৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৪১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৪০১
বিচারক কর্তৃক বিবাদমান দু’দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু ‘উসমান তাইমী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাজীদের হারানো বস্তু তুলে নিতে নিষেধ করেছেন।
৪৪০২
বিচারক কর্তৃক বিবাদমান দু’দলের মধ্যে মীমাংসা করে দেয়া উত্তম পরিচ্ছেদ নাই
যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হারানো বস্তু উঠিয়ে রাখল, সে যদি তা প্রচার না করে তবে সে পথভ্রষ্ট।
৪৪০৩
মালিকের বিনানুমতিতে কোন পশুর দুধ দোহন হারাম পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কেউ যেন কোন ব্যক্তির পশুর দুধ তার অনুমতি ব্যতীত দোহন না করে। তোমাদের কেউ কি এটা পছন্দ করবে যে, তার কুটিরে কিছু সঞ্চিত হোক, তারপর অন্য কেউ তার ভাণ্ডার ভেঙে খাদ্য সামগ্রী বের করে নিয়ে যাক? এমনিভাবে পশুদের স্তন তাদের ধনাগার স্বরূপ, তাতে তারা তাদের খাদ্য সামগ্রী সঞ্চয় করে। অতএব, কেউ যেন কারো পশুর দুধ মালিকের বিনানুমতিতে দোহন না করে।
৪৪০৪
মালিকের বিনানুমতিতে কোন পশুর দুধ দোহন হারাম পরিচ্ছেদ নাই
কুতাইবাহ্ ইবনু সা’ঈদ মুহাম্মাদ ইবনু রুম্হ আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্
নবী (ﷺ) থেকে মালিক (রাঃ)–এর হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তাদের হাদিসে فَيُنْتَثَلَ রয়েছে। কিন্তু লাইস ইবনে সা’দ (রহঃ) তাঁর বর্ণিত হাদিসে “তাঁর খাদ্য সামগ্রী স্থানান্তর করে নিয়ে যায়” অংশটি মালিক (রাঃ)–এর বর্ণনার অনুরূপ বর্ণিত রয়েছে।
৪৪০৫
মেহমানদের আপ্যায়ন এবং অনুরূপ বিষয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ শুরাইহ্‌ ‘আদাবী (রাঃ)
আমার দুই কান শুনেছে এবং দুই চক্ষু দেখেছে, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে সে যেন ভালোভাবে নিজ মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।তখন সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! ভালোভাবে মানে কি? তখন তিনি বললেন, তাকে এক দিন ও এক রাত আপ্যায়ন করবে। আর (সাধারণভাবে) মেহমানদারির সময়কাল তিন দিন। এর চাইতে বেশি দিন মেহমানদারি করা তার জন্য সদাকা স্বরূপ। তিনি আরও বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে।
৪৪০৬
মেহমানদের আপ্যায়ন এবং অনুরূপ বিষয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ শুরাইহ্‌ খুযা’ঈ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মেহমানদারী তিন দিন এবং উত্তমরূপে মেহমানদারী এক দিন ও এক রাত্রি। কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের নিকট অবস্থান করে তাকে পাপে নিপতিত করবে।তখন সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কিভাবে সে তাকে পাপে নিপতিত করবে? তিনি বললেন, সে (মেহমান) তার নিকট (এমন বেশি দিন) থাকবে, অথচ তার (মেজবানের) এমন সম্বল নেই যা দ্বারা সে তার মেহমানদারী করবে।
৪৪০৭
মেহমানদের আপ্যায়ন এবং অনুরূপ বিষয় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ শুরায়হ্ খুযা‘ঈ (রাঃ)
