৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৫২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৫১১
হুনায়ন যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
সালামাহ (রাঃ)
আমরা হুনায়নের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর সঙ্গে থেকে যুদ্ধ করেছি। যখন আমরা শত্রুদের সম্মুখীন হলাম, তখন এ পর্যায়ে আমি অগ্রসর হয়ে একটি টিলার উপর উঠলাম। তখন শত্রুদের এক ব্যক্তি আমার মুকাবিলায় অগ্রসর হলো। আমি একটি তীর নিক্ষেপ করলাম, তখন সে আমার থেকে আত্মগোপন করল। আমি তখন বুঝতে পারিনি তার ব্যাপারটি কী হয়েছে।তারপর যখন শত্রুদলের প্রতি লক্ষ্য করলাম, তখন দেখতে পেলাম যে, তারা অপর এক টিলায় আরোহণ করেছে। তারপর তারা এবং নবী (ﷺ)–এর সাহাবীগণ সামনা-সামনি হলো। তখন নবী (ﷺ)–এর সাহাবীগণ পিছনে সরে পড়ল। আমি পরাজিত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করলাম। তখন আমার পরিধানে ছিল দুইটি চাদর। তন্মধ্যে একটি চাদর ছিল বাঁধা অবস্থায় এবং অপরটি ছিল খোলা। এক পর্যায়ে আমার লুঙ্গিটি খুলে গেল। তখন আমি সে দুইটি একত্র করলাম এবং পরাজিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর কাছ দিয়ে গমন করলাম। আর তিনি তখন তাঁর সাদা রঙের খচ্চরের উপর আরোহিত অবস্থায় ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “ইবনুল আকওয়া সন্ত্রস্ত অবস্থায় প্রত্যাবর্তন করেছে।”এরপর শত্রুরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–কে ঘিরে ফেললো। তখন তিনি স্বীয় খচ্চর থেকে অবতরণ করলেন। তারপর এক মুঠি মাটি যমীন থেকে তুলে নিলেন। এরপর তাদের মুখমণ্ডলে তা নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, “তাদের মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে।” এরপর তাদের সকল মানুষের দুই চোখ-ই সে এক মুঠি মাটির ধুলায় ভরে গেল। তারা পশ্চাৎ দিকে পলায়ন করলো। আল্লাহ তা’আলা এ দ্বারাই তাদেরকে পরাস্ত করলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গনীমতের সম্পদ মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করে দিলেন।
৪৫১২
তায়িফের যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তায়েফবাসীকে অবরোধ করলেন এবং এতে তিনি তাদের কাছ থেকে কিছু পেলেন না। এরপর তিনি বললেন, “ইনশাআল্লাহ আমরা ফিরে যাবো।” তখন তাঁর সাহাবীগণ বললেন, “আমরা কি প্রত্যাবর্তন করবো, অথচ আমরা তায়েফ জয় করলাম না?” এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের বললেন, “আগামীকাল সকালে তোমরা যুদ্ধ কর।” সুতরাং তারা পরবর্তী দিন সকালে যুদ্ধ করলো এবং অনেকেই আহত হলো। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “আমরা আগামীকাল প্রত্যাবর্তন করবো।” রাবী বলেন, এতে তারা খুশি হলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে দিলেন।
৪৫১৩
বদরের যুদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর কাছে যখন আবু সুফইয়ানের (মদিনায়) অগ্রাভিযানের সংবাদ পৌঁছল তখন তিনি সাহাবীদের সাথে এ নিয়ে পরামর্শ করলেন। আবু বাকর (রাঃ) এ ব্যাপারে কথা বললেন, কিন্তু তিনি তাঁর কথার উত্তর দিলেন না। এরপর উমর (রাঃ) কথা বললেন। তিনি তার কথারও কোনো উত্তর দিলেন না। পরিশেষে সাদ ইবন উবাদা (রাঃ) দণ্ডায়মান হলেন। এরপর তিনি বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাদের জবাব আশা করেন? সে আল্লাহর শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন, যদি আপনি আমাদেরকে আমাদের ঘোড়া নিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে বলেন, তবে নিশ্চয়ই আমরা সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ব। আর যদি আপনি আমাদেরকে নির্দেশ দেন, সওয়ারী হাঁকিয়ে ‘বারকুল গামাদ’ পর্যন্ত পৌঁছার জন্য তবে নিশ্চয়ই আমরা তাই করবো।”এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলিমদেরকে আহ্বান করলেন। তখন সকলেই রওয়ানা হলেন এবং বদর নামক স্থানে উপনীত হলেন। আর সাহাবীদের সামনে সেখানে কুরাইশের সাথীগণও উপনীত হল। তাদের মধ্যে বনি হাজ্জাজের একজন কৃষ্ণকায় দাস ছিল। সাহাবীগণ তাকে পাকড়াও করলেন। তারপর তাকে আবু সুফইয়ান এবং তার সাথীদের সম্পর্কে তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তখন সে বলতে লাগলো, “আবু সুফইয়ান সম্পর্কে আমার কোনো কিছু জানা নেই। তবে আবু জাহল, উতবা, শাইবা এবং উমাইয়া ইবন খালাফ তো উপস্থিত আছে।” যখন সে এরূপ বলল তখন তাঁরা তাকে প্রহার করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় সে বলল, “হ্যাঁ, আমি আবু সুফইয়ান সম্পর্কে খবর দিচ্ছি।” তখন তাঁরা তাকে ছেড়ে দিলেন। এরপর যখন তারা পুনরায় আবু সুফইয়ান সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন, তখন সে বলল, “আবু সুফইয়ান জনগণের মাঝে উপস্থিত আছেন।” যখন সে পুনরায় এ একই কথা বলল, তখন তাঁরা আবার তাকে প্রহার করতে লাগলেন। সে সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতে দণ্ডায়মান ছিলেন। অতএব যখন তিনি এ অবস্থা দেখলেন, তখন সালাত সমাপ্ত করার পর বললেন, “সে আল্লাহর শপথ! যাঁর হাতে আমার জান, যখন সে তোমাদের কাছে সত্য কথা বলে তখন তোমরা তাকে প্রহার করো, আর যখন সে মিথ্যে কথা বলে তখন তোমরা তাকে ছেড়ে দাও।”এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভূমির উপর স্বীয় হাত রেখে বললেন, “এ স্থান অমুক বিধর্মীয় ধরাশায়ী হওয়ার স্থান বা মৃত্যুস্থল।” বর্ণনাকারী বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে স্থানে যে বিধর্মীর নাম নিয়ে হাত রেখেছিলেন, সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে, এর সামান্যও ব্যতিক্রম হয়নি।
৪৫১৪
মক্কাহ বিজয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবন রাবাহ (রহঃ) বলেন, আমি একটি প্রতিনিধি দলের সাথে [যার মধ্যে আবু হুরায়রা (রাঃ) –ও ছিলেন] রমজান মাসে মু'আবিয়া (রাঃ) –এর কাছে গেলাম। তখন তাঁরা একে অন্যের জন্য খানা পাকাতেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) অধিকাংশ সময় আমাদেরকে তাঁর বাসস্থানে দাওয়াত করতেন। সুতরাং একদিন আমি তাঁকে বললাম, আমিও খানা তৈরী করবো এবং সকলকেই আমার বাসস্থানে দাওয়াত করবো। আমি খানা তৈরীর নির্দেশ দিলাম। এরপর আবু হুরায়রা (রাঃ)–এর সঙ্গে আমি বিকালে দেখা করলাম এবং বললাম, আজ রাত আমার বাসায় আপনার দাওয়াত। আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আপনি আজ আমার পূর্বেই দাওয়াত দিয়ে দিলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। আমি সকলকেই দাওয়াত করলাম। তখন আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদের সম্পর্কে একটি হাদিস বর্ণনা করবো না?