৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৫৯/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৫৮২
ইখ্তিয়ার প্রদান করলে ত্বালাক্বের নিয়্যাত না করলে ত্বালাক্ব হবে না পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আবু বকর (রাঃ) এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তিনি তাঁর দরজায় অনেক লোককে উপবিষ্ট দেখতে পেলেন। তবে তাদের কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর তিনি আবু বকর (রাঃ)-কে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করলে তিনি প্রবেশ করলেন। এরপর উমর (রাঃ) এলেন এবং তিনি অনুমতি প্রার্থনা করলেন। তখন তাঁকেও প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হল। তিনি নবী (ﷺ)-কে চিন্তাযুক্ত ও নীরব বসে থাকতে দেখলেন আর তখন তাঁর চতুষ্পার্শ্বে তাঁর সহধর্মিনীগণ উপবিষ্টা ছিলেন।তিনি [বর্ণনাকারী জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ)] বলেন, উমর (রাঃ) বললেনঃ নিশ্চয়ই আমি নবী (ﷺ)-এর নিকটে এমন কথা বলব যা তাঁকে হাসাবে। এরপর তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি যদি হারিজা-র কন্যাকে [উমর (রাঃ)-এর স্ত্রী] আমার কাছে খোরপোষ তলব করতে দেখতেন তাহলে (তৎক্ষণাৎ) আপনি তাঁর দিকে অগ্রসর হয়ে তার স্কন্ধে আঘাত করতেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হেসে উঠলেন এবং বললেন, আমার চতুষ্পার্শ্বে তোমরা যাদের দেখতে পাচ্ছ তারা আমার কাছে খোরপোষ দাবী করছে।অমনি আবু বকর (রাঃ) আয়িশা (রাঃ)-এর দিকে ছুটলেন এবং তাঁর গর্দানে আঘাত করলেন। উমর (রাঃ) ও দাঁড়িয়ে গেলেন এবং হাফসা (রাঃ)-এর দিকে অগ্রসর হয়ে তাঁর ঘাড়ে আঘাত করলেন। তাঁরা উভয়ে বললেন, তোমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট এমন জিনিস দাবী করছ যা তাঁর কাছে নেই। তখন তাঁরা (নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিনীগণ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা আর কখনো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এমন জিনিস চাইব না যা তাঁর কাছে নেই। এরপর তিনি তাঁদের (তাঁর সহধর্মিনীগণের) থেকে একমাস কিংবা ঊনত্রিশ দিন পৃথক রইলেন।এরপর তাঁর প্রতি এই আয়াত নাযিল হল- (অর্থ) “হে নবী! আপনি আপনার সহধর্মিনীদের বলে দিন, তোমরা যদি পার্থিব জীবনের ভোগ ও এর বিলাসিতা কামনা কর, তাহলে এসো আমি তোমাদের ভোগ-বিলাসের ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় করে দিই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রসূল ও পরকালকে কামনা কর তাহলে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণা আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন।” (সূরা আহযাব: ৩৩ : ২৮-২৯)।তিনি [জাবির (রাঃ)] বলেন, তিনি (ﷺ) আয়িশা (রাঃ)-কে দিয়ে (আয়াতের নির্দেশ তামিল করতে) শুরু করলেন। তখন তিনি বললেন, হে আয়িশা! আমি তোমার কাছে একটি (গুরুত্বপূর্ণ) বিষয়ে আলাপ করতে চাই। তবে সে বিষয়ে তোমার পিতা-মাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে তোমার ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করাই আমি পছন্দ করি। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনার ব্যাপারে আমি কি আমার পিতা-মাতার কাছে পরামর্শ নিতে যাব? (এর কোন প্রয়োজন নেই)। না, বরং আমি আল্লাহ, তাঁর রসূল ও আখিরাতকেই বেছে নিয়েছি। তবে আপনার সকাশে আমার একান্ত নিবেদন, আমি যা বলেছি সে সম্পর্কে আপনি আপনার অন্যান্য সহধর্মিনীগণের কারো কাছে ব্যক্ত করবেন না। তিনি বললেন, তাঁদের যে কেউ সে বিষয় আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি অবশ্যই তাঁকে তা বলে দিব। কারণ আল্লাহ আমাকে কঠোরতা আরোপকারী ও অত্যাচারীরূপে নয় বরং সহজ পন্থায় (শিক্ষাদানকারী) হিসেবে প্রেরণ করেছেন।
