৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৬২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৬১১
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
ফাতিমা (রাঃ) বিনতু কায়সের জন্য এ কথা বলায় কোন কল্যাণ নেই যে, তিন তালাকপ্রাপ্ত নারীর জন্য বাসস্থান ও ভরণপোষণ নেই।
৩৬১২
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
আবদুর রহমান ইবনু ক্বাসিম (রহঃ)
উরওয়া ইবন যুবায়ের (রহঃ) আয়িশা (রাঃ)-কে বললেন, হাকামের অমুক মেয়েটির সম্পর্কে আপনি কি অবহিত নন যে, তার স্বামী তাকে বায়েন তালাক দিয়েছেন। এরপর সে ঘর থেকে বের হয়েছে। তিনি বললেন, আপনি কি ফাতিমার উক্তি শুনেননি? তখন তিনি (উরওয়া) বললেন, তার উক্তি বর্ণনার মধ্যে তার জন্য কোন কল্যাণ নেই।
৩৬১৩
বায়িন ত্বালাক্বপ্রাপ্তা মহিলা এবং বিধবার জন্য ‘ইদ্দাত পালনকালে প্রয়োজনে দিনের বেলায় ঘরের বাইরে যাওয়া জায়িয পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমার খালা তালাকপ্রাপ্তা হন। এরপর তিনি তাঁর (খেজুর বাগানের) খেজুর পাড়ার ইচ্ছা করলেন। একজন ব্যক্তি তাঁকে বাইরে যেতে বাধা দিলেন। তখন তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছে এলেন। নবী (ﷺ) বললেন, “হ্যাঁ, তুমি তোমার বাগানের খেজুর পাড়ার জন্য বাইরে যেতে পার। কারণ সম্ভবত তা থেকে অন্যদের সদাকা করবে অথবা অন্য কোন ভাল কাজ করবে।”
৩৬১৪
বিধবা ও অন্যান্য ত্বলাক্বপ্রাপ্তা মহিলার সন্তান প্রসবের সাথে সাথে ‘ইদ্দাত পূর্ণ হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
উবায়দুল্লাহ্ ইবনু ‘আবদুল্লাহ
ইবনু আরকাম যুহরীকে নির্দেশ দিয়ে লিখলেন যে, তিনি যেন সুবাইআহ বিনতুল হারিস আছলামীয়ার কাছে চলে যান। এরপর তাঁকে তাঁর হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। যখন তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ফাতওয়া চাইছিলেন এবং তিনি তাঁকে যা বলেছিলেন তখন উমর ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উত্বাকে লিখে পাঠালেন যে, সুবাইআহ তাঁকে জানিয়েছেন- তিনি বানু আমির ইবনু লুঈ গোত্রের সাদ ইবনু খাওলার স্ত্রী ছিলেন। তিনি ছিলেন বদরী সাহাবী এবং বিদায় হজ্জের সময় ওফাত পান। সে সময়ে তিনি গর্ভবতী ছিলেন। তাঁর স্বামীর ইন্তিকালের অব্যবহিত পরেই তিনি সন্তান প্রসব করেন।এরপর যখন তিনি নিফাস থেকে পবিত্র হলেন, তখন বিবাহের পয়গামদাতার জন্য সাজসজ্জা করতে লাগলেন। তখন বানু আবদুদ দার গোত্রের আবু সানাবিল ইবনু বাক্কাক নামক এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, মতলব কী? আমি তোমাকে সাজসজ্জা করতে দেখতে পাচ্ছি! সম্ভবত তুমি বিবাহ প্রত্যাশী? আল্লাহর কসম! চার মাস দশ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তুমি বিয়ে করতে পারবে না।সুবাইআহ বললেন, যখন লোকটি আমাকে এ কথা বলল, তখন কাপড়-চোপড় পরিধান করে সন্ধ্যাবেলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে চলে এলাম। এরপর আমি তাঁকে সে বিষয়ে জানিয়ে দিলাম। তিনি আমাকে জানিয়ে দিলেন যে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথেই আমার ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। তিনি আমাকে আরও নির্দেশ দিলেন যে, আমি ইচ্ছা করলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারি।ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই প্রসূতির জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে আমি দুষণীয় মনে করি না, যদিও সে তখন নিফাসের ইদ্দত পালনরত থাকে। তবে নিফাস থেকে পবিত্র হওয়ার পূর্বে স্বামী যেন স্ত্রীর সাথে যৌন সঙ্গম না করে।
৩৬১৫
বিধবা ও অন্যান্য ত্বলাক্বপ্রাপ্তা মহিলার সন্তান প্রসবের সাথে সাথে ‘ইদ্দাত পূর্ণ হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
সুলায়মান ইবনু ইয়াসার (রাঃ)
আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান (রাঃ) ও ইবন আব্বাস (রাঃ) আবু হুরায়রা (রাঃ)-এর কাছে সমবেত হলেন। তাঁরা এমন একজন মহিলার কথা আলোচনা করছিলেন যিনি তাঁর স্বামীর ইনতিকালের কয়েক দিন পরেই সন্তান প্রসব করেছেন। তখন ইবন আব্বাস (রাঃ) বললেন, তার ইদ্দত হবে দুইটির মধ্যে দীর্ঘতরটি। আবু সালামা (রাঃ) বললেন, তার ‘ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা দুইজন বিতর্ক শুরু করে দিলেন।বর্ণনাকারী বলেন, তখন আবু হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আমি আমার ভাতিজা আবু সালামার পক্ষে। এরপর তারা সবাই ইবন আব্বাসের মুক্তদাস কুরাইবকে উম্মু সালামা (রাঃ)-এর কাছে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য পাঠালেন। সে তাদের কাছে এসে বলল যে, উম্মু সালামা (রাঃ) বলেছেন, সুবাইআহ আসলামিয়া তার স্বামীর ইনতিকালের কয়েক রাত পরই সন্তান প্রসব করেন এবং সে বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থাপন করেন। তখন তিনি তাকে বিবাহ করার অনুমতি দেন।
