ণনা করলেন যে, এরপর আলী (রাঃ) দাঁড়ালেন এবং আবু বকর (রাঃ)-এর যোগ্যতা ও মর্যাদা বর্ণনা করলেন এবং তার সর্বকাজের উল্লেখ করলেন। এরপর তিনি আবু বকর (রাঃ)-এর কাছে গেলেন এবং তার অগ্রগামীরা বাই’আত গ্রহণ করলেন। তারপর জনগণ আলী (রাঃ)-এর নিকট এসে বললেন, আপনি ঠিকই করেছেন, আপনি ভালোই করেছেন। যখন আলী (রাঃ) কল্যাণকর ব্যবস্থার নিকটবর্তী হলেন, তখন লোকজনও তার সংস্পর্শে আসতে লাগল।
৪৪৭৪
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বানী- আমরা (নাবীগন) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই সদাকাহ (বাইতুল মাল) পরিচ্ছেদ নাই
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পর আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরিত্যক্ত সম্পত্তির যা আল্লাহ তাঁকে দিয়েছেন, নিজের প্রাপ্য অংশ দাবি করেন। তখন আবু বকর (রাঃ) তাঁকে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা (নবীগণ) সম্পত্তিতে কাউকে উত্তরাধিকার রেখে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হবে সাদাকা।আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পর ফাতিমা (রাঃ) ছয় মাস জীবিত ছিলেন। ফাতিমা (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-এর নিকট তাঁর সে প্রাপ্য অংশ চেয়েছিলেন- যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বার, ফাদাক, এবং মদিনার (সাদাকা) দান করে রেখে গিয়েছেন। আবু বকর (রাঃ) তাঁকে তা প্রদান করতে অস্বীকার করলেন এবং বললেন, আমি এমন কোন কাজ ছেড়ে দেব না যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করতেন। কেননা, আমি ভয় করি যে, যদি তাঁর কোন কাজ পরিত্যাগ করি, তবে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবো।তবে হ্যাঁ, মদিনার (সাদাকা) দানের মাল উমর (রাঃ) তাঁর সময়ে আলি এবং আব্বাসকে প্রদান করেছিলেন। কিন্তু আলি (রাঃ) একাকীই সে সম্পদ অধিকার করে নেন। আর খায়বার এবং ফাদাকের সম্পদ উমর (রাঃ) নিজের দায়িত্বে রাখলেন এবং বললেন, এ ছিল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রয়োজন মেটানোর জন্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয়ের জন্য। এ দুটো সম্পদের দায়িত্ব থাকে মুসলিমদের আমিরের উপর। বর্ণনাকারী বলেন, এ উভয় সম্পদের বণ্টন ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত তদ্রূপই আছে।
৪৪৭৫
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বানী- আমরা (নাবীগন) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই সদাকাহ (বাইতুল মাল) পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার পরিত্যক্ত সম্পদের এক দীনারও বণ্টিত হবে না। আমি যা রেখে যাই তা থেকে আমার স্ত্রীদের ব্যয় নির্বাহ এবং রাষ্ট্রীয় পরিচালকের বেতন ভাতার পর যা অবশিষ্ট থাকবে, তা হবে সদাকা বা দান।
৪৪৭৬
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বানী- আমরা (নাবীগন) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই সদাকাহ (বাইতুল মাল) পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যিনাদ (রহঃ)
এ সনদে উল্লেখিত হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেন।
৪৪৭৭
