৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪৩৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪৩৩১
ইয়াহুদী জিম্মী ব্যভিচারীকে রজম করা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
ইয়াহুদীরা তাদের ব্যভিচারী একজন পুরুষ ও একজন মহিলাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে নিয়ে এলো। অতঃপর তিনি উবাইদুল্লাহ (রহঃ) কর্তৃক নাফি (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের ন্যায় হাদীসটি শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন।
৪৩৩২
ইয়াহুদী জিম্মী ব্যভিচারীকে রজম করা পরিচ্ছেদ নাই
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ)
একদা নবী (ﷺ)-এর সম্মুখ দিয়ে একজন ইয়াহুদিকে কালি মাখা এবং বেত্রাঘাতকৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বলেন, “তোমরা কি তোমাদের কিতাবে ব্যভিচারের শাস্তি এভাবেই পেয়েছ?” তারা বলল, “হ্যাঁ।”এরপর তিনি তাদের মধ্য হতে একজন আলিম (পাদরি) ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং বললেন, “তোমাকে সে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, যিনি মূসা (আঃ)-এর প্রতি তাওরাত কিতাব অবতীর্ণ করেছিলেন, এরূপই কি তোমরা তোমাদের কিতাবে ব্যভিচারীর শাস্তি পেয়েছ?” তখন ইয়াহুদি আলিম ব্যক্তি বললেন, “না।” তিনি আরো বললেন, “আপনি যদি আমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে এভাবে না বলতেন তবে আমি আপনাকে জানাতাম না যে, এর প্রকৃত শাস্তি রজম (পাথর নিক্ষেপ করা)। কিন্তু আমাদের সমাজের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মাঝে এর ব্যাপক প্রচলন হয়ে গেছে। অতএব, আমরা যখন এতে কোন সম্ভ্রান্ত লোককে পেতাম, তখন তাকে ছেড়ে দিতাম এবং যখন কোন নিঃস্ব ব্যক্তিকে পাকড়াও করতাম তখন তার উপর শরীয়তের প্রকৃত শাস্তি বাস্তবায়িত করতাম। পরিশেষে আমরা বললাম, ‘তোমরা সকলেই এসো, আমরা সবাই মিলে এ ব্যাপারে একটি শাস্তি নির্ধারিত করে নিই, যা ভদ্র ও অভদ্র সকলের উপরই প্রযোজ্য হবে।’ সুতরাং আমরা ব্যভিচারের শাস্তি কালি লাগানো এবং বেত্রাঘাত করাকেই স্থির করে নিলাম, পাথর নিক্ষেপের পরিবর্তে।”তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “হে আল্লাহ! আমিই প্রথম ব্যক্তি, যে তোমার নির্দেশ বাস্তবায়িত (পুনর্জীবিত) করলাম, যা তারা বাতিল করে ফেলেছিল।” সুতরাং তিনি তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিলেন। অবশেষে ঐ ইয়াহুদি‌কে পাথর মারা হল।এরপর মহান আল্লাহ এ আয়াতঃ “হে রাসূল! যারা কুফরী কাজে দ্রুতগামী তাদের কার্যকলাপ যেন আপনাকে চিন্তিত না করে। ..... অতঃপর সেই বাণী পর্যন্ত যদি তোমরা তা প্রদত্ত হও, তবে তা ধারণ কর”- (সূরা মায়িদা ৫:৪১) পর্যন্ত অবতীর্ণ করেন।তারা (ইয়াহুদিরা) বলতো যে, “তোমরা মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর নিকট গমন করো, যদি তিনি তোমাদেরকে এ ব্যাপারে- কালি লাগানো এবং বেত্রাঘাতের নির্দেশ প্রদান করেন, তবে তোমরা তা কার্যকর করবে; আর যদি তিনি রজমের নির্দেশ দেন তবে তা প্রত্যাখ্যান করবে।”আল্লাহ তা'আলা (এ মর্মে) আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ “যারা আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত মুতাবিক বিচারকার্য পরিচালনা করে না তারাই হলো কাফির (অস্বীকারকারী) সম্প্রদায়”- (সূরা মায়িদা ৫:৪৪)। “আর যারা আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত অনুসারে বিচার করে না তারাই হলো অত্যাচারী দল”- (সূরা মায়িদা ৫:৪৫)। “আর যারা আল্লাহর নাযিলকৃত আয়াত অনুযায়ী বিচার করে না তারাই হলো সীমালঙ্ঘনকারী দল”- (সূরা মায়িদা ৫:৪৭)। এ সবগুলো আয়াত কাফিরদের সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়।
৪৩৩৩
