৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪১৬/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪১৫১
আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কারো কসম করার নিষেধাজ্ঞা পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু 'উমার (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শপথ করার জন্য মনস্থ করে, সে যেন আল্লাহর নাম ব্যতীত শপথ না করে। কুরাইশরা তাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করতো। কাজেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে শপথ করো না।
৪১৫২
যে ব্যক্তি লাত ও 'উযযার নামে কসম করে সে যেন (আরবী) বলে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাযিঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কসম করে এবং সে কসম করতে গিয়ে বলে, ‘লাতের কসম’ সে যেন এর পরপরই বলে لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ আর যে ব্যক্তি তার সাথীকে বলে, এসো, তোমার সাথে জুয়া খেলি, সে যেন এর সাথে সাথেই কিছু সদাকা করে দেয়।
৪১৫৩
যে ব্যক্তি লাত ও 'উযযার নামে কসম করে সে যেন (আরবী) বলে পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ)
যুহরী (রহঃ) সূত্রে বর্ণনা করেন। আর মা'মার (রহঃ)-এর হাদিস ইউনুস (রহঃ)-এর হাদিসের অনুরূপ। তবে মা'মার বলেছেন, “সে যেন কোন কিছু সদাকা করে দেয়”। আর আওযায়ী’র হাদিসে আছে, ‘যে ‘লাত’ ও ‘উয্যা’র শপথ করবে। আবুল হুসাইন মুসলিম (রহঃ) বলেন, এ কথাটি অর্থাৎ তাঁর কথা “তুমি এসো, তোমার সাথে আমি জুয়া খেলি, তবে সে যেন সাথে সাথে সদাকা দেয়” যুহরী ব্যতীত অন্য কেউই বর্ণনা করেননি। ইমাম মুসলিম (রহঃ) আরও বলেন, নবী (ﷺ) থেকে প্রায় নব্বইটি হাদিস যুহরীর নিকট রয়েছে যা তিনি উত্তম সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যাতে আর কেউ শরীক নেই।
৪১৫৪
যে ব্যক্তি লাত ও 'উযযার নামে কসম করে সে যেন (আরবী) বলে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু সামুরাহ (রহঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা দেব-দেবীর নামে ও তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না।
৪১৫৫
যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, অতঃপর এটা না করাই উত্তম মনে করলে তা-ই করবে আর কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিবে। পরিচ্ছেদ নাই
খালাফ ইবনু হিশাম
একদা আমি আশআরী গোত্রের কিছু সংখ্যক লোককে নিয়ে বাহন চাওয়ার জন্য নবী (ﷺ)-এর নিকট আসি। তখন তিনি বললেনঃ “আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের বাহনের সওয়ারি দিব না। আর আমার কাছে এমন কিছু নেই যাতে আমি তোমাদের সওয়ার করাতে পারি।”আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) বলেন, আল্লাহ যতটা চাইলেন আমরা ততক্ষণ অপেক্ষা করলাম। তারপর তাঁর কাছে উট আনা হলো। তিনি আমাদেরকে তিনটি সাদা কুঁজবিশিষ্ট উট দেয়ার নির্দেশ দেন। যখন আমরা (তা নিয়ে) চলে আসি, তখন আমরা বললাম, রাবী বলেন, অথবা আমাদের একে অপরকে বললেন যে, এতে আল্লাহ তা’আলা আমাদের কল্যাণ করবেন না। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট সওয়ারি বাহন চাইতে এসেছিলাম। তখন তিনি কসম করেছিলেন যে, আমাদেরকে সওয়ারি বাহন দিবেন না। এরপর আমাদেরকে সওয়ারি দিলেন।তারপর তারা নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁর কসমের কথা অবগত করালেন। তিনি বললেনঃ “আমি নই; বরং আল্লাহ তোমাদের সওয়ারি দিয়েছেন। আর আল্লাহর কসম! ইনশা-আল্লাহ আমি যখনই কোন বিষয়ের উপর কসম করি এরপর যদি এর তুলনায় অন্যটি কল্যাণকর মনে করি, তবে আমি আমার কসমের কাফ্‌ফারা দিয়ে দিব এবং যা উত্তম তাই করব।