৩৪৮১
স্ত্রীর কন্যা ও বোন হারাম প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল মালিক ইবনু শু‘আয়ব ইবনুল লায়স এবং ‘আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) যুহরী (রহঃ)
ইবনু আবু হাবীব-এর সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু ইয়াজিদ ইবনু আবু হাবীব (রহঃ) ব্যতিত তারা কেউ হাদীসে ‘আজ্জা’ নাম উল্লেখ করেননি।
৩৫৮৩
স্ত্রী হতে দূরে থাকার কসম করা, স্ত্রী হতে বিরত থাকা ও তাদের অবকাশ দেয়া এবং আল্লাহ তা‘আলার বানী- “যদি তারা যিহারে লিপ্ত হয়” ইত্যাদি প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)
যখন নবী (ﷺ) তাঁর সহধর্মিণীদের থেকে সাময়িকভাবে পৃথক হয়ে গেলেন, তখন আমি মসজিদে নববীতে প্রবেশ করলাম। আমি দেখতে পেলাম লোকেরা হাতে কংকর নিয়ে নাড়াচাড়া করছে (যা দুশ্চিন্তার সময় স্বাভাবিকভাবে ঘটে থাকে)। তাঁরা বলাবলি করছিল যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সহধর্মিণীদেরকে তালাক দিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনা ছিল তাঁদের উপর পর্দার নির্দেশ আসার পূর্বেকার।উমর (রাঃ) বললেন, আমি আজই প্রকৃত ঘটনা জেনে নেব। তাই আমি আয়িশা (রাঃ)-এর নিকটে গেলাম। আমি তাঁকে বললাম, হে আবু বকর তনয়া! তোমার অবস্থা কি এই পর্যায়ে নেমে গিয়েছে যে, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কষ্ট দিচ্ছ? তিনি বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! আমার ব্যাপার নিয়ে আপনি মাথা ঘামাচ্ছেন কেন? আগে নিজের ঘরের খবর নিন।তখনই আমি হাফসা বিনতে উমর (রাঃ)-এর কাছে এলাম। আমি তাঁকে বললাম, হে হাফসা! তোমার অবস্থা এই পর্যায়ে গড়িয়েছে যে, তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কষ্ট দিচ্ছ? আল্লাহর কসম! আমি জানতে পেরেছি যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমাকে ভালোবাসেন না। আর আমি না হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অবশ্যই তোমাকে তালাক দিয়ে দিতেন। একথা শুনে তিনি অঝোরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। তখন আমি তাকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোথায় আছেন? সে [হাফসা (রাঃ)] বলল, তিনি ঐ চিলেকোঠায় অবস্থান করছেন। আমি সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলাম। তখন আমি দেখতে পেলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চৌকাঠটি ছিল খেজুর গাছের কাণ্ড দিয়ে নির্মিত যা দিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠানামা করতেন।আমি রাবাহ-কে ডাকলাম এবং বললাম, হে রাবাহ! আমার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট থেকে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে এসো। তখন রাবাহ কামরার দিকে দৃষ্টিপাত করল। এরপর আমার দিকে ফিরে তাকাল। কিন্তু সে কিছুই বলল না। আমি বললাম, হে রাবাহ! তুমি আমার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে এসো। এরপর রাবাহ কামরার দিকে দৃষ্টিপাত করল। এরপর আমার দিকে ফিরে তাকাল। কিন্তু সে এবারও কিছুই বলল না। তখন আমি উচ্চৈঃস্বরে বললাম, হে রাবাহ! তুমি আমার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট থেকে অনুমতি নিয়ে এসো। সে সময় আমি ভেবেছিলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হয়ত ধারণা করছেন আমি আমার কন্যা হাফসার কারণেই এখানে এসেছি। আল্লাহর কসম! যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার গর্দান উড়িয়ে দিবার নির্দেশ দিতেন তাহলে আমি অবশ্যই তার গর্দান উড়িয়ে দিতাম। এ সব কথা আমি উচ্চৈঃস্বরে বলছিলাম। তখন সে (রাবাহ) আমাকে ইশারায় উপরে উঠতে বলল।তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে প্রবেশ করলাম। সে সময় তিনি খেজুর পত্র নির্মিত একটি চাটাইয়ের উপর কাত হয়ে শোয়া ছিলেন। আমি সেখানে বসে পড়লাম। তিনি তাঁর চাদরখানি তাঁর শরীরের উপরে টেনে দিলেন। তখন এটি ছাড়া তাঁর পরনে অন্য কোনো কাপড় ছিল না আর বাহুতে চাটাইয়ের দাগ বসে গিয়েছিল। এরপর আমি স্বচক্ষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামানাদির দিকে তাকালাম। আমি সেখানে একটি পাত্রে এক সা’ (আড়াই কেজি পরিমাণ) এর কাছাকাছি কয়েক মুঠো যব দেখতে পেলাম। অনুরূপ বাবলা জাতীয় গাছের কিছু পাতা (যা দিয়ে চামড়ায় রং করা হয়।) কামরার এক কোণে পড়ে আছে দেখলাম। আরও দেখতে পেলাম ঝুলন্ত একখানি চামড়া যা পাকানো ছিল না। তখন তিনি বলেন, এই সব দেখে আমার দু’চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে গেল।তিনি (ﷺ) বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! কিসে তোমার কান্না পেয়েছে? আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! কেন আমি কাঁদব না। এই যে চাটাই আপনার শরীরের পার্শ্বদেশে দাগ বসিয়ে দিয়েছে। আর এই হচ্ছে আপনার কোষাগার। এখানে সামান্য কিছু যা দেখলাম তা ছাড়া তো আর কিছুই নেই। পক্ষান্তরে ঐ যে রোমক বাদশাহ ও পারস্য সম্রাট, কত বিলাস-বৈভবে ফলমূল ও ঝরণায় পরিবেষ্টিত হয়ে আড়ম্বরপূর্ণ জীবন যাপন করছে। আর আপনি হলেন আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর মনোনীত ব্যক্তি। আর আপনার কোষাগার হচ্ছে এই! তখন তিনি বললেন, হে খাত্তাব তনয়! তুমি কি এতে পরিতুষ্ট নও যে, আমাদের জন্য রয়েছে আখিরাত আর তাদের জন্য দুনিয়া (পার্থিব ভোগ-বিলাস)। আমি বললাম, নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট।এরপর উমর (রাঃ) বলেন, আমি যখন প্রবেশ করেছিলাম তখন তাঁর চেহারায় রাগের ছাপ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম। এরপর আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সহধর্মিণীদের কোনো আচরণ কি আপনার মনোকষ্টের কারণ হয়েছে? আপনি যদি তাঁদের তালাক প্রদান করে থাকেন (তাতে আপনার কিছু যায়-আসে না) সর্বশক্তিমান আল্লাহ আপনার সঙ্গে আছেন। তাঁর সকল ফেরেশতা, জিবরীল, মীকাঈল, আমি, আবু বকর (রাঃ) সহ সকল ঈমানদার আপনার সঙ্গে আছেন। তিনি [উমর (রাঃ)] বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমি যখনই কোনো কথা বলি তাতে প্রায়ই আমি আশাবাদী যে, আল্লাহ আমার কথা সত্য প্রমাণিত করবেন।তখন ইখতিয়ার সম্পর্কিত এ আয়াত নাযিল হল—“যদি নবী (ﷺ) তোমাদের সকলকে তালাক দিয়ে দেয় তাহলে তাঁর প্রতিপালক তোমাদের পরিবর্তে তাঁকে তোমাদের চাইতে উৎকৃষ্টতর সহধর্মিণী দিবেন।” (সূরা আত-তাহরীম ৬৬:৫)।“আর তোমরা দুইজন যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরের সাহায্য কর তবে জেনে রাখ, আল্লাহ-ই তার বন্ধু এবং জিবরীল (আঃ), সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণও। অধিকন্তু সমস্ত ফেরেশতাও তার সাহায্যকারী।” (সূরা আত-তাহরীম ৬৬:৪)আয়িশা বিনতে আবু বকর (রাঃ) ও হাফসা (বিনতে উমর) (রাঃ) এ দুইজন নবী (ﷺ)-এর অন্যান্য সহধর্মিণীদের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে আসছিল। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তাদের তালাক দিয়েছেন? তিনি বললেন, না। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি মসজিদে প্রবেশ করে দেখতে পেলাম মুসলিমরা (চিন্তায়যুক্ত হয়ে) মাটির কংকর মারছে এবং বলছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সহধর্মিণীদেরকে তালাক দিয়েছেন। এখন আমি কি তাদের কাছে গিয়ে জানিয়ে দেব যে, আপনি আপনার সহধর্মিণীদেরকে তালাক দেননি? তিনি বললেন, হ্যাঁ তোমার মনে চাইলে। এভাবে আমি তাঁর সঙ্গে আলাপ করতে লাগলাম। পরিশেষে দেখলাম তাঁর চেহারা থেকে রাগের ছাপ একেবারে মুছে গেছে এবং তিনি এমনভাবে হাসি দিলেন যে, তার দাঁত দেখা গেল। তাঁর দাঁত ছিল সকলের চাইতে সুন্দর।এরপর নবী (ﷺ) সেখান থেকে নিচে নেমে এলেন এবং আমিও খেজুর গাছের কাণ্ড নির্মিত (সিঁড়ির) কাষ্ঠ ধরে নিচে নেমে এলাম। তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমনভাবে নিচে নামলেন যেন তিনি সমতল জমিনে হাঁটছেন। তিনি তাঁর হাত দিয়ে কাণ্ডটি স্পর্শ করেননি। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো এই বালাখানায় ঊনত্রিশ দিন অবস্থান করেছেন। তিনি বললেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়ে থাকে। এরপর আমি মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করলাম, তিনি তাঁর সহধর্মিণীদেরকে তালাক দেননি।তখন এই আয়াত নাযিল হল—“যখন শান্তি কিংবা ভয়ের কোনো সংবাদ তাদের কাছে আসে তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। যদি তারা বিষয়টি আল্লাহর রাসূল এবং নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের নিকট উপস্থাপন করত তাহলে তাদের মধ্যে যারা তথ্য অনুসন্ধানী তারা এর যথার্থতা নিরূপণ করতে সক্ষম হত।” মোটকথা আমি [উমর (রাঃ)] এই বিষয়টির সঠিক তথ্য নির্ণয়ে সক্ষম হয়েছিলাম। তখন আল্লাহ তা‘আলা ইখতিয়ার সম্পর্কিত আয়াত নাযিল করেন।
৩৫৮৪
স্ত্রী হতে দূরে থাকার কসম করা, স্ত্রী হতে বিরত থাকা ও তাদের অবকাশ দেয়া এবং আল্লাহ তা‘আলার বানী- “যদি তারা যিহারে লিপ্ত হয়” ইত্যাদি প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
আমি দীর্ঘ এক বছর যাবত ইচ্ছা পোষণ করে আসছিলাম যে, একটি আয়াত সম্পর্কে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করব। কিন্তু আমি তাঁর গাম্ভীর্যের কারণে তাঁকে জিজ্ঞেস করতে সাহস পাইনি। একবার তিনি হজ্জ পালনের জন্য রওয়ানা হলেন, আমিও তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে পড়লাম। যখন আমরা কোন এক রাস্তা দিয়ে চলছিলাম এই সময় তিনি (প্রকৃতির) প্রয়োজনে পিলুগাছের ঝোপের দিকে গেলেন। আমি তাঁর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম। তিনি তাঁর প্রয়োজন পূরণ করে ফিরে এলেন। এরপর আমি তাঁর সঙ্গে রওয়ানা করলাম। (এক সুযোগ পেয়ে) আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সহধর্মিনীগণের মধ্যে থেকে কোন দুজন তাঁর অপছন্দনীয় কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করেছিল? তিনি বললেন, তাঁরা ছিলেন হাফসা (রাঃ) ও আয়িশা (রাঃ)।তিনি [আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)] বলেন, আমি তাঁকে [উমর (রাঃ)-কে] বললামঃ আল্লাহর কসম! দীর্ঘ এক বছর যাবত এই বিষয়টি সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞেস করব বলে মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করে আসাছিলাম, কিন্তু আপনার ভয়ের কারণে সাহস পাইনি। তিনি [উমর (রাঃ)] বললেন, কখনো এরূপ করবে না বরং আমার কাছে কোন বিষয়ের জ্ঞান আছে বলে তোমার ধারণা হলে তুমি অবশ্যই সে সম্পর্কে আমার কাছে জিজ্ঞেস করে জেনে নিবে। যদি তা আমার জানা থাকে তাহলে তোমাকে অবহিত করবই। রাবী [আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)] বলেন, তখন উমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! জাহিলিয়্যাত যুগে আমরা নারী জাতির জন্য কোন অধিকার স্বীকার করতাম না। এরপর আল্লাহ তাদের অধিকার সম্পর্কে যা অবতীর্ণ করার অবতীর্ণ করলেন এবং তাদের জন্য যা নির্ধারণের ছিল তা নির্ধারণ করে দিলেন।