তারপর তিনি মক্কা বিজয়ের ঘটনার বিবরণ দিতে শুরু করলেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কার দিকে অগ্রসর হলেন এবং পরিশেষে তিনি তথায় উপনীত হলেন। এরপর যুবায়রকে মক্কার একদিকে এবং খালিদ ইবনু ওয়ালিদকে অপর দিকে প্রেরণ করলেন। আর আবু উবাইদা (রাঃ) –কে সেসব লোকদের উপর নেতা বানিয়ে পাঠালেন যাদের কাছে লৌহ বর্ম ছিলনা। তাঁরা উপত্যকার ভিতরের পথ অবলম্বন করে চললেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছিলেন একটি ছোট সেনাদলের মধ্যে। তিনি তাকালেন এবং আমাকে দেখে বললেন, হে আবু হুরায়রা! আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি উপস্থিত। এরপর তিনি বললেনঃ আমার নিকট আনসার ছাড়া আর কেউ যেন না আসে। শাইবান ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারী অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, তারপর তিনি বললেনঃ আনসারদেরকে আহ্বান করো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আনসারগণ তাঁর চারপাশে জমায়েত হলেন। এদিকে কুরায়শগণও তাদের বিভিন্ন গোত্রের লোক এবং অনুগতদেরকে একত্রিত করলো। এরপর তারা বলল, আমরা তাদেরকে আগে প্রেরণ করব। যদি তাদের ভাগে কিছু জুটে, তবে আমরাও তো তাদের সঙ্গেই আছি। আর যদি তারা বিপদের সম্মুখীন হয় তবে তারা আমাদের কাছে যা চাইবে, তাই দিয়ে দেব। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীদেরকে বললেন, তোমরা কি কুরায়শের বিভিন্ন গোত্রের লোক এবং তাদের অনুগতদেরকে দেখতে পাচ্ছ? এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর একহাত অপর হাতের উপর রেখে ইঙ্গিত করলেন, (মক্কার পথে যারা তোমাদের বাধা দেয় তোমরা তাদের খতম করে দিবে।) এরপর বললেন, অবশেষে সাফা পাহাড়ে তোমরা আমার সঙ্গে মিলিত হবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা অগ্রসর হতে লাগলাম। আমাদের মধ্য হতে কেউ যাকে হত্যা করতে চেয়েছে তাকে হত্যা করেছে। তাই তাদের মধ্য হতে কেউই আমাদের উপর আক্রমণ করতে সাহস পায়নি।বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবু সুফিয়ান এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আজ কুরায়শ সম্প্রদায়ের রক্ত হালাল করে দেয়া হয়েছে। আজকের পরে আর কোন কুরায়শের অস্তিত্ব থাকবে না। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘোষণা দিলেন, যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। সুতরাং আনসারগণ একে অপরের সাথে বলাবলি করত লাগলো যে, লোকটিকে (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –কে) স্বদেশের অনুরাগ এবং আত্মীয়-স্বজনের প্রেমে পেয়ে বসেছে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন যে, তখনই ওহি অবতীর্ণ হলো। যখন ওহি অবতীর্ণ হতো তখন তা আমাদের নিকট গোপন থাকত না। ঐ সময় কারো সাধ্য হতো না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –এর দিকে চোখ তুলে দেখে যতক্ষণ না ওহি শেষ হতো। এরপর যখন ওহি শেষ হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার কাছে হাজির। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কি বলেছ যে, “লোকটিকে স্বদেশের অনুপ্রেরণায় পেয়ে বসেছে”? তখন তারা বললেন, এ রকম কিছু হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কখনও না। নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর প্রেরিত রাসূল। আমি আল্লাহর উদ্দেশে স্বদেশ ত্যাগ করে তোমাদের কাছে গিয়েছি। আমার জীবন ও মরণ তোমাদের সাথে। তারা কাঁদতে কাঁদতে নবী (ﷺ) –এর দিকে অগ্রসর হলেন এবং বলতে লাগলেন, আল্লাহর শপথ! আমরা যা বলেছিলাম, তা ছিল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আমাদের ভালোবাসা ও দুর্বলতার কারণে। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদের বক্তব্য বিশ্বাস করেন এবং তোমাদের ওজর গ্রহণ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর মক্কার জনগণ আবু সুফিয়ানের বাড়ীর দিকে চলে গেল (জীবন রক্ষার জন্যে) আর অন্যান্য মানুষ আপন ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে রইল।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজরে আসওয়াদ–এর নিকটবর্তী হয়ে তাকে চুম্বন করলেন এবং বাইতুল্লাহ শরিফের তাওয়াফ করলেন। এরপর তিনি বাইতুল্লাহর কাছে থাকা একটি মূর্তির নিকটবর্তী হলেন, যাকে তারা উপাসনা করতো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর হাতে তখন একটি ধনুক ছিল, তিনি এর এক প্রান্ত ধরে রেখেছিলেন। যখন তিনি মূর্তিটির নিকটবর্তী হলেন তখন তিনি তা দ্বারা এর চোখে খোঁচাতে লাগলেন এবং বললেন, “সত্য আগমন করেছে এবং বাতিল (মিথ্যা) চলে গেছে।” এরপর বাইতুল্লাহর তাওয়াফ শেষে তিনি সাফা পাহাড়ের দিকে গেলেন। এরপর তাতে আরোহণ করে বায়তুল্লাহর দিকে চেয়ে দেখলেন এবং দু’হাত উঁচু করে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং তাঁর যা প্রার্থনা করার ছিল তাই প্রার্থনা করলেন।
৪৫১৫
মক্কাহ বিজয় পরিচ্ছেদ নাই
সুলাইমান ইবনু মুগীরাহ (রাঃ)
তবে তার হাদীসে অতিরিক্ত এ কথা উল্লেখ রয়েছে যে, তারপর তিনি তাঁর এক হাত অপর হাতের উপর রেখে ইঙ্গিত করে বললেন, তোমরা তাদেরকে শেষ করে দাও। এতে আরো উল্লেখ রয়েছে যে, তখন তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা এ রকম কিছু বলেছি। তখন তিনি বললেন, তাহলে আমার নামের কী আর থাকবে। সুতরাং এমনটি কখনো হবে না। আমি তো আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
৪৫১৬
মক্কাহ বিজয় পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুল্লাহ ইবনু রাবাহ (রাঃ)
আমরা ভ্রমণ করে মু‘আবিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। আমাদের মধ্যে তখন আবু হুরায়রা (রাঃ)-ও ছিলেন। প্রত্যেকেই একদিন তাঁর সাথীর জন্য খানা তৈরী করতেন। একদিন আমার পালা আসল। তখন আমি বললাম, হে আবু হুরায়রা! আজ তো আমার পালা। অতএব সকলেই আমার বাসস্থানে এলেন, তখনও খানা রান্না করা শেষ হয়নি। তখন আমি বললাম, হে আবু হুরায়রা! আপনি যদি আমাদেরকে খানা তৈরীর পূর্ব পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোন হাদীস বর্ণনা করতেন! (তবে ভাল হতো) অতএব তিনি বললেন, আমরা মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ)-কে ডানদিকের বাহিনীর এবং যুবাইর (রাঃ)-কে বাম দিকের বাহিনীর নেতৃত্ব প্রদান করলেন। আবু উবাইদা (রাঃ)-কে পদাতিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করলেন প্রান্তর অতিক্রম করার জন্য। এরপর তিনি বললেন, হে আবু হুরায়রা! আনসারদেরকে আমার কাছে আসার জন্য আহ্বান কর। অতএব আমি তাদেরকে আহ্বান করলাম। এরপর তাঁরা দ্রুত আসলেন।তখন তিনি বললেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কুরাইশদের বিভিন্ন গোত্রের বিরাট জমায়েত কি দেখতে পাচ্ছ? তারা সবাই বলল, হ্যাঁ। অতএব তিনি বললেন, আগামীকাল যখন তোমরা (যুদ্ধক্ষেত্রে) তাদের মুকাবিলা করবে তখন তাদেরকে সম্পূর্ণ নির্মূল করে দেবে। তারপর তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে ইঙ্গিতে বললেনঃ তাদেরকে সমূলে বিনষ্ট করে দেবে। তারপর বললেনঃ আমার সাথে তোমাদের একসাথে হওয়ার জায়গা সাফা পাহাড়। বর্ণনাকারী বলেন, সেদিন যে কোন বিধর্মী আনসারদের লক্ষ্যস্থলে পড়েছে, তাকেই তারা নির্মূল করেছে। এরপরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাফা পাহাড়ের উপর আরোহণ করলেন। তখন আনসারগণ তথায় উপনীত হয়ে সাফা পাহাড় ঘিরে ফেললো। ইত্যবসরে আবু সুফিয়ান এলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কুরাইশদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আজ থেকে আর কোন কুরাইশের অস্তিত্ব থাকবে না।