৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪২৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪২৪১
‘কাসামাহ’ খুনের ব্যাপারে হলফ করা পরিচ্ছেদ নাই
সাহ্‌ল ইবনু আবূ হাসমাহ্‌ (রাঃ)
তাঁর সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে গণ্য আবদুল্লাহ ইবন সাহল (রাঃ) এবং মুহাইয়িসা (রাঃ) উভয়েই খাইবারের দিকে গমন করলেন দুর্গম পথ দিয়ে। এরপর এক ব্যক্তি মুহাইয়িসা (রাঃ)-এর নিকট এসে খবর দিল যে, আবদুল্লাহ ইবন সাহল (রাঃ) নিহত হয়েছেন এবং তাঁকে একটি নর্দমা বা কূপের মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছে। সুতরাং তিনি তথাকার ইয়াহুদীদের কাছে এসে বললেন, আল্লাহর শপথ তোমরাই তাঁকে হত্যা করেছ। তারা আল্লাহর শপথ করে বললো, আমরা তাঁকে হত্যা করিনি! এরপর তিনি স্বীয় সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে এলেন এবং তাঁদের কাছে ঐ ঘটনা বর্ণনা করলেন।পরিশেষে তিনি ও তাঁর বড় ভাই হুয়াইয়িসা এবং আবদুর রহমান ইবন সাহল (রাঃ) (নবী (ﷺ)-এর কাছে) আগমন করলেন। এরপর মুহাইয়িসা (রাঃ) কথা বলার জন্য অগ্রসর হলেন, যিনি (নিহত ব্যক্তির সঙ্গে) খাইবারে ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুহাইয়িসা (রাঃ) কে লক্ষ্য করে বললেন, বড় জন! বড় জন! অর্থাৎ বয়ষ্ক ব্যক্তিকে কথা বলতে দাও। তখন হুয়াইয়িসা (রাঃ) কথাবার্তা বললেন, এরপর মুহাইয়িসা (রাঃ)-ও কথা বললেন।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হয়ত তারা তোমাদের সাথীর খুনের বদলা (দিয়াত) আদায় করে দিবে, নতুবা যুদ্ধের জন্য তৈরি হবে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের কাছে ঐ ব্যাপারে পত্র লিখলেন। প্রতি উত্তরে তারা লিখল যে, আল্লাহর শপথ নিশ্চয়ই আমরা তাকে হত্যা করিনি।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হুয়াইয়িসা, মুহাইয়িসা ও আবদুর রহমানকে বললেন, তোমরা কি শপথের মাধ্যমে তোমাদের সাথীর রক্তপণ আদায়ের হকদার হতে সক্ষম হবে? তাঁরা বলল, না। তখন তিনি বললেনঃ তাহলে ইয়াহুদীরা তোমাদের কাছে হলফ করে বলুক। তাঁরা তখন বলল, তারাতো (ইয়াহূদী) মুসলিম নয়।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের পক্ষ হতে তাঁর দিয়াত (খুনের বদলা) আদায় করে দিলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের একশ’ উটনী প্রদান করলেন এবং ঐগুলো তাদের বাড়িতে পৌঁছিয়ে দেওয়া হলো। সাহল (রাঃ) বলেন, ঐগুলির মধ্য হতে একটি লাল রঙের উটনী আমাকে লাথি মেরেছিল।
৪২৪২
‘কাসামাহ’ খুনের ব্যাপারে হলফ করা পরিচ্ছেদ নাই
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একজন আনসারী সাহাবার
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুনের ব্যাপারে হলফ করে বলা الْقَسَامَةَ যা জাহিলিয়া যুগে চলত তা পূর্বের ন্যায় বলবৎ রেখেছেন।
৪২৪৩
‘কাসামাহ’ খুনের ব্যাপারে হলফ করা পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি‘ (রহঃ), ইবনু শিহাব
অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং এ কথা অতিরিক্ত করেছেন যে, وَقَضَى بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ نَاسٍ مِنَ الأَنْصَارِ فِي قَتِيلٍ ادَّعَوْهُ عَلَى الْيَهُودِ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে (দিয়তের) ব্যাপারে নিষ্পত্তি করেছিলেন, যা তারা ইয়াহুদিদের উপর (হত্যার) দাবি উত্থাপন করছিল।
৪২৪৪
‘কাসামাহ’ খুনের ব্যাপারে হলফ করা পরিচ্ছেদ নাই
হাসান ইবনু আলী হুলওয়ানী (রাযিঃ)
আনসারী লোকদের সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে ইবনু জুরাইজ (রহঃ)-এর হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৪২৪৫
শত্রু সৈন্য এবং মুরতাদদের বিচার পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
উরাইনাহ গোত্রের কিছু সংখ্যক লোক মদীনায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এল। (সেখানের আবহাওয়া তাদের অনুকূলে না হওয়ায়) তারা অসুস্থ হয়ে পড়ল। এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে বললেনঃ তোমরা ইচ্ছে করলে সাদাকার উটগুলোর কাছে যেতে পার এবং তার দুধ ও মূত্র পান করতে পার।তারা তাই করল এবং এতে তারা সুস্থ হয়ে গেল। এরপর তারা রাখালদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদেরকে হত্যা করল। পরিশেষে তারা ইসলাম ত্যাগ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাল সম্পদ নিয়ে পলায়ন করে। এ সংবাদ নবী (ﷺ)-এর নিকট পৌঁছলে তিনি তাদের পিছনে লোক পাঠালেন, তাঁরা তাদেরকে গ্রেফতার করল। এরপর তাদের হাত-পা কেটে দিল এবং তাদের চোখ উপড়ে ফেলল এবং তাদেরকে রৌদ্রে নিক্ষেপ করল। এভাবে তারা মারা গেল।
