৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪১৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪১৩১
মানৎ করার নিষেধাজ্ঞা, আর তা কিছু ফিরিয়ে দেয় না পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
নবী (ﷺ) মানত নিষেধ করেছেন। আর বলেছেন, তা কোন রকম কল্যাণ বয়ে আনে না। তবে এর মাধ্যমে কৃপণ লোকের থেকে কিছু বের করা হয়।
৪১৩২
মানৎ করার নিষেধাজ্ঞা, আর তা কিছু ফিরিয়ে দেয় না পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’, মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশ্‌শার (রহঃ)
উক্ত সনদে জারীরের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৪১৩৩
মানৎ করার নিষেধাজ্ঞা, আর তা কিছু ফিরিয়ে দেয় না পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা মানত করো না। কারণ, মানত তাকদীর থেকে কোন উপকার করে না। তার মাধ্যমে কেবল কৃপণের সম্পদই বের করা হয়।
৪১৩৪
মানৎ করার নিষেধাজ্ঞা, আর তা কিছু ফিরিয়ে দেয় না পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) মানত করতে বারণ করেছেন এবং বলেছেন, তা তাকদীরকে ফিরাতে পারে না। এর মাধ্যমে শুধুমাত্র কৃপণের থেকে কিছু বের করা হয়।
৪১৩৫
মানৎ করার নিষেধাজ্ঞা, আর তা কিছু ফিরিয়ে দেয় না পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ মানত এমন কোন জিনিসকে মানুষের নিকটে এনে দেয় না, যা আল্লাহ তার তাকদীরে রাখেননি। কিন্তু মানত যদি তাকদীরের অনুকূলে হয়ে যায় তখন এর দ্বারা কৃপণের সে মাল বের করা হয়, যা বের করতে সে ইচ্ছুক ছিল না।
৪১৩৬
মানৎ করার নিষেধাজ্ঞা, আর তা কিছু ফিরিয়ে দেয় না পরিচ্ছেদ নাই
আম্‌র ইবনু আবূ ‘আমর (রহঃ)
আমর ইবন আবু আমর (রহঃ)-এর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৪১৩৭
আল্লাহর অবাধ্যতায় এবং বান্দার সাধ্যাতীত বিষয়ে মানত পূর্ণ করতে হয় না পরিচ্ছেদ নাই
ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)
সাকীফ গোত্র ছিল বানু উকায়ল গোত্রের মিত্র। সাকীফ গোত্রের লোকেরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দু’জন সাহাবীকে বন্দী করে। আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীরা বানু উকায়ল গোত্রের এক ব্যক্তিকে বন্দী করে এবং তার সাথে আযবা নাম্নী উষ্ট্রীকেও আটক করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে আসলেন। তখন সে বাঁধা অবস্থায় ছিল। সে ডাক দিল, ইয়া মুহাম্মাদ! ইয়া মুহাম্মাদ! রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট এলেন এবং বললেন, তোমার কী অবস্থা? সে বললো, আমাকে কী কারণে বন্দী করেছেন? আর কেনই বা হাজীদের অগ্রগামী উষ্ট্রটিকে আটক করেছেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বিরাট অপরাধের কারণে। তোমার মিত্র সাকীফ গোত্রের অপরাধের জন্য তোমাকে বন্দী করেছি। এরপর তিনি তার কাছ থেকে ফিরে আসলেন। সে আবার তাকে ডেকে বললো, ইয়া মুহাম্মাদ! ইয়া মুহাম্মাদ! আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন বড়ই দয়ালু এবং নম্র স্বভাবের। তাই তিনি তার দিকে আবার এলেন এবং বললেন, তোমার কী অবস্থা? সে বললো, আমি একজন মুসলিম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যদি এ কথা তখন বলতে, যখন তোমার ব্যাপার তোমার অধিকারে ছিল, তবে তুমি পুরোপুরি সফল হতে। এরপর তিনি ফিরে আসলেন। সে আবারও তাকে ডাক দিয়ে বললো, ইয়া মুহাম্মাদ! ইয়া মুহাম্মাদ! তিনি পুনরায় তার কাছে এসে বললেন, তোমার কী হয়েছে? সে বললো, আমি ক্ষুধার্ত, আমাকে খাবার