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের বাড়িতে প্রবেশ করবে সে নিরাপত্তা পাবে। যে অস্ত্র ফেলে দিবে সেও নিরাপদ এবং যে স্বীয় গৃহের দরজা বন্ধ করে রাখবে সেও নিরাপত্তা পাবে। তখন আনসারগণ বলাবলি করছিল যে, এ লোকটিকে (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে) স্বীয় গোত্রের ভালোবাসা এবং স্বদেশের অনুরাগে পেয়ে বসেছে। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর ওহী নাযিল হলো। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরাই কি বলেছিলে যে, “এ লোকটিকে (মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে) স্বীয় গোত্রের ভালোবাসা এবং স্বদেশের অনুরাগে পেয়ে বসেছে।” সাবধান! তোমরা কি জান আমার নাম কী? এ কথাটি তিনি তিনবার বলেছেন। আমি হলাম মুহাম্মদ, আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। আমি আল্লাহর নির্দেশেই তোমাদের কাছে হিজরত করেছি। আমার জীবন ও মরণ তোমাদের জীবন ও মরণের সাথে সম্পৃক্ত। তখন তাঁরা বলল, আল্লাহর শপথ! আমরা এ কথা বলেছিলাম আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি দুর্বলতার কারণে (যেন তিনি আমাদেরকে ছেড়ে না যান)। নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমাদের সত্য বলে গ্রহণ করেছেন এবং তোমাদের ওজর কবুল করেছেন।
৪৫১৭
কা’বার চারপাশ থেকে মূর্তিসমূহ দূরীকরণ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর হাতে একটি ছড়ি (কাঠি) ছিল। তিনি তা দিয়ে মূর্তিগুলোকে খোঁচা দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: “সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে; মিথ্যা তো বিলুপ্ত হবারই” – (সূরা বনী ইসরাইল ১৭ : ৮১)। “সত্য এসেছে এবং অসত্য না পারে নতুন কিছু সৃজন করতে, না পারে পুনরাবৃত্তি করতে” – (সূরা সাবা ৩৪ : ৪৯)। ইবনু আবূ উমর يَوْمَ الْفَتْحِ (বিজয়ের দিন) কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।
৪৫১৮
কা’বার চারপাশ থেকে মূর্তিসমূহ দূরীকরণ পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু আবূ নাজীহ
উল্লিখিত হাদিস, আয়াতের শেষ زَهُوقًا পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি অপর আয়াতটি বর্ণনা করেননি। আর তিনি نُصُبًا শব্দের পরিবর্তে صَنَمًا শব্দ ব্যবহার করেছেন।
৪৫১৯
বিজয়ের পর কুরায়শদের ধর্মত্যাগের অপরাধে কতল করা হবে না পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মুতী’ (রহঃ)
আমি নবী (ﷺ)-কে মক্কা বিজয়ের দিন বলতে শুনেছি যে, আজকের দিনের পর কেয়ামত পর্যন্ত কুরায়শগণকে (ধর্মত্যাগের অপরাধে ও যুদ্ধে) বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হবে না।
৪৫২০
বিজয়ের পর কুরায়শদের ধর্মত্যাগের অপরাধে কতল করা হবে না পরিচ্ছেদ নাই
যাকারিয়্যা (রহঃ)
উল্লিখিত হাদিস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন যে, কুরাইশদের মধ্য থেকে কোনো আসী ইসলাম গ্রহণ করেনি, মুতী বাদে, তার নাম ছিল আসী (অবাধ্য)। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নাম রাখলেন মুতী (অনুগত)।