৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৫৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৫৪১
মুশরিক ও মুনাফিকদের হাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুঃখ-যাতনা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু মাস’উদ (রাঃ)
একদা নবী (ﷺ) বাইতুল্লাহিল হারামের নিকট সালাত আদায় করছিলেন। আবু জাহল ও তার সাথীরা অদূরে উপবিষ্ট ছিল। পূর্বদিন সেখানে একটি উট নহর করা হয়েছিল। আবু জাহল বলল, কে অমুক গোত্রের উটের (নাড়ি-ভুঁড়ি সহ) জরায়ুকে নিয়ে আসবে এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) যখন সিজদায়ত হবে, তখন তার দুই কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দেবে? তখন সম্প্রদায়ের সবচাইতে হতভাগা দূরাচার লোকটি উঠে দাঁড়াল এবং তা নিয়ে আসলো এবং যখন নবী (ﷺ) সিজদায় গেলেন তখন তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে তা রেখে দিল। তখন তারা হাসাহাসি করতে লাগল এবং একে অপরের গায়ের উপর ঢলে পড়তে লাগল, আর আমি তখন দাঁড়িয়ে তা দেখলাম। যদি আমার প্রতিরোধের সাধ্য থাকত তবে আমি তা অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিঠ থেকে ফেলে দিতাম। নবী (ﷺ) সিজদায় রইলেন এবং তিনি মাথা উঠাতে পারছিলেন না।অবশেষে এক ব্যক্তি গিয়ে ফাতিমাকে খবর দিল। ফাতিমা সাথে সাথে আসলেন। আর তিনি তখন বালিকা। তিনি তা তাঁর উপর থেকে ফেলে দিলেন। তারপর তাদের দিকে মুখ করে তাদেরকে মন্দাচারের বিষয়ে বলছিলেন। তারপর যখন নবী (ﷺ) সালাত সম্পন্ন করলেন তখন উচ্চৈঃস্বরে তাদেরকে বদদোয়া দিলেন আর তিনি যখন দোয়া করতেন (সাধারণত) তিনবার করতেন এবং যখন কিছু প্রার্থনা করতেন তখন তিনি তিনবার করতেন। তারপর তিনি তিন তিনবার বললেন “ইয়া আল্লাহ! তোমার উপরেই কুরাইশদের বিচারের ভার ন্যস্ত করলাম। যখন তারা তাঁর আওয়াজ শুনতে পেল তখন তাদের হাসি চলে গেল এবং তারা তাঁর বদ দোয়া'য় ভয় পেয়ে গেল।তারপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আবু জাহল ইবনু হিশাম, উতবাহ ইবনু রাবিয়া, শাইবাহ ইবনু রাবিয়া, ওয়ালিদ ইবনু উকবা, উমাইয়া ইবনু খালাফ ও উকবা ইবনু আবু মুয়াইতের শাস্তির ভার তোমার উপর ন্যস্ত। রাবী বলেন, তিনি সপ্তম আরেকজনের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আমি তা স্মরণ রাখতে পারিনি।মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে যে পবিত্র সত্তা সত্যসহ রাসূলরূপে প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম! তিনি যাদের নাম সেদিন উচ্চারণ করেছিলেন বদরের দিন তাদের পতিত লাশ আমি দেখেছি। তারপর তাদের হেঁচড়িয়ে বদরের একটি নোংরা কূপে নিক্ষেপ করা হয়। আবু ইসহাক বলেন, ওয়ালিদ ইবনু উকবার নাম এখানে ভুলে হয়েছে।
৪৫৪২
মুশরিক ও মুনাফিকদের হাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুঃখ-যাতনা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদা করছিলেন এবং তাঁর আশেপাশে কুরাইশের কিছু লোকজন জড়ো ছিল। এমন সময় উকবা ইবনু আবু মুয়াইত (উটনীর নাড়িভুঁড়িসহ) জরায়ু নিয়ে এলো এবং তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিঠে নিক্ষেপ করলো। তিনি মাথা উঠাতে পারছিলেন না।