৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৩৩/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৩২১
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু হাতিম (রহঃ) দাঊদ (রহঃ)
উল্লেখিত হাদীসের মর্মার্থ বর্ণনা করেন। তিনি তাঁর হাদীসে উল্লেখ করেন যে, এরপর নবী (ﷺ) সন্ধ্যাবেলায় দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা শেষে বললেন, তাদের কী পরিণতি হবে? যখন আমরা যুদ্ধে গমন করি তখন তাদের কেউ কেউ আমাদের পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের শব্দের ন্যায় আওয়াজ করে। (অর্থাৎ-ব্যভিচার করে।) কিন্তু তিনি তাঁর বর্ণনায় ‘আমাদের পরিবারবর্গের মধ্যে’ কথাটি বর্ণনা করেননি।
৪৩২২
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
সুরায়জ ইবনু ইউনুস ও আবূ বাক্র ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) দাঊদ (রহঃ)
উল্লিখিত হাদীসের অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন। তবে সুফিয়ান (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে (অতএব, সে তিনবার ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি করেছে) এ কথা উল্লেখ রয়েছে।
৪৩২৩
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু ‘আলা হামদানী (রহঃ) সুলাইমান ইবনু বুরাইদাহ্ (রহঃ)
মা’ইয ইবনু মালিক (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তোমার দুর্ভাগ্য। তুমি প্রত্যাবর্তন কর এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাওবাহ কর।” বর্ণনাকারী বলেন যে, লোকটি অল্প দূর চলে গিয়ে আবার ফিরে এলো। এরপর বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। বর্ণনাকারী বলেন যে, লোকটি অল্প দূর গিয়ে আবার ফিরে আসলো এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তোমার দুর্ভাগ্য। তুমি প্রত্যাবর্তন কর এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাওবাহ কর।”তখন নবী (ﷺ) পূর্বের মতই কথা বললেন, যখন চতুর্থবার মা’ইয একই কথা বলল, ‘আমাকে পবিত্র করুন হে আল্লাহর রসূল!’ রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, “কোন বিষয়ে আমি তোমাকে পবিত্র করবো?” তখন সে বলল, ‘যিনার পাপ হতে।’ সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার (সঙ্গী-সাথীদের নিকট) জিজ্ঞেস করলেন, “তার মধ্যে কি কোনো পাগলামী আছে?” তখন তাঁকে জানানো হলো যে, সে পাগল নয়। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “সে মদ্যপান করেছে কি?” তখন এক ব্যক্তি দণ্ডায়মান হলো এবং তার মুখ শুঁকে দেখল, সে তার মুখ থেকে মদের গন্ধ পেল না।বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি যিনা করেছ?” প্রতি উত্তরে সে বলল, ‘জি-হ্যাঁ।’ অতএব রসূলুল্লাহ (ﷺ) তার প্রতি (ব্যভিচারের শাস্তি প্রদানের) নির্দেশ দিলেন। এরপর তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো। সুতরাং এ ব্যাপারে জনগণ দুই দলে বিভক্ত হয়ে গেল। একদল বলতে লাগল, ‘নিশ্চয় সে (মা’ইয) ধ্বংস হয়ে গেছে। নিশ্চয় তার পাপ কার্যত তাকে ঘিরে ফেলেছে।’ দ্বিতীয় দল বলতে লাগল, ‘মা’ইয-এর তাওবার চেয়ে উত্তম (তাওবার অনুশোচনা) আর হয় না। সে প্রথমে নবী (ﷺ)-এর কাছে আগমন করলো এবং নিজের হাত তাঁর হাতের উপর রাখলো। এরপর বলল, আমাকে পাথর দ্বারা হত্যা করুন।’বর্ণনাকারী বলেন যে, দুই-তিন দিন পর্যন্ত মানুষ কেবল এ কথাই বলাবলি করছিল। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) আগমন করলেন এবং দেখলেন যে, সাহাবীগণ বসে আছেন। তিনি প্রথমে সালাম দিলেন, এরপর বসলেন এবং বললেন, “তোমরা মা’ইয ইবনু মালিক-এর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর।” তখন তাঁরা বললেন, ‘আল্লাহ মা’ইয ইবনু মালিককে ক্ষমা করুন।’ এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “সে এমনভাবে তাওবাহ করেছে, যদি তা একটি উম্মতের লোকদের মাঝে বণ্টিত হয় তবে সকলের জন্যই তা যথেষ্ট হতো।”বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তাঁর নিকট আজদ গোত্রের গামিদ পরিবারের এক মহিলা আগমন করলো এবং বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন।’ তখন তিনি বললেন, “তোমার দুর্ভাগ্য তুমি ফিরে যাও এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাওবাহ কর।” তখন মহিলা বলল, ‘আপনি কি আমাকে সেভাবে ফিরিয়ে দিতে চান যেভাবে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মা’ইয ইবনু মালিককে?’ তখন তিনি বললেন, “তোমার কী হয়েছে?” মহিলা বলল, ‘আমি ব্যভিচারের কারণে গর্ভবতী হয়েছি।’ তিনি (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি এমন কাজ করেছ?” সে প্রতি উত্তরে বলল, ‘জি-হ্যাঁ।’ তখন তিনি তাকে বললেন, “তোমার গর্ভের সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত তুমি অপেক্ষা কর।”বর্ণনাকারী বলেন যে, এক আনসারী ব্যক্তি তার গর্ভের সন্তান প্রসবকাল পর্যন্ত তার দায়িত্ব গ্রহণ করলো। বর্ণনাকারী বলেন, কিছুদিন পর ঐ ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, ‘গামিদীয় মহিলা তো সন্তান প্রসব করেছেন।’ তখন তিনি বললেন, “এমতাবস্থায় তার ছোট শিশু সন্তানকে রেখে আমি তাকে রজম করতে পারি না। কেননা তার শিশু সন্তানকে দুধপান করানোর মত কেউ নেই।” তখন এক আনসারী লোক দাঁড়িয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমি তার দুধপান করানোর দায়িত্ব নিলাম।’ তখন তাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করার আদেশ করলেন।
৪৩২৪
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
বুরাইদাহ্ (রাঃ)
মাঈয ইবনু মালিক আসলামী নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, “হে আল্লাহর রসূল! নিশ্চয়ই আমি আমার আত্মার উপর যুলুম করেছি, অর্থাৎ ব্যভিচার করেছি। আমি চাই যে, আপনি আমাকে পবিত্র করবেন।” তখন তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন।পরের দিন সে আবার তাঁর (নবী ﷺ) কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। এবারও তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক ব্যক্তিকে তার সম্প্রদায়ের লোকের কাছে পাঠালেন। লোক সেখানে গিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কি মনে করেন যে, তার মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে এবং সে মন্দ কাজে লিপ্ত হয়েছে? তারা প্রতি উত্তরে বললেন, আমরা তো তার মস্তিষ্কের বিকৃতি সম্পর্কে কোন কিছু জানি না। আমরা তো জানি যে, সে সম্পূর্ণ সুস্থ প্রকৃতির।এরপর মাঈয তৃতীয়বার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আগমন করলো। তখন তিনি আবারও একজন লোককে তার গোত্রের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রেরণ করলেন। তখনও তারা তাঁকে জানালো যে, আমরা তার সম্পর্কে খারাপ কোন কিছু জানি না এবং তার মস্তিষ্কেরও কোন বিকৃতি ঘটেনি। এরপর যখন চতুর্থবার সে আগমন করলো, তখন তার জন্য একটি গর্ত খনন করা হলো এবং তিনি (ﷺ) তার প্রতি (ব্যভিচারের শাস্তি প্রদানের) নির্দেশ প্রদান করলেন। সুতরাং তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো।রাবী বলেন, এরপর গামিদীয়া এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে পবিত্র করুন। তখন তিনি (ﷺ) তাকে ফিরিয়ে দিলেন।পরবর্তী দিন আবার ঐ মহিলা আগমন করলো এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আপনি কেন আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। আপনি সম্ভবত আমাকে ঐভাবে ফিরিয়ে দিতে চান, যেমনভাবে আপনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মাঈযকে? আল্লাহর শপথ করে বলছি, “নিশ্চয়ই আমি গর্ভবতী।” তখন তিনি বললেন, তুমি যদি ফিরে যেতে না চাও, তবে আপাততঃ এখনকার মত চলে যাও এবং প্রসবকাল পর্যন্ত অপেক্ষা কর।