৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪১৯/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪১৮১
কসমের মধ্যে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ) সূত্রে নাবী (সাঃ)
একদা সুলায়মান ইবন দাউদ (আঃ) বলেছিলেন, নিশ্চয়ই আমি আজ রাতে নব্বইজন স্ত্রীর প্রত্যেকের কাছেই গমন করব। এতে তারা এমন যোগ্য সন্তান প্রসব করবে যারা ভবিষ্যতে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। তখন তাঁর কোন সাথী তাঁকে বললেন, আপনি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলুন। কিন্তু তিনি ‘ইনশাআল্লাহ’ বলেননি।এরপর তিনি সকল স্ত্রীর সঙ্গেই সহবাস করলেন। কিন্তু মাত্র একজন স্ত্রী ব্যতীত আর কোন স্ত্রী গর্ভবতী হলেন না। তিনি যে সন্তানটি প্রসব করলেন- তাও ছিল অপূর্ণাঙ্গ।সেই মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে মুহাম্মদ (ﷺ)-এর জীবন, যদি তিনি তখন ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতেন, তবে তারা সকলেই (স্ত্রীদের জন্ম দেয়া সন্তান) অশ্বারোহী সৈনিক হয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করত।
৪১৮২
কসমের মধ্যে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যিনাদ (রহঃ)
আবু যিনাদ (রহঃ) হতে একই সূত্রে উল্লেখিত হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি কিছু শাব্দিক পরিবর্তন করে বলেছেন যে, প্রত্যেক স্ত্রী এমন সন্তানদের প্রসব করবে, যারা ভবিষ্যতে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে।
৪১৮৩
কসম দ্বারা যদি পরিবারের লোকদের কষ্ট হয় তবে কসম ভঙ্গ না করা নিষেধ, তবে তাতে শর্ত হলো কাজটি হারাম হবে না পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্ (রাযিঃ)- এর সূত্রে নাবী (সাঃ)
এ ব্যাপারে বহু হাদিস বর্ণনা করেছেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহর কসম! তোমাদের কেউ স্বীয় পরিবারের সাথে (কোনো বিষয়) আল্লাহর নামে কসম করে এর পুনরাবৃত্তি করে বা এর উপর অটল থাকে, তা অধিক গুনাহর কারণ বলে বিবেচিত হবে- কসম করে আল্লাহর নির্ধারিত (শপথ ভঙ্গের) কাফফারা আদায় করার তুলনায়।
৪১৮৪
কোন কাফির ব্যক্তি কুফ্‌রী অবস্থায় কোন মানৎ করে, অতঃপর মুসলিম হয়ে যায় পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাযিঃ)
একদা উমর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি জাহিলিয়্যাতের জামানায় মসজিদুল হারামে এক রাত্রি ইতিকাফ করার মানত করেছিলাম। তখন তিনি (ﷺ) বললেন: তুমি তোমার মানত পূর্ণ কর।
৪১৮৫
কোন কাফির ব্যক্তি কুফ্‌রী অবস্থায় কোন মানৎ করে, অতঃপর মুসলিম হয়ে যায় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ আশাজ্জ
তাঁদের মধ্য হতে হাফস (রহঃ) উমর (রাঃ) থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর আবূ উসামাহ এবং সাকফী (রহঃ) উভয়ের বর্ণিত হাদীসে اعْتِكَافُ لَيْلَةٍ (এক রাত্রির ইতিকাফের) কথা উল্লেখ আছে। আর শু'বাহ (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে يَوْمًا يَعْتَكِفُهُ (তিনি তাঁর উপর একদিনের ইতিকাফ করা ধার্য করে নিয়েছিলেন)। উল্লেখিত হাফস (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে ‘একদিন এবং এক রাত্রির’ কথা উল্লেখ নেই।
