৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪২১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪২০১
ক্রীতদাসদের সাথে আচার-আচরণ এবং দাসকে চপেটাঘাতের কাফ্ফারা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মাস’ঊদ (রাযিঃ)
তিনি একদা তাঁর গোলামকে মারছিলেন। তখন সে বলতে লাগল- আমি আল্লাহর কাছে পরিত্রাণ চাই। বর্ণনাকারী বলেন, তখনও তিনি তাকে প্রহার করছিলেন। এরপর সে বলল, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে সাহায্য চাই। তখন তিনি তাঁকে ছেড়ে দিলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ "আল্লাহর শপথ! তুমি তার উপর যতটুকু শক্তিমান, আল্লাহ তা’আলা তোমার উপর তার চেয়েও অধিক শক্তিমান।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি তাকে মুক্ত করে দিয়েছেন।
৪২০২
ক্রীতদাসদের সাথে আচার-আচরণ এবং দাসকে চপেটাঘাতের কাফ্ফারা পরিচ্ছেদ নাই
বিশর ইবনু খালিদ উক্ত হাদীসটি শু’বাহ্ (রহঃ)
এ একই সূত্রে বর্ণনা করেন। কিন্তু তিনি أَعُوذُ بِاللَّهِ أَعُوذُ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم এ বাক্যটির উল্লেখ করেননি।
৪২০৩
নিজ দাস-দাসীর প্রতি যে যিনার অপবাদ প্রদান করে তার ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারী পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)
আবুল কাসিম (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আপন দাস-দাসীর উপর ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগ আনলো, কেয়ামত দিবসে তার উপর এ মিথ্যা অপবাদের শাস্তি আপতিত হবে। কিন্তু সে যা বলেছে তা যদি সত্যি হয় তবে নয় (তবে অভিযোগকারী আর শাস্তি পাবে না)।
৪২০৪
নিজ দাস-দাসীর প্রতি যে যিনার অপবাদ প্রদান করে তার ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারী পরিচ্ছেদ নাই
আবূ কুরায়ব ও যুহায়র ইবনু হারয (রাযিঃ)
একই বর্ণনা করেছেন। আর তাদের উভয়ের হাদীসে (তাওবার নবী আবুল কাসিম (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি)-এর উল্লেখ আছে।
৪২০৫
নিজে যা খাবে ও পরিধান করবে দাস-দাসীকেও তা খেতে পরতে দেয়া এবং তাদের সাধ্যের বাইরে কাজের ভার না দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
মা’রূর ইবনু সুওয়াইদ (রহঃ)
আমরা ‘রাবাযাহ’ নামক স্থানে আবু জর (রাঃ)-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন তাঁর গায়ে একটি চাদর ছিল এবং তাঁর গোলামের গায়েও অনুরূপ একটি চাদর ছিল। তখন আমরা বললাম, হে আবু জর (রাঃ)! যদি আপনি উভয়টি একত্রিত করতেন, তাহলে এক জোড়া চাদর হতো।তিনি বললেন, আমার মধ্যে এবং আমার ভাই সম্পর্কীয় ব্যক্তিটির মধ্যে কিছু কথা আছে। তার মা একজন অনারব। একদা আমি তার মাকে উল্লেখ করে তাকে ভর্ৎসনা করলাম। তখন সে আমার বিরুদ্ধে নবী (ﷺ)-এর কাছে নালিশ করল। এরপর যখন আমি নবী (ﷺ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলাম তখন তিনি বললেন, হে আবু জর! তুমি এমন ব্যক্তি, যার মধ্যে জাহিলী যুগের কাজকর্ম রয়েছে (যে সময়ে একে অন্যের বাপ-মাকে অবজ্ঞা ও তুচ্ছজ্ঞান করতো)।আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! যে ব্যক্তি মানুষদেরকে গালি দেয় তার প্রতি উত্তরে তারাও তার পিতা মাতাকে উল্লেখ করে গালি দেয়া স্বাভাবিক। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ হে আবু জর! তোমার মধ্যে জাহিলী যুগের কর্মকাণ্ড এখনও বিদ্যমান (অর্থাৎ তার মন্দ কথার বদলায় তার বাবা-মাকে গালি দেয়া অন্যায়)। তারা তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করেছেন। তোমরা যা খাবে তাদেরকেও তা খাওয়াবে এবং তোমরা যেমন পোশাক পরবে তাদেরকে তা পরাবে। তোমরা তাদের উপর এমন কোন কাজের ভার চাপিয়ে দিবে না, যা করতে তারা হিমশিম খেয়ে যায়। যদি তোমরা তাদেরকে কোন কাজে কষ্ট দাও, তাহলে এ কাজে তাদের সাহায্যও করো।
৪২০৬
