৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৫০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৪৯১
যে ব্যক্তি চুক্তি ভঙ্গ করে তাকে হত্যা করা বৈধ হওয়া এবং দুর্গের অধিবাসীদের কোন ন্যায়পরায়ণ ক্ষমতা প্রদত্ত বিচারকের নির্দেশে অবতরণ বৈধ হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ (রাঃ)
সা’দ (রাঃ) বলেছেন, তাঁর আঘাত শুকিয়ে গেল এবং তিনি ক্রমান্বয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেন। তখন তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! আপনি জানেন, আমার নিকট আপনার রসূলকে যে সম্প্রদায় অস্বীকার করেছে, তাঁকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আপনার পথে যুদ্ধ করার চাইতে অধিক পছন্দনীয় বিষয় আর নেই।হে আল্লাহ! যদি কুরায়শদের সাথে যুদ্ধ করা এখনও বাকী থাকে তবে আপনি আমাকে জীবিত রাখুন, যেন আমি আপনার পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারি। হে আল্লাহ! আমি মনে করি যে, আমাদের এবং তাদের মধ্যে আপনি যুদ্ধ সমাপ্ত করেছেন। যদি তাই হয়, তবে আপনি আমার ক্ষতস্থান উন্মুক্ত করে দিন এবং এতেই আমাকে শাহাদাত নসীব করুন।”অতঃপর তাঁর ক্ষতস্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। মসজিদে বানু গিফারের একটি তাঁবু ছিল। তাদের দিকে রক্ত প্রবাহের কারণে তারা ঘাবড়ে গেল। তখন তারা বলল, “হে তাঁবুবাসী! তোমাদের দিক থেকে এ কী আসছে?” আশ্চর্যের ব্যাপার যে, সা’দ (রাঃ)-এর ক্ষতস্থান থেকে তখন রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল এবং এতেই তিনি ইন্তেকাল করেন।
৪৪৯২
যে ব্যক্তি চুক্তি ভঙ্গ করে তাকে হত্যা করা বৈধ হওয়া এবং দুর্গের অধিবাসীদের কোন ন্যায়পরায়ণ ক্ষমতা প্রদত্ত বিচারকের নির্দেশে অবতরণ বৈধ হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম (রহঃ)
উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি এটুকু ব্যতিক্রম বলেছেন যে, “সে রাত থেকেই রক্ত প্রবাহিত হতে লাগল। এভাবে নিরবিচ্ছিন্নভাবে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল। অবশেষে তিনি মারা যান। তিনি (হিশাম) তাঁর হাদীসে আরো কিছু বাড়তি বর্ণনা করেছেন। এ সম্পর্কে একজন কবি বলেনঃ“হে সাদ ইবন মুয়াজ! তোমার ব্যাপারে বানু কুরাইযা ও বানু নাযীর কী করেছে? তোমার জীবনের শপথ! নিশ্চয় সাদ ইবন মুয়াজ যে প্রভাতে তোমরা তার জন্য কষ্টানুভব করেছিলে, সে আজ নিশ্চুপ।(হে আওস সম্প্রদায়) তোমরা তোমাদের হাঁড়িগুলো খালি রেখে দিয়েছ, তাতে আজ কোনও কিছু নেই, অর্থাৎ-তোমাদের অধঃপতন হয়েছে। অথচ তোমাদের বিপক্ষের (খাজরাজ) সম্প্রদায়ের ডেগগুলো গরম, তা টগবগ করছে অর্থাৎ- তারা আজ প্রভাবশালী ধনী।আর একজন সম্ভ্রান্ত আবু হুবাব বলেছিলেন, তোমরা বানু কায়নুকা গোত্রকে অবস্থান করতে দাও, তাদেরকে যেতে দিও না। আর তারা তাদের শহরে ছিল ধনাঢ্য যেমন গেঁড়ে থাকে মায়তান অর্থাৎ বঞ্চিত নিস্তব্ধ পাথর।”
৪৪৯৩
যুদ্ধে তাড়াতাড়ি করা এবং দু’টি জরুরী কাজের মধ্যে একটিকে অগ্রাধিকার দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আহযাবের যুদ্ধ থেকে ফিরে আসলেন, তখন তিনি আমাদের মাঝে ঘোষণা দিলেন যে, কেউ যেন যুহরের সালাত আদায় না করে, যতক্ষণ না বনী কুরাইযা মহল্লায় গিয়ে পৌঁছবে।তখন কিছু সংখ্যক লোক যুহরের সালাতের সময় চলে যাওয়ার ভয় করলেন এবং তারা বনী কুরাইযা গোত্রে পৌঁছার পূর্বেই সালাত আদায় করলেন। আর অন্যান্যরা বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে যে স্থানে সালাত আদায় করতে বলেছেন, সে স্থান ব্যতীত আমরা সালাত আদায় করব না, যদিও সময় চলে যায়। রাবী বলেন, এ ঘটনা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু’দলের কারো প্রতি রাগান্বিত হননি।
