৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৪৭/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৪৬১
নিহত শত্রু থেকে সম্পদ হত্যাকারী মুজাহিদের প্রাপ্য পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রাহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)
আমি বদরের দিন যুদ্ধ সারিতে অবস্থান করছিলাম। এমন সময় আমি ডান ও বাম দিকে তাকিয়ে দেখি যে, আমি দুইজন আনসারী বালকের মাঝখানে আছি। আমি আশা করেছিলাম, যদি আমি দুইজন শক্তিশালী যুবকের মাঝে থাকতে পেতাম।এমন সময় তাদের একজন আমাকে ইঙ্গিতে বলল, হে আমার চাচা! আপনি কি আবু জাহেলকে চেনেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। আর তাকে তোমার প্রয়োজন কী হে ভ্রাতুস্পুত্র! সে বলল, আমি সংবাদ জেনেছি যে, সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে গালাগালি করে। সেই আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার জীবন, যদি আমি তাকে দেখতে পাই তবে অবশ্যই তাকে ছেড়ে দেব না, যতক্ষণ না আমাদের দুইজনের মধ্যে যার মৃত্যু পূর্বে হওয়া অবধারিত তার মৃত্যু হয়।বর্ণনাকারী বলেন, কিশোরের এ কথা শুনে আমি আশ্চর্য হলাম। তারপর অপর কিশোর আমার দিকে ইঙ্গিত করে অনুরূপ কথা বলল। পরে বেশি সময় অতিবাহিত হয়নি, হঠাৎ আমি দেখলাম, আবু জাহল লোকদের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। আমি তখন বালক দুইজনকে বললাম, তোমরা কি দেখছ না এ ব্যক্তিকে যার ব্যাপারে তোমরা জানতে চাচ্ছ। উভয়ে দৌড়ে গিয়ে তাদের তলোয়ার দ্বারা তাকে আঘাত করল এবং হত্যা করে ফেলল। অতঃপর উভয়েই ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এই ঘটনার সংবাদ দিল।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তোমাদের মধ্যে তাকে কে হত্যা করেছে? তাঁদের প্রত্যেকে বলল, আমি তাকে হত্যা করেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তোমাদের তলোয়ার কি পরিষ্কার করে ফেলেছ? তাঁরা বলল, না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উভয়ের তলোয়ার পরীক্ষা করে দেখলেন। তারপর বললেন, তোমরা উভয়েই তাকে হত্যা করেছ। অতএব রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুয়ায ইবন আমর ইবন জামূহকে খুলে নেয়া সম্পদ প্রদানের নির্দেশ দেন। আর সে দুইজন বালক হলো, মুয়ায ইবন আমর ইবন জামূহ এবং মুয়ায ইবন আফরা (রাঃ)।
৪৪৬২
নিহত শত্রু থেকে সম্পদ হত্যাকারী মুজাহিদের প্রাপ্য পরিচ্ছেদ নাই
আওফ ইবনু মালিক (রাঃ)
হিময়ার গোত্রের এক ব্যক্তি শত্রু পক্ষের এক ব্যক্তিকে হত্যা করল এবং তার যুদ্ধলব্ধ সম্পদ নিতে চাইল। কিন্তু তাদের সেনাপতি খালিদ ইবন ওয়ালিদ (রাঃ) তাকে নিষেধ করলেন। তারপর আউফ ইবন মালিক (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এলেন এবং ঐ ঘটনার সংবাদ দিলেন। তখন তিনি খালিদ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, কেন তুমি (নিহত ব্যক্তির) সম্পদ তাকে প্রদান করলে না? খালিদ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি তার প্রচুর সম্পদ পেয়েছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে তা দিয়ে দাও।তারপর খালিদ (রাঃ) আউফ (রাঃ)-এর কাছ দিয়ে গেলেন এবং আউফ (রাঃ) তাঁর চাদর ধরে টান দিয়ে বললেন, আমি তো আগেই বলেছিলাম ব্যাপারটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে পৌঁছাবো। তাই কি হয়নি?