তারপর ফাতিমা (রাঃ) আসলেন এবং তা তাঁর পিঠ থেকে সরিয়ে দিলেন এবং যে ব্যক্তি তা করেছে, তাকে বদদোয়া করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “ইয়া আল্লাহ! তুমি কুরাইশ সম্প্রদায়ের আবু জাহল ইবনু হিশাম, উৎবাহ ইবনু রবীআহ, শাইবাহ ইবনু রবীআহ, উকবা ইবনু আবু মুয়াইত, উমাইয়্যাহ ইবনু খালাফ অথবা উবাই ইবনু খালাফ এদের চিনে নাও।” তবে রাবি শু’আবাহ (শেষের দু’ নামের) কোনটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন, সে ব্যাপারে সন্দেহ করেছেন।রাবি বলেন, এরপর আমি বদরের দিন তাদের দেখেছি যে, তারা সকলে নিহত হয়েছে এবং একটি কূপে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। কেবল উমাইয়্যাহ বা উবাই এর লাশ বাদ ছিল। কেননা, তার লাশ জোড়ায় জোড়ায় কেটে ফেলা হয়েছিল বিধায় কূপে নিক্ষেপ করা হয়নি।
৪৫৪৩
মুশরিক ও মুনাফিকদের হাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুঃখ-যাতনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইস্হাক (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। রাবী সুফইয়ান (রহঃ) বাড়িয়ে বলেছেন, “এবং তিনি তিনবার বলা পছন্দ করতেন। তিনি বলেছিলেন, ইয়া আল্লাহ! কুরায়শের (এদের) বিচারের ভার তোমার উপর ন্যস্ত। ইয়া আল্লাহ! কুরায়শদের বিচারের ভার তোমার উপর ন্যস্ত। ইয়া আল্লাহ! কুরায়শের বিচারের ভার তোমার উপরই ন্যস্ত। এভাবে তিনবার তিনি বলেন, এবং এদের মধ্যে ওয়ালিদ ইবন উতবা ও উমাইয়া ইবন খালাফের কথা তিনি উল্লেখ করেন এবং তাতে কোনরূপ সন্দেহ প্রকাশ করেননি। রাবী আবু ইসহাক বলেন, আমি সপ্তম (অভিশপ্ত) ব্যক্তির নাম ভুলে গেছি।
৪৫৪৪
মুশরিক ও মুনাফিকদের হাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুঃখ-যাতনা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা বাইতুল্লাহর দিকে মুখ করে কুরাইশের ছয় ব্যক্তির জন্য বদদোয়া করলেন। তাদের মধ্যে আবু জাহল, উমাইয়াহ ইবন খালাফ, উতবা ইবন রাবিয়া, শাইবা ইবন রাবিয়া, উকবা ইবন আবু মুয়াইত রয়েছে। আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি তাদের কর্তিত মৃত লাশগুলো বদরে দেখেছি। সূর্যতাপ তাদের বিকৃত করে ফেলেছিল। আর সেদিনটিও ছিল অত্যন্ত গরমের।
৪৫৪৫
মুশরিক ও মুনাফিকদের হাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুঃখ-যাতনা পরিচ্ছেদ নাই
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহধর্মিণী আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনার জীবনে কি উহুদ দিবসের চেয়েও অধিকতর কঠিন কোন দিন এসেছে? তিনি বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের হাতে আকাবার দিন যে নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তা এর চেয়েও অধিকতর কঠিন ছিল। যখন আমি (আল্লাহর পানে দাওয়াত দিতে গিয়ে) ইবনু আবদে ইয়ালীল ইবনু আবদে কিলালের কাছে নিজেকে পেশ করেছিলাম। কিন্তু সে আমার কাঙ্ক্ষিত ডাকে সাড়া দেয়নি।তখন আমি অত্যন্ত বিষণ্ণ অবস্থায় সম্মুখের দিকে চলতে লাগলাম এবং কারনুস সা’আলিব নামক স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত আমি সম্বিৎ ফিরে পাইনি। তারপর যখন আমি মাথা উঠালাম তখন দেখি, একখণ্ড মেঘ আমাকে ছায়াপাত করছে এবং এর মধ্যে জিবরাঈল (আঃ)-কে দেখতে পেলাম। তিনি আমাকে ডাক দিয়ে বললেন, মহা মহিমান্বিত আল্লাহ আপনার প্রতি আপনার সম্প্রদায়ের উক্তি এবং আপনার বিরুদ্ধে তাদের উত্তরও শুনেছেন এবং তিনি আপনার নিকট পাহাড়ের ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন, যেন আপনি আপনার সম্প্রদায়ের লোকজনের ব্যাপারে যেরূপ ইচ্ছা সেরূপ আদেশ তাঁকে করেন।