৪৪৯৪
গনীমাত সম্পদ দ্বারা মুহাজিরগণ অভাবমুক্ত হওয়ায় আনসার কর্তৃক প্রদত্ত গাছ ও ফলমূলের বাগানসমূহ তাদেরকে ফেরত দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
যখন মুহাজিরগণ মক্কা থেকে মদিনায় প্রবেশ করেন তখন কোন কিছুই তাদের হাতে ছিল না। (তাঁরা ছিলেন তখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব) আর আনসারগণ ছিলেন জমি-জমার স্বত্বাধিকারী। তখন আনসারগণ মুহাজিরদেরকে তাঁদের খেজুর বাগানের অর্ধেক এ শর্তে ভাগ করে দেন যে, প্রতি বছর বাগানে মুহাজিরগণ পরিশ্রম ও পরিচর্যা করে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তাঁদেরকে দেবেন এবং তাদের সকল কাজ ও খরচের ভার আনসারগণ নেবেন। আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-এর মাতা উম্মু সুলাইম, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আবু তালহার মাতা ছিলেন। আর আবদুল্লাহ ছিলেন আনাসের বৈপিত্রেয় ভাই। আনাসের মাতা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর কিছু খেজুর গাছ দান করেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেটা দিলেন তাঁর মুক্তিদানকৃত দাসী উম্মু আইমানকে যিনি উসামা ইবন যায়দের মাতা ছিলেন।ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন, আমাকে আনাস ইবন মালিক (রাঃ) খবর দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খাইবারের যুদ্ধ শেষে মদিনায় প্রত্যাবর্তন করলেন তখন মুহাজিরগণ আনসারদেরকে তাঁদের দানকৃত ফলের বাগানসমূহ ফিরিয়ে দেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও আমার মাতাকে তাঁর দানকৃত বাগান ফেরত দেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু আইমানকে তার পরিবর্তে নিজের বাগানের এক অংশ প্রদান করেন।ইবন শিহাব (রহঃ) বলেন যে উম্মু আইমান- যিনি উসামা ইবন যায়দের মাতা ছিলেন, তিনি আবদুল্লাহ ইবন আবদুল মুত্তালিবের দাসী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিতার ইন্তিকালের পর আমিনা গর্ভে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভূমিষ্ঠ হন তখন উম্মু আইমান তাঁকে বড় হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করেন। এরপর তিনি তাঁকে আজাদ করে দেন। পরবর্তীতে যায়দ ইবন হারিসার সঙ্গে তাঁকে বিয়ে দিয়ে দেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পাঁচ মাস পর ইন্তিকাল করেন।
৪৪৯৫
গনীমাত সম্পদ দ্বারা মুহাজিরগণ অভাবমুক্ত হওয়ায় আনসার কর্তৃক প্রদত্ত গাছ ও ফলমূলের বাগানসমূহ তাদেরকে ফেরত দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
(যখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমন করেন) তখন এক এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিজ নিজ ভূমির কিছু খেজুর দান করেছেন। যখন বানু কুরাইযাহ এবং বানু নাযীর গোত্রদ্বয়ের উপর (মুসলিমগণ) বিজয়ী হলেন, তখন সে ব্যক্তি যা দিয়েছিল তিনি তা ফিরিয়ে দিলেন। আনাস (রাযিঃ) বলেন, আমার পরিবারের লোকজন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যা দিয়েছিলেন তা অথবা তার অংশ বিশেষ তার নিকট হতে চেয়ে নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দিলেন। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু আইমানকে তা দিয়ে দিয়েছিলেন। এ অবস্থায় আমি তার কাছে এসে যখন তা চাইলাম, তখন তিনি তা আমাকে দিয়ে দিলেন। এ সময় উম্মু আইমান (রাযিঃ) সেখানে এলেন এবং আমার গলায় কাপড় দিয়ে জড়িয়ে ধরলেন ও বললেন, আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে তা দেবো না। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে উম্মু আইমান আপনি তাকে ছেড়ে দিন। আমি আপনাকে এই এই সম্পদ দিচ্ছি। তখন তিনি বললেন, কক্ষনো না। সেই আল্লাহর শপথ যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। তখনও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন, আপনাকে এই এই সম্পদ প্রদান করছি (আপনি তাকে ছেড়ে দিন)। পরিশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মু আইমানকে ঐ সম্পদের দশগুণ কিংবা দশগুণের কাছাকাছি প্রদান করেন।
৪৪৯৬
‘দারুল হার্‌বে’ (বিধর্মী শত্রু রাজ্য) গনীমাত হিসেবে প্রাপ্ত খাদ্যদ্রব্য খাওয়া জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফ্‌ফাল (রাঃ)
আমি খাইবার যুদ্ধের সময় চর্বি ভর্তি একটি চামড়ার থলে পেলাম। আমি তা তুলে নিলাম এবং বললাম, এর থেকে আমি কাউকে কিছু দেব না। তিনি বললেন, আমি হঠাৎ পিছন ফিরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখতে পেলাম, (আমার কথা শুনে) তিনি মৃদু হাসছেন।
৪৪৯৭
‘দারুল হার্‌বে’ (বিধর্মী শত্রু রাজ্য) গনীমাত হিসেবে প্রাপ্ত খাদ্যদ্রব্য খাওয়া জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
’আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফ্‌ফাল (রাঃ)
খায়বার যুদ্ধের সময় আমাদের দিকে কে যেন একটি থলে নিক্ষেপ করল, তাতে খাদ্য ও চর্বি ভর্তি ছিল। আমি তা তুলে নেয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লাম। পিছন ফিরে হঠাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখতে পেলাম। আমি তাঁকে দেখে লজ্জিত হলাম।
৪৪৯৮
‘দারুল হার্‌বে’ (বিধর্মী শত্রু রাজ্য) গনীমাত হিসেবে প্রাপ্ত খাদ্যদ্রব্য খাওয়া জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ)
কিন্তু তিনি (চর্বির থলে) কথাটি বলেন, তবে (খাদ্যের) কথা উল্লেখ করেননি।
৪৪৯৯
বাদশাহ হিরাক্‌ল-এর নিকট ইসলামের দা’ওয়াত দিয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পত্র পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু আব্বাস (রাঃ)
আবু সুফিয়ান (রাঃ) তাঁকে সামনাসামনি খবর দিয়েছেন, আমি তথায় (শাম দেশে) যাত্রা করলাম। যখন আমার মধ্যে এবং রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর মধ্যে (হুদাইবিয়ার) সন্ধির সময়কাল কার্যকর ছিল (ষষ্ঠ হিজরীতে)। যখন আমি শাম দেশে উপস্থিত হলাম, তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রেরিত একটা পত্র হিরাকল (হিরাক্লিয়াস) বাদশাহর নিকট পৌঁছল। দিহিয়াতুল কালবি (রাঃ) (দূত) এ পত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি সে পত্র বসরার এক নেতাকে প্রদান করেন। এরপর বসরার সে নেতা, হিরাকল বাদশাহর নিকট পত্রটি হস্তান্তর করেন। তখন হিরাকল বাদশাহ বললেন, এখানে ঐ লোকটির (মুহাম্মদ (ﷺ)-এর) সম্প্রদায়ের কোন লোক আছে কি, যিনি নিজেকে নবী বলে দাবি করছেন? তারা বলল, হ্যাঁ। তখন কুরায়শের এক দল লোকের মধ্যে আমাকেও ডাকা হল। এরপর আমরা হিরাকল বাদশাহর দরবারে প্রবেশ করলাম। আমাদেরকে তার সম্মুখেই বসানো হল।তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, যিনি নবী দাবি করছেন তাঁর সাথে আত্মীয়তার দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে অধিক নিকটবর্তী? তখন আবু সুফিয়ান বললেন, আমি। তখন তারা আমাকে বাদশাহর সামনেই বসালেন এবং আমার সঙ্গীদেরকে আমার পিছনে বসালেন। এরপর তিনি তাঁর দোভাষীকে ডাকলেন এবং তাকে বললেন, “আপনি তাদেরকে আমার পক্ষ হতে বলে দিন যে, আমি তাঁকে (আবু সুফিয়ানকে) ঐ লোকটি সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করব নবী বলে যিনি দাবি করছেন। যদি তিনি (আবু সুফিয়ান) আমার নিকট মিথ্যা কথা বলেন, তবে আপনারাও তাকে মিথ্যাবাদী বলে ঘোষণা দেবেন।”তখন আবু সুফিয়ান বললেন, আল্লাহর শপথ! যদি আমার এ ভয় না হত যে, মিথ্যা বললে তা আমার বরাতে বর্ণিত হতে থাকবে তবে নিশ্চয়ই (তাঁর সম্পর্কে) মিথ্যা কথা বলতাম। অতঃপর বাদশাহ তাঁর দোভাষীকে বললেন, আপনি তাঁকে (আবু সুফিয়ানকে) জিজ্ঞেস করুন, আপনাদের মাঝে ঐ লোকটির বংশ পরিচয় কেমন? আমি প্রতি উত্তরে বললাম, তিনি আমাদের মাঝে সম্ভ্রান্ত বংশীয়। এরপর জিজ্ঞেস করলেন, তাঁর পূর্ব পুরুষদের মধ্যে কেউ কি কখনও বাদশাহ ছিলেন? আমি বললাম, না। এরপর জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কি কখনও তাঁকে এ কথা বলার পূর্বে, যা তিনি বলেছেন, মিথ্যা বলার অভিযোগ করেছেন? আমি বললাম, না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, সমাজের কোন শ্রেণীর লোক তাঁর অনুসরণ করে? সম্ভ্রান্ত প্রভাবশালীরা, না দুর্বলেরা? আমি বললাম, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা নয়; বরং দুর্বল শ্রেণীর লোকেরা।তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, তাঁর অনুগামীর সংখ্যা কি বৃদ্ধি পাচ্ছে, না কমছে? আমি বললাম, কমছে না, বরং দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, যেসব লোক তাঁর ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে তারা কি পরবর্তীতে তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে সে ধর্ম থেকে ফিরে আসছে? আমি বললাম, না। এরপর তিনি বললেন, আপনারা কি কখনও তাঁর সাথে কোন যুদ্ধ করেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনাদের এবং তাঁর মাঝে সংঘটিত যুদ্ধের ফলাফল কিরূপ? আমি বললাম, আমাদের এবং তাঁর মাঝে যুদ্ধের অবস্থা পালাবদল হচ্ছে। কখনও তিনি বিজয়ী হন এবং কখনও বা আমরা বিজয়ী হই। সম্রাট হিরাকল আবার জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি কখনও সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করেছেন? আমি বললাম, না। কিন্তু আমরা বর্তমানে তাঁর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ আছি। আমরা জানি না যে, পরিশেষে তিনি তাতে কী করেন। আবু সুফিয়ান বললেন, আল্লাহর শপথ! প্রশ্ন উত্তরে আমার পক্ষ হতে এ কথাটি ছাড়া অন্য কোন অতিরিক্ত কথা সংযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরপর সম্রাট হিরাকল বললেন, (আপনাদের দেশে) তাঁর নবুওয়াত দাবীর পূর্বে কি কোন ব্যক্তি কখনো এরূপ দাবী করেছে? আমি বললাম, না।