অতএব রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা শুনতে পেলেন। এতে তিনি রাগান্বিত হলেন। এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে খালিদ! তুমি তাকে তা দেবে না! হে খালিদ! তুমি তাকে তা দেবে না! তোমরা কি আমার নেতাদের পরিত্যাগ করবে? নিশ্চয় তোমাদের এবং তাদের দৃষ্টান্ত এমন, যেমন কোন ব্যক্তি উট কিংবা ছাগল চড়াতে মনস্থ করলো এবং মাঠে নিয়ে চড়াল। তারপর পিপাসার সময় পানি পান করানোর জন্য জলাশয়ে নিয়ে গেল। পরিষ্কার পানি পান করতে শুরু করল এবং ঘোলাটে পানি পরিত্যাগ করল। অতঃপর এমনিভাবে পরিষ্কারটা তোমাদের জন্য এবং অপরিষ্কারটা তোমাদের নেতাদের জন্য।
৪৪৬৩
নিহত শত্রু থেকে সম্পদ হত্যাকারী মুজাহিদের প্রাপ্য পরিচ্ছেদ নাই
আওফ ইবনু মালিক আশজা’ঈ (রাঃ)
যায়দ ইবন হারিসা (রাঃ)-এর সঙ্গে যারা মুতার যুদ্ধে গিয়েছিল, তন্মধ্যে আমিও ছিলাম। ইয়ামানের একজন সাহায্যকারীও আমার সাথী হল। এরপর তিনি নবী (ﷺ) থেকে উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।তবে তিনি হাদীসে বলেছেন যে, ‘আউফ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি বললাম, হে খালিদ! তুমি কি জানো না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শত্রু থেকে ছিনিয়ে নেয়া লব্ধ সম্পদ হত্যাকারী মুজাহিদ ব্যক্তির প্রাপ্য বলে নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, কিন্তু এই সম্পদ আমার কাছে অধিক মনে হলো (তাই আমি নিষেধ করেছিলাম)।
৪৪৬৪
নিহত শত্রু থেকে সম্পদ হত্যাকারী মুজাহিদের প্রাপ্য পরিচ্ছেদ নাই
আবু সালামাহ ইবনু আকওয়া’ (রাঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে হাওয়াযিন গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ছিলাম। একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে সকালের খাওয়ায় শামিল ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি লাল রঙের উটে চড়ে এসে উটটিকে বসাল এবং তার কোমর থেকে একটি চামড়ার রশি বের করে এর দ্বারা সেটিকে বাঁধল। এরপর সে এসে লোকদের সাথে সকালের নাস্তা খেতে লাগল এবং এদিক-সেদিক তাকাতে লাগল (সে ছিল গুপ্তচর)। আমাদের মধ্যে দুর্বলতাও ছিল। সওয়ারিও কম ছিল। আমাদের কেউ কেউ পায়ে হেঁটে চলছিল। এমন সময় সে ব্যক্তি দ্রুত গতিতে নিজের উটের কাছে এসে এর রশি খুলল। এরপর উটটিকে বসিয়ে এর উপর সওয়ার হয়ে হাঁকাল এবং উট তাকে নিয়ে ছুটল। তখন এক ব্যক্তি একটি ধূসর বর্ণের উটনীর উপর আরোহণ করে তার পশ্চাদ্ধাবন করল।সালামা (রাঃ) বলেন, আমি বের হয়ে দৌড় দিলাম। অতঃপর আরও অগ্রসর হয়ে আমি উটনীর লাগাম ধরে ফেললাম এবং আমি তাকে বসালাম। যখন উটটি তার হাঁটু মাটিতে রাখল, তখন আমি তলোয়ার বের করে লোকটির মাথায় আঘাত করলাম। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। এরপর আমি উটটি টেনে নিয়ে এলাম। এর উপর ঐ ব্যক্তির আসবাবপত্র ও অস্ত্রশস্ত্র বোঝাই ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকজনসহ আমাকে এগিয়ে নিলেন। তিনি বললেন, কে এই লোকটিকে হত্যা করেছে? লোকেরা বলল, ইবনু আকওয়া। তিনি বললেন, (নিহত ব্যক্তির) থেকে খুলে আনা সমুদয় সম্পদ আকওয়ার পুত্র সালামার জন্য।
৪৪৬৫
নফল ( অতিরিক্ত) প্রদান এবং আটকে পড়া বন্দীদের বিনিময়ে মুসলিমদের মুক্তি করা পরিচ্ছেদ নাই
সালামাহ (রাঃ)