রাবী বলেন, এরপর যখন সে সন্তান প্রসব করলো- তখন ভূমিষ্ঠ সন্তানকে এক টুকরা কাপড়ের মধ্যে নিয়ে তাঁর কাছে আগমন করলো এবং বলল, এ সন্তান আমি প্রসব করেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যাও তাকে (সন্তানকে) দুধপান করাও। দুধপান করানোর সময় পার হলে পরে এসো। এরপর যখন তার দুধপান করানোর সময় শেষ হলো তখন ঐ মহিলা শিশু সন্তানটিকে নিয়ে তাঁর কাছে মহিলাটি আবার আগমন করলো-এমন অবস্থায় যে, শিশুটির হাতে এক টুকরা রুটি ছিল। এরপর বলল, হে আল্লাহর নবী! এইতো সেই শিশু, যাকে আমি দুধপান করানোর কাজ শেষ করেছি। সে এখন খাদ্য খায়। তখন শিশু সন্তানটিকে তিনি কোন একজন মুসলিমকে প্রদান করলেন। এরপর তার প্রতি (ব্যভিচারের শাস্তি) প্রদানের নির্দেশ দিলেন। মহিলার বক্ষ পর্যন্ত গর্ত খনন করানো হলো এরপর জনগণকে (তার প্রতি পাথর নিক্ষেপের) নির্দেশ দিলেন। তারা তাকে পাথর মারতে শুরু করলো।খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) একটি পাথর নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং মহিলার মাথায় নিক্ষেপ করলেন, তাতে রক্ত ছিটকে পড়লো খালিদ (ইবনু ওয়ালিদ) (রাঃ)-এর মুখমণ্ডলে। তখন তিনি মহিলাকে গালি দিলেন। নবী (ﷺ) তার গালি শুনতে পেলেন। তিনি বললেন, সাবধান! হে খালিদ! সে মহান আল্লাহর শপথ, যাঁর হস্তে আমার জীবন, জেনে রেখো! নিশ্চয়ই সে এমন তাওবা করেছে, যদি কোন “হককুল ইবাদ” বিনষ্টকারী ব্যক্তিও এমন তাওবা করতো, তবে তারও ক্ষমা হয়ে যেত। এরপর তার জানাজার সালাত আদায়ের নির্দেশ দিলেন। তিনি তার জানাজায় সালাত আদায় করলেন। এরপর তাকে দাফন করা হলো।
৪৩২৫
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
জুহাইনা গোত্রের এক মহিলা নবী (ﷺ)-এর নিকট আগমন করল। সে বলল, ‘হে আল্লাহর নবী! আমি হদ্দ (শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত ব্যভিচারের শাস্তি)-এর উপযোগী হয়েছি। অতএব আমার উপর তা কার্যকর করুন।’তখন আল্লাহর নবী (ﷺ) তার অভিভাবককে ডাকলেন এবং বললেন, ‘তাকে ভালোভাবে দেখাশোনা করো। তারপর সে যখন সন্তান প্রসব করবে তখন তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে।’সে তাই করলো। এরপর আল্লাহর নবী (ﷺ) তার প্রতি (শাস্তি) প্রদানের নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলার কাপড় শক্ত করে বাঁধা হলো। এরপর তিনি শাস্তি কার্যকর করার আদেশ দিলেন। তাকে পাথর মারা হলো। অতঃপর তিনি তার উপর জানাজার সালাত আদায় করলেন।তখন উমর (রাঃ) বললেন, ‘হে আল্লাহর নবী! আপনি তার (জানাজার) সালাত আদায় করলেন অথচ সে তো ব্যভিচার করেছিল?’তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই সে এমনভাবে তাওবা করেছে, যদি তা মদীনার সত্তরজন লোকের মধ্যে বণ্টিত হতো, তবে তাদের জন্য তাই যথেষ্ট হতো। তুমি কি তার চেয়ে অধিক উত্তম তাওবা কারী কখনও দেখেছ? সে তো নিজের জীবন আল্লাহর জন্য দিয়ে দিয়েছে।’
৪৩২৬
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
ইয়াহ্ইয়া ইবনু আবূ কাসির (রহঃ)
একই সূত্রে উল্লেখিত হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
৪৩২৭
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ এবং যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ)
তাঁরা বলেন, এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, আপনি আমার ব্যাপারে আল্লাহর কিতাব অনুসারে হুকুম প্রদান করুন।’ তখন তার প্রতিপক্ষ অপর এক ব্যক্তি যে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ছিল বলল, ‘হ্যাঁ, আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করুন, তবে এর আগে আমাকে (কথা বলার) অনুমতি দিন।’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘বলো।’ লোকটি বলল, ‘আমার এক ছেলে ঐ ব্যক্তির বাড়িতে চাকর ছিল। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করেছে। অতএব, আমাকে সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, আমার ছেলের উপর রজম (পাথর নিক্ষেপ)-এর শাস্তি আরোপিত হবে। সুতরাং আমি সেটার বিনিময় প্রদান করলাম একশ’ ছাগল ও একটি দাসী। এরপর আমি এ ব্যাপারে আলিমগণের কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তাঁরা আমাকে বললেন যে, আমার ছেলের উপর একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছর কাল নির্বাসনের হুকুম বলবৎ হবে। আর ঐ মহিলার উপর রজম (পাথর নিক্ষেপ)-এর হুকুম কার্যকর হবে।’ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন, ‘সে মহান সত্তার শপথ! যাঁর হস্তে আমার জীবন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে নিষ্পত্তি করে দেব। সুতরাং দাসী এবং ছাগল প্রত্যাখ্যাত হবে (অর্থাৎ-এগুলো তুমি ফিরিয়ে নেবে)। আর তোমার ছেলের উপর একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসনের হুকুম কার্যকর হবে। হে উনায়স (রাঃ)! (একজন সাহাবী) তুমি আগামীকাল সকালে ঐ মহিলার কাছে গমন করবে (এবং ঐ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবে।) যদি সে তা স্বীকার করে তবে তাকে রজম (পাথর নিক্ষেপ) করে হত্যা করবে।’ বর্ণনাকারী বলেন, পরদিন সকালে তিনি মহিলার কাছে গেলেন (এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন)। সে তা স্বীকার করলো। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মহিলার প্রতি শরীয়তের হুকুম কার্যকর করার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে পাথর মারা হল।
৪৩২৮
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
যুহরী (রহঃ) হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
৪৩২৯
ইয়াহুদী জিম্মী ব্যভিচারীকে রজম করা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট একজন ইয়াহুদি পুরুষ এবং একজন ইয়াহুদি মহিলাকে আনা হল, যারা উভয়েই ব্যভিচার করেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইয়াহুদি সম্প্রদায়ের কাছে গেলেন এবং তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা তাওরাতে ব্যভিচারী ব্যক্তির শাস্তি কী পেয়েছ?তারা বলল, এতে আমরা উভয়ের মুখমণ্ডলে কালি লাগিয়ে দেই এবং উভয়কে বিপরীতমুখী করে উটের উপর উঠিয়ে পরিভ্রমণ করাই। (এ হল তাওরাতে বর্ণিত শাস্তি)রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাহলে তোমরা তাওরাত কিতাব নিয়ে এসো, যদি তোমরা এ ব্যাপারে সত্যবাদী হয়ে থাক। তারা তখন তাওরাত কিতাব নিয়ে এলো এবং পাঠ করতে শুরু করল। যখন ব্যভিচারের শাস্তির আয়াত নিকটবর্তী হল তখন যে যুবকটি তাওরাত পাঠ করছিল, সে নিজের হাত পাথর নিক্ষেপের আয়াতের উপর রেখে দিল এবং রক্ষিত হাতের আগের-পেছনের অংশ পাঠ করলো। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) (তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলেন) তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি তাকে নির্দেশ করুন- যেন সে নিজের হাত উঠিয়ে ফেলে। সে তার হাত উঠিয়ে নিল। হঠাৎ দেখা গেল যে, এর নিচেই পাথর নিক্ষেপের আয়াত রয়েছে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উভয়কে পাথর নিক্ষেপের নির্দেশ দিলেন। সুতরাং উভয়কে পাথর মারা হল।আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেন যে, যারা উভয়কে পাথর মেরেছিল, আমিও তাদের মধ্যে একজন ছিলাম। আমি দেখতে পেলাম যে, পুরুষটি মহিলাটিকে পাথরের আঘাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে। (অর্থাৎ- ভালবাসার আকর্ষণে নিজেই তার পাথরের আঘাত গ্রহণ করছে)।
৪৩৩০
ইয়াহুদী জিম্মী ব্যভিচারীকে রজম করা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুইজন ইয়াহুদিকে ব্যভিচারের অপরাধে রজম (পাথর নিক্ষেপ) করেন। তন্মধ্যে একজন ছিল পুরুষ এবং অপরজন মহিলা, যারা উভয়েই ব্যভিচার করেছিল। ইয়াহুদিরা উভয়কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে এসেছিল। এরপর তিনি উল্লিখিত হাদিসের অনুরূপ শেষ পর্যন্ত হাদিসটি বর্ণনা করেন।