৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৩২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৩১১
ব্যভিচারের জন্য বিবাহিতকে রজম করা পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
উক্ত সনদে অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৪৩১২
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
মুসলিমদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এলো। তখন তিনি মসজিদে বসে ছিলেন। সে তখন উচ্চৈঃস্বরে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি ব্যভিচার করেছি।’ তখন তিনি (ﷺ) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সে লোকটি তাঁর (ﷺ)-এর চেহারার দিকে গিয়ে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি ব্যভিচার করেছি।’ এবারও তিনি (ﷺ) তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে সে চারবার স্বীকারোক্তি প্রদান করল। এরপর সে যখন চারবার নিজের উপর সাক্ষ্য দিল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ডাকলেন এবং বললেন, ‘তোমার মধ্যে কি পাগলামি আছে?’ সে বলল, ‘না।’ তিনি বললেন, ‘তুমি কি বিবাহিত?’ সে বলল, ‘হ্যাঁ।’ তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ‘তোমরা তাকে নিয়ে যাও এবং পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা কর।’ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে যিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন তিনি আমার কাছে বলেন যে, জাবির (রাঃ) বলেছেন, পাথর নিক্ষেপকারীদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। আমরা তখন তাকে (ঈদের) সালাত পড়ার স্থানে পাথর নিক্ষেপ করলাম। যখন তার উপর পাথর পড়তে লাগল তখন সে পলায়ন করল। আমরা তাকে হাররা নামক স্থানে ধরে ফেললাম এবং পাথর মেরে হত্যা করলাম।
৪৩১৩
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
মুসলিম (রহঃ) বলেন যে, লায়স (রহঃ) ও ‘আবদূর রহমান বিন খালিদ বিন মুসাফিরের মাধ্যমে ইবনু শিহাব (রহঃ)
উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস লাইস (রহঃ) আবদুর রহমান ইবন খালিদ ইবন মুসাফির (রহঃ) হতে, তিনি ইবন শিহাব (রহঃ) হতে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
৪৩১৪
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুর রহমান দারিমী (রহঃ) আবুল ইয়ামান এবং শু’আয়বের মাধ্যমে যুহরী (রহঃ)
উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনিয়েছেন। আর উভয়ের বর্ণিত হাদীসে ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন যে, আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন, যেমন উল্লেখ করেছেন উকায়ল (রাঃ)।
৪৩১৫
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
এভাবে হাদিস বর্ণনা করেছেন যেভাবে উকায়ল যুহরীর মাধ্যমে আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর বরাতে নবী (ﷺ) থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৪৩১৬
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ)
আমি মা’ইয ইবন মালিক (রাঃ)-কে দেখলাম, যখন তাকে নবী (ﷺ)-এর নিকট আনা হলো। তিনি ছিলেন বেঁটে প্রকৃতির সুঠাম দেহের অধিকারী। তাঁর গায়ে কোন চাদর ছিল না। তিনি নিজেই চারবার স্বীকারোক্তি করলেন যে, তিনি ব্যভিচার করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি হয়তো (শুধু চুমু খেয়েছ অথবা স্পর্শ করেছ)। তখন তিনি উত্তরে বললেন, না, আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই এ হতভাগা ব্যভিচার করেছে। পরিশেষে তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপ করার আদেশ করলেন। এরপর তিনি এক ভাষণ প্রদান করে বললেনঃ সাবধান! আমরা যখন আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশে গমন করি, তখন কেউ কেউ পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের ন্যায় আওয়াজ করে (অর্থাৎ ছাগল যেমন সঙ্গমের সময় উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ করে তদ্রুপ) আর তাদেরকে সে অল্প দুধ দেয় (অর্থাৎ সঙ্গম করে, দুধের অর্থ বীর্য)। আল্লাহর শপথ! যদি আল্লাহ আমাকে এ শ্রেণীর কোন লোকের উপর ক্ষমতা প্রদান করেন, তবে আমি তাকে অবশ্যই শাস্তি দেব। (যেন অন্যেরা তার থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।)
৪৩১৭