৪১৫৬
যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, অতঃপর এটা না করাই উত্তম মনে করলে তা-ই করবে আর কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিবে। পরিচ্ছেদ নাই
আবূ মুসা (রাযিঃ)
নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে ‘জায়শুল উসরা’ অর্থাৎ তাবুকের যুদ্ধের জন্য সমবেত হওয়ার কালে আমার সাথীরা তাদের জন্য সওয়ারি চাইতে আমাকে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট প্রেরণ করেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর নাবী! আমার সঙ্গীরা আমাকে আপনার নিকট তাদেরকে সওয়ারি দেয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের কোন বাহন দেব না। আর যখন আমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করি তখন তিনি রাগান্বিত ছিলেন, অথচ আমি বুঝতে পারিনি।আমি চিন্তিত মনে ফিরে আসি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অসম্মতির কারণে এবং এ ভয়ে যে, সম্ভবত রসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উপর মনে মনে রাগান্বিত হয়েছেন। তখন আমি আমার সাথীদের কাছে চলে আসি এবং রসূলুল্লাহ (ﷺ) যা বলেছেন, তা তাদের জানাই।অল্পক্ষণ বেশি দেরি করিনি, হঠাৎ শুনতে পাই যে, বিলাল (রাঃ) ডাক দিচ্ছেন হে আব্দুল্লাহ ইবনু কায়স! আমি উত্তর দিলাম। তিনি বললেন, চলো, রসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে ডাকতে পাঠিয়েছেন। যখন আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসি, তখন তিনি বললেন, এ জোড়া নাও, এ জোড়া নাও এবং এ জোড়া নাও। ছয়টি উট সম্পর্কে বললেন, যা সা’দ (রাঃ) থেকে সে সময়েই রসূল (ﷺ) ক্রয় করেছেন। সুতরাং তুমি তা নিয়ে তোমার সাথীদের কাছে চলে যাও এবং বল, আল্লাহ অথবা বলেন, আল্লাহর রসূল তোমাদের এগুলো বাহনের জন্য দিয়েছেন। সুতরাং তোমরা এর উপর আরোহণ করো।আবু মুসা (রাঃ) বলেন, আমি এগুলো নিয়ে আমার সাথীদের নিকট আসি এবং বলি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) এগুলো তোমাদের বাহন হিসেবে দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের ছাড়বো না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের কেউ আমার সাথে সে ব্যক্তির নিকট না যায়, যে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা শুনেছে, যখন আমি তাঁর নিকট তোমাদের জন্য (বাহন) চেয়েছিলাম এবং তিনি প্রথমবার নিষেধ করেন এবং পরে আমাকে তা প্রদান করেন। তোমরা মনে করো না, তিনি (ﷺ) যা বলেননি, আমি তোমাদের এমন কথা বলেছি। তারা আমাকে বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি আমাদের নিকট অবশ্যই সত্যবাদী। আর আপনি যা চাইছেন তা আমরা অবশ্যই করবো। তারপর আবু মুসা (রাঃ) তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে সাথে নিয়ে ঐসব লোকদের নিকটে এলেন যাঁরা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা এবং তাদের দিতে তাঁর নিষেধাজ্ঞা শুনেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁর দেয়া লক্ষ্য করেছিলেন। তারা তাদের কাছে হুবহু সে বর্ণনাই দিলেন যা আবু মুসা (রাঃ) তাদের কাছে বর্ণনা করেছিলেন।
৪১৫৭
যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, অতঃপর এটা না করাই উত্তম মনে করলে তা-ই করবে আর কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিবে। পরিচ্ছেদ নাই
