৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৪২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৪১১
যে সকল কাফিরদের কাছে ইসলামের দা’ওয়াত পৌঁছেছে, তাদের বিরুদ্ধে পূর্ব ঘোষণা ব্যতীত যুদ্ধের বৈধতা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনে ‘আওন (রহঃ)
আমি নাফি (রহঃ) -কে এ কথা জানতে চেয়ে পত্র লিখলাম যে, যুদ্ধের পূর্বে বিধর্মীদের প্রতি দ্বীনের দাওয়াত দেয়া প্রয়োজন কি-না? ইবন আওন বলেন, তখন তিনি আমাকে লিখলেন যে, এ (প্রথা) ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে ছিল।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বানূ মুসতালিকের উপর অতর্কিত আক্রমণ করলেন এমন অবস্থায় যে, তাদের পশুদের পানি পান করানো হচ্ছিল। তিনি তাদের যোদ্ধাদের হত্যা করলেন এবং বাকীদের বন্দী করলেন। আর সেদিনেই তাঁর হস্তগত হয়েছিল- ইয়াহিয়া বলেন যে, আমার মনে হয় তিনি বলেছেন – 'জুয়াইরিয়া' কিংবা নিশ্চিতরূপে বলেছেন 'হারিসের কন্যা'। বর্ণনাকারী বলেন, এ হাদীস আমাকে আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। তিনি তখন সে সেনাদলের মধ্যে ছিলেন।
৪৪১২
যে সকল কাফিরদের কাছে ইসলামের দা’ওয়াত পৌঁছেছে, তাদের বিরুদ্ধে পূর্ব ঘোষণা ব্যতীত যুদ্ধের বৈধতা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আওন (রহঃ)
উল্লিখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি জুবাইরিয়া বিনতুল হারিস এর নাম উল্লেখ করেছেন, তাতে সন্দেহ পোষণ করেননি।
৪৪১৩
খলীফা কর্তৃক সেনাদলের জন্য আমীর নির্বাচিত করা এবং যুদ্ধের নিয়ম-নীতি ও বিভিন্ন নির্দেশিকা সম্পর্কে তাদের উপদেশ প্রদান করা। পরিচ্ছেদ নাই
সুফইয়ান (রহঃ)
সুফিয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, হাদিসটি আমাদের সামনে লিখিয়েছেন।
৪৪১৪
খলীফা কর্তৃক সেনাদলের জন্য আমীর নির্বাচিত করা এবং যুদ্ধের নিয়ম-নীতি ও বিভিন্ন নির্দেশিকা সম্পর্কে তাদের উপদেশ প্রদান করা। পরিচ্ছেদ নাই
সুলাইমান ইবনু বুরাইদাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন সেনাবাহিনী কিংবা সেনাদলের উপর আমীর নিযুক্ত করতেন তখন বিশেষভাবে তাকে আল্লাহকে ভয় করে চলার উপদেশ দিতেন এবং তাঁর সঙ্গী মুসলিমদের প্রতি আদেশ করতেন তারা যেন ভালভাবে চলে। আর (বিদায়লগ্নে) বলতেন, “যুদ্ধ করো আল্লাহর নামে, আল্লাহর পথে। লড়াই করো তাদের বিরুদ্ধে যারা আল্লাহর সঙ্গে কুফরী করেছে। যুদ্ধ চালিয়ে যাও, তবে গনীমাতের মালের খিয়ানত করবে না, চুক্তি ভঙ্গ করবে না, শত্রু পক্ষের অঙ্গ বিকৃতি সাধন করবে না, শিশুদেরকে হত্যা করবে না। যখন তুমি মুশরিক শত্রুর সম্মুখীন হবে, তখন তাকে তিনটি বিষয় বা আচরণের প্রতি আহবান জানাবে। তারা এগুলোর মধ্য থেকে যেটিই গ্রহণ করে, তুমি তাদের পক্ষে থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াবে।প্রথমে তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দিবে। যদি তারা তোমার এ আহ্বানে সাড়া দেয়, তবে তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে সরে দাঁড়াবে। এরপর তুমি তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে মুহাজিরদের এলাকায় (মাদীনায়) চলে যাওয়ার আহ্বান জানাবে এবং তাদের জানিয়ে দিবে যে, যদি তারা তা কার্যকরী করে, তবে মুহাজিরদের জন্য যেসব উপকার ও দায়-দায়িত্ব রয়েছে, তা তাদের উপর কার্যকরী হবে।আর যদি তারা বাড়ি-ঘর ছেড়ে যেতে অস্বীকার করে, তবে তাদের জানিয়ে দেবে যে, তারা সাধারণ বেদুঈন মুসলিমদের মত গণ্য হবে। তাদের উপর আল্লাহর সে বিধান কার্যকরী হবে, যা মুমিনদের উপর কার্যকরী হয় এবং তারা গনীমত ও ফাই থেকে কিছুই পাবে না। অবশ্য মুসলিমদের সঙ্গে শামিল হয়ে যুদ্ধ করলে তার অংশীদার হবে।আর যদি ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করে, তাদের কাছে ‘জিযইয়াহ’ প্রদানের দাবী জানাবে। যদি তারা তা গ্রহণ করে নেয়, তবে তুমি তাদের পক্ষ থেকে তা মেনে নিবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে। আর যদি তারা এ দাবী না মানে তবে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে।আর যদি তুমি কোন দুর্গবাসীকে অবরোধ করো এবং তারা যদি তোমার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ‍যিম্মাদারী চায়, তবে তুমি তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ‍যিম্মাদারী মেনে নিবে না; বরং তাদেরকে তোমার এবং তোমার সাথীদের যিম্মাদারীতে রাখবে। কেননা তারা যদি তোমার ও তোমার সাথীদের যিম্মাদার ভঙ্গ করে, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের যিম্মাদারী ভঙ্গের চাইতে কম গুরুতর।আর যদি তোমরা কোন দুর্গের অধিবাসীদের অবরোধ করো, তখন যদি তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক নেমে আসতে চায়, তবে তোমরা তাদেরকে আল্লাহর হুকুমের উপর নেমে আসতে দিবে না, বরং তুমি তাদেরকে তোমার সিদ্ধান্তের উপর নেমে আসতে দেবে। কেননা তোমার জানা নেই যে, তুমি তাদের মাঝে আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়িত করতে পারবে কি-না?”আবদুর রহমান (রহঃ) এ হাদীস কিংবা এ হাদীসের অনুরূপ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইসহাক (রহঃ) তাঁর বর্ণিত হাদীসের শেষাংশে ইয়াহিয়া ইবনু আদম (রহঃ) সূত্রে কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ হাদীসটি মুকাতিল ইবনু হাইয়ান (রহঃ)-এর কাছে বর্ণনা করেছি। তখন তিনি ইয়াহিয়া (রহঃ) অর্থাৎ-আলকামা (রহঃ)-এর কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি তা বর্ণনা করেছেন ইবনু হাইয়ানের উদ্দেশ্যে। অতএব তিনি বলেন যে, মুসলিম ইবনু হায়সাম (রহঃ), নুমান ইবনু মুকাররিন (রাঃ) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪৪১৫
খলীফা কর্তৃক সেনাদলের জন্য আমীর নির্বাচিত করা এবং যুদ্ধের নিয়ম-নীতি ও বিভিন্ন নির্দেশিকা সম্পর্কে তাদের উপদেশ প্রদান করা। পরিচ্ছেদ নাই
বুরাইদাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন সেনাপতিকে অথবা সেনাবাহিনীকে প্রেরণ করতেন, তখন তাঁকে ডেকে কিছু উপদেশ দিতেন। অতঃপর তিনি সুফিয়ান (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদিসের মর্মার্থ অনুসারে অবশিষ্ট হাদিস বর্ণনা করেন।
৪৪১৬
খলীফা কর্তৃক সেনাদলের জন্য আমীর নির্বাচিত করা এবং যুদ্ধের নিয়ম-নীতি ও বিভিন্ন নির্দেশিকা সম্পর্কে তাদের উপদেশ প্রদান করা। পরিচ্ছেদ নাই
শু‘বাহ্ (রহঃ)
অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৪৪১৭
কাজ-কর্মে সহজ পন্থা অবলম্বন ও ঘৃণা-বিদ্বেষ না ছড়ানোর নির্দেশনা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মূসা (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাঁর কোন সাহাবীকে কোন কাজে পাঠাতেন, তখন তাঁকে এ কথা বলতেন যে, তোমরা লোকদেরকে শুভ সংবাদ দেবে; ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়াবে না, সহজ করবে; কঠিন করবে না।
৪৪১৮
কাজ-কর্মে সহজ পন্থা অবলম্বন ও ঘৃণা-বিদ্বেষ না ছড়ানোর নির্দেশনা পরিচ্ছেদ নাই
সা‘ঈদ ইবনু আবূ বুরদাহ্ (রহঃ)
নবী (ﷺ) তাঁকে এবং মু‘আয (রাঃ)-কে যখন ইয়ামানে পাঠান তখন উপদেশ দিলেন তোমরা উভয়েই (সেখানে) সহজ পথ অবলম্বন করবে, কঠিন পথ গ্রহণ করবে না, সুসংবাদ দেবে, ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়াবে না, সম্মিলিতভাবে কাজ করবে এবং মতবিরোধ করবে না।
৪৪১৯
কাজ-কর্মে সহজ পন্থা অবলম্বন ও ঘৃণা-বিদ্বেষ না ছড়ানোর নির্দেশনা পরিচ্ছেদ নাই
সা’ঈদ ইবনু আবূ বুরদাহ (রহঃ)
নবী (ﷺ) থেকে উল্লেখিত শু'বা (রহঃ)-এর হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেন। কিন্তু যায়দ ইবনু আবু উনাইসা (রাঃ)-এর হাদিসে “এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করবে, মতবিরোধ করবে না” এ অংশটুকু উল্লেখ নেই।
৪৪২০
কাজ-কর্মে সহজ পন্থা অবলম্বন ও ঘৃণা-বিদ্বেষ না ছড়ানোর নির্দেশনা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “সহজভাবে কাজ করবে, কঠিনতা আরোপ করবে না, স্বস্তি (আরাম) প্রদান করবে এবং ঘৃণা-বিদ্বেষ ছড়াবে না।”