আমরা ফাযারাহ গোত্রের সাথে যুদ্ধ করছিলাম। আবু বকর (রাঃ) ছিলেন আমাদের আমীর। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে আমাদের আমীর নিযুক্ত করেছিলেন। যখন আমাদের এবং পানীয়ের স্থানের মাঝে এক ঘণ্টার সময়ের ব্যবধান ছিল, তখন আবু বকর (রাঃ) আমাদেরকে (রাতের শেষের দিকে সেখানে অবতরণের) নির্দেশ দিলেন। সুতরাং আমরা রাতের শেষাংশেই সেখানে অবতরণ করলাম। এরপর বিভিন্ন দিক দিয়ে অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে পানীয়ের নিকট পৌঁছলেন এবং যাদেরকে তার বিরুদ্ধে পেলেন হত্যা ও বন্দী করলেন।আমি লোকদের একটি দলকে দেখতে পাচ্ছি যাদের মধ্যে শিশু ও নারী রয়েছে। আমি আশঙ্কা করছিলাম যে, তারা হয়তোবা আমার আগেই পাহাড়ে পৌঁছে যাবে। অতএব, আমি তাদের ও পাহাড়ের মাঝে তীর নিক্ষেপ করলাম। তারা তখন তীর দেখতে পেয়ে থেমে গেল। তখন আমি তাদের হাঁকিয়ে নিয়ে এলাম। তাদের মাঝে চামড়ার পোশাক পরিহিত বানী ফাযারার একজন মহিলাও ছিল এবং (রাবী বলেন) তার সঙ্গে এক কন্যা ছিল। সে ছিল আরবের সবচেয়ে সুন্দরী। আমি সকলকেই হাঁকিয়ে আবু বকর (রাঃ)-এর কাছে নিয়ে এলাম। আবু বকর (রাঃ) মহিলার কন্যাটি আমাকে নফল হিসেবে প্রদান করলেন।এরপর আমি মদিনায় ফিরে এলাম। আমি তখনও তার বস্ত্র উঠাইনি। পরে বাজারে আমার সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাক্ষাৎ হলে তিনি বললেনঃ হে সালামা! তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়ে দাও। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (ﷺ)! আল্লাহর কসম, তাকে আমার অত্যাধিক পছন্দ হয়েছে এবং এখনও আমি তার বস্ত্র উঠাইনি। পরের দিন আবারও বাজারে আমার সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাক্ষাৎ হলো। তখন তিনি বললেনঃ হে সালামা! তুমি মহিলাটি আমাকে দিয়ে দাও। “আল্লাহ তোমার পিতার কল্যাণ করুন।” তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল (ﷺ)! আল্লাহর কসম! সে আপনার জন্যই। আমি তার বস্ত্র উন্মোচন করিনি। অতঃপর আল্লাহর রাসুল (ﷺ) ওই কন্যাটিকে মক্কায় পাঠিয়ে দিয়ে তার বিনিময়ে কয়েকজন মুসলিম বন্দীকে মুক্ত করে আনলেন, যারা মক্কায় ইতোপূর্বে বন্দী ছিল।
৪৪৬৬
ফাই বা বিনা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের হুকুম পরিচ্ছেদ নাই
হাম্মান ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আবু হুরায়রা (রাঃ) যেসব হাদিস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন তন্মধ্যে একটি হলো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা যে কোন জনপদে এসে অবস্থান করবে, সেখান থেকে (প্রাপ্ত ফাই-এর) এক অংশ পাবে। আর যে কোনো জনপদের অধিবাসীরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করবে, (অর্থাৎ- যুদ্ধ করবে) তবে তার (সম্পদের) এক পঞ্চমাংশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। অতঃপর অবশিষ্ট সম্পদ তোমাদের জন্য।
৪৪৬৭
ফাই বা বিনা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের হুকুম পরিচ্ছেদ নাই
উমার (রাঃ)
বনী নাদীর গোত্রের সম্পদ এমন সম্পদ যা আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিনাযুদ্ধে প্রদান করেন। সেখানে মুসলিমরা ঘোড়া এবং উট হাঁকিয়ে যুদ্ধ করেনি। অতএব এ সম্পদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য নির্দিষ্ট ছিল। সুতরাং তিনি তা থেকে স্বীয় পরিবারের এক বছরের ভরণ-পোষণে খরচ করতেন এবং অবশিষ্ট সম্পদ আল্লাহর পথে যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য ঘোড়া ও অস্ত্র ক্রয় খাতে রেখে দিতেন এবং আল্লাহর পথে ব্যয় করতেন।
৪৪৬৮
ফাই বা বিনা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের হুকুম পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
উল্লিখিত হাদিস একই সূত্রে বর্ণিত।
৪৪৬৯
ফাই বা বিনা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের হুকুম পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
