৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৬১/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৬০১
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
ফাত্বিমাহ্ বিনতু ক্বায়স (রাঃ)
আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিলেন। এতে আমি তাঁর ঘর থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম। (এ পর্যায়ে) আমি নবী (ﷺ)-এর কাছে গেলাম। তিনি বললেন, তুমি তোমার চাচাত ভাই আমর ইবন উম্মু মাকতূমের বাড়িতে চলে যাও এবং তাঁর ঘরেই ইদ্দত পালন করতে থাক।
৩৬০২
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইসহাক্ব (রহঃ)
আমি আসওয়াদ ইবন ইয়াজিদ-এর সঙ্গে সেখানকার বড় মসজিদে বসা ছিলাম। শা’বীও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তিনি ফাতিমা বিনতু কায়স (রাঃ) বর্ণিত হাদিস প্রসঙ্গে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জন্য বাসস্থান ও খোরাক দেননি। তখন আসওয়াদ তার হাতে এক মুঠো কংকর নিয়ে শা’বীর দিকে নিক্ষেপ করলেন। এরপর বললেন, সর্বনাশ! তুমি এমন ধরনের হাদিস বর্ণনা করছ? (অথচ) উমর (রাঃ) বলেছেন, আমরা আল্লাহর কিতাব এবং আমাদের নবী (ﷺ)-এর সুন্নাত এমন একজন মহিলার উক্তির কারণে ছেড়ে দিতে পারি না। আমরা জানি না, সে স্মরণ রাখতে পেরেছে অথবা ভুলে গেছে যে তার জন্য বাসস্থান ও খোরাক আছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তোমরা তাদেরকে তাদের বাসগৃহ থেকে বহিষ্কার করে দিয়ো না এবং তারাও যেন ঘর থেকে বের না হয়। তবে তারা স্পষ্ট কোনো অশ্লীলতায় লিপ্ত হলে ভিন্ন কথা”—(সূরা আত তালাক ৬৫:১)।
৩৬০৩
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
আবূ ইসহাক্ব (রহঃ)
উক্ত সনদে আবু আহমাদ আম্মার ইবন রুযাইক সূত্রে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
৩৬০৪
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাক্‌র ইবনু আবূ জাহ্‌ম ইবনু সুখায়র আল ‘আদাবী (রহঃ)
আমি ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, তার স্বামী তাকে তিন তালাক দিয়েছেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার জন্য বাসস্থান ও খোরপোশের অধিকার দেননি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেন, তোমার ইদ্দত পূর্ণ হলে তুমি আমাকে জানাবে।এরপর আমি তাঁকে ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার কথা জানালাম। তখন মু'আবিয়া (রাঃ), আবু জাহম (রাঃ) ও উসামা (রাঃ) তাঁকে বিয়ে করার প্রস্তাব পাঠান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, মু'আবিয়া তো একজন গরিব মানুষ, তার কোনো ধনসম্পদ নেই। আর আবু জাহম-সে তো স্ত্রীদের প্রহারকারী। তবে উসামা- তাকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করতে পার।তখন তিনি তার হাতের ইশারায় বললেন, উসামা তো এরূপ। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করাই তোমার জন্য কল্যাণকর। তিনি বললেন, তখন আমি তার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম। (আল্লাহ আমাকে প্রাচুর্য ও বিত্তবৈভবে পরিপূর্ণ করে দিলেন) ফলে আমি ঈর্ষার কেন্দ্রে পরিণত হলাম।
৩৬০৫
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাক্‌র ইবনু আবূ জাহ্‌ম (রাঃ)
