৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪২৮/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪২৭১
যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম হত্যার প্রচলন করল- তার পাপের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যদি কোন ব্যক্তি অত্যাচারিত হয়ে খুন হয়, তবে সে খুনের একাংশ (পাপ) আদম (আঃ)-এর প্রথম পুত্র (কাবিল)-এর উপর বর্তায়। কেননা সে সর্বপ্রথম খুনের প্রথা প্রচলন করেছিল।
৪২৭২
যে ব্যক্তি সর্বপ্রথম হত্যার প্রচলন করল- তার পাপের বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
উক্ত সনদে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে জারীর এবং ইসহাক (রহঃ)-এর হাদিসে لأَنَّهُ سَنَّ الْقَتْلَ (কারণ সে হত্যার প্রথা প্রচলন করেছে) এ কথার উল্লেখ আছে। কিন্তু أَوَّلَ (প্রথম) কথাটির উল্লেখ নেই।
৪২৭৩
পরকালে হত্যার পরিণাম, কিয়ামাতের দিন এর বিচারই প্রথম করা হবে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কেয়ামত দিবসে মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম খুনের বিচার করা হবে।
৪২৭৪
পরকালে হত্যার পরিণাম, কিয়ামাতের দিন এর বিচারই প্রথম করা হবে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তাদের কেউ কেউ শু’আবা (রহঃ) হতে يُقْضَى (বিচার করা হবে) কথাটি বর্ণনা করেছেন। আর কেউ কেউ يُحْكَمُ بَيْنَ النَّاسِ (মানুষের মাঝে হুকুম (বিচার) করা হবে) কথাটি বর্ণনা করেছেন।
৪২৭৫
হত্যা, সম্মান এবং মালের হক বিনষ্ট করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকরাহ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
কাল আবর্তিত হয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে এসেছে, যে অবস্থায় আল্লাহ তা’আলা আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এক বছর হয় বার মাসে, তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস (অর্থাৎ- তাতে যুদ্ধ-বিগ্রহ করা হারাম)। এর তিন মাস হল ধারাবাহিক- ১. যুলকআদা, ২. যুলহিজ্জা এবং ৩. মহররম। আর রজবও নিষিদ্ধ মাস, যা জমাদিউস সানি এবং শাবানের মাঝে অবস্থিত। এরপর তিনি বললেনঃ এটি কোন মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) এ ব্যাপারে অধিক জানেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। আমরা ভাবলাম যে, তিনি হয়ত এ মাসের নতুন কোন নাম বলবেন। এরপর তিনি বললেনঃ এ কি “যুলহিজ্জা” মাস নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যা। তিনি বললেনঃ এ কোন শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) অধিক জানেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়ত এর অপর কোন নাম রাখবেন। তিনি বললেনঃ এ কি (মক্কা) শহর নয়। আমরা বললাম, জী-হ্যা। তিনি বললেনঃ এ কোন দিন? আমরা বললাম আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) অধিক জ্ঞাত। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়ত এর অন্য কোন নাম বলবেন। তিনি বললেনঃ এ কি ইয়াওমুন্নাহার (ঈদুল আজহার দিন) নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যা, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ তোমাদের জান ও মাল এবং রাবী মুহাম্মাদ বলেন, আমি ধারণা করি এর সাথে তিনি তোমাদের মান-সম্ভ্রম এ কথা যুক্ত করে বললেনঃ এগুলো তেমন মর্যাদাপূর্ণ যেমন তোমাদের কাছে আজকের দিবস, এ নগর এবং এ মাসও পবিত্র। তোমরা খুব শীঘ্রই তোমাদের প্রভুর সাথে মিলিত হবে। তখন তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অতএব তোমরা আমার পরে পথভ্রষ্ট হয়ে একে অন্যের সাথে ঝগড়া-ফাসাদে লিপ্ত হয়ো না। সাবধান! তোমাদের উপস্থিতগণ অবশ্যই অনুপস্থিতদের কাছে আমার এ বাণী পৌঁছে দিবে। সম্ভবত উপস্থিত ব্যক্তি যাদের কাছে আমার বাণী পৌঁছে দিবে, তাঁরা কেউ কেউ হয়ত এখানকার শ্রোতাদের চেয়ে অধিকতর সংরক্ষণকারী হবে। এরপর তিনি বললেনঃ ওহে! শুনো, আমি কি আল্লাহর নির্দেশ পৌঁছে দেইনি? ইবনু হাবীব তাঁর বর্ণনায় ………………….. (রজব নিষিদ্ধ মাস) বর্ণনা করেছেন। আবু বকর (রাঃ)-এর অপর বর্ণনায় …………… (তোমরা আমার পরে ধর্মান্তরিত হয়ো না) বর্ণিত হয়েছে।