এরপর সম্রাট হিরাকল তাঁর দোভাষীকে বললেন, আপনি তাঁকে (আবু সুফিয়ানকে) বলে দিন যে, আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তাঁর (মুহাম্মদ (ﷺ)-এর) বংশ পরিচয় সম্পর্কে। আপনি তখন উত্তর দিয়েছিলেন যে, তিনি সম্ভ্রান্ত বংশীয়। এমনিভাবে রাসুলগণ স্বীয় সম্প্রদায়ের উত্তম বংশে প্রেরিত হয়ে থাকেন। এরপরে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তাঁর পিতৃপুরুষদের মধ্যে কি কেউ বাদশাহ ছিলেন? আপনি এর উত্তরে বলেছিলেন, না। আমি এ কথা বলেছিলাম এ কারণে যে, যদি তাঁর পিতৃপুরুষদের মধ্যে কেউ বাদশাহ থাকতেন, তবে আমি মনে করতাম যে, হয়ত বা তিনি তাঁর পিতৃপুরুষদের রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে চান। তারপর আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তাঁর অনুসারীগণ কি সমাজের দুর্বল শ্রেণীর লোক, না সম্ভ্রান্ত শ্রেণীর লোক? আপনি উত্তরে বলেছিলেন, দুর্বল শ্রেণীর লোক তাঁর অনুসারী হয়ে থাকে। এরপর আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, যে তিনি (নবুওয়াতের) যে কথা বলেছেন এর পূর্বে কি আপনারা তাঁকে কখনও মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন? প্রতি উত্তরে আপনি বলেছিলেন যে, না। এতে আমি বুঝতে পারলাম, যে ব্যক্তি জাগতিক ব্যাপারে মিথ্যা বলেন না, তিনি কি কারণে আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করতে যাবেন? এরপর আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম যে, কোন ব্যক্তি কি তাঁর ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁর ধর্ম পরিত্যাগ করেছে? আপনি উত্তরে বলেছিলেন, না। ঈমানের প্রকৃত অবস্থা এটাই। যখন অন্তরের অন্তঃস্থলে একবার তা প্রবেশ করে তখন সেখানেই স্থায়ীভাবে অবস্থান করে। এরপর আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, তাঁর অনুগামীদের সংখ্যা কি দিন দিন বাড়ছে, না কমছে? প্রতি উত্তরে আপনি বলেছিলেন, তারা সংখ্যায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটাই হল ঈমানের প্রকৃত অবস্থা। তা বৃদ্ধি পেতে পেতে অবশেষে পূর্ণত্ব লাভ করে।এরপর আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনারা কি তাঁর সাথে কোন যুদ্ধ করেছেন? উত্তরে আপনি বলেছেন যে, হ্যাঁ, আপনারা তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছেন। তবে আপনাদের মাঝে ও তাঁর মাঝে যুদ্ধের অবস্থা হল পালাবদলের মত। কখনও তিনি বিজয়ী হন, আবার কখনও আপনারা বিজয়ী হন। এভাবে রাসুলগণকে পরীক্ষার সম্মুখীন করা হয়। পরিণামে তাঁরাই বিজয়ী হয়ে থাকেন। এরপর আমি আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম, তিনি কি কখনও কোন সন্ধির চুক্তিভঙ্গ করেছেন? প্রতি উত্তরে আপনি বলছেন, তিনি কোন চুক্তিভঙ্গ করেননি! এভাবে রাসুলগণ কখনও চুক্তি ভঙ্গ করেন না। আর আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, তাঁর এ কথা (নবুওয়াতের কথা) বলার পূর্বে কি কোন ব্যক্তি অনুরূপ কথা বলেছেন? আপনি বলেছিলেন যে, না। আমি তা এ কারণে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, যদি তাঁর পূর্বে কেউ এরূপ দাবি করে থাকতো, তবে আমি মনে করতাম যে, সে ব্যক্তি তার পূর্বে যে কথা বলা হয়েছে তার অনুকরণ করেছে।