৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪২৭/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪২৬১
যখন কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির জীবন অথবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর আক্রমণ করে, তখন যদি আক্রান্ত ব্যক্তি তা প্রতিহত করে এবং প্রতিহত করার সময় আঘাতকারীর জীবন অথবা অঙ্গের ক্ষতিসাধন করে, তবে এর জন্য তাকে কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না পরিচ্ছেদ নাই
সাফওয়ান ইবনু ইয়া’লা (রা.)
ইয়ালা ইবন মুনিয়া (রাঃ)-এর এক শ্রমিকের হাতে এক ব্যক্তি কামড় বসিয়ে দিল। তখন সে সজোরে তার হাত টেনে নিল। এতে ঐ ব্যক্তির দাঁত খসে পড়ল। নবী (ﷺ)-এর নিকট এ ব্যাপারে মুকাদ্দমা দায়ের করা হল। তখন তিনি তা নাকচ করে দেন এবং বলেন যে, তুমি তো তার হাত এমনভাবে চিবাতে চেয়েছিলে যেমনভাবে উট চিবায়।
৪২৬২
যখন কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির জীবন অথবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর আক্রমণ করে, তখন যদি আক্রান্ত ব্যক্তি তা প্রতিহত করে এবং প্রতিহত করার সময় আঘাতকারীর জীবন অথবা অঙ্গের ক্ষতিসাধন করে, তবে এর জন্য তাকে কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না পরিচ্ছেদ নাই
ইমরান ইবনু হুসায়ন (রা.)
এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির হাতে কামড় বসিয়ে দিল। সে তখন তার হাত সজোরে টেনে নিল। এতে তার একটি অথবা দুইটি দাঁত খসে পড়ল। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি আমার কাছে কি চাও? তুমি কি চাও যে, আমি তাকে নির্দেশ করবো তার হাত তোমার মুখে প্রবেশ করিয়ে দেবে, আর তুমি তা কামড়াবে যেমন উট চিবিয়ে থাকে? তুমি ইচ্ছে করলে তোমার হাত তার মুখের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দিতে পার, সে তখন তা দাঁতে কর্তন করবে, এরপর তুমিও তা সজোরে টেনে নিও।
৪২৬৩
যখন কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির জীবন অথবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর আক্রমণ করে, তখন যদি আক্রান্ত ব্যক্তি তা প্রতিহত করে এবং প্রতিহত করার সময় আঘাতকারীর জীবন অথবা অঙ্গের ক্ষতিসাধন করে, তবে এর জন্য তাকে কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না পরিচ্ছেদ নাই
ইয়া’লা ইবনু মুন্‌য়াহ্‌ (রা.)
নবী (ﷺ)-এর নিকট এমন এক ব্যক্তি এসে অভিযোগ দায়ের করল-যে অপর এক ব্যক্তির হাতে কামড় বসিয়ে দিয়েছিল। সে যখন তার হাত সজোরে টেনে নিল, এতে তার দুইটি দাঁত পড়ে গেল। অর্থাৎ-যে ব্যক্তি দাঁত দ্বারা কামড় দিয়েছিল তার দাঁত পড়ে গেল।বর্ণনাকারী বলেন, নবী (ﷺ) তার এ অভিযোগ নাকচ করে দিলেন এবং বললেন, “তুমি তার হাত এমনভাবে চর্বন করতে চেয়েছিলে যেমন উট চর্বন করে থাকে।”
৪২৬৪
যখন কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির জীবন অথবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর আক্রমণ করে, তখন যদি আক্রান্ত ব্যক্তি তা প্রতিহত করে এবং প্রতিহত করার সময় আঘাতকারীর জীবন অথবা অঙ্গের ক্ষতিসাধন করে, তবে এর জন্য তাকে কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না পরিচ্ছেদ নাই
ইয়া’লা ইবনু উমাইয়াহ্‌ (রা.)
আমি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে তাবুকের যুদ্ধ করেছি। বর্ণনাকারী বলেন, ইয়া’লা বলতেন, ঐ যুদ্ধ আমার নিকট একটি নির্ভরযোগ্য (পুণ্যের) কাজ ছিল।আতা (রহঃ) ..... সাফওয়ান (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, ইয়ালা (রাঃ) বলেছেন, আমার একজন শ্রমিক ছিল। সে এবং অপর এক ব্যক্তি পরস্পর সংঘর্ষে লিপ্ত হল। এতে একজন অপরজনের হাতে কামড় বসিয়ে দিল। বর্ণনাকারী বলেন, সাফওয়ান (রাঃ) আমাকে খবর দিয়েছেন তাদের দুইজনের মধ্যে কে অন্যের হাতে কামড় দিয়েছিল। যে ব্যক্তির হাতে কামড় দিয়েছিল সে ব্যক্তি কামড় দাতার মুখ থেকে তার হাত সজোরে টেনে নিল। এতে তার সম্মুখের দুইটি দাঁতের একটি দাঁত পড়ে গেল। তখন উভয়েই নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে অভিযোগ পেশ করল, তখন তিনি দাঁত পড়ে যাওয়ার অভিযোগ নাকচ করে দিলেন।
৪২৬৫
যখন কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তির জীবন অথবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর আক্রমণ করে, তখন যদি আক্রান্ত ব্যক্তি তা প্রতিহত করে এবং প্রতিহত করার সময় আঘাতকারীর জীবন অথবা অঙ্গের ক্ষতিসাধন করে, তবে এর জন্য তাকে কোন প্রকার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু জুরায়জ (র.)
