৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৪০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৩৯১
বিচারক কর্তৃক বিবাদমান দু’দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ)
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –কে হারিয়ে যাওয়া জিনিস পাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেনঃ তুমি এক বছর পর্যন্ত সেটার প্রচার করবে এবং (এরপর) তুমি থলি ও বাঁধন চিনে রাখবে। তারপরে তুমি তা খরচ করতে পার। আর যদি তার প্রকৃত মালিক আসে, তবে তাকে তা আদায় করে দিবে।তারপর সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! হারানো বকরির বিধান কী? তিনি বললেনঃ তা তুমি ধরে নিয়ে রাখ। কেননা, এটি তুমি নিবে কিংবা তোমার ভাই নিবে কিংবা নেকড়ে নিয়ে যাবে।তারপর সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তবে যদি হারানো উট হয়? বর্ণনাকারী বলেনঃ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগান্বিত হলেন, এমনকি তাঁর গাল দু’টি লাল হয়ে গেল। অথবা তিনি বলেছেনঃ তাঁর চেহারা লাল হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, তাকে নিয়ে তোমার ভাবনা কী? তার সাথে আছে তার জুতো আর পানির মশক; সেটির মালিক সেটিকে পেয়ে যাবে।
৪৩৯২
বিচারক কর্তৃক বিবাদমান দু’দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
রাবি‘আহ্ ইবনু আবূ ‘আবদুর রহমান (রহঃ)
একই সূত্রে মালিক (রাঃ)-এর হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি বাড়তি বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এল, তখন আমি তার সঙ্গে ছিলাম। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে হারিয়ে যাওয়া জিনিস পাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। বর্ণনাকারী বলেন, আমর (রহঃ) তাঁর বর্ণিত হাদিসে বলেছেন যে, যখন এর কোন দাবিদার না আসে ততক্ষণ তা খরচ করে যাবে, মালিক এসে গেলে তা দিয়ে দিবে।
৪৩৯৩
বিচারক কর্তৃক বিবাদমান দু’দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু খালেদ জুহানী (রাঃ)
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এল… অতঃপর তিনি ইসমাঈল ইবনু জা'ফর (রহঃ)-এর অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি এও বলেছেন, “তখন তাঁর পবিত্র মুখমণ্ডল ও ললাট লাল হয়ে গেল এবং তিনি রাগান্বিত হলেন”। এবং আরও বাড়তি বলেছেন, ‘আর তা এক বছর ঘোষণা করবে’ যদি এর মালিক না আসে, তবে তা তোমার নিকট আমানত হিসেবে থাকবে।
৪৩৯৪
বিচারক কর্তৃক বিবাদমান দু’দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সাহাবা যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সোনার অথবা রূপার হারানো বস্তু প্রাপ্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেনঃ তুমি এর বন্ধন ও থলে চিনে রাখবে; তারপর একবছর পর্যন্ত এর ঘোষণা দিবে। এরপরও যদি তুমি মালিকের সন্ধান না পাও, তবে তা তুমি ব্যয় করে ফেলতে পার। কিন্তু তা তোমার নিকট আমানত হিসেবে থাকবে। যদি কোন সময় এর দাবিদার আসে তবে তা তুমি তাকে দিয়ে দেবে।তারপর সে হারানো উট সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেনঃ এতে তোমার কী? তুমি এ প্রসঙ্গ বাদ দাও। কেননা এর সাথে এর জুতা আছে এবং পানি সংরক্ষণের থলে আছে। সে নিজেই পানির ঘাটে যেতে পারে এবং বৃক্ষ থেকে খেতে পারে। অবশেষে একদিন তার মনিব তাকে পেয়ে যাবে। তারপর সে ছাগল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো। তিনি বললেনঃ তুমি সেটি নিয়ে যাও। কেননা, তা তুমি নেবে অথবা তোমার ভাই নেবে অথবা নেকড়ে খেয়ে ফেলবে।
৪৩৯৫
বিচারক কর্তৃক বিবাদমান দু’দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ)
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-কে হারানো উট সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। রাসূল (ﷺ)–এর প্রতি রাবী‘আহ (রহঃ) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, “তিনি এতে এত রাগান্বিত হলেন যে, তাঁর গাল দুটো রক্তিম বর্ণ হয়ে গেল” তারপর … অবশিষ্ট হাদিস উল্লিখিত বর্ণনাকারীদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি আরো অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, তারপর যদি এর মালিক আসে এবং তার থলে এবং (মুদ্রার) সংখ্যা ও বন্ধন সঠিকভাবে চিনতে পারে, তবে তাকে তা দিয়ে দিবে। নচেৎ তা তোমারই থাকবে।