আমার দুই কান শুনেছে, আমার দুই চোখ দেখেছে এবং আমার অন্তর স্মরণ রেখেছে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথা বলেছিলেন। তারপর তিনি লায়স-এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন, কারো জন্য বৈধ নয় তার ভাইয়ের নিকট এত সময় অবস্থান করা, যাতে সে তাকে পাপে ফেলে দেয়। বাকী অংশ ওয়াকী (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।
৪৪০৮
মেহমানদের আপ্যায়ন এবং অনুরূপ বিষয় পরিচ্ছেদ নাই
উকবাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ)
আমরা বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি আমাদের (বিভিন্ন স্থানে) পাঠিয়ে থাকেন। আমরা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে অবতরণ করি, যারা আমাদের মেহমানদারী করে না। এ সম্পর্কে আপনি কী মনে করেন?”রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের বললেন: “যদি তোমরা কোন সম্প্রদায়ের কাছে অবতরণ কর, আর তারা তোমাদের জন্য এমন সব আসবাবপত্র প্রদান করার হুকুম করে যা মেহমানদারীর জন্য প্রয়োজন, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে। আর যদি তারা তা না করে তবে তোমরা তাদের থেকে মেহমানদারীর হক আদায় করে নেবে, যা তাদের করণীয়।
৪৪০৯
নিজের প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদের দ্বারা অন্যের সহায়তা করা মুসতাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ)
একদা আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে এক সফরে ছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি সওয়ারিতে আরোহণ করে তাঁর কাছে এলো এবং ডানদিকে ও বামদিকে তাকাতে লাগলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যার কাছে আরোহণের কোন অতিরিক্ত বাহন থাকে, সে যেন তা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যার কোন বাহন নেই। আর যার কাছে অতিরিক্ত খাদ্যদ্রব্য থাকে সে যেন তা দিয়ে তাকে সাহায্য করে যার খাদ্যদ্রব্য নেই। তারপর তিনি বিভিন্ন প্রকার সম্পদ সম্পর্কে এমনিভাবে বললেন। এমনকি আমাদের মনে হল যে, অতিরিক্ত সম্পদের মধ্যে আমাদের কারো কোন অধিকার নেই।
৪৪১০
যখন খাদ্যদ্রব্য পরিমাণে কম হয় তখন সমস্ত খাদ্যদ্রব্য একত্রে মিলিয়ে ফেলা এবং তদদ্বারা একে অন্যকে সাহায্য করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
সালামাহ্ (রহঃ)
আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে এক যুদ্ধে গিয়েছিলাম। তখন আমাদের মধ্যে খাদ্যের অভাব দেখা দিল। অবশেষে আমাদের কিছু সাওয়ারির বাহন জবেহ করার ইচ্ছা করেছিলাম। তখন নবী (ﷺ)-এর নির্দেশে আমরা আমাদের খাদ্যদ্রব্য একত্রিত করলাম। আমরা একটি চামড়া বিছালাম এবং তাতে লোকদের খাদ্যদ্রব্য জমা করা হল।বর্ণনাকারী বলেন, আমি সেটির প্রশস্ততা অনুমান করার জন্য দাঁড়ালাম এবং আমি আন্দাজ করলাম সেটি একটি ছাগল বসার স্থানের সমান। আর আমরা সংখ্যায় ছিলাম চৌদ্দশ। রাবী বলেন, আমরা সকলেই তৃপ্তির সাথে খেলাম। তারপর আমাদের নিজ নিজ খাদ্য রাখার থলে পূর্ণ করে নিলাম।এরপর নবী (ﷺ) বললেন: ওজুর জন্য কি পানি আছে? বর্ণনাকারী বলেন, এক ব্যক্তি তার পাত্রে সামান্য পানি নিয়ে এগিয়ে এল। তিনি (ﷺ) তা একটি বড় পাত্রে ঢেলে দিলেন। এরপর আমরা চৌদ্দশ লোক সকলেই তার থেকে পানি ঢেলে ঢেলে ওজু করলাম।তারপর আরো আটজন লোক এসে বলল, ওজুর জন্য কি পানি আছে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: ওজুর পানি সমাপ্ত হয়ে গেছে।