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হলো। তিনি ছিলেন বেঁটে আকৃতির, চুল ছিল অবিন্যস্ত এবং বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী। তার গায়ে ছিল একটি চাদর। তিনি ব্যভিচার করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুইবার তার স্বীকারোক্তি প্রত্যাখ্যান করলেন। এরপর তার ব্যাপারে আদেশ দিলেন, তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা জেনে রেখো; আমরা যখনই আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশে বের হই, তখন তোমাদের মধ্য হতে কেউ না কেউ পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের ন্যায় আওয়াজ করে। সে তখন কোন নারীকে অল্প দুধ প্রদান করে (অর্থাৎ-ব্যভিচার করে)। নিশ্চয়ই আল্লাহ যদি আমাকে তাদের কারো উপর শক্তি দেন, তবে আমি তাকে এমন শাস্তি প্রদান করবো যা অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ হাদীসটি সাঈদ ইবনু জুবায়ের (রহঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ ব্যক্তির স্বীকারোক্তি চারবার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
৪৩১৮
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ ও ইসহাক্ ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) ….. উভয়েই জাবির ইবনু সামুরা (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
ইবনু জা‘ফার (রাঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। আর শাবাবা (রাঃ)-ও তাঁর বাণী فَرَدَّهُ مَرَّتَيْنِ (তিনি তার স্বীকারোক্তি দু’বার প্রত্যাখ্যান করেন)-এর সাথে একমত হয়েছেন। আবূ ‘আমির (রাঃ)-এর অপর এক হাদীসে فَرَدَّهُ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا (তিনি তাঁর স্বীকারোক্তি দু’বার অথবা তিনবার প্রত্যাখ্যান করেছেন) বর্ণিত হয়েছে।
৪৩১৯
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) মা’ইয ইবন মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার সম্পর্কে আমার কাছে যে সংবাদ এসেছে তা সত্য কিনা?” তিনি বললেন, “আমার সম্পর্কে আপনার কাছে কী সংবাদ পৌঁছেছে?”তখন তিনি বললেন, “আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তুমি অমুক বংশের কোন এক দাসীর সঙ্গে ব্যভিচার করেছ।” তিনি উত্তরে বললেন, “হ্যাঁ।” এরপরে তিনি এ ব্যাপারে চারবার সাক্ষ্য দিলেন অর্থাৎ স্বীকারোক্তি দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ব্যাপারে আদেশ দিলেন। তাকে তখন পাথর মারা হলো।
৪৩২০
যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ (রাঃ)
আসলাম গোত্রের মা’ইয ইবন মালিক নামক এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, আমি তো এক গর্হিত কাজ করে ফেলেছি। অতএব এর জন্য আমার উপর শরীয়তের বিধান প্রয়োগ করুন। নবী (ﷺ) তাঁর এ স্বীকারোক্তি কয়েকবার প্রত্যাখ্যান করেন।বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি ঐ ব্যক্তির স্বগোত্রীয় লোকের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তাঁরা বলল, আমরা তো তার সম্বন্ধে কোন খারাপ জানি না। কিন্তু হঠাৎ করেই সে এমন অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। সে এখন ভাবছে যে, তার প্রতি হদ’ حَد শরীয়তের বিধান প্রয়োগ ব্যতীত তার আর কোন নিষ্কৃতি নেই। বর্ণনাকারী বলেন যে, তখন সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ফিরে এল। তখন তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপের জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন।বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তখন তাকে ‘বাকীউল গারকাদ’ নামক স্থানে নিয়ে চললাম। আমরা তাকে বাঁধলাম না এবং মাটিতে পুঁতলামও না। এরপর আমরা তাঁকে হাড়, মৃত্তিকা, ঢিলা এবং ইট মারতে শুরু করলাম। হঠাৎ সে দৌড়ে পালাল, আমরাও তার পিছনে ছুটলাম। অবশেষে সে ‘হাররাহ’ নামক স্থানে উপনীত হলো। আমরা তথায় তাকে ধরলাম এবং পাথর নিক্ষেপ করলাম। পরিশেষে সে নিশ্চল হয়ে গেল অর্থাৎ- মরে গেল।বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সন্ধ্যাবেলায় কিছু বলার উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হলেন এবং বললেন, আমরা যখনই আল্লাহর পথে যখন যুদ্ধে গমন করি তখন কোন না কোন ব্যক্তি আমাদের পরিবার-পরিজনদের মাঝে থেকে যায় এবং ছাগলের শব্দের ন্যায় আওয়াজ করে। আমার উপর কর্তব্য হল যদি এরূপ কোন ব্যক্তিকে আমার কাছে আনা হয়, তবে আমি তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করবো।বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি (ﷺ) তার জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করেননি এবং কোন গালিও দেননি। (দোয়া এজন্য করেননি যে, হয়তো এ আশায় কেউ আবার পাপাচারে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে; মন্দ বলেননি এজন্য যে, তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়ে গেছে।)