৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৪১১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৪১০১
এক তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়্যাত পরিচ্ছেদ নাই
সা’দ (রাঃ)
বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দেখতে আসেন; এমন রোগের সময় যাতে আমি মৃত্যুর কাছাকাছি হয়ে পড়েছিলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! রোগের কারণে আমার কী অবস্থা হয়েছে, আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন? আমি একজন সম্পদশালী ব্যক্তি, অথচ একটি মাত্র কন্যা সন্তান ব্যতীত আমার আর কোন ওয়ারিস নেই। সুতরাং আমি আমার সম্পদের দু-তৃতীয়াংশ দান করতে পারব কি? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তবে কি অর্ধেক মাল সদাকাহ করতে পারব? তিনি বললেন, না। বরং এক তৃতীয়াংশ এবং এক তৃতীয়াংশও বেশী হয়ে যায়। তোমার ওয়ারিসদের অভাবমুক্ত অবস্থায় রেখে যাওয়া তোমার জন্যে উত্তম, এমন অভাবগ্রস্ত অবস্থায় ছেড়ে যাওয়ার চেয়ে যে, তারা মানুষের নিকট হাত পাতবে। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যে তুমি যা কিছুই খরচ কর তার উপর তোমাকে প্রতিদান দেয়া হবে। এমনকি, সে লোকমাটির বদৌলতেও যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দিবে।আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো আমার সাথীদের পর তাদের পিছনে রয়ে যাচ্ছি। তিনি বললেন, তুমি পেছনে রয়ে গেছো (জীবিত রয়ে গেছো), তাতে তুমি এমন আমল করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পার যাতে তোমার মর্যাদা বাড়বে ও উঁচু হবে। আর সম্ভবত তুমি পরবর্তীতেও থাকবে অর্থাৎ দীর্ঘায়ু লাভ করবে। এমনকি বহু সম্প্রদায় তোমার দ্বারা লাভবান হবে এবং বহু লোক তোমার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। (নবীজী দোয়া করলেন।) ইয়া আল্লাহ! আমার সাথীদের হিজরাত অক্ষুণ্ন রাখুন এবং তাদেরকে পশ্চাতে ফিরিয়ে দেবেন না। কিন্তু সাদ ইবনু খাওলার জন্যে আফসোস। বর্ণনাকারী বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জন্যে দুঃখ প্রকাশ করেন। কারণ, তিনি মক্কায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
৪১০২
এক তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়্যাত পরিচ্ছেদ নাই
কুতাইবাহ্‌ ইবনু সা’ঈদ
সকলেই জুহরীর সূত্রে উক্ত সানাদের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৪১০৩
এক তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়্যাত পরিচ্ছেদ নাই
সা’দ (রাঃ)
নবী (ﷺ) আমার রোগের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য আমার নিকট আগমন করেন। তারপর যুহরীর বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ উল্লেখ করেন এবং সা’দ ইবনু খাওলার প্রসঙ্গে নবী (ﷺ)-এর উক্তির উল্লেখ নেই। তবে এতে এ কথা রয়েছে, কোন ব্যক্তি যেখান থেকে হিজরত করেছে তথায় মৃত্যুবরণ করুক, এটা নবী (ﷺ) পছন্দ করেন না।
৪১০৪
এক তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়্যাত পরিচ্ছেদ নাই
মুস’আব ইবনু সা’দ (রহঃ)
আমি একবার অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং নবী (ﷺ)-এর কাছে সংবাদ প্রেরণ করি। (তিনি আসলেন) আমি বললাম, আমার সম্পত্তি যে পরিমাণ ইচ্ছা বণ্টন করার অনুমতি দিন। তিনি সম্মতি জানালেন না। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি তাও স্বীকার করলেন না। আমি বললাম, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ? রাবী বলেন, এক-তৃতীয়াংশ বলার পর নবী (ﷺ) নীরব থাকেন।রাবী বলেন, এরপর থেকে এক-তৃতীয়াংশ জায়েয হয়ে যায়।