৪১৮৬
কোন কাফির ব্যক্তি কুফ্‌রী অবস্থায় কোন মানৎ করে, অতঃপর মুসলিম হয়ে যায় পরিচ্ছেদ নাই
আবূ তাহির (রহঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তায়েফ থেকে ফিরে আসার পর জি‘ইরানাহ নামক স্থানে অবস্থানকালে উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি অজ্ঞতার যুগে মাসজিদুল হারামে একদিন ই‘তিকাফ করার মানত করেছিলাম। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?” তখন তিনি বললেনঃ “যাও এবং একদিন ই‘তিকাফ করো।”বর্ণনাকারী বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত সম্পদের (গনীমাতের) এক পঞ্চমাংশ থেকে একটি দাসী প্রদান করেন। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন যুদ্ধবন্দীদেরকে মুক্ত করে দেন তখন উমর (রাঃ) তাঁদের শোরগোল শুনতে পান। তাঁরা বলাবলি করছিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন।উমর (রাঃ) বললেন, “ব্যাপার কী?” তখন তাঁরা বলল, “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুদ্ধবন্দীদেরকে মুক্তি দিয়েছেন।” তখন উমর (রাঃ) বললেন, “হে আবদুল্লাহ! ঐ দাসীটির কাছে গিয়ে তাকে মুক্ত করে দাও।”
৪১৮৭
কোন কাফির ব্যক্তি কুফ্‌রী অবস্থায় কোন মানৎ করে, অতঃপর মুসলিম হয়ে যায় পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু 'উমার (রাযিঃ)
যখন নবী (ﷺ) হুনাইনের যুদ্ধ থেকে ফিরে এলেন- তখন উমর (রাঃ) তাঁর জাহিলী যুগে করা একদিনের ইতিকাফ করার মানত সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করেন। এরপর জারীর ইবনু হাযিম (রহঃ)-এর হাদীসের মর্মানুরূপ হাদীসটি উল্লেখ করেন।
৪১৮৮
কোন কাফির ব্যক্তি কুফ্‌রী অবস্থায় কোন মানৎ করে, অতঃপর মুসলিম হয়ে যায় পরিচ্ছেদ নাই
নাফি' (রহঃ)
ইবনু উমর (রাঃ)-এর নিকট জি‘রানা থেকে ফেরার সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ‘উমরাহ করার কথা উল্লেখ করা হল। তখন তিনি বললেন, সেখান থেকে তিনি ‘উমরাহ করেননি। বর্ণনাকারী বলেন যে, ‘উমর (রাঃ) জাহিলী যুগে এক রাত্রি ই‘তিকাফ করার মানত করেছিলেন। এরপর জারীর ইবনু হাযিম ও মা‘মার সূত্রে আইয়ুব হতে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ উল্লেখ করেন।
৪১৮৯
কোন কাফির ব্যক্তি কুফ্‌রী অবস্থায় কোন মানৎ করে, অতঃপর মুসলিম হয়ে যায় পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু 'আবদুর রহমান দারিমী
মানত সম্পর্কে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর উভয়ের বর্ণিত হাদীসে সকলেই اعْتِكَافُ يَوْمٍ (একদিনের ইতিকাফ) কথাটি বর্ণনা করেছেন।
৪১৯০
ক্রীতদাসদের সাথে আচার-আচরণ এবং দাসকে চপেটাঘাতের কাফ্ফারা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ 'উমার (রহঃ)
আমি ইবন উমর (রাঃ)-এর কাছে আগমন করলাম, ইতোমধ্যে একজন ক্রীতদাসকে মুক্ত করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন যে, তিনি মাটি থেকে একটি কাঠি অথবা অন্য কোন বস্তু নিয়ে বললেন, “তাকে আযাদ করার মধ্যে তার সমতুল্য পুণ্যও নেই। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি নিজ ক্রীতদাসকে চপেটাঘাত করল অথবা প্রহার করল, এর কাফফারা হল তাকে মুক্ত করে দেয়া।”