ইবনু জুরাইজ (রহঃ) হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪২৬৬
দাঁত এবং এর অনুরূপ ব্যাপারে কিসাস (বদলা) সাব্যস্ত করার বর্ণনা পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রা.)
রাবী (রাঃ)-এর ভগিনী হারিসার মাতা এক ব্যক্তিকে আহত করলেন। এ ব্যাপারে তারা (তাঁর আত্মীয়রা) নবী (ﷺ)-এর নিকট অভিযোগ আনলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল কিসাস! আল কিসাস (বদলা)! অর্থাৎ-এতে কিসাস আরোপিত হবে।তখন উম্মু রাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! অমুকের (উম্মু হারিসার) নিকট হতে কি কিসাস নেয়া হবে? আল্লাহর কসম! তাঁর নিকট হতে কিসাস না নেয়া হোক। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সুবহানাল্লাহ! (অর্থাৎ- তিনি আশ্চর্যান্বিত হয়ে বললেন) হে উম্মু রাবী! কিসাস নেয়া তো আল্লাহর কিতাবের নির্দেশ।তিনি বললেন, জী না। আল্লাহর শপথ নিয়ে আরয করছি, তার নিকট হতে কখনও কিসাস (বদলা) না নেয়া হোক। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি বারবার এ কথা বলছিলেন। পরিশেষে আহত ব্যক্তির ওয়ারিশগণ (দিয়াত) ক্ষতিপূরণ নিতে সম্মত হল।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর বান্দাগণের মধ্যে এমনও লোক আছে, যদি সে আল্লাহর নামে শপথ করে কোন কথা বলে তখন আল্লাহ তা’আলা তা সত্যে পরিণত করে দেন।
৪২৬৭
মুসলিম ব্যক্তির হত্যা কি অবস্থায় বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এমন মুসলিমকে হত্যা করা বৈধ নয়, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। কিন্তু তিনটি কাজের যে কোন একটি করলে (তা বৈধ)।১. বিবাহিত ব্যক্তি ব্যভিচারে লিপ্ত হলে;২. জীবনের বিনিময়ে জীবন, অর্থাৎ কাউকে হত্যা করলে;৩. এবং স্বীয় ধর্ম পরিত্যাগকারী, যে (মুসলিমদের) দল থেকে বিচ্ছিন্ন (মুরতাদ) হয়ে যায়।
৪২৬৮
মুসলিম ব্যক্তির হত্যা কি অবস্থায় বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
আ’মাশ (রহঃ) হতে উল্লেখিত সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪২৬৯
মুসলিম ব্যক্তির হত্যা কি অবস্থায় বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেনঃ সেই সত্তার কসম যিনি ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নেই; এমন কোন মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যা করা বৈধ নয় যে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল। কিন্তু তিন প্রকার ব্যক্তি ব্যতীত- ১. যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ করে মুসলিমদের দল পরিত্যাগকারী হয়। আহমাদ (রহঃ) الْمُفَارِقُ لِلْجَمَاعَةِ অথবা الْجَمَاعَةَ শব্দ বর্ণনায় সন্দেহ করেছেন; ২. বিবাহিত ব্যভিচারী এবং ৩. জীবনের বিনিময়ে জীবন। অর্থাৎ- কিসাস গ্রহণ। আ‘মাশ (রহঃ) বলেন যে, আমি ইব্রাহীমের নিকট হাদিসটি বর্ণনা করলাম, তিনিও আসওয়াদ (রহঃ)-এর সূত্রে আয়িশা (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৪২৭০
মুসলিম ব্যক্তির হত্যা কি অবস্থায় বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
হাজ্জাজ ইবনু শা’ইর ও কাসিম ইবনু যাকারিয়্যা (রহঃ) হতে উভয় সানাদে সুফ্ইয়ান (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তাঁর বর্ণিত হাদিসে "সে সত্তার কসম যিনি ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই" এ কথার উল্লেখ করেননি।