তখন পাহাড়ের ফেরেশতাও আমাকে ডাক দিলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। তারপর বললেন, “হে মুহাম্মাদ! আপনার প্রতি আপনার সম্প্রদায়ের লোকজনের উক্তি আল্লাহ তা’আলা শুনেছেন আর আমি হলাম পাহাড়ের (তত্ত্বাবধানকারী) ফেরেশতা। আপনার রব আপনার কাছে আমাকে এজন্যে পাঠিয়েছেন যেন আপনি আপনার ইচ্ছামত আমাকে নির্দেশ দেন। (আপনি বললে) আমি এ পাহাড় দু’টিকে তাদের উপর চাপা দিয়ে দিব।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি বরং আশা করি যে, আল্লাহ তা’আলা হয়তো এদের ঔরস থেকেই এমন ব্যক্তি বের করে আনবেন, যারা তাঁর সঙ্গে কিছুকে শরীক না করে এক আল্লাহর ইবাদত করবে।
৪৫৪৬
মুশরিক ও মুনাফিকদের হাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুঃখ-যাতনা পরিচ্ছেদ নাই
জুন্দুব ইবনু সুফ্‌ইয়ান (রহঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একটি আঙ্গুল কোনো একটি অভিযানে রক্তাক্ত হয়। তখন তিনি (উক্ত আঙ্গুলকে লক্ষ্য করে) বললেন, “তুমি তো আঙ্গুল ছাড়া কিছু নও, তুমি আহত হয়েছো এবং তুমি যে কষ্ট পেয়েছ, তা আল্লাহর পথেই গণ্য।”
৪৫৪৭
মুশরিক ও মুনাফিকদের হাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুঃখ-যাতনা পরিচ্ছেদ নাই
আসওয়াদ ইবনু কায়স (রহঃ)
তাতে বর্ণনাকারী আরও বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন এক গুহায় ছিলেন, তখন তাঁর আঙ্গুলে যখম হয়।
৪৫৪৮
মুশরিক ও মুনাফিকদের হাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুঃখ-যাতনা পরিচ্ছেদ নাই
আসওয়াদ ইবনু কায়স
তিনি জুন্দুব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন যে, জিবরাঈল (আঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসতে বিলম্ব করেন। এতে মুশরিকরা বলতে লাগল, মুহাম্মাদ পরিত্যক্ত হয়েছেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন, “শপথ পূর্বাহ্ণের, শপথ রজনীর! যখন তা হয় নিঝুম, তোমার প্রতিপালক তোমাকে ছেড়ে দেননি এবং তোমার প্রতি নারাজও হননি।”
৪৫৪৯
মুশরিক ও মুনাফিকদের হাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুঃখ-যাতনা পরিচ্ছেদ নাই
আসওয়াদ ইবনু কায়স (রহঃ)
আমি জুনদুব ইবন সুফিয়ান (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পীড়িত হন বিধায় দুই বা তিন রাত্রি জাগতে পারেননি (তাহাজ্জুদ এর জন্য)। তখন একটি মহিলা এসে বলল, “মুহাম্মদ, আশা করি, এবার তোমার শয়তান তোমাকে ছেড়ে দিয়েছে। কেননা, দুই বা তিন রাত যাবৎ তোমার নিকটে আগমন লক্ষ্য করছি না।” তখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন, “শপথ পূর্বাহ্নের, শপথ রজনীর! যখন তা হয় নিঝুম, তোমার প্রতিপালক তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি অসন্তুষ্টও হননি।”
৪৫৫০
মুশরিক ও মুনাফিকদের হাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুঃখ-যাতনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্, মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশ্শার (রহঃ) শু‘বাহ (রহঃ) হতে এবং ইসহাক্ ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) …সুফ্ইয়ান (রহঃ)
উভয়ে উক্ত সনদে আসওয়াদ ইবন কায়স (রহঃ) হতে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।