ইয়াহুদী জিম্মী ব্যভিচারীকে রজম করা পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
একই সূত্রে فَأَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم "তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (রজম করার) নির্দেশ প্রদান করলেন, এরপর (ঐ ইয়াহুদিকে) পাথর মারা হল" পর্যন্ত অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেন। কিন্তু এরপরে বর্ণিত আয়াতসমূহ তিনি উল্লেখ করেননি।
৪৩৩৪
ইয়াহুদী জিম্মী ব্যভিচারীকে রজম করা পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ) আসলাম গোত্রের একজন পুরুষ, একজন ইয়াহুদি পুরুষ এবং তার স্ত্রীকে (ব্যভিচারের জন্য) পাথর নিক্ষেপ করার শাস্তি প্রদান করেন।
৪৩৩৫
ইয়াহুদী জিম্মী ব্যভিচারীকে রজম করা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু জুরায়জ (রাঃ)
একই সূত্রে উল্লিখিত হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেন। তবে তিনি “এবং একজন মহিলা” এ শব্দটি উল্লেখ করেন।
৪৩৩৬
ইয়াহুদী জিম্মী ব্যভিচারীকে রজম করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইস্‌হাক শাইবানী (রহঃ)
আমি আবদুল্লাহ ইবন আবু আওফা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি (ব্যভিচারের জন্য) পাথর মেরেছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, ‘সূরা নূর’ অবতীর্ণ হওয়ার আগে, না পরে? তখন তিনি বললেন, আমি তা জানি না।
৪৩৩৭
ইয়াহুদী জিম্মী ব্যভিচারীকে রজম করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যদি তোমাদের কোন দাসী ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার কার্য প্রকাশিত হয়ে পড়ে তবে তাকে শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি حد অনুযায়ী বেত্রাঘাত করবে এবং তাকে কোনো প্রকার তিরস্কার করবে না। এরপর যদি দ্বিতীয়বার সে ব্যভিচার করে, তবে তাকে শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি বেত্রাঘাত করবে এবং তাকে কোনো প্রকার ধমকি দেবে না। এরপর যদি তৃতীয়বার ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার কার্য প্রকাশ পায় তবে তাকে বিক্রি করে দেবে, চুলের দড়ি পরিমাণ মূল্যে হলেও। (অর্থাৎ- অতি কম মূল্য হলেও।)
৪৩৩৮
ইয়াহুদী জিম্মী ব্যভিচারীকে রজম করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)
আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর বরাতে নবী (ﷺ) থেকে দাসীর বেত্রাঘাত সম্পর্কে, “যখন সে তিনবার ব্যভিচার করে, এরপর চতুর্থবারে তাকে বিক্রি করে দেবে”।
৪৩৩৯
ইয়াহুদী জিম্মী ব্যভিচারীকে রজম করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো- যখন কোন অবিবাহিত দাসী ব্যভিচার করে এর হুকুম সম্পর্কে। তখন তিনি বললেন, যদি সে ব্যভিচার করে তবে তাকে বেত্রাঘাত করবে। আবার যদি সে ব্যভিচার করে তবে আবারও বেত্রাঘাত করবে। এরপরও যদি সে ব্যভিচার করে তবে তাকে বেত্রাঘাত করবে এবং পরিশেষে তাকে বিক্রি করে দেবে, একটি দড়ির মূল্য পরিমাণ মূল্যে হলেও। ইবনু শিহাব (রহঃ) (সন্দেহসূচক) বর্ণনা করেছেন যে, আমি জানি না أَبَعْدَ الثَّالِثَةِ أَوِ الرَّابِعَةِ (বিক্রি করার নির্দেশটি কি তৃতীয় বারের পরে, না চতুর্থ বারের পরে)। কাঅনবী (রহঃ) তার বর্ণনায় বলেন যে, ইবনু শিহাব (রহঃ) الضَّفِيرُ শব্দের অর্থ الْحَبْلُ (দড়ি) বলেছেন।
৪৩৪০
ইয়াহুদী জিম্মী ব্যভিচারীকে রজম করা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ ও যায়দ ইবনু খালিদ জুহানী (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাসী সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলেন, ...... এ হাদিসটি আবদুল্লাহ ইবনু মাসলামাহ এবং ইয়াহিয়া বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর তিনি (ইবনু ওয়াহব) ইবনু শিহাবের কথা الضَّفِيرُ এর অর্থ الْحَبْلُ (দড়ি) এ কথাটি উল্লেখ করেননি।