৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪২০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪১৯১
ক্রীতদাসদের সাথে আচার-আচরণ এবং দাসকে চপেটাঘাতের কাফ্ফারা পরিচ্ছেদ নাই
যযান (রহঃ)
ইবন উমর (রাঃ) তাঁর এক গোলামকে ডাকলেন। এরপর তার পিঠে (প্রহারের) দাগ দেখতে পেলেন। তিনি তাকে বললেন, তুমি কি এতে যন্ত্রণা অনুভব করছ? সে বলল, না। তখন তিনি বললেন, তুমি মুক্ত।বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি মাটি থেকে কোন বস্তু নিয়ে বললেন, তাকে আযাদ করার মধ্যে এতটুকু পুণ্যও মেলেনি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আপন গোলামকে বিনা অপরাধে প্রহার করল কিংবা চপেটাঘাত করল, এর কাফফারা হল তাকে মুক্ত করে দেয়া।
৪১৯২
ক্রীতদাসদের সাথে আচার-আচরণ এবং দাসকে চপেটাঘাতের কাফ্ফারা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্, মুহাম্মাদ ইবনু মুসাঃন্না (রহঃ) উভয়েই সুফ্ইয়ান (রহঃ)
ইবনু মাহদী (রহঃ)-এর হাদীসের উল্লেকপূর্বক বলেন যে, এতে حَدًّا لَمْ يَأْتِهِ কথাটি উল্লেখ আছে। আর ওয়াকী (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে مَنْ لَطَمَ عَبْدَهُ বাক্যটির উল্লেখ আছে। তিনি তাঁর হাদীসে حد কথাটি উল্লেখ করেননি।
৪১৯৩
ক্রীতদাসদের সাথে আচার-আচরণ এবং দাসকে চপেটাঘাতের কাফ্ফারা পরিচ্ছেদ নাই
মু’আবিয়াহ্ ইবনু সুওয়াইদ (রহঃ)
একদা আমি আমাদের এক গোলামকে চপেটাঘাত করলাম। এরপর আমি পালিয়ে গেলাম এবং যুহরের সালাতের আগে আগে ফিরে এলাম। আমি আমার পিতার পিছনে সালাত আদায় করলাম। তিনি তাকে এবং আমাকে ডাকলেন। গোলামকে বললেন, তুমি তার কাছ থেকে বদলা নাও। অবশেষে সে ক্ষমা করে দিল।এরপর তিনি বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময়কালে বনী মুকাররিন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। আমাদের মাত্র একটি গোলাম ছিল। একদা আমাদের কোন একজন তাকে চপেটাঘাত করল এবং এ সংবাদ নবী (ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছল। তখন তিনি বললেন, তাকে আজাদ করে দাও। তারা বলল, সে ব্যতীত তাদের কোন খাদেম নেই। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা তার কাছ হতে সেবা গ্রহণ করতে থাক, যখনই তার প্রয়োজন মিটে যাবে তখনই তোমরা তাকে মুক্ত করে দেবে।
৪১৯৪
ক্রীতদাসদের সাথে আচার-আচরণ এবং দাসকে চপেটাঘাতের কাফ্ফারা পরিচ্ছেদ নাই
হিলাল ইবনু ইয়াসাফ (রহঃ)
এক বৃদ্ধ তার চাকরকে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে চপেটাঘাত করল। সুওয়াইদ ইবন মুকাররিন (রাঃ) তাকে বললেন, আপনি তার মূল্যবান চেহারা ছাড়া আর কোন স্থান পেলেন না। আপনি আমাকে বনি মুকাররিন গোত্রের সাত সদস্য বিশিষ্ট পরিবারে সপ্তম লোক হিসেবে দেখতে পাচ্ছেন। আমাদের একজন গোলাম ব্যতীত অন্য কোন গোলাম ছিল না। একদা আমাদের মধ্যকার সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি তাকে চপেটাঘাত করল। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন তাকে আযাদ করে দিতে।
৪১৯৫
ক্রীতদাসদের সাথে আচার-আচরণ এবং দাসকে চপেটাঘাতের কাফ্ফারা পরিচ্ছেদ নাই
হিলাল ইবনু ইয়াসাফ (রহঃ)
আমরা নুমান ইবন মুকাররিন (রাঃ)-এর ভাই সুয়াইদ ইবন মুকাররিন (রহঃ)-এর বাড়িতে কাপড় বিক্রি করছিলাম। এমন সময় একজন দাসী বেরিয়ে এসে আমাদের একজন লোকের সাথে তর্ক করল। তখন সে তাকে একটি চপেটাঘাত মারল। এতে সুয়াইদ (রাঃ) রাগান্বিত হলেন। তখন তিনি ইবন ইদরিস বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেন।