রাবী বলেন, এরপর হিরাকল জিজ্ঞেস করলেন, তিনি আমাদেরকে সালাত আদায় করতে, জাকাত দিতে, নিকট আত্মীয় ও হকদার ব্যক্তিদের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে এবং অবৈধ ও অসৌজন্যমূলক কাজ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়ে থাকেন। বাদশাহ হিরাকল বললেন, তিনি আপনাদেরকে কী কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকেন? আমি তাকে বললাম আপনি তাঁর সম্পর্কে যা বললেন তাঁর অবস্থা যদি ঠিক তাই হয় তবে তিনি অবশ্যই নবী। আমি জানতাম যে, একজন নবীর আবির্ভাব ঘটবে। কিন্তু আমি ধারণা করিনি যে, তিনি আপনাদের থেকে হবেন। যদি আমি জানতাম যে, আমি তাঁর নিকট নির্বিঘ্নে পৌঁছতে পারবো তবে নিশ্চয়ই আমি তাঁর মুবারক পদদ্বয় ধুয়ে দিতাম। (জেনে রেখো) নিশ্চয়ই তাঁর রাজত্ব আমার দুপায়ের নিচ পর্যন্ত পৌঁছবে।এরপর তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর চিঠিটি তলব করলেন এবং তা পাঠ করলেন। এতে ছিল- “বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম! এটা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষ হতে রোমের মহান ব্যাক্তি হিরাকল-এর প্রতি। শান্তি ধারা সে ব্যক্তির উপর, যিনি সঠিক পথ অনুসরণ করেন। অতঃপর, নিশ্চয়ই আমি আপনাকে ইসলামের আহ্বান জানাচ্ছি। ইসলাম গ্রহণ করুন, নিরাপত্তা লাভ করুন। আপনি মুসলিম হোন, আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ পুরস্কার দান করবেন। আর যদি আপনি (ইসলাম থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেন, তবে নিশ্চয়ই প্রজাদের অপরাধ আপনার উপর আরোপিত হবে। “হে আহলে কিতাব! তোমরা এসো সে কথায়, যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই; যেন আমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত না করি, কোন কিছুকেই তাঁর শরীক না করি...তবে বল, তোমরা সাক্ষী থাক আমরা মুসলিম” পর্যন্ত। এরপর তিনি পত্র পাঠ শেষ করলে তাঁর নিকটে শোরগোল এবং অযথা কথাবার্তা হতে লাগল। এদিকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসার নির্দেশ দেয়া হল। আমরা বেরিয়ে এলাম।আবু সুফিয়ান বলেন, আমরা যখন বেরিয়ে এলাম তখন আমি আমার সঙ্গীদের বললাম, আবু কাবশার পুত্রের মর্যাদা অনেক বেড়ে গেছে। রোমীয়দের বাদশাহও তাঁকে ভয় করছে।তিনি আরও বলেন, সেদিন থেকে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)–এর ব্যাপারে আমার দৃঢ় প্রত্যয় হল যে, নিশ্চয়ই তিনি বিজয়ী হবেন। অবশেষে আল্লাহ তা’আলা আমার অন্তরে ইসলাম প্রবেশ করিয়ে দিলেন।
৪৫০০
বাদশাহ হিরাক্‌ল-এর নিকট ইসলামের দা’ওয়াত দিয়ে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পত্র পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু শিহাব (রহঃ)
এ একই সূত্রে উল্লিখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ হাদীসে বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন, “যখন আল্লাহ তা’আলা রোম সম্রাট (কায়সার) দ্বারা পারস্যের সেনাদলকে পরাজিত করলেন, তখন তিনি এ বিজয়ের জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে হিমস থেকে ঈলিয়া (বাইতুল মুকাদ্দাস) পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যান আর তিনি তাঁর হাদীসে “এ পত্র মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূলের (ﷺ) পক্ষ হতে” এবং اريسِين শব্দের পরিবর্তে يريسِين শব্দ বলেছেন। আর তিনি دِعَايَةِ الإِسْلاَمِ শব্দের পরিবর্তে دَاعِيَةِ الإِسْلاَمِ শব্দ বর্ণনা করেছেন।