৪৩৯৬
বিচারক কর্তৃক বিবাদমান দু’দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে হারানো বস্তু প্রাপ্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, তা তুমি এক বছর পর্যন্ত প্রচার করবে। এর মধ্যে যদি জানা না যায় তবে এর থলে ও বন্ধন চিনে রাখবে। তারপর তুমি তা খেতে পারবে। তারপর যদি তার মালিক আসে, তবে তা তাকে দিয়ে দিবে।
৪৩৯৭
বিচারক কর্তৃক বিবাদমান দু’দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
যাহ্হাক ইবন ‘উসমান (রহঃ)
এ একই সূত্রে বর্ণনা করেন। আর তিনি তাঁর হাদীসে বলেছেন যে, যদি জানা যায়, তবে তাকে তা দিয়ে দেবে। অন্যথায় তুমি তার থলে, তার বন্ধন, তার আবরণ ও (মুদ্রার) সংখ্যা চিনে রাখবে।
৪৩৯৮
বিচারক কর্তৃক বিবাদমান দু’দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
সুওয়াইদ ইবনু গাফালাহ্‌ (রহঃ)
আমি এবং যায়দ ইবন সুহান ও সালমান ইবন রাবিয়া যুদ্ধে গিয়েছিলাম। আমি একটি চাবুক পেয়ে তা উঠিয়ে নিলাম। তখন আমার সাথী দুইজন আমাকে বললেন, তুমি তা রেখে দাও। আমি বললাম, না বরং আমি এটির ঘোষণা করব। যদি এটির মালিক আসে তো ভাল, অন্যথায় আমি এটি নিয়ে ব্যবহার করব। আমি উভয়ের কথা প্রত্যাখ্যান করলাম।তারপর যখন আমরা যুদ্ধ থেকে ফিরে এলাম, তখন এক সময় আমার হজ্জে যাওয়ার সুযোগ এলো। তখন আমি মদিনায় গেলাম এবং উবাই ইবন কা'ব (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম। আমি চাবুকের ঘটনা এবং সঙ্গীদের কথা তাঁকে বললাম। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর যামানায় একটি থলে পেয়েছিলাম। তাতে একশ দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) ছিল। আমি সেটি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর নিকট এলাম। তিনি বললেনঃ তুমি তা এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দেবে। বর্ণনাকারী বললেন, আমি সেটির ঘোষণা দিলাম, কিন্তু তা চিনে নিতে পারে এমন কাউকে পেলাম না। পরে আমি তাঁর কাছে এলাম, তখন তিনি বললেনঃ আরো এক বছর পর্যন্ত প্রচার কর। তারপরও আমি তার কোন দাবিদার পেলাম না। তারপর আবার আমি তাঁর কাছে এলাম। তখন তিনি বললেনঃ আরো এক বছর তার ঘোষণা দাও। তারপরও আমি কাউকে সেটির দাবিদার পেলাম না। তিনি বললেনঃ তুমি এটির সংখ্যা, থলে ও তার বন্ধন সংরক্ষণ করে রাখবে। যদি এর মালিক আসে, তবে ভাল। অন্যথায় তুমি তা ভোগ করবে। তারপর তা আমি ভোগ করলাম। তারপর যখন মক্কায় এলাম তখন সেটির মালিকের সাক্ষাৎ পেলাম। বর্ণনাকারী সন্দেহ করে বলেন, আমার খেয়াল নেই যে, তিনি কি তিন বছরের কথা বলেছিলেন, না এক বছরের।
৪৩৯৯
বিচারক কর্তৃক বিবাদমান দু’দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
সুওয়াইদ ইবনু গাফালাহ্‌ (রাঃ)
একদা আমি যায়দ ইবনু সুহান ও সালমান ইবন রাবিয়া (রাঃ)-এর সাথে বের হলাম এবং আমি একটি চাবুক পেলাম। তারপর তিনি উল্লিখিত হাদিসের অনুরূপ.....(তা আমি ব্যবহার করলাম) পর্যন্ত বর্ণনা করেন। শু’আবাহ (রহঃ) বলেন, পরে আমি তাঁকে দশ বছর পর বলতে শুনেছি যে, তিনি সেটা এক বছর পর্যন্ত প্রচার করেছিলেন।
৪৪০০
বিচারক কর্তৃক বিবাদমান দু’দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
কুতাইবাহ্ ইবনু সা’ঈদ
কুতাইবাহ ইবনু সাঈদ, আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ, ইবনু নুমায়র মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম ও আবদুর রহমান ইবনু বাশ্‌র (রহঃ) সকলেই সালামা ইবনু কুহাইল (রহঃ) হতে একই সূত্রে শু'বা (রহঃ) এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। উল্লিখিত সকলের বর্ণিত হাদীসেই তিন বছর কথাটি উল্লেখ আছে। আর সুফিয়ান, যায়দ ইবনু আবূ উনাইসাহ ও হাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) এর হাদীসে রয়েছে, "যদি কোন ব্যক্তি এরপর আসে এবং তার গণনা, থলে ও তার বন্ধনের বর্ণনা দিতে পারে, তবে তাকে তা দিয়ে দিবে।" আর সুফিয়ান (রহঃ) ..... ওয়াকী (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে একটু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, অন্যথায় তা তোমার মালের মতই। আর ইবনু নুমায়র (রহঃ) এর বর্ণনায় "অন্যথায় তুমি তা ব্যবহার করতে পারবে" বর্ণিত হয়েছে।