৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪১১
মু’মিনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করা ও অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও তাদেরকে এড়িয়ে চলা পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর তাদের একটি দলের চেহারা হবে চাঁদের মত (উজ্জ্বল)।
৪১২
মু’মিনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করা ও অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও তাদেরকে এড়িয়ে চলা পরিচ্ছেদ নাই
ইমরান (রাঃ)
আল্লাহর নবী (ﷺ) বলেছেন: আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, তারা কারা, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)? তিনি বললেন: যারা ক্ষতস্থানে লোহা পুড়ে লাগায় না এবং (জাহিলী যুগের ন্যায়) ঝাড়ফুঁক বা মন্ত্রের দ্বারা চিকিৎসা কামনা করে না বরং তারা আল্লাহর উপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করে। এ সময় উক্কাশা (রাঃ) উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। নবী (ﷺ) বললেন, তুমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর নবী! আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন, তিনি আমাকেও যেন তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। উত্তরে নবী (ﷺ) বললেন: উক্কাশা তোমার আগেই সে দলভুক্ত হয়ে গেছে।
৪১৩
মু’মিনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করা ও অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও তাদেরকে এড়িয়ে চলা পরিচ্ছেদ নাই
ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার লোক হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ! এরা কারা? রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: যারা ঝাড়ফুঁক করায় না, পাখি উড়িয়ে শুভাশুভের লক্ষণ মানে না, আগুনের দাগ গ্রহণ করে না; বরং সর্বদাই আল্লাহর উপর নির্ভর করে (তারাই)।
৪১৪
মু’মিনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করা ও অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও তাদেরকে এড়িয়ে চলা পরিচ্ছেদ নাই
সাহ্‌ল ইবনু সা’দ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার বা সাত লক্ষ (এখানে রাবী আবু হাযিম কোন সংখ্যাই নিশ্চিত করে বলতে পারেননি) লোক পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একে অন্যের হাত ধরে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের প্রথম ব্যক্তি শেষ ব্যক্তির প্রবেশের আগে প্রবেশ করবে না, বরং সবাই একত্রে প্রবেশ করবে। তাদের চেহারা পূর্ণিমার চাঁদের মত চমকাতে থাকবে।
৪১৫
মু’মিনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করা ও অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও তাদেরকে এড়িয়ে চলা পরিচ্ছেদ নাই
হুসায়ন ইবনু ‘আবদুর রহমান (রাঃ)
আমি সাঈদ ইবন যুবাইর-এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি প্রশ্ন করলেন, তোমাদের মধ্য হতে কেউ রাতে যে তারকাটি বিচ্যুত হয়েছিল তা দেখেছ কি? আমি বললাম, আমি দেখেছি। অবশ্য আমি রাতের সালাতে রত ছিলাম না; আমাকে বিচ্ছু দংশন করেছিল। সাঈদ বললেন, দংশন করার পর তুমি কী করেছিলে? আমি বললাম, ঝাড়ফুঁক করিয়েছি। তিনি বললেন, তোমাকে এ ঝাড়ফুঁক গ্রহণে কিসে উদ্বুদ্ধ করল? আমি বললাম, সে হাদিস যা আমাদেরকে শাঅবী বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন, শাঅবী কী হাদিস বর্ণনা করেছেন? আমি বললাম, শাঅবী বুরাইদা ইবন হুসাইব আল আসলামী (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, কুদৃষ্টি বা বিচ্ছু দংশন ব্যতীত অন্য বিষয়ে ঝাড়ফুঁক করানো উচিত নয়।