মালিক ইবন আওস (রাঃ) তাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন। বেলা উঠে গেলে আমি তাঁর নিকট এলাম। তখন আমি তাঁকে তাঁর ঘরে খাটের উপর বসা অবস্থায় দেখলাম। তাতে বিছানা ছিল চাটাইয়ের। তিনি চামড়ার একটি বালিশের উপর হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। তখন তিনি আমাকে বললেন, “হে মাল! (অর্থাৎ—হে মালিক) তোমার সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারের লোকজন আমার কাছে দ্রুত এলো, আমি তাদেরকে কিছু দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তুমি তা গ্রহণ করো এবং তাদের মধ্যে বণ্টন করে দাও।”অতএব আমি বললাম, “আপনি যদি এর নির্দেশ আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকে দিতেন, তাহলে ভালো হত।”তখন তিনি বললেন, “হে মাল! (অর্থাৎ—হে মালিক) তুমি তা গ্রহণ করো।”এমন সময় ইয়ারফা (রহঃ) তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল, “হে আমীরুল মুমিনীন! আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান উসমান, আব্দুর রহমান ইবন আওফ, যুবাইর এবং সাআদ।”তখন উমর (রাঃ) বললেন, “হ্যাঁ, তাদেরকে আসতে দাও।” তখন সকলেই প্রবেশ করলেন।এরপর পুনরায় ইয়ারফা এসে বলল, “আব্বাস এবং আলী (রাঃ) আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান।”তখন তিনি বললেন, “হ্যাঁ, তাদেরকেও আসতে দাও।”এরপর আব্বাস (রাঃ) বললেন, “হে আমীরুল মুমিনীন! আমার মধ্যে এবং এ মিথ্যাবাদী, পাপী, প্রতারক ও বিশ্বাসঘাতক এর মধ্যে মীমাংসা করে দিন।”তখন লোকেরা বলল, “হ্যাঁ, হে আমীরুল মুমিনীন! তাদের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিন এবং তাদেরকে এ থেকে স্বস্তি দিন।”অতএব মালিক ইবন আওস (রাঃ) বললেন, “আমার ধারণা হলো যে, তারা দু’জন অর্থাৎ—আলী এবং আব্বাস (রাঃ) তাদেরকে পূর্বাহ্নে পাঠিয়ে ছিলেন এ ব্যাপারটির জন্যেই, যেন তারা উমরকে ব্যাপারটি বুঝিয়ে ফায়সালা করে দেন।”উমর (রাঃ) বললেন, “আপনারা একটু অপেক্ষা করুন। আমি আপনাদের সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ এবং পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থিত। আপনাদের কি জানা নেই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ‘আমরা (নবীগণ) কাউকে ওয়ারিস বানিয়ে যাই না, আমরা যা রেখে যাই তা হবে সদাকা’?”তখন তারা বললেন, “হ্যাঁ, আমরা তা জানি।”এবার তিনি আলী এবং আব্বাস (রাঃ)-এর দিকে লক্ষ্য করে বললেন, “আমি আপনাদের উভয়কেই সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ এবং পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থিত। আপনারা কি জানেন না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আমরা (নবী সম্প্রদায়) কাউকে উত্তরাধিকার করে যাই না। আমরা যা রেখে যাই, তা হবে সদাকা’?”তখন তারা উভয়েই বললেন, “হ্যাঁ। আমরা তা জানি।”তখন উমর (রাঃ) বললেন, “আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছেন, যা তাকে ছাড়া অন্য কাউকে প্রদান করেননি। ‘আল্লাহ তা'আলা জনপদ বা নগরবাসীর নিকট থেকে মালে-ফাই হিসেবে স্বীয় রাসূলকে যা প্রদান করেছেন—তা আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের জন্য নির্দিষ্ট।’ আমার জানা নেই যে, তিনি এ পঠিত আয়াতের পূর্বেও কোন আয়াত পাঠ করছিলেন কি-না?”