৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৩১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৩০১
চুরির শাস্তি ও তার পরিমাণ পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
এ সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি (‏ "‏ إِنْ سَرَقَ حَبْلاً وَإِنْ سَرَقَ بَيْضَةً ‏"‏ ‏) (যদিও সে দড়ি চুরি করে এবং ডিম চুরি করে) কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।
৪৩০২
সম্ভ্রান্ত চোর এবং অন্যান্যদের হাত কাটা এবং ‘হুদূদ’ (শারী’আত কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি)- এর ব্যাপারে সুপারিশ নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
মাখজুমী গোত্রের একজন মহিলা চুরি করলে তার (প্রতি হদ প্রয়োগের ব্যাপারে) কুরাইশগণ চিন্তান্বিত হয়ে পড়ল। তাঁরা বলল, কে এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে কথা বলতে (সুপারিশ করতে) পারে? তখন তাঁরা বললেন, এ ব্যাপারে উসামা (রাঃ) ব্যতিত আর কারো হিম্মত নেই। তিনি হলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রিয় ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে তিনি এ ব্যাপারে কথা বললেন।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদ্দের ব্যাপারে সুপারিশ করতে চাও? অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণ ধ্বংস হয়েছে এ কারণে যে, তাদের মধ্যে যখন কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যদি কোন দুর্বল লোক চুরি করত, তবে তারা তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমা-ও চুরি করত, তবুও নিশ্চয়ই আমি তার হাত কেটে দিতাম।ইবনু রুমহ (রহঃ) বর্ণিত অপর এক হাদীসে ‘নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তীগণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে’ বাক্যটি অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে।
৪৩০৩
সম্ভ্রান্ত চোর এবং অন্যান্যদের হাত কাটা এবং ‘হুদূদ’ (শারী’আত কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি)- এর ব্যাপারে সুপারিশ নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
কুরাইশরা এক মহিলার ব্যাপারে চিন্তিত হয়ে পড়লো, যে মহিলাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময়কালে মক্কা বিজয়ের সময় চুরি করেছিল। তখন তারা বলল, এ ব্যাপারে কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট কথা (সুপারিশ) বলবে? তখন তারা বলল, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রিয়পাত্র উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) ব্যতীত আর কার হিম্মত থাকতে পারে? তিনি হলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খুবই প্রিয় পাত্র। অতঃপর উক্ত মহিলাকে নিয়ে উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে এসে তার ব্যাপারে কথা বললেন। এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ‘হদ’ (শাস্তি)-এর ব্যাপারে সুপারিশ করতে চাও? তখন উসামা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করুন।যখন সন্ধ্যা হল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে এক ভাষণ দিলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করলেন, অতঃপর বললেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের ধ্বংস করা হয়েছে এজন্য যে, যখন তাদের মধ্যে কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করতো, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন তাদের মধ্যে দুর্বল লোক চুরি করতো, তখন তার উপর ‘হদ’ প্রয়োগ করতো। সে মহান আল্লাহর কসম! যাঁর হাতে আমার জীবন! যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমা-ও চুরি করতো, তবে অবশ্যই আমি তার হাত কেটে দিতাম। এরপর যে মহিলা চুরি করেছিল, তিনি তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। সুতরাং তার হাত কেটে দেয়া হল।ইউনুস (রহঃ) আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, অতঃপর সে মহিলা খাঁটি তওবা করল এবং এরপরে তার বিয়ে হলো। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এ ঘটনার পর ঐ মহিলা প্রায়ই আমার কাছে আসতো। তাঁর কোন প্রয়োজন থাকলে আমি তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে তুলে ধরতাম।
৪৩০৪
সম্ভ্রান্ত চোর এবং অন্যান্যদের হাত কাটা এবং ‘হুদূদ’ (শারী’আত কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি)- এর ব্যাপারে সুপারিশ নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
