৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৬৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৬৪১
লি'আন সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
বানী আজলান গোত্রের দুইজন (স্বামী-স্ত্রী)-কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। এরপর তিনি বললেন: আল্লাহ ভালোভাবেই জানেন যে, নিশ্চয়ই তোমাদের দুইজনের মধ্যে একজন মিথ্যাবাদী। অতএব তোমাদের কেউ কি তওবা করতে আগ্রহী?
৩৬৪২
লি'আন সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ)
আমি লিআন সম্পর্কে ইবন উমর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করলাম। তিনি নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করলেন।
৩৬৪৩
লি'আন সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ)
মুসআব (ইবন যুবাইর) (রাঃ) তার শাসনামলে লিআনকারীদের আলাদা করেননি। সাঈদ বলেনঃ এরপর বিষয়টি আমি আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-এর কাছে উঠালাম। তখন তিনি বললেনঃ নবী (ﷺ) বানু আজলান গোত্রের দুইজন (স্বামী-স্ত্রীকে) আলাদা করে দিয়েছিলেন।
৩৬৪৪
লি'আন সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
কোনো এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় তার স্ত্রীর উপর লি‘আন করেছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের দুইজনকে বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং সন্তানের বংশ পরিচিতি তার মায়ের সাথে জুড়ে দেন। রাবী ইয়াহিয়া (রহঃ) মালিককে জিজ্ঞেস করলেন, আপনাকে কি নাফি‘ (রহঃ) এ হাদীস বর্ণনা করেছেন? তিনি (মালিক) বলেন, হ্যাঁ।
৩৬৪৫
লি'আন সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন আনসারী পুরুষ ও তার স্ত্রীর মধ্যে লি‘আন করালেন এবং তাদের আলাদা করে দিলেন।
৩৬৪৬
লি'আন সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
উবাইদুল্লাহ্ (রহঃ)
উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন।
৩৬৪৭
লি'আন সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ)
আমি একবার জুমার রাতে মসজিদে ছিলাম। তখন একজন আনসারী সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি বললেনঃ যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোন পুরুষকে দেখতে পায়, সে যদি এ নিয়ে কথা বলে, তাহলে আপনারা তো তাকে (অপবাদদাতা হিসেবে) চাবুক লাগাবেন? অথবা সে যদি তাকে হত্যা করে ফেলে তাহলে তো আপনারা তাকে হত্যা করবেন (কিসাস হিসেবে)। যদি সে নীরব থাকে তাহলে তো তাকে সাংঘাতিক ক্রোধ (হজম) করে নীরব থাকতে হবে। আল্লাহর কসম! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবই।পরদিন সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে প্রশ্ন করল। সে বলল, যদি কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে কোন পুরুষকে (ব্যভিচারে লিপ্ত) দেখতে পায় এবং সে এ নিয়ে কথা বলে তাহলে আপনারা তাকে হত্যা করে ফেলবেন। আর যদি নীরব থাকে তবে তো তাকে রাগ চেপে নীরব থাকতে হবে। (সুতরাং তার উপায় কী?)তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দোয়া করলেনঃ ইয়া আল্লাহ! তুমি এর ফয়সালা দাও এবং তিনি দোয়া করতে লাগলেন। তখন লি‘আনের আয়াত অবতীর্ণ হলো- “আর যারা তাদের স্ত্রীদের উপর অপবাদ দেয় অথচ তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোন সাক্ষী নেই”- এ আয়াতগুলো। (সূরা আন-নূর ২৪:৬-৯)এরপর সে ব্যক্তি লোকজনের সামনে লি‘আনের পরীক্ষার মুখোমুখি হলো। তারপর সে তার স্ত্রীসহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এল এবং তারা উভয়ে লি‘আন করল। লোকটি আল্লাহর নামে শপথ করে চারবার সাক্ষ্য দিল যে, সে সত্যবাদী। এরপর পঞ্চমবারের বলল, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তাহলে তার উপরে আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক।এরপর মহিলাটি লি‘আনের জন্য এগিয়ে এলো। নবী (ﷺ) তাকে বললেনঃ থাম (যদি তোমার স্বামীর উক্তি সত্য হয়ে থাকে তাহলে তুমি তা স্বীকার করে নাও)। কিন্তু সে অস্বীকার করল এবং লি‘আন করে ফেলল। যখন তারা দু’জন ফিরে যাচ্ছিল তখন (নবী ﷺ) বললেনঃ সম্ভবত এ মহিলা কালো কোঁকড়া চুলবিশিষ্ট সন্তান প্রসব করবে। অবশেষে তার গর্ভে কালো কোঁকড়া চুলবিশিষ্ট সন্তানই জন্ম নিয়েছিল।
৩৬৪৮
লি'আন সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
আ’মাশ (রহঃ)
এ একই সনদে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
৩৬৪৯
লি'আন সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
মুহাম্মাদ (রহঃ)
আমি একটি বিষয়ে আনাস ইবন মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম। আমার ধারণা ছিল যে, আমি যা জানতে চাই সে বিষয়ের জ্ঞান তার কাছে আছে। আনাস (রাঃ) বলেনঃ হিলাল ইবন উমাইয়া (রাঃ) শরীক ইবন সাহমা সাথে তার স্ত্রীর সম্পর্কে যিনার অভিযোগ আনলেন। তিনি ছিলেন বারা ইবন মালিকের বৈপিত্রেয় ভাই। ইসলামে ইনিই সর্বপ্রথম লি’আন করেন।রাবী বলেনঃ তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে লি’আন সমাধা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার ঐ মহিলার প্রতি নজর রাখবে। যদি সে সোজা চুলধারী উজ্জ্বল বর্ণের লাল চোখ বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তাহলে সে হিলাল ইবন উমাইয়ার ঔরষজাত সন্তান। আর যদি সে (মহিলা) সুরমা চোখ বিশিষ্ট কোঁকড়ানো চুল, পায়ের চিকন নলা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে তাহলে সে শরীক ইবন সাহমার সন্তান। রাবী আনাস (রাঃ) বলেনঃ আমি জানতে পারলাম যে, ঐ মহিলাটি সুরমা চোখ বিশিষ্ট কুঞ্চিত কেশধারী সরু নলা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করেছে।
৩৬৫০
লি'আন সম্পর্কে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট লি‘আনের বিষয়টি আলোচিত হলো। তখন আসিম ইবন আদী (রাঃ) ঐ বিষয়ে কিছু কথা বলে ফিরে গেলেন। তখন তার গোত্রের একজন লোক তার কাছে এসে অভিযোগ করল যে, সে তার স্ত্রীর সঙ্গে এক (অপরিচিত) লোককে দেখতে পেয়েছে। তখন আসিম (রাঃ) বললেন, আমি আমার উক্তির (বক্তব্যের) কারণে এ বিপদে পড়লাম। তিনি তাঁকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এলেন।এরপর সে তাঁকে (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে) সে ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত করল, যাকে সে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পেয়েছিল। এ লোকটি ছিল হলদে বর্ণ বিশিষ্ট, হালকা-পাতলা ও সোজা চুলবিশিষ্ট। আর সে যাকে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখতে পেয়েছিল সে ছিল সুঠাম দেহী, মোটা নলা ও বাদামী রং বিশিষ্ট।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইয়া আল্লাহ! তুমি বিষয়টি ফায়সালা করে দাও। সে মহিলা এমন একটি সন্তান প্রসব করল, যে ছিল ঐ লোকটির মত, যাকে স্বামী তার সঙ্গে দেখতে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের দু’জনের মধ্যে লি‘আন করালেন।তখন এক ব্যক্তি সে মজলিসেই ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বললঃ এ কি সে মহিলা যার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন, “যদি আমি বিনা দলীলে কাউকে রজম (পাথর নিক্ষেপ) করতাম তবে একেই রজম করতাম।” তখন ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেনঃ না-সে ছিল অপর এক মহিলা যার অপকর্ম মুসলিমদের মাঝে প্রকাশিত ছিল।