৩৬১৬
বিধবা ও অন্যান্য ত্বলাক্বপ্রাপ্তা মহিলার সন্তান প্রসবের সাথে সাথে ‘ইদ্দাত পূর্ণ হওয়া পরিচ্ছেদ নাই
ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা’ঈদ (রহঃ)
অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে লায়স (রহঃ) বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে, “তারা সবাই উম্মু সালামা (রাঃ)-এর কাছে সংবাদ পাঠালেন” এবং তিনি (লায়স) কুরাইবের নাম উল্লেখ করেননি।
৩৬১৭
স্বামীর মৃত্যুকালীন ‘ইদ্দাতে বিধবা স্ত্রীর শোক পালন করা ওয়াজিব এবং অন্যান্যদের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
হুমায়দ ইবনু নাফি’ (রহঃ)
যায়নাব বিনতু আবু সালামা (রাঃ) তাঁকে এ তিনটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি (হুমায়দ ইবন নাফি) বলেন, যায়নাব (রাঃ) বলেছেন, যখন নবী (ﷺ)–এর সহধর্মিণী উম্মু হাবীবা (রাঃ)-এর পিতা আবু সুফিয়ান ইন্তেকাল করেন তখন আমি তাঁর কাছে গেলাম। আমি দেখতে পেলাম যে, উম্মু হাবীবা (রাঃ) হলুদ বর্ণের মিশ্রিত সুগন্ধি আনলেন অথবা অন্য কোনো প্রসাধনী চেয়ে পাঠালেন। এরপর তা থেকে একটি বালিকাকে নিজ হাতে লাগিয়ে দিলেন। এরপর তিনি তাঁর দুই কপালে হাত মুছে নিলেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন ছিল না। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে সে মহিলার জন্য তার কোনো আত্মীয়ের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হালাল নয়। তবে বিধবা তার স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করতে পারবে।
৩৬১৮
স্বামীর মৃত্যুকালীন ‘ইদ্দাতে বিধবা স্ত্রীর শোক পালন করা ওয়াজিব এবং অন্যান্যদের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
যায়নাব (রাঃ)
এরপর আমি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সহধর্মিণী) যায়নব বিনত জাহশ (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। সে সময় তাঁর ভাই ইনতিকাল করেছিলেন। আমি দেখলাম, তিনিও সুগন্ধি চেয়ে পাঠালেন এবং তার থেকে স্পর্শ করলেন।এরপর তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিল না। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখে তাঁর জন্য মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের অধিক শোক পালন করা হালাল নয়৷ তবে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশ দিন শোক পালন করা যাবে।”
৩৬১৯
স্বামীর মৃত্যুকালীন ‘ইদ্দাতে বিধবা স্ত্রীর শোক পালন করা ওয়াজিব এবং অন্যান্যদের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
যায়নাব (রাঃ)
এরপর যায়নাব (রাঃ) বলেন, আমি আমার মা উম্মু সালামা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, একবার এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমার কন্যাকে রেখে তার স্বামী ইন্তিকাল করেছেন। তার (শোক পালন করতে গিয়ে) চোখে অসুখ হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা কি তার চোখে সুরমা ব্যবহার করতে পারি? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: ‘না’। এরপর সে দুই কি তিন বার জিজ্ঞেস করল। প্রতিবারই তিনি বললেন, ‘না’। এরপর তিনি বললেন, তার ইদ্দত তো চার মাস দশ দিন। অথচ জাহিলিয়াত যুগে তোমাদের একজন মহিলা বছরান্তে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করত।
৩৬২০
স্বামীর মৃত্যুকালীন ‘ইদ্দাতে বিধবা স্ত্রীর শোক পালন করা ওয়াজিব এবং অন্যান্যদের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা হারাম পরিচ্ছেদ নাই
হুমায়দ (রাঃ)
আমি হুমাইদ (রহঃ) যায়নাব (রাঃ)-কে বললাম, এ যাবৎ উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করার তাৎপর্য কী ছিল? তখন যায়নাব (রাঃ) বললেন, সে কালে কোন স্বামী ইন্তেকাল করলে স্ত্রীকে একটি সংকীর্ণ কক্ষে (কুঠরীতে) প্রবেশ করতে হতো। ছিঁড়ে-ফাটা কাপড়-চোপড় পরিধান করতে হতো। সে কোন প্রসাধনী দ্রব্য স্পর্শ করতে পারত না কিংবা অন্য কোন সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহার করত না। এমনিভাবে দীর্ঘ একটি বছর কেটে যেত। এরপর তার সামনে আনা হতো গাধা, বকরী কিংবা পাখি জাতীয় কোন প্রাণী এবং সে ঐ প্রাণীকে স্পর্শ করে ইদ্দত পূর্ণ করত। সে যে প্রাণীকে স্পর্শ করত তা খুব কমই বাঁচত। এরপর সে ঐ সংকীর্ণ কুঠরী থেকে বের হয়ে আসত। তখন তার হাতে উটের বিষ্ঠা দেয়া হতো এবং সে তা ছুঁড়ে মারত। এরপর সে তার পছন্দসই প্রসাধনী সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহারের প্রতি মনোযোগী হতো।