৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৯১
মহান আল্লাহর বাণীঃ “ তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দাও” (সূরাহ্‌ আশ্‌ শু’আরা ২৬ : ২১৪) পরিচ্ছেদ নাই
‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
যখন এ মর্মে আয়াত নাযিল হয়ঃ “তোমার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও” (সূরা আশ-শু’আরা ২৬ : ২১৪)। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) সাফা পর্বতের উপর দাঁড়িয়ে বললেন, “হে ফাতিমা বিনতু মুহাম্মাদ! হে সাফিয়া বিনতু আবদুল মুত্তালিব! হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধর! আল্লাহর আযাব থেকে তোমাদেরকে রক্ষা করার আমার কোন ক্ষমতা নেই। তোমরা আমার কাছে আমার সম্পদের যা খুশি চাও।”
৩৯২
মহান আল্লাহর বাণীঃ “ তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দাও” (সূরাহ্‌ আশ্‌ শু’আরা ২৬ : ২১৪) পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
যখন এ মর্মে আয়াত অবতীর্ণ হলো (অর্থ) “তোমার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও”– (সূরা আশ-শু’আরা ২৬ : ২১৪)। তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন,“হে কুরাইশগণ! আল্লাহর আজাব থেকে তোমরা নিজেদের কিনে নাও (বাঁচাও)। আল্লাহর আজাব থেকে তোমাদের রক্ষা করার কোন ক্ষমতা আমার নেই। হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধর! তোমাদের আমি রক্ষা করতে পারব না। হে আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিব! তোমাকেও আমি রক্ষা করতে পারব না। হে সাফিয়া রাসুলুল্লাহর (ﷺ) ফুফু! আমি আল্লাহর আজাব থেকে তোমার কোন উপকার করতে পারব না। হে রাসুলুল্লাহর (ﷺ) কন্যা ফাতিমা! তোমার যা ইচ্ছা চাও। আল্লাহর আজাব থেকে আমি তোমাকে রক্ষা করতে পারবো না।”
৩৯৩
মহান আল্লাহর বাণীঃ “ তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দাও” (সূরাহ্‌ আশ্‌ শু’আরা ২৬ : ২১৪) পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৩৯৪
মহান আল্লাহর বাণীঃ “ তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দাও” (সূরাহ্‌ আশ্‌ শু’আরা ২৬ : ২১৪) পরিচ্ছেদ নাই
কাবীসাহ্‌ ইবনু মুখারিক ও যুহায়র ইবনু ‘আম্‌র (রাঃ)
তাঁরা বলেন, যখন এ মর্মে আয়াত নাযিল হয়, “তোমার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও” -(সূরা আশ-শু‘আরা ২৬:২১৪)। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) পর্বতের বৃহদাকার পাথরের দিকে গেলেন এবং তার মধ্যে সবচেয়ে বৃহত্তর প্রস্তর খণ্ডে আরোহণ করলেন। এরপর তিনি আহ্বান জানালেন, ওহে আবদ মানাফ-এর বংশধর! আমি (তোমাদের) সতর্ককারী। আমার ও তোমাদের উপমা হলো, এমন এক ব্যক্তির ন্যায়, যে শত্রুকে দেখতে পেয়ে তার লোকদের রক্ষা করার জন্য অগ্রসর হলো, পরে সে আশঙ্কা করল যে, শত্রু তার আগেই এসে যাবে। তখন সে ‘ইয়া সাবাহা’ (হায় মন্দ প্রভাত!) বলে চিৎকার শুরু করল।
৩৯৫
মহান আল্লাহর বাণীঃ “ তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দাও” (সূরাহ্‌ আশ্‌ শু’আরা ২৬ : ২১৪) পরিচ্ছেদ নাই
যুহায়র ইবনু ‘আম্‌র ও কাবীসাহ্‌ ইবনু মুখারিক (রাঃ)
উল্লেখিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৩৯৬
মহান আল্লাহর বাণীঃ “ তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দাও” (সূরাহ্‌ আশ্‌ শু’আরা ২৬ : ২১৪) পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