দিন, এবং পিপাসিত, আমাকে পান করান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ-ই তোমার প্রয়োজন? অতঃপর তাকে সেই দু’ব্যক্তির বিনিময়ে মুক্তি দেয়া হয়। রাবী বলেন, একবার এক আনসার মহিলা বন্দী হয় এবং আযবা নাম্নী উষ্ট্রী (তাদের হাতে) ধরা পড়ে। মহিলাটি বাঁধা অবস্থায় ছিল। গোত্রের লোকদের অভ্যাস ছিল তারা তাদের পশু গৃহের সামনে রাখত। এক রাত্রে রমণীটি বন্ধন মুক্ত হয়ে পলায়ন করে এবং উটের কাছে আসে। সে যখনই কোন উটের কাছে আসতো, উট আওয়াজ করতো এবং তখন সে তাকে পরিত্যাগ করতো। অবশেষে সে ’আযবার কাছে এসে পৌছে। ’আযবা’ কোন আওয়াজ করলো না। এ উটনী ছিল বড়ই অনুগত। সে তার পিঠের উপর বসে এবং তাকে হাকায়, আর সে চলতে থাকে। তখন তারা তার পলায়ন টের পেয়ে গেল এবং তার খোঁজে ছুটল। কিন্তু আযবা তাদেরকে ব্যর্থ করে দেয়। রাবী বলেন, মহিলাও আল্লাহর নামে মানত করে যে, আল্লাহ যদি এ উষ্ট্রীর সাহায্যে তাকে মুক্তি দেন, তবে সে অবশ্যই তাকে কুরবানী দিবে। তারপর যখন মহিলাটি মদীনায় আসলেন আর লোক সকল তাকে দেখাদেখি করছেন এবং বলাবলি করছেন। এ আযবা নাম্নী উষ্ট্রীটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর। তারপর তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে ঘটনাটি তাকে বললেন। তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ কী মন্দ প্রতিদান, যা সে তাকে দিয়েছে। সে আল্লাহর নামে মানৎ করেছে যে, যদি আল্লাহ তাকে এ উষ্ট্রীর উপর রক্ষা করেন তবে সে তাকেই কুরবানী করে দিবে। (জেনে রেখ) পাপের ব্যাপারে মানৎ করলে সে মানত পূরণ করতে নেই। আর সে বস্তুর মানৎ ও পূরণযোগ্য নয়, যার মালিক সে ব্যক্তি নয়। ইবনু হুজুর (রহঃ)-এর বর্ণনায় আছে যে, আল্লাহর নাফরমানীর বিষয়ে মানৎ সংঘটিত হয় না।
৪১৩৮
আল্লাহর অবাধ্যতায় এবং বান্দার সাধ্যাতীত বিষয়ে মানত পূর্ণ করতে হয় না পরিচ্ছেদ নাই
আইয়ূব (রহঃ)
আবু রাবী’ আতাকী, ইসহাক ইবন ইবরাহীম ও ইবন আবু উমর (রহঃ) ... আইয়ুব (রহঃ)-এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। আর হাম্মাদ (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে আছে যে, ‘আযবা’ ছিল ‘উকায়ল গোত্রের কোন এক ব্যক্তির এবং হাজীদের উটের মধ্যে অগ্রগামী। তার হাদীসে আরও আছে যে, মহিলাটি একটি উষ্ট্রীর নিকট আসে, যা ছিল অনুগত ও সাওয়ারিতে অভ্যস্ত। আর সাকাফীর হাদীসে আছে যে, তা ছিল একটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উষ্ট্রী।
৪১৩৯
যিনি হেঁটে কা'বায় যাওয়ার মানৎ করেন পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
নবী (ﷺ) একবার এক বৃদ্ধকে দেখলেন যে, সে তার দুই পুত্রের উপর ভর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। তখন নবী (ﷺ) বললেন, এর কী হলো? তারা বললো, সে হেঁটে চলার মানত করেছে। তিনি বললেন, এভাবে নিজেকে শাস্তি দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহর কিছু আসে যায় না। অতঃপর তিনি তাকে সাওয়ারিতে আরোহী হতে বলেন।
৪১৪০
যিনি হেঁটে কা'বায় যাওয়ার মানৎ করেন পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাঃ)
একবার নবী (ﷺ) এক বৃদ্ধকে তার দুই পুত্রের মাঝে তাদের উপর ভর দিয়ে চলতে দেখলেন। নবী (ﷺ) বললেন, “এ ব্যক্তির কী হলো?” তাঁর দুই পুত্র বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! তাঁর উপর (হেঁটে যাওয়ার) মানত ছিল।” নবী (ﷺ) বললেনঃ “ওহে বৃদ্ধ! তুমি বাহনে উঠ। কেননা আল্লাহ তোমার ও তোমার মানতের ব্যাপারে অমুখাপেক্ষী।” এ শব্দ হল কুতাইবা ও ইবনু হুজর (রহঃ)-এর।