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বানী- আমরা (নাবীগন) কাউকে উত্তরাধিকারী রেখে যাই না, আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই সদাকাহ (বাইতুল মাল) পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি (ﷺ) বলেছেনঃ আমরা কাউকে উত্তরাধিকারী করে যাই না। আমরা যা রেখে যাই তা হবে সদাকাহ বা দান।
৪৪৭৮
উপস্থিত মুজাহিদের মাঝে গনীমাত (যুদ্ধলব্ধ)সম্পদের বন্টন পদ্ধতি পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মধ্যে অশ্বারোহী সৈনিকের জন্য দুই ভাগ এবং পদাতিক সৈনিকের জন্য এক ভাগ হিসেবে বণ্টন করেন।
৪৪৭৯
উপস্থিত মুজাহিদের মাঝে গনীমাত (যুদ্ধলব্ধ)সম্পদের বন্টন পদ্ধতি পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু নুমায়র (রহঃ)
উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি (গনীমাতের সম্পদে) এ কথাটি উল্লেখ করেননি।
৪৪৮০
বদর যুদ্ধে ফেরেশতা দ্বারা সাহায্যে এবং গনীমাতের মাল বৈধ হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ)
বদরের যুদ্ধের দিনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুশরিকদের দিকে তাকালেন, দেখলেন যে, তারা সংখ্যায় এক হাজার ছিল। আর তাঁর সাহাবী ছিলেন তিনশ উনিশ জন। তখন নবী (ﷺ) কেবলামুখী হলেন, এরপর দু’হাত উঁচু করে আওয়াজ করে আপন প্রভুর কাছে দোয়া করতে লাগলেন, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যে ওয়াদা দিয়েছ আমার জন্য তা পূরণ করো। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছ, তা দাও। হে আল্লাহ! যদি মুসলিমদের এ ক্ষুদ্র সেনাদল ধ্বংস করে দাও তবে পৃথিবীতে তোমার ইবাদত করার মত আর কেউ থাকবে না।” তিনি এমনিভাবে দু’হাত উঁচু করে কিবলামুখী হয়ে প্রভুর কাছে উচ্চৈঃস্বরে দোয়া করে যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তাঁর কাঁধ থেকে চাদর পড়ে গেল। তখন আবু বকর (রাঃ) তাঁর কাছে এসে চাদরটি তাঁর কাঁধে পুনরায় তুলে দিলেন। তারপর তাঁর পিছন দিক থেকে তাঁকে জড়িয়ে ধরে বললেন, “হে আল্লাহর নাবী! আপনার এতটুকু দোয়া যথেষ্ট আপনার প্রভুর কাছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা আপনার সঙ্গে যে ওয়াদা করেছেন, তা অচিরেই পূর্ণ করবেন।” এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন- إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُمْ بِأَلْفٍ مِنَ الْمَلاَئِكَةِ مُرْدِفِينَ ‏ –“ স্মরণ করো, যখন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেছিলে; তখন তিনি তা কবুল করেছিলেন এবং বলেছিলেন, আমি তোমাদেরকে এক হাজার ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করব যারা একের পর এক আসবে।” (সূরা আনফাল ৮ : ৯) অতঃপর আল্লাহ তা’আলা ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করলেন। আবু যুমায়ল বর্ণনা করেন যে, আমার নিকট আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন যে, সেদিন একজন মুসলিম সৈনিক তার সামনের একজন মুশরিকের পিছনে ধাওয়া করেছিলেন। এমন সময় তিনি তাঁর উপর দিক থেকে বেত্রাঘাতের শব্দ শুনতে পেলেন এবং তার উপর দিকে অশ্বারোহীর এই ধ্বনি শুনতে পেলেন। তিনি বলতেছিলেন, “হে হায়যুম (ফেরেশতার ঘোড়ার নাম) সামনের দিকে অগ্রসর হও।” তখন তিনি তার সামনের এক মুশরিক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, সে চিত হয়ে পড়ে আছে। আরো দেখেন যে, তার নাক ক্ষতযুক্ত এবং তার মুখমণ্ডল আঘাতপ্রাপ্ত। যেন কেউ তাকে বেত্রাঘাত করেছে। আহত স্থানগুলো সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে (বেত্রের বিষাক্ততায়)। এরপর আনসারী ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে যাবতীয় ঘটনা বর্ণনা করলেন। তিনি (ﷺ) বললেন, “হ্যাঁ, তুমি ঠিকই বলেছ। এ সাহায্য তৃতীয় আকাশ থেকে এসেছে।” পরিশেষে সেদিন মুসলিমগণ সত্তর জন কাফিরকে হত্যা এবং সত্তর জনকে বন্দী করলেন। আবু যুমাইল বলেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, যখন যুদ্ধ বন্দীদেরকে আটক করা হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐসব যুদ্ধবন্দী সম্পর্কে আবু বকর (রাঃ) এবং উমর (রাঃ) এর সাথে কথা বললেন, “এ সকল যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারে আপনারা কি মত দিচ্ছেন?” আবু বকর (রাঃ) বললেন, “হে আল্লাহর নাবী! তারা তো আমাদের চাচাতো ভাই এবং স্বগোত্রীয়। আমি উচিত মনে করি যে, তাদের নিকট থেকে আপনি মুক্তিপণ (ফিদইয়া) গ্রহণ করুন। এতে কাফিরদের উপর আমাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। আশা করা যায় আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে ইসলামের হিদায়াত দিবেন।” এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “হে ইবনুল খাত্তাব! এ ব্যাপারে আপনি কী বলছেন?” উমর (রাঃ) বললেন, “তখন আমি বললাম, আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রাসূল! আবু বকর যা উচিত মনে করেন আমি তা উচিত মনে করি না। আমি উচিত মনে করি যে, আপনি তাদেরকে আমাদের হস্তগত করুন। আমরা তাদের গর্দান উড়িয়ে দেব। আর আকীলকে আলী (রাঃ) এর হস্তগত করুন। তিনি তার শিরোচ্ছেদ করবেন। আর আমার বংশের অমুককে আমার কাছে অর্পণ করুন, আমি তার শিরোচ্ছেদ করবো। কেননা তারা হল কাফিরদের মর্যাদাশালী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।” অতএব আবু বকর (রাঃ) যা বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেটাই পছন্দ করলেন এবং আমি যা বললাম তা তিনি পছন্দ করলেন না। পরের দিন যখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এলাম, তখন দেখি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং আবু বকর (রাঃ) উভয়য়েই বসে কাঁদছেন। আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে বলুন, আপনি এবং আপনার সাথী কেন কাঁদছেন? আমার কান্না আসলে আমিও কাঁদবো। আর যদি আমার কান্না না আসে তবে আপনাদের কাঁদার কারণে আমিও কান্নার ভান করবো (প্রচেষ্টা চালাবো)।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “মুক্তিপণ গ্রহণের কারণে তোমার সাথীদের উপর সমাগত বিপদের কথা স্মরণ করে আমি কাঁদছি। আমার নিকট তাদের শাস্তি পেশ করা হল—এ বৃক্ষ থেকেও নিকটে।” বৃক্ষটি ছিল নবী (ﷺ) এর নিকটবর্তী। (একটি বৃক্ষের দিকে লক্ষ করে বললেন, এ বৃক্ষের চাইতেও কাছে তোমাদের উপর সমাগত আযাব আমাকে দেখান হয়েছিল।) অতঃপর আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন। مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَنْ يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الأَرْضِ‏)‏ إِلَى قَوْلِهِ ‏(‏ فَكُلُوا مِمَّا غَنِمْتُمْ حَلاَلاً طَيِّبًا‏ “দেশে ব্যাপকভাবে শত্রুকে পরাস্ত না করা পর্যন্ত বন্দী কোন নাবীর জন্য সঙ্গত নয় ..... যুদ্ধে যা তোমরা লাভ করেছ তা বৈধ ও উত্তম বলে তোমরা ভোগ কর” ---(সূরা আল-আনফাল ৮ : ৬৭-৬৯)। এর ফলে আল্লাহ তা’আলা তাদের জন্য মালে গনীমাত হালাল করে দেন।