নিজে যা খাবে ও পরিধান করবে দাস-দাসীকেও তা খেতে পরতে দেয়া এবং তাদের সাধ্যের বাইরে কাজের ভার না দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
আহমাদ ইবনু ইউনুস
উল্লেখিত হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর তিনি যুহায়র ও আবু মু‘আবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, হাদীসে “তোমার মধ্যে জাহিলী যুগের কর্মকাণ্ড বিদ্যমান’’ এ কথার পর কিছু বাড়িয়ে যোগ করেছেন। আমি বললাম, তা কি আমার বয়োবৃদ্ধে হবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ। আর আবু মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর বর্ণনায় আছে, হ্যাঁ, তোমার বয়োবৃদ্ধকালে।আর ঈসা (রহঃ)-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যদি তুমি তাকে সাধ্যের বাইরে কোনও কাজ করতে দাও, যা সে করতে অক্ষম, তবে তাকে বিক্রি করে দাও। আর যুহায়র (রহঃ)-এর হাদীসে আছে “অতএব তুমি তাকে তখন সাহায্যও করবে।”আবু মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর হাদীসে “তুমি তাকে বিক্রি করে দাও” অথবা “সাহায্য কর” কোনও কথার উল্লেখ নেই। “তুমি তাকে এমন কাজের ভার চাপিয়ে দিও না, যা করতে সে অক্ষম” এ কথা দ্বারাই হাদীস শেষ হয়েছে।
৪২০৭
নিজে যা খাবে ও পরিধান করবে দাস-দাসীকেও তা খেতে পরতে দেয়া এবং তাদের সাধ্যের বাইরে কাজের ভার না দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশ্শার (রহঃ) মা’রূর ইবনু সুওয়াইদ (রহঃ)
আমি আবু যার (রাঃ)-কে দেখতে পেলাম যে, তাঁর গায়ে একটি চাদর এবং তাঁর গোলামের গায়েও অনুরূপ একটি চাদর রয়েছে। তখন আমি এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন যে, কোন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিল। প্রত্যুত্তরে সে ব্যক্তি তার মাকে উল্লেখ করে গালি দিল।বর্ণনাকারী বলেন, তখন লোকটি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে ঐ ঘটনা বর্ণনা করলো, নবী (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমার মধ্যে অজ্ঞতা যুগের কর্মকাণ্ড বিদ্যমান। তারা তোমাদের ভাই, তোমাদের গোলাম। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তির অধীনে তার কোন ভাই থাকে তার উচিত তাকে এমন খাদ্য দেয়া যা সে নিজে খায় এবং এমন পোশাক দেয়া যা সে নিজে পরে। আর তোমরা তাদের উপর এমন কাজের ভার চাপিয়ে দিও না যা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়। আর যদি তোমরা তাদেরকে সামর্থ্যের বাইরে কাজ দাও, তবে তোমরা তাদেরকে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতাও করো।
৪২০৮
নিজে যা খাবে ও পরিধান করবে দাস-দাসীকেও তা খেতে পরতে দেয়া এবং তাদের সাধ্যের বাইরে কাজের ভার না দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)
ক্রীতদাসের জন্য খাওয়া-দাওয়া ও পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যবস্থা করা মনিবের দায়িত্ব। তার সাধ্যের বাইরে কোন কাজের জন্য তাকে কষ্ট দেয়া যাবে না।
৪২০৯
নিজে যা খাবে ও পরিধান করবে দাস-দাসীকেও তা খেতে পরতে দেয়া এবং তাদের সাধ্যের বাইরে কাজের ভার না দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কোন গোলাম খাদ্য তৈরি করে তার মনিবের কাছে নিয়ে আসে যাতে তার তাপ ও ধোঁয়া সে সহ্য করেছে, তখন তার উচিত হবে তাকে কাছে বসিয়ে তা থেকে কিছু খাবার প্রদান করা। আর যদি খাবারের পরিমাণ অতি অল্প হয়, তবে সে যেন তার হাতে অন্তত এক লোকমা অথবা দুই লোকমা খাবার প্রদান করে। বর্ণনাকারী দাউদ (রহঃ) বলেন যে,أُكْلَةً أَوْ أُكْلَتَيْنِ এর অর্থ لُُقْمَةً أَوْ لُقْمَتَيْنِ এক লোকমা অথবা দুই লোকমা।
৪২১০
কল্যাণকামিতার সাথে মনিবের সেবা ও ভালভাবে আল্লাহর ‘ইবাদাতকারী দাস-দাসীর পুরস্কার পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন চাকর যখন কল্যাণকামিতার সাথে আপন মনিবের সেবা করে এবং উত্তমরূপে আল্লাহর ইবাদতও করে- তখন সে দুইটি পুরস্কার প্রাপ্ত হবে।