এক মাখযুমী মহিলা বিভিন্ন ঋণ নিয়ে পরে সে তা অস্বীকার করত। এতে নবী (ﷺ) তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। এরপর সে মহিলার পরিবারবর্গ উসামা (রাঃ)-এর কাছে এসে এ ব্যাপারে কথোপকথন করলো। তিনি এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে কথা বললেন। অতঃপর তিনি লায়স ও ইউনুস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৪৩০৫
সম্ভ্রান্ত চোর এবং অন্যান্যদের হাত কাটা এবং ‘হুদূদ’ (শারী’আত কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি)- এর ব্যাপারে সুপারিশ নিষিদ্ধ পরিচ্ছেদ নাই
জাবির (রাঃ)
একদা এক মাখযুমী মহিলা চুরি করল। অতঃপর তাকে (নিয়ে এসে) নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিণী উম্মু সালামা (রাঃ)-এর মাধ্যমে ক্ষমা চাইল। নবী (ﷺ) তখন বললেনঃ “আল্লাহর কসম! যদি ফাতিমাও চুরি করত, তবে আমি তার হাত কেটে দিতাম।” এরপর মহিলাটির হাত কেটে দেয়া হল।
৪৩০৬
ব্যভিচারের শাস্তি পরিচ্ছেদ নাই
উবাদাহ্‌ ইবনু সামিত (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা আমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর, তোমরা আমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা মহিলাদের জন্য একটি পন্থা বের করেছেন। যদি কোনো অবিবাহিত পুরুষ কোনো কুমারী মেয়ের সাথে ব্যভিচার করে তবে একশ বেত্রাঘাত কর এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন দাও। আর যদি বিবাহিত ব্যক্তি কোনো বিবাহিতা মহিলার সঙ্গে ব্যভিচার করে, তবে তাদেরকে প্রথমত একশ বেত্রাঘাত করবে, এরপর পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবে।
৪৩০৭
ব্যভিচারের শাস্তি পরিচ্ছেদ নাই
মানসূর (রহঃ)
উক্ত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪৩০৮
ব্যভিচারের শাস্তি পরিচ্ছেদ নাই
উবাদাহ্ ইবনু সামিত (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওপর যখন ওহী অবতীর্ণ হতো, তখন তাঁকে ক্লান্ত মনে হতো এবং তাঁর মুখমণ্ডলে ক্লান্তির চিহ্ন ফুটে উঠত। বর্ণনাকারী বলেন, একদা যখন তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হলো তখন তাঁর অবস্থা ঐরূপ হলো।এরপর যখন অবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা আমার কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা মহিলাদের জন্য একটি পন্থা বের করে দিয়েছেন। যদি কোন বিবাহিত পুরুষ কোন বিবাহিতা মহিলার সাথে এবং কোন অবিবাহিত পুরুষ কুমারী মেয়ের সাথে ব্যভিচার করে, তবে বিবাহিত ব্যক্তিকে একশ বেত্রাঘাত করবে, এরপর পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করবে। আর অবিবাহিত পুরুষ বা মহিলাকে একশ বেত্রাঘাত করবে, এরপর তাদেরকে এক বছরের জন্য নির্বাসন দেবে।
৪৩০৯
ব্যভিচারের শাস্তি পরিচ্ছেদ নাই
কাতাদাহ্ (রাঃ)
একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাদের উভয়ের বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, الْبِكْرُ يُجْلَدُ وَيُنْفَى وَالثَّيِّبُ يُجْلَدُ وَيُرْجَمُ [অবিবাহিত (পুরুষ বা মহিলা)-কে বেত্রাঘাত করা হবে এবং নির্বাসন দেয়া হবে। আর বিবাহিত (পুরুষ বা মহিলা) –কে প্রথমত বেত্রাঘাত করা হবে এরপর পাথর মেরে হত্যা করা হবে]। কিন্তু তিনি سَنَةً وَلاَ مِائَةً এ কথাটি তাঁর হাদীসে উল্লেখ করেননি।
৪৩১০
ব্যভিচারের জন্য বিবাহিতকে রজম করা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মিম্বারের উপর বসা অবস্থায় বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন এবং তাঁর উপর কিতাব (কুরআন) অবতীর্ণ করেছেন। আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয়ের মধ্যে آيَةُ الرَّجْمِ রয়েছে। তা আমরা পাঠ করেছি, স্মরণ রেখেছি এবং হৃদয়ঙ্গম করেছি। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ব্যভিচারের জন্য রজম করার হুকুম বাস্তবায়ন করেছেন। তাঁর পরবর্তী সময়ে আমরাও (ব্যভিচারের জন্য) রজমের হুকুম বাস্তবায়িত করেছি। আমি ভয় করছি যে, দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর কেউ এ কথা হয়তো বলবে যে, আমরা আল্লাহর কিতাবে (ব্যভিচারের শাস্তি) রজমের নির্দেশ পাই না। তখন আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত এ ফরজ কাজটি পরিত্যাগ করে তারা মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করে ফেলবে। নিশ্চয়ই আল্লাহর কিতাবে বিবাহিত নর-নারীর ব্যভিচারের শাস্তি رجم-এর হুকুম সাব্যস্ত। যখন সাক্ষ্য দ্বারা তা প্রমাণিত হয়, কিংবা গর্ভবতী হয়, অথবা সে নিজে স্বীকার করে।