৪১০৫
এক তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়্যাত পরিচ্ছেদ নাই
সিমাক (রহঃ)
সিমাক (রহঃ)-এর সূত্রে উক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি “এরপর থেকে এক-তৃতীয়াংশ বৈধ হয়ে যায়” কথাটি বর্ণনা করেননি।
৪১০৬
এক তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়্যাত পরিচ্ছেদ নাই
মুস’আব ইবনু সা’দ (রহঃ)
নবী (ﷺ) আমার রোগের খোঁজ-খবর নিতে এলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আমার সমস্ত সম্পদ ওসিয়ত করে যাব? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেন, না। আমি বললাম, তবে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং বললেন এক-তৃতীয়াংশ অনেক।
৪১০৭
এক তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়্যাত পরিচ্ছেদ নাই
সা’দ (রাঃ)- এর তিন পুত্র তাঁদের পিতার থেকে
মক্কায় নবী (ﷺ) সা‘দের অসুস্থ দেখার জন্য তাঁর নিকট আসেন। সা‘দ (রাঃ) কেঁদে ফেলেন। নবী (ﷺ) বললেন, “তুমি কেন কাঁদছ?”তিনি বললেন, “আমি ভয় পাচ্ছি, যে স্থান থেকে হিজরত করেছি, সেখানেই না আমি মারা যাই; যেমনিভাবে মারা গিয়েছেন সা‘দ ইবনু খাওলা (রাঃ)।”নবী (ﷺ) বললেন, “ইয়া আল্লাহ! সা‘দকে সুস্থতা দান করুন”—তিনবার বললেন।সা‘দ (রাঃ) বললেন, “হে আল্লাহর রসূল! আমার প্রচুর সম্পদ আছে। আর একমাত্র কন্যাই আমার উত্তরাধিকার হবে। তবে কি আমার সমুদয় সম্পদ ওসিয়ত করতে পারি?”তিনি বললেন, “না।”সা‘দ (রাঃ) বললেন, “তবে কি দুই-তৃতীয়াংশ?”তিনি বললেন, “না।”সা‘দ (রাঃ) বললেন, “তা হলে অর্ধেক?”তিনি বললেন, “না।”সা‘দ বললেন, “তাহলে এক-তৃতীয়াংশ?”তিনি বললেন, “হ্যাঁ, এক-তৃতীয়াংশ আর এক-তৃতীয়াংশই অনেক। তোমার সম্পদ থেকে তুমি যা সদাকা কর তা তো সদাকা-ই এবং তোমার পরিবারের জন্য যা খরচ কর তাও সদাকা আর তোমার মাল থেকে তোমার স্ত্রী যা খায় তাও সদাকা। তোমার পরিবার-পরিজনকে যদি তুমি সম্পদশালী রেখে যাও, অথবা বলেছেন স্বাচ্ছন্দ্যে রেখে যাও, তবে তা তাদের মানুষের কাছে হাতপাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার তুলনায় ভাল।” আর এ কথা বলতে তিনি নিজ হাত দিয়ে ইশারা করলেন।
৪১০৮
এক তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়্যাত পরিচ্ছেদ নাই
সা’দ (রাঃ)
তাঁরা বলেছেন, সা’দ (রাঃ) মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর খোঁজ-খবর নেয়ার জন্যে তাঁর কাছে আসেন। পরবর্তী অংশ সাকাফীর হাদিসের অনুরূপ।
৪১০৯
এক তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়্যাত পরিচ্ছেদ নাই
হুমায়দ ইবনু 'আবদুর রহমান (রাঃ)
আমার নিকট সাদ ইবন মালিকের তিন পুত্র বর্ণনা করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, সাদ মক্কায় অসুস্থ হয়ে পড়লেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর খোঁজ-খবর নেয়ার জন্যে তাঁর কাছে আসেন। পরবর্তী অংশ আমর ইবন সাঈদ সূত্রে বর্ণিত হুমায়দ হিমইয়ারী (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ।
৪১১০
এক তৃতীয়াংশের ওয়াসিয়্যাত পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)
হায়! লোকজন যদি এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে এক চতুর্থাংশ করত। কেননা, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এক তৃতীয়াংশ এবং এক তৃতীয়াংশই বেশি। ওাকী’-এর হাদীসে আছে ‘বড়’ বা ‘বেশি’।