তিনি বললেন, ভাল বলেছেন। ইবন আব্বাস (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, স্বপ্নে আমার সামনে সকল নবিদের উপস্থিত করা হয়। অতঃপর তখন কোন কোন নবীকে দেখলাম যে, তাঁর সঙ্গে ছোট্ট একটি দল রয়েছে; আর কাউকে দেখলাম, তাঁর সঙ্গে একজন কিংবা দু’জন লোক আবার কেউ এমনও ছিলেন যে, তাঁর সাথে কেউ নেই। হঠাৎ আমার সামনে এক বিরাট দল দেখা গেল। মনে হলো, এরা আমার উম্মাত। তখন আমাকে বলা হলো, ইনি মূসা (আঃ) ও তাঁর উম্মাত; তবে আপনি ওপর দিগন্তে তাকিয়ে দেখুন। আমি ওদিকে তাকালাম, দেখি বিরাট একদল, আবার বলা হলো, আপনি ওপর দিগন্তে তাকিয়ে দেখুন, (আমি ওদিকে তাকিয়ে দেখলাম) এক বিরাট দল। বলা হলো, এরা আপনার উম্মাত। এদের মধ্যে সত্তর হাজার এমন লোক আছে যারা শাস্তি ব্যতীত ও হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে।এ কথা বলে রসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়ালেন, অতঃপর তাঁর ঘরে চলে গেলেন। তারা উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম তখন এ হিসাব ও ‘আযাববিহীন জান্নাতে প্রবেশকারী কারা হবেন? এ নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন। কেউ বললেন, তাঁরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীরা। কেউ বললেন, তারা সে সব লোক যারা ইসলামের উপর জন্মলাভ করেছে এবং আল্লাহর সঙ্গে কোন প্রকার শরীক করেনি এবং তাঁরা বহু জিনিসের উল্লেখ করলেন।তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের কাছে বেরিয়ে এলেন এবং বললেনঃ তোমরা কী নিয়ে আলোচনা করছিলে? সবাই বিষয়টি (খুলে) বললেন। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁদের বললেনঃ এরা সে সব লোক যারা ঝাড়ফুঁক করে না বা তা গ্রহণও করে না, পাখি উড়িয়ে শুভাশুভের লক্ষণ মানে না বরং সর্বদাই আল্লাহর উপর নির্ভর করে।তখন উক্কাশা ইবন মিহসান (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, আমার জন্যে দোয়া করুন, আল্লাহ যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তাদেরই একজন থাকবে। তারপর আরেক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্যও দোয়া করুন, আল্লাহ যেন আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: এ সুযোগ লাভে উক্কাশা তোমার চাইতে অগ্রগামী হয়ে গেছে।
৪১৬
মু’মিনদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করা ও অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ও তাদেরকে এড়িয়ে চলা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ স্বপ্নে আমার সামনে সকল উম্মতকে পেশ করা হয় ..... এভাবে বর্ণনাকারী হুসাইন বর্ণিত হাদিসের অনুরূপই বর্ণনা করেন। কিন্তু হাদিসটির প্রথমাংশ উল্লেখ করেননি।
৪১৭
জান্নাতীদের অর্ধাংশ এ উম্মাতের (মুহাম্মাদীর) অন্তর্ভুক্ত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের জিজ্ঞেস করলেন যে, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরাই জান্নাতবাসীদের এক চতুর্থাংশ হবে? (আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন) এ শুনে আমরা (খুশিতে) ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিলাম।অতঃপর রসূল (ﷺ) বললেন: তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরাই জান্নাতবাসীদের এক তৃতীয়াংশ হবে? সাহাবা (রাঃ) বলেন, আমরা আবার ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিলাম।তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তবে আমি আশা করি তোমরাই জান্নাতবাসীদের অর্ধেক হবে। আর এ সম্পর্কে তোমাদের অচিরেই বলছি : কাফিরদের ভীড়ে তোমাদের অবস্থান এমনই স্পষ্ট হবে, যেমন কালো ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশম অথবা একটি সাদা ষাঁড়ের গায়ে কালো পশম।
৪১৮