৪১৯৬
ক্রীতদাসদের সাথে আচার-আচরণ এবং দাসকে চপেটাঘাতের কাফ্ফারা পরিচ্ছেদ নাই
সুওয়াইদ ইবনু মুকার্রিন (রাযিঃ)
তাঁর একজন দাসী ছিল। এক ব্যক্তি একদা তাকে চপেটাঘাত করল। তখন সুয়াইদ (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি কি জান না যে, চেহারায় চপেটাঘাত করা নিষিদ্ধ? নিশ্চয়ই তুমি আমাকে দেখতে পাচ্ছ যে, আমরা সাত ভাই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় আমাদের একজনের গোলাম ব্যতীত আর কারো গোলাম ছিল না। একদা আমাদের মধ্যকার একজন ব্যক্তি তাকে চপেটাঘাত করল। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন তাকে মুক্ত করে দেয়ার জন্য।
৪১৯৭
ক্রীতদাসদের সাথে আচার-আচরণ এবং দাসকে চপেটাঘাতের কাফ্ফারা পরিচ্ছেদ নাই
শু’বাহ্ (রহঃ)
মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির (রহঃ) এরপর আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নাম কী? অতঃপর তিনি ‘আবদুস সামাদ (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪১৯৮
ক্রীতদাসদের সাথে আচার-আচরণ এবং দাসকে চপেটাঘাতের কাফ্ফারা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মাস’ঊদ বদরী (রাযিঃ)
একদা আমি আমার ক্রীতদাসকে চাবুক দিয়ে প্রহার করছিলাম। হঠাৎ আমার পিছন থেকে একটি শব্দ শুনলাম, ‘হে আবু মাসউদ! জেনে রেখো!’ রাগের কারণে আমি শব্দটি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম না। বর্ণনাকারী বলেন, যখন তিনি আমার কাছাকাছি এলেন তখন দেখতে পেলাম, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। এবং তিনি বলছেন: ‘হে আবু মাসউদ! তুমি জেনে রেখো, হে আবু মাসউদ! তুমি জেনে রেখো!’ বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি চাবুকটি আমার হাত থেকে ফেলে দিলাম। এরপর তিনি বললেন, ‘হে আবু মাসউদ! তুমি জেনে রেখো যে, এ গোলামের উপর তোমার ক্ষমতার চেয়ে তোমার উপর আল্লাহ তা'আলা অধিক ক্ষমতাবান।’ বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, ‘এরপর কখনও কোন ক্রীতদাসকে আমি প্রহার করবো না।
৪১৯৯
ক্রীতদাসদের সাথে আচার-আচরণ এবং দাসকে চপেটাঘাতের কাফ্ফারা পরিচ্ছেদ নাই
ইসহাক্ ইবনু ইব্রাহীম যুহায়র ইবনু হারব, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’, আবূ বাকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) সকলেই আ’মাশ (রহঃ)
আবদুল ওয়াহিদ (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু জারীর (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে فَسَقَطَ مِنْ يَدِي السَّوْطُ مِنْ هَيْبَتِهِ (তাঁর ভয়ে আমার হাত থেকে চাবুকটি পড়ে গেল) এ বাক্যটি অতিরিক্ত সংযোজিত হয়েছে।
৪২০০
ক্রীতদাসদের সাথে আচার-আচরণ এবং দাসকে চপেটাঘাতের কাফ্ফারা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মাস’ঊদ আনসারী (রাযিঃ)
আমার এক দাসকে প্রহার করছিলাম। হঠাৎ আমার পিছন দিক থেকে একটি আওয়াজ শুনলাম, “হে আবু মাসউদ! জেনে রেখো, তুমি তার উপর যেরূপ শক্তিমান, আল্লাহ তোমার ওপর এর চেয়ে অধিক শক্তিমান।” হঠাৎ পিছন দিকে তাকিয়ে দেখি তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)! তখন আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! সে আল্লাহর ওয়াস্তে মুক্ত।” এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “সাবধান! যদি তুমি তা না করতে তাহলে অবশ্যই দোজখ তোমাকে গ্রাস করতো অথবা (রাবীর সন্দেহ) দোজখ তোমাকে অবশ্যই স্পর্শ করতো।”