৪২৪৬
শত্রু সৈন্য এবং মুরতাদদের বিচার পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
“উকল” গোত্রের আটজনের একটি দল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলো। তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ইসলামের উপর বাই‘আত করল। অতঃপর মদীনার আবহাওয়া তাদের প্রতিকূল হওয়ায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট অভিযোগ করল। নবী (ﷺ) বললেন: তোমরা কি আমাদের রাখালের সাথে গমন করে উটের মূত্র এবং দুধ পান করতে পারবে? তখন তারা বলল, জী হ্যাঁ। এরপর তারা বের হয়ে গেল এবং এর (উটের) মূত্র ও দুধ পান করল। এতে তারা সুস্থ হয়ে গেল অতঃপর তারা রাখালকে হত্যা করে উটগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে গেল। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পৌঁছল। তিনি তাদের পিছনে লোক পাঠালেন। তাঁরা তাদেরকে পাকড়াও করে নিয়ে এল। তাদের প্রতি নির্দেশ জারি করা হলো। তখন তাদের হাত-পা কর্তন করা হলো এবং তপ্ত লৌহ শলাকা চোখে প্রবেশ করানো হলো। এরপর তাদেরকে রৌদ্রে নিক্ষেপ করা হলো। অবশেষে তারা মারা গেল। ইবনু সব্বাহ (রহঃ) ..... বর্ণনা وَطَرَدُوا الإِبِلَ এর স্থলে وَاطَّرَدُوا النَّعَمَ উল্লেখ রয়েছে। রাবী বলেন, অতঃপর তাদের চোখগুলো উপড়ে ফেলা হলো।
৪২৪৭
শত্রু সৈন্য এবং মুরতাদদের বিচার পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রা.)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উক্ল বা উরাইনাহ গোত্রের একদল লোক এলো। মাদীনার আবহাওয়া তাদের (বসবাসের) জন্য উপযোগী হয়নি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে লিকাহর (দুগ্ধবতী উটনীর) নির্দেশ দিলেন। তাদেরকে আরো নির্দেশ দিলেন এর মূত্র ও দুধ পান করার জন্য। এ হাদিসটি হাজ্জাজ ইবন আবু উসমানের বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ অর্থে বর্ণিত হয়েছে।রাবী বলেন যে, এবং তাদের চক্ষুসমূহ উপড়ে ফেলা হল আর তারা রৌদ্রে নিক্ষিপ্ত হল। তারা পানি পান করতে চাইল, কিন্তু তাদেরকে পানি পান করানো হল না।
৪২৪৮
শত্রু সৈন্য এবং মুরতাদদের বিচার পরিচ্ছেদ নাই
আবূ কিলাবাহ্‌ (র.)
একদা আমি উমর ইবন আবদুল আজিজ (রহঃ)-এর পিছনে বসা ছিলাম। তিনি জনগণের কাছে জানতে চাইলেন, তোমরা ‘কাসামা’ (খুনের ব্যাপারে হলফ করা) সম্পর্কে কি বল? আম্বাসা (রহঃ) বললেন, আমাদের কাছে আনাস ইবন মালিক (রাঃ) এমন হাদিস বর্ণনা করেছেন। আমি বললাম, আনাস (রাঃ) বিশেষভাবে আমাকে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ)-এর কাছে একদল লোক আগমন করল। এরপর আনাস আয়ূব এবং হাজ্জাজ-এর অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেন।আবু কিলাবা (রহঃ) বলেন, আমি যখন হাদিসের বর্ণনা শেষ করলাম, তখন বললাম, হে আম্বাসা! আপনি কি আমার উপর মিথ্যার অভিযোগ আনলেন? তখন তিনি বললেন, না। আমার কাছে আনাস (রাঃ) এরূপেই হাদিস বর্ণনা করেছেন। হে সিরিয়াবাসী! তোমরা সর্বদাই কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতদিন তোমাদের মাঝে এই লোক বিদ্যমান থাকবেন। অথবা (রাবীর সন্দেহ) তাঁর মতো লোক তোমাদের মাঝে অবস্থান করবেন। (অর্থাৎ এ দ্বারা তিনি আবু কিলাবার স্মরণশক্তির প্রশংসা করলেন।)
৪২৪৯
শত্রু সৈন্য এবং মুরতাদদের বিচার পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রা.)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ‘উক্‌ল’ সম্প্রদায়ের আটজন লোক এলো- এ হাদিস উপরে বর্ণিত হাদিসের মতই, শুধু “তাদেরকে তিনি দাগ দেননি” (তপ্ত লৌহ শলাকা দ্বারা কর্তিত স্থানে পুড়ে দেয়া) এ কথাটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।
৪২৫০
শত্রু সৈন্য এবং মুরতাদদের বিচার পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রা.)
উরাইনাহ গোত্রের একদল লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আগমন করে ইসলাম গ্রহণ করল এবং তাঁর কাছে বাইআত নিল। মদীনায় অবস্থানকালে তাদের মস্তিষ্কে বিভ্রাটজনিত রোগ দেখা দিল। الْمُومُ শব্দের অর্থالْبِرْسَامُ মস্তিষ্কের রোগ, কিংবা হৃৎপিণ্ডের রোগ উদরী রোগ। এরপর তিনি উল্লিখিত হাদিসের বর্ণনাকারীর অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। শুধু এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, তাঁর (নবী ﷺ-এর) কাছে তখন বিশজনের মত আনসারী যুবক ছিল। তাদেরকে তিনি ওদের (ধরার) জন্য প্রেরণ করলেন এবং তাদের সঙ্গে একজন এমন অভিজ্ঞ লোক প্রেরণ করলেন, যিনি তাদের পদচিহ্ন দেখে গন্তব্য স্থল নির্ণয় করতে সক্ষম।