জান্নাতীদের অর্ধাংশ এ উম্মাতের (মুহাম্মাদীর) অন্তর্ভুক্ত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমরা প্রায় চল্লিশজনের মতো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলাম। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরা জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ হবে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট যে, তোমরা জান্নাতীদের এক তৃতীয়াংশ হবে? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) বললেন, কসম তাঁর, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি আশা করি যে, অবশ্যই তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে। কেননা, কেবল মুসলিমই সেখানে প্রবেশের অনুমতি লাভ করবে। আর মুশরিকদের মধ্যে তোমাদের অবস্থান হবে, যেমন কালো ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশম অথবা লাল ষাঁড়ের গায়ে একটি কালো পশমের মতো।
৪১৯
জান্নাতীদের অর্ধাংশ এ উম্মাতের (মুহাম্মাদীর) অন্তর্ভুক্ত পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি তাঁর পৃষ্ঠদেশের সাহায্যে চামড়ার তাঁবুর সাথে হেলান দিয়েছিলেন। তিনি বললেন: সাবধান, মুসলিম ব্যতীত কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। অতঃপর তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমি কি (অর্পিত দায়িত্ব) পৌঁছিয়েছি? হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাকো, তোমরা কি এটা পছন্দ করবে যে, তোমরা জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ হবে? আমরা বললাম, হ্যাঁ! হে আল্লাহর রাসূল!অতঃপর তিনি বললেন: তোমরা কি এটা পছন্দ করবে যে, তোমরা জান্নাতীদের এক তৃতীয়াংশ হবে? তারা বলল, হ্যাঁ; হে আল্লাহর রাসূল! তিনি (ﷺ) বললেন: হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আমি আশা রাখি যে, তোমরা হবে জান্নাতীদের অর্ধেক। বস্তুতঃ অন্যান্য উম্মতের তুলনায় তোমাদের সংখ্যা হবে সাদা বলদের মধ্যে একটি কালো পশমের মতো অথবা তিনি বলেছেন: কালো বলদের মধ্যে একটি সাদা পশমের মতো।
৪২০
মহান আল্লাহ আদাম (‘আঃ)-কে বলবেন : “যারা জাহান্নামে প্রেরিত হয়েছে তাদের প্রত্যেক এক হাজারের মধ্যে নয়শত নিরানব্বই জনকে বের করে আনো” পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সা’ঈদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ (কেয়ামত দিবসে) আহ্বান করবেন, হে আদম! তিনি উত্তরে বলবেন, আমি আপনার সামনে উপস্থিত, আপনার কাছে শুভ কামনা করি এবং সকল কল্যাণ আপনারই হাতে। মহান আল্লাহ বলবেন : জাহান্নামি দলকে বের কর। আদম (আঃ) জিজ্ঞেস করবেন : জাহান্নামি দল কতজনে? মহান আল্লাহ বলবেন : প্রতি হাজার থেকে নয়শ নিরানব্বই।রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এটাই সে মুহূর্ত যখন বালক হয়ে যাবে বৃদ্ধ, সকল গর্ভবতী তাদের গর্ভপাত করে ফেলবে আর মানুষকে দেখবে মাতাল সদৃশ যদিও তারা নেশাগ্রস্ত নয়, বস্তুতঃ আল্লাহর ‘আজাব বড়ই কঠিন।রাবী বলেন, কথাগুলো সাহাবীদের কঠিন মনে হলো। তাঁরা বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ (ﷺ)! আমাদের মধ্যে কে সে ব্যক্তি? তিনি (ﷺ) বললেনঃ আনন্দিত হও। ইয়াজূজ ও মাজূজের সংখ্যা এক হাজার হলে তোমাদের সংখ্যা হবে একজন।তারপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কসম সে সত্তার যাঁর হাতে আমার প্রাণ! অবশ্যই আমি আশা রাখি যে, তোমরা জান্নাতীদের এক চতুর্থাংশ হবে। (সাহাবা বলেন,) আমরা আল্লাহর প্রশংসা করলাম এবং ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিলাম।তারপর আবার তিনি বললেন, শপথ সে সত্তার, যাঁর হাতে আমার জীবন! অবশ্যই আমি আশা রাখি, জান্নাতীদের মধ্যে তোমরা তাদের এক তৃতীয়াংশ হবে। সাহাবা বলেন, আমরা বললাম ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিলাম।তারপর আবার রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ কসম সে সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি আশা রাখি যে, তোমরা জান্নাতীদের অর্ধেক হবে এবং তোমরা অন্যান্য উম্মতের মধ্যে কালো ষাঁড়ের গায়ে একটি সাদা পশমের ন্যায় অথবা গাধার পায়ের চিহ্নের সদৃশ।