যখন এ মর্মে আয়াত নাযিল হয়, “তোমার নিকটাত্মীয়বর্গকে সতর্ক করে দাও”- (সূরা আশ-শু'আরা ২৬ : ২১৪) এবং তাদের মধ্য থেকে তোমার নিষ্ঠাবান সম্প্রদায়কেও।” তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বের হয়ে এলেন এবং সাফা পর্বতে উঠে উচ্চস্বরে ডাক দিলেনঃ হায়, মন্দ প্রভাত! সকলে বলাবলি করতে লাগল, কে এ ব্যক্তি যে ডাক দিচ্ছে? লোকেরা বলল, মুহাম্মাদ। তারপর সবাই তাঁর কাছে উপস্থিত হলো। তিনি (ﷺ) বললেন, হে অমুকের বংশধর! হে অমুকের বংশধর! হে আবদ মানাফ-এর বংশধর! হে আবদুল মুত্তালিব-এর বংশধর! এতে সবাই তাঁর কাছে সমবেত হলো। নাবীজী জিজ্ঞেস করলেনঃ দেখ, যদি আমি তোমাদের এ সংবাদ দেই যে, এ পর্বতের পাদদেশে অশ্বারোহী শত্রু সৈন্য এসে পড়েছে তবে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করবে? তারা উত্তরে বললঃ তোমাকে কখনো মিথ্যা বলতে তো আমরা দেখিনি। তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমি তোমাদের সতর্ক করছি সামনের কঠোর আজাব সম্পর্কে। বর্ণনাকারী বলেন, আবু লাহাব তখন এই বলে উঠে গেল “তুমি ধ্বংস হও, তুমি এজন্যই কি আমাদের একত্রিত করেছিলে?” তখন এ সূরা অবতীর্ণ হয়ঃ “ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুই হাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও ......সূরার শেষ পর্যন্ত।” (সূরা লাহাব ১১১ : ১-৫) অবশ্য রাবী আ'মাশ وَ تَبَّ-এর পরিবর্তে وَقَدْ تَبَّ পাঠ করেন।
৩৯৭
মহান আল্লাহর বাণীঃ “ তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দাও” (সূরাহ্‌ আশ্‌ শু’আরা ২৬ : ২১৪) পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
উক্ত সানাদে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন সাফা পর্বতে আরোহণ করেন এবং বলেনঃ হায় ‘মন্দ প্রভাত’! (বাকি অংশ) আবু উসামার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। অবশ্য তিনি وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ আয়াতটি অবতরণের কথা উল্লেখ করেননি।
৩৯৮
আবূ তালিব-এর জন্য নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শাফা‘আত এবং সে কারণে তার ‘আযাব কম হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ)
তিনি একদিন রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ (ﷺ)! আপনি কি আবু তালিবের কোন উপকার করতে পেরেছেন? তিনি তো আপনার হিফাজত করতেন, আপনার পক্ষ হয়ে (অন্যের প্রতি) ক্রোধান্বিত হতেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তরে বললেন: হ্যাঁ, তিনি কেবল পায়ের গ্রন্থি পর্যন্ত জাহান্নামের আগুনে আছেন, আর যদি আমি না হতাম তবে জাহান্নামের অতল তলেই তিনি অবস্থান করতেন।
৩৯৯
আবূ তালিব-এর জন্য নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শাফা‘আত এবং সে কারণে তার ‘আযাব কম হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
‘আব্বাস (রাঃ)
আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রসূলুল্লাহ (ﷺ)! নিশ্চয়ই আবু তালিব তো আপনার হিফাজত করতেন, আপনাকে সাহায্য করতেন এবং আপনার পক্ষ হয়ে (অন্যদের প্রতি) রাগ করতেন। তাঁর এ কর্ম তাঁর কি কোন উপকারে এসেছে? রসূলুল্লাহ (ﷺ) উত্তরে বললেনঃ হ্যাঁ। আমি তাঁকে জাহান্নামের গভীরে পেয়েছিলাম, অতঃপর আমি সেখান থেকে (তাঁর পায়ের) গ্রন্থি পর্যন্ত বের করে আগুনের উপরিভাগে নিয়ে এসেছি।
৪০০
আবূ তালিব-এর জন্য নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শাফা‘আত এবং সে কারণে তার ‘আযাব কম হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ)
ঐ সানাদে পূর্ববর্ণিত আবূ আওয়ানা-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।