আমি ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমার স্বামী আবু আমর হাফস ইবনু মুগিরা (রাঃ) আইয়াশ ইবনু আবু রাবিয়া-কে আমার নিকটে আমাকে তালাক দেওয়ার সংবাদ দিয়ে পাঠান। তিনি তার সাথে আমার খোরপোষের জন্য পাঁচ সা (এক সা সাড়ে তিন কেজির সমান) খেজুর এবং পাঁচ সা যব পাঠিয়ে দেন। তখন আমি তাকে বললাম, আমার জন্য কি খোরপোষ এ পরিমাণ? আমি তোমাদের ঘরে ইদ্দাত করব না। তিনি (আইয়াশ) বললেন, না তা হতে পারে না।তিনি (ফাতিমা) বললেন, আমি তখন কাপড় চোপড় পরিধান করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন, সে তোমাকে কত তালাক দিয়েছে? আমি বললাম, তিন তালাক। তিনি বললেন, সে (আইয়াশ) ঠিকই বলেছে। তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই। তুমি তোমার চাচাতো ভাই ইবনু উম্মু মাকতূমের ঘরে গিয়ে ইদ্দাত পালন কর। সে একজন অন্ধ মানুষ। তুমি প্রয়োজনবোধে তার কাছে কাপড় চোপড় খুলে রাখতে পারবে। এরপর তোমার ইদ্দাত পূর্ণ হলে তুমি আমাকে জানাবে।তিনি [ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ)] বলেন, আমার ইদ্দাতকাল অতিবাহিত হলে বেশ কয়েকজন লোক আমার কাছে বিয়ের পায়গাম পাঠালেন। তার মধ্যে মুয়াবিয়া ও আবু জাহমও ছিলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, মুয়াবিয়া তো একজন গরীব মানুষ, নগণ্য সম্পদের অধিকারী আর আবু জাহম তো নারীদের প্রতি কঠোর (অথবা বললেন) সে স্ত্রীদের লাঠিপেটা করে অথবা এরূপ কিছু বললেন। তবে উসামা ইবনু যায়দকেই গ্রহণ করা তোমার জন্য উচিত হবে।
৩৬০৬
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকর ইবনু আবূ জাহম (রাঃ)
আমি এবং আবু সালামা ইবন আবদুর রহমান ফাতিমা বিনত কায়স-এর কাছে গেলাম। এরপর আমরা তাঁকে (তাঁর তালাক সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি আবু আমর হাফস ইবন মুগীরার স্ত্রী ছিলাম। একবার তিনি নাজরানের যুদ্ধে রওনা হয়ে গেলেন। এরপর আবু বকর ইবন আবু জাহম (রাঃ) ইবন মাহদি বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তিনি তাঁর বর্ণনায় এতটুকু বেশি উল্লেখ করেছেন যে, “তিনি (ফাতিমা বিনত কায়স) বলেন, আর আমি তাঁকে বিয়ে করলাম। এরপর আল্লাহ ইবন যায়দের দ্বারা আমাকে সম্মানিত করলেন এবং আমাকে তাঁর মাধ্যমে উচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করলেন।
৩৬০৭
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাকর (রাঃ)
আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ)-এর শাসনামলে আমি এবং আবু সালামা (রাঃ) ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি আমাদেরকে সুফিয়ান-এর হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করে বললেন যে, তার স্বামী তাকে বায়েন তালাক দিয়েছেন।
৩৬০৮
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
ফাত্বিমাহ্ বিনতু ক্বায়স (রাঃ)
আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিলেন। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার জন্য বাসস্থান এবং ভরণপোষণের ফায়সালা দেননি।
৩৬০৯
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
হিশাম (রহঃ)
ইয়াহিয়া ইবনু সাঈদ ইবনুল আস (রাঃ) আবদুর রহমান ইবনু হাকাম-এর কন্যাকে বিয়ে করেন। এরপর তিনি তাকে তিন তালাক দেন এবং তাকে তার থেকে বের করে দেন। উরওয়া (রহঃ) এতে তাদের ভর্ৎসনা করেন। তারা বললেন, ফাতিমা বিনতু কায়স (রাঃ)-ও তো ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। উরওয়া বলেন, আমি আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে এলাম এবং তাঁর কাছে এ ঘটনা উপস্থাপন করলাম। তিনি বললেন, ফাতিমা বিনতু কায়স-এর জন্য কোন কল্যাণ নেই যে, সে এ হাদীস বর্ণনা করবে।
৩৬১০
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
ফাত্বিমাহ্ বিনতু ক্বায়স (রাঃ)
আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়েছেন, আমার আশঙ্কা হয় যে, তিনি আমার উপর চড়াও হবেন। তখন তিনি তাকে অন্যত্র চলে যাবার নির্দেশ দিলেন এবং তিনি চলে গেলেন।