৪২৭৬
হত্যা, সম্মান এবং মালের হক বিনষ্ট করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাক্রাহ্ (রাঃ)
যখন ঐ দিন (ইয়াওমুন্নাহার) উপস্থিত হল তখন নবী (ﷺ) নিজের উটের উপর উঠলেন। এক ব্যক্তি তাঁর উটের লাগাম ধরে রেখেছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা জান কি, আজ কোন দিন? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ) অধিক জ্ঞাত। আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়তো এ নাম ব্যতীত অপর কোন নাম বলবেন। এরপর তিনি বললেনঃ আজকের দিন কি ইয়াওমুন্নাহারের নয়? আমরা বললাম, জী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ এটা কোন মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রসূল (ﷺ)-ই সবচেয়ে ভালো জানেন। তিনি বললেনঃ এটা কি জিলহজ্জ মাস নয়? আমরা বললাম, জী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ এটি কোন শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-ই অধিক জ্ঞাত। বর্ণনাকারী বলেন, এতে মনে করলাম যে, তিনি হয়তো এর অন্য কোন নাম বলবেন। এরপর তিনি বললেন, এ-কি (মক্কা) শহর নয়। আমরা বললাম, জী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল!তখন তিনি বললেনঃ নিশ্চয় তোমাদের জান-মাল এবং সম্মান (বিনষ্ট করা) তোমাদের উপর এরূপ হারাম, যেরূপ তোমাদের জন্য আজকের দিন, এ মাস এবং এ নগরের পবিত্রতা বিনষ্ট করা হারাম। তোমাদের উপস্থিতগণ অনুপস্থিতদের কাছে আমার এ বাণী অবশ্যই পৌঁছে দিবে।এরপর তিনি কাল ও সাদা রং-মিশ্রিত দুইটি ছাগলের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং ঐ দুইটি যবেহ করলেন এবং যবেহকৃত ছাগলের এক অংশ আমাদের মাঝে বণ্টন করে দিলেন।
৪২৭৭
হত্যা, সম্মান এবং মালের হক বিনষ্ট করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকরাহ (রাঃ)
যখন সেদিন (ইয়াওমুন নাহরের দিন) উপস্থিত হল তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি উটের উপর উপবেশন করলেন। রাবী বলেন, এক ব্যক্তি তার লাগাম ধরে রেখেছিল। রাবীর সন্দেহ, তিনি زِمَامِ শব্দের পরিবর্তে خِطَامِ (লাগাম) শব্দ বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি ইয়াযীদ ইবনু যুরাই’ (রাঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন।
৪২৭৮
হত্যা, সম্মান এবং মালের হক বিনষ্ট করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাক্রাহ্ (রাঃ)
ইয়াওমুন্নাহার- অর্থাৎ- ঈদুল আযহার দিন আমাদের সামনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক ভাষণে বললেনঃ আজ কোন দিন? এরপর বর্ণনাকারীগণ, ইবনু আওনের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করলেন। কিন্তু তারা وَأَعْرَاضَكُمْ (তোমাদের মান-সম্মান) এ শব্দটি উল্লেখ করেননি এবং ثُمَّ انْكَفَأَ إِلَى كَبْشَيْنِ وَمَا بَعْدَهُ (অতঃপর তিনি দু’টি ছাগলের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন) এবং এর পরবর্তী অংশটুকুও উল্লেখ করেননি। আর তিনি তাঁর বর্ণিত হাদীসে ‘তোমাদের এ দিন, এ মাস এবং এ শহরের পবিত্রতার ন্যায়’ থেকে নিয়ে- يَوْمِ تَلْقَوْنَ رَبَّكُمْ أَلاَ هَلْ بَلَّغْتُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ اللَّهُمَّ اشْهَد (যেদিন তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে। শুনো! আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছি? তখন সকলেই বললো, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন) এ পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন।
৪২৭৯
হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়াএবং নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদের কিসাসের দাবি করা বৈধ, হত্যাকারী ব্যক্তির নিহত ব্যক্তির অভিভাবকের নিকট ক্ষমার আবেদন করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
আলকামাহ্ ইবনু ওয়ায়িল (রহঃ)
তাঁর পিতা তার কাছে বর্ণনা করেছেন, আমি একদা নবী (ﷺ)-এর সাথে বসেছিলাম। এমন সময় একটি লোক অপর এক ব্যক্তিকে চামড়ার দড়ি দিয়ে বেঁধে টেনে নিয়ে আগমন করল এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যক্তি আমার ভাইকে হত্যা করেছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “তুমি কি তাকে হত্যা করেছ?” (তখন সে বলল, যদি সে তা স্বীকার না করত, তবে আমি তার উপর সাক্ষী দাঁড় করাতাম)। সে তখন বলল, হ্যাঁ, আমি তাকে হত্যা করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন : “তুমি তাকে কিভাবে হত্যা করেছ?”সে বলল, আমি এবং সে গাছের পাতা সংগ্রহ করছিলাম। এমন সময় সে আমাকে গালি দিল। এতে আমার রাগ চড়ে গেল। তখন আমি কুঠার দ্বারা তার মাথায় আঘাত করলাম। এভাবে আমি তাকে হত্যা করেছি। তখন নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ “তোমার কি এমন কোন সম্পদ আছে যদ্দ্বারা ‘দিয়্যাত’ (রক্তপণ) পরিশোধ করবে?” তখন সে বলল, আমার কাছে একটি কম্বল ও কুঠার ব্যতীত আর কিছুই নেই। তখন তিনি বললেনঃ “তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা কি তোমার নিকট থেকে এগুলো কিনে নিয়ে তোমাকে মুক্ত করিয়ে নেবে?” সে বলল, আমার সম্প্রদায়ের কাছে আমার এতখানি মর্যাদা নেই।অতএব তিনি তার বন্ধনের দড়ি নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারদের দিকে ছুঁড়ে দিলেন এবং বললেনঃ “তুমি তোমার সাথীকে আটকে রাখ।” সে তখন তাকে নিয়ে চলে গেল। যখন সে পিছনের দিকে যাচ্ছিল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “যদি সে তাকে হত্যা করে- তবে সেও তার সমকক্ষ হয়ে গেল।”এ কথা শুনে সে ফিরে এলো এবং বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমি শুনলাম, আপনি বলছেন : ‘যদি সে তাকে হত্যা করে তবে সে তার সমান হয়ে যাবে।’ আমি তো তাকে আপনার নির্দেশেই ধরে এনেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “তুমি কি এ চাওনা যে, সে তোমার এবং তোমার ভাইয়ের পাপের বোঝা গ্রহণ করুক।” তখন সে বলল, তাই কি হবে? তিনি বললেনঃ “হ্যাঁ।” তখন সে বলল, যদি তাই হয়, (তবে ভাল)। এ বলে সে তার বন্ধনের দড়ি নিক্ষেপ করল এবং তাকে মুক্ত করে দিল।
৪২৮০
হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়াএবং নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদের কিসাসের দাবি করা বৈধ, হত্যাকারী ব্যক্তির নিহত ব্যক্তির অভিভাবকের নিকট ক্ষমার আবেদন করা মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
ওয়ায়িল (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এক ব্যক্তিকে হাজির করা হল, যে অপর এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল। তখন তিনি নিহত ব্যক্তির ওয়ারিসকে তার কাছ থেকে কিসাস গ্রহণের অনুমতি দিলেন। তখন সে তাকে নিয়ে চলল এমন অবস্থায়, তার গলায় একটি চামড়ার দড়ি ছিল, যা দ্বারা তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। যখন সে ফিরে যাচ্ছিল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়েই জাহান্নামী।বর্ণনাকারী বলেন, তখন এক লোক ঐ ব্যক্তির সাথে গিয়ে মিলিত হল এবং তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী শোনাল। সে তখন হত্যাকারীকে ছেড়ে দিল।ইসমাঈল ইবনু সালিম (রহঃ) বলেন, আমি এ ঘটনা হাবীব ইবনু সাবিত (রহঃ)-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বললেন, আমাকে ইবনু আশওয়া (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হত্যাকারীকে ক্ষমা করে দেয়ার জন্য তাকে (ইতোপূর্বে) বলেছিলেন, কিন্তু সে তা অস্বীকার করেছিল।