অতঃপর উমর (রাঃ) বললেন, “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তো তোমাদেরকে বানী নাযীর গোত্র থেকে প্রাপ্ত সম্পদ বণ্টন করে দিয়েছেন। আল্লাহর শপথ! তিনি সম্পদকে নিজের জন্যে জমা করে রেখে যাননি। আর তিনি এমনও করেননি যে, নিজে সম্পদ নিয়েছেন এবং তোমাদেরকে তা দেননি। পরিশেষে যে সম্পদ রইল তা থেকে আপন পরিবারের এক বছরের ভরণ-পোষণের খরচ রেখে অবশিষ্ট সম্পদ বায়তুল মাল-এ জমা দেন।”এরপর উমর (রাঃ) বললেন, “আপনাদেরকে সে মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যার নির্দেশে আকাশ ও পৃথিবী যথাস্থানে অবস্থিত। আপনারা কি সেসব কথা অবগত আছেন?”তখন তারা বলেন, “হ্যাঁ, আমরা তা জানি।”এরপর তিনি আব্বাস এবং আলী (রাঃ) উভয়কে অনুরূপ শপথ প্রদান করলেন, যেরূপ তিনি ইতোপূর্বে আগত সম্প্রদায়ের লোকদেরকে শপথ প্রদান করেছিলেন। তিনি বললেন, “আপনারা উভয়ই কি এসব কথা জানেন?”তখন তারা উভয়েই বললেন, “হ্যাঁ।”অতঃপর উমর (রাঃ) বললেন, “যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইনতিকাল হলো তখন আবু বকর (রাঃ) বললেন যে, আমিই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওয়ালী। আর আপনারা উভয়েই এসেছেন, আপনি আপনার ভাতিজা থেকে মীরাস দাবী করতে। আর আপনি এসেছেন, আপনার স্ত্রীর (ফাতিমা)-এর পিতা থেকে মীরাস গ্রহণ করতে। এরপর আবু বকর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ‘আমাদের নবীগণের সম্পত্তিতে কোন উত্তরাধিকারিত্ব নেই। আমরা যা রেখে যাই—তা হয় সদাকা।’ আপনি উভয়েই তো তাকে মিথ্যাবাদী, অপরাধী, বিশ্বাসঘাতক এবং খিয়ানতকারী মনে করবেন। অতঃপর প্রকৃতপক্ষে নিশ্চয়ই তিনি [আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)] সত্যবাদী, পুণ্যবান, সৎপথ প্রদর্শক এবং সত্যের অনুসারী—যা আল্লাহ জানেন। অতঃপর আবু বকর (রাঃ) মৃত্যুবরণ করলেন। তখন আমি ওয়ালী হলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ও আবু বকর (রাঃ)-এর। সুতরাং আপনি উভয়েই আমাকেও তার মত মিথ্যাবাদী, পাপী, বিশ্বাসঘাতক এবং খিয়ানতকারী মনে করছেন। আল্লাহ অবগত আছেন যে, নিশ্চয়ই আমি সত্যবাদী, পুণ্যবান, সৎপথ-প্রদর্শক এবং সত্যের অনুসারী। আমি সে সম্পদেরও ওলী ও অভিভাবক। অতঃপর আপনি এবং ইনি এসেছেন। আপনি উভয়েই এক এবং আপনাদের দাবিও এক। সুতরাং আপনি বলছেন যে, এসব আমাদের কাছে দিয়ে দিন। আমি বলি—যদি আপনি চান, তবে আমি তা আপনাদেরকে দিয়ে দেব—এ শর্তে যে, আপনি এ সম্পদ দ্বারা সে কাজ করবেন, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করতেন। অতএব আপনি এ শর্তে আমার নিকট থেকে তা গ্রহণ করেছেন।”এরপর উমর (রাঃ) বললেন, “আমার কথা কি যথার্থ?”তখন উভয়েই বললেন, “হ্যাঁ।”উমর (রাঃ) বললেন, “তারপরও আপনি দুজন আমার কাছে এসেছেন, আপনাদের মাঝে (সম্পদের) মীমাংসা করে দেয়ার জন্য। আল্লাহর কসম! আমি আপনাদের উভয়ের মাঝে এটা ছাড়া আর কোন মীমাংসা করতে পারবো না কেয়ামত পর্যন্ত। আর যদি আপনি সে মালের দায়িত্ব পালনে অপারগ হন, তবে তা আপনি আমার কাছে ফেরত দিয়েছেন।”
৪৪৭০
ফাই বা বিনা যুদ্ধলব্ধ সম্পদের হুকুম পরিচ্ছেদ নাই
মালিক ইবনু আওস ইবনু হাদসান (রাঃ)
উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) আমাকে ডেকে পাঠালেন। এরপর বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের কতিপয় পরিবারের লোক আমার কাছে উপস্থিত হলো। ... ... তারপর মালিক (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তাছাড়া তাঁর হাদিসে রয়েছে যে, “তিনি (ﷺ) তাঁর পরিবারের জন্য তা থেকে এক বছরের খরচ দিতেন। অনেক সময় মামার (রহঃ) বলেছেন যে, তাঁর (ﷺ) পরিবারের জন্য তা থেকে এক বছরের খোরাকী রেখে দিতেন। এরপর অবশিষ্ট সম্পদ বাইতুল মালে জমা দিতেন।