যাহদাম জারমী (রাযিঃ)
আমরা আবূ মূসা (রাঃ)-এর নিকটে ছিলাম। তিনি তাঁর (খানার) দস্তরখান নিয়ে আসতে বললেন। তাতে মুরগির গোশত ছিল। ইত্যবসরে তাইমুল্লাহ গোত্রের লাল বর্ণের এক লোক প্রবেশ করে, যে গোলাম সদৃশ ছিল। আবূ মূসা (রাঃ) তাকে বললেন, এসো। সে ইতস্তত করে। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, এসো। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তা খেতে দেখেছি। লোকটি বললো, আমি একে এমন কিছু খেতে দেখেছি যাতে আমার খেতে ঘৃণার উদ্রেক হয়, তাই আমি কসম করেছি যে, তা আর খাব না। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, এসো, এ ব্যাপারে আমি তোমাকে একটি হাদিস বলছি।আমি একবার আশআরী গোত্রের কতিপয় লোকের সাথে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট সওয়ারি চাইতে আসি। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সওয়ারি দিব না। আর তোমাদের দেওয়ার মত সওয়ারিও আমার কাছে নেই।তারপর যতক্ষণ আল্লাহর ইচ্ছা হয়, আমরা অপেক্ষা করলাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে কিছু গনিমতের উট আসে। তিনি আমাকে ডাকতে পাঠান এবং সাদা কুঁজবিশিষ্ট পাঁচটি উট আমাদের দেওয়ার নির্দেশ দেন। যখন আমরা চললাম তখন আমাদের একে অন্যকে বললাম, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর কসম সম্পর্কে অবহিত করিনি, আমাদের জন্য বরকত হবে না। তখন আমরা তাঁর নিকট ফিরে গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমরা আপনার নিকট এসেছিলাম বাহন চাওয়ার জন্য আর আপনি কসম করে ছিলেন যে, আমাদেরকে বাহন দিবেন না, অতঃপর আমাদেরকে বাহন দিলেন; হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনি কি ভুলে গেছেন?তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! ইনশাআল্লাহ আমি যখনই কোনো বিষয়ে কসম করি, তারপর তার বিপরীতটিকে উত্তম মনে হলে উত্তমটিই করি এবং কসম থেকে হালাল হয়ে যাই অর্থাৎ কাফারা আদায় করি। সুতরাং তোমরা যাও, কেননা আল্লাহ তা'আলা তোমাদের সওয়ারি দান করেছেন।
৪১৫৮
যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, অতঃপর এটা না করাই উত্তম মনে করলে তা-ই করবে আর কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিবে। পরিচ্ছেদ নাই
যাহদাম জার্‌মী (রহঃ)
‘জার্ম’ এর এই গোত্র এবং আশ‘আরীগণের মধ্যে হৃদ্যতা ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। একবার আমরা আবু মূসা আশ‘আরীর (রা.) নিকটে ছিলাম, তখন তাঁর সামনে খাবার আনা হলো, যার মধ্যে মুরগির গোশতও ছিল। পরবর্তী অংশ উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪১৫৯
যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, অতঃপর এটা না করাই উত্তম মনে করলে তা-ই করবে আর কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিবে। পরিচ্ছেদ নাই
যাহদাম জারমী (রহঃ)
আমরা আবু মূসার নিকটে ছিলাম। অতঃপর সকলেই হাম্মাদ ইবন যায়দের হাদিসের অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেন।
৪১৬০
যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে কসম করে, অতঃপর এটা না করাই উত্তম মনে করলে তা-ই করবে আর কসমের কাফফারাহ দিয়ে দিবে। পরিচ্ছেদ নাই
যাহদাম জারমী (রহঃ)
আমি আবু মূসা (রাঃ)-এর নিকট গমন করি। তখন তিনি মুরগির গোশত আহার করছিলেন। তিনি হাদীসের পরবর্তী অংশ উক্ত বর্ণনাকারীদের মতই বর্ণনা করেন। তবে তিনি এতে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর কসম! আমি তা ভুলিনি।