আমি কোন একদিন এক বিষয়ে চিন্তা করছিলাম। এমন সময় আমার স্ত্রী আমার কাছে এসে বলল, আপনি যদি এরূপ এরূপ করতেন তাহলে বেশ ভাল হত। আমি তাকে বললাম, তোমার কী হয়েছে? তুমি এখানে এলে কেন? আমি যে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি তাতে তুমি নাক গলাচ্ছ কেন? তখন সে বলল, হে খাত্তাবের পুত্র! আপনি তো আমাকে মুখ খুলতেই দিচ্ছেন না, কী আশ্চর্য! অথচ আপনার (স্নেহের) কন্যাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে প্রতি উত্তর করে, যার ফলে তিনি সারা দিন রাগান্বিত অবস্থায় অতিবাহিত করেন।উমর (রাঃ) বলেন, এরপর আমি (তড়িঘড়ি) আমার চাদর গুটিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লাম এবং সোজা হাফসার কাছে পৌঁছলাম। আমি তাঁকে বললাম, হে আমার কন্যা! তুমি নাকি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথার প্রত্যুত্তর করে থাক, যাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সারা দিন রাগান্বিত থাকেন? হাফসা (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমরা সত্যিই তাঁর কথার প্রত্যুত্তর দিয়ে থাকি। তখন আমি বললাম, জেনে রাখ! আমি তোমাকে আল্লাহর শাস্তির ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অসন্তুষ্টির ভীতি প্রদর্শন করছি। হে আমার কন্যা! ঐ মেয়েটি যেন তোমাকে ধোঁকায় ফেলতে না পারে যাকে তাঁর সৌন্দর্য ও তার প্রতি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনুরাগ গর্বিতা করে ফেলেছে [এর দ্বারা তিনি আয়িশা (রাঃ)-কে বুঝাতে চেয়েছেন]।এরপর আমি সেখান থেকে বেরিয়ে উম্মু সালামা (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তাঁর সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। আমি তাঁর সঙ্গে কথা বললাম। তখন উম্মু সালামা (রাঃ) আমাকে বললেন, কী আশ্চর্য! হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি সব কিছুতেই দখল নিতে চাচ্ছ? এমন কি তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর সহধর্মিনীগণের মধ্যকার বিষয়ে দখল নিতে চাচ্ছ? তিনি বলেন, এই বিষয়ে উম্মু সালামা (রাঃ)-এর কথা আমাকে এমনভাবে জব্দ করল যে, আমি হতোদ্যম হয়ে পড়লাম। তাই আমি তাঁর নিকট হতে কেটে পড়লাম।এদিকে আমার একজন আনসারী বন্ধু ছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মজলিসে অনুপস্থিত থাকলে তিনি আমাকে জানাতেন এবং তিনি তাঁর মজলিসে অনুপস্থিত থাকলে আমি তাঁর কাছে এসে তাঁকে (আলোচ্য বিষয়ে) জানাতাম। সে সময়ে আমরা জনৈক গাসসানী বাদশার আক্রমণের আশংকা করছিলাম। কারণ তখন আমাদের মাঝে সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল যে, সে আমাদের উপর হামলার পাঁয়তারা করছে তাই ভয়-ভীতি ও দুশ্চিন্তায় আমাদের অন্তর ছিল আচ্ছান্ন। ইত্যবসরে আমার আনসারী বন্ধুটি এসে দরজা খটখটাতে লাগলেন এবং বললেন, খুলে দিন! আমি বললাম, তাহলে গাসসানীরা কি এসেই পড়ল? তিনি (আমার আনসারী বন্ধুটি) বললেন, (না, গাসসানীরা আসেনি) তবে তার চাইতেও সাংঘাতিক কিছু। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সহধর্মিনীগণকে ত্বলাক দিয়েছেন।উমর (রাঃ) বললেন, তখন আমি বললাম, হাফসা ও আয়িশার নাক ধূলোয় মলিন হোক। এরপর আমি আমার কাপড়-চোপড় পরিধান করলাম এবং ঘর থেকে বেরিয়ে সরাসরি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এলাম। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর বালাখানায় দেখতে পেলাম। সেটা ছিল এমন ছাদযুক্ত কামরা যাতে খেজুর কাণ্ড নির্মিত সিড়ি বেয়ে উঠতে হত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক সিঁড়ির কামরার দরজায় পাহাড়ারত ছিল। তখন আমি তাঁকে বললাম, আমি উমর। আমাকে অনুমতি এনে দাও। সে অনুমতি নিয়ে এলে আমি ভিতরে প্রবেশ করে এই ঘটনা বিশদভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে খুলে বললাম। আমি যখন উম্মু সালামা (রাঃ)-এর ঘটনা পর্যন্ত পৌঁছলাম, তখন তিনি মুচকি হাসি দিলেন।তিনি তখন একটি সাদামাটা চাটাইয়ের উপর (কাত হয়ে শায়িত) ছিলেন, তাঁর ও চাটাইয়ের মাঝখানে অন্য কিছুই ছিল না। তাঁর মাথার নিচে ছিল চামড়ার তৈরি একটি বালিশ যার মধ্যে খেজুর গাছের ছাল ভর্তি ছিল। তাঁর পায়ের কাছে ছিল স্তূপীকৃত বাবলা জাতীয় গাছের কিছু পাতা এবং শিয়রের কাছে ঝুলন্ত ছিল একটি কাঁচা চামড়া। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শরীরের পার্শ্বদেশে চাটাই-এর দাগ দেখতে পেলাম, এতে আমি কাঁদলাম। তিনি বললেন, (হে খাত্তাব তনয়) তুমি কাঁদছ কেন? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! পারস্য সম্রাট ও রোমক সম্রাট কত বিলাসব্যসনে কাটাচ্ছে আর আপনি হলেন আল্লাহর রাসূল, (আপনার অবস্থা এই)। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, (হে উমর) তুমি কি এতে পরিতুষ্ট নও যে, তাদের জন্য কেবল দুনিয়া (পার্থিব ভোগ-বিলাস) আর তোমার জন্য রয়েছে আখিরাত (চিরস্থায়ী সুখ শান্তি)।
৩৫৮৫
স্ত্রী হতে দূরে থাকার কসম করা, স্ত্রী হতে বিরত থাকা ও তাদের অবকাশ দেয়া এবং আল্লাহ তা‘আলার বানী- “যদি তারা যিহারে লিপ্ত হয়” ইত্যাদি প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
আমি উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে রওনা হয়ে যখন মাররুয যাহরান নামক স্থানে পৌঁছলাম, তখন তিনি বিস্তারিতভাবে হাদীস বর্ণনা করেন। সুলাইমান ইবনু বিলাল বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। অবশ্য তিনি [ইবনু আব্বাস (রাঃ)] বলেনঃ আমি উমর (রাঃ)-কে বললাম, সে দুইজন মহিলার ঘটনা আমাকে বলবেন কি? তিনি বললেন, তারা ছিলেন হাফসা ও উম্মু সালামা (রাঃ)।তিনি তাঁর বর্ণনায় আরও উল্লেখ করেন যে, এরপর আমি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর) হুজরার দিকে এলাম তখন সব ঘরেই কান্নাকাটি অব্যাহত ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীগণের সঙ্গে একমাস ঈলা করেছিলেন। যখন ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হয়ে গেল, তখন তিনি তাদের কাছে ফিরে এলেন।
৩৫৮৬
স্ত্রী হতে দূরে থাকার কসম করা, স্ত্রী হতে বিরত থাকা ও তাদের অবকাশ দেয়া এবং আল্লাহ তা‘আলার বানী- “যদি তারা যিহারে লিপ্ত হয়” ইত্যাদি প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
আমি (দীর্ঘদিন যাবৎ) মনে মনে ইচ্ছা পোষণ করে আসছিলাম যে, ঐ দুইজন মহিলা সম্পর্কে উমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করব যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর অপ্রিয় কাজে একে অপরকে সহযোগিতা দান করছিল। আমি একটি বছর অপেক্ষা করলাম কিন্তু আমি তাকে জিজ্ঞেস করার সুযোগ পেলাম না। শেষ পর্যন্ত মক্কায় রওনা হবার পথে আমি তাঁর সফরসঙ্গী হলাম।পথযাত্রায় তিনি যখন মাররুয যাহরান নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন তিনি তার প্রয়োজন পূরণের (ইস্তিনজা ইত্যাদির জন্য) ইচ্ছা ব্যক্ত করলেন। এরপর তিনি বললেন, আমাকে এক বদনা পানি দাও। আমি এক বদনা পানি সহ তাঁর কাছে উপস্থিত হলাম। যখন তিনি হাজত সমাধান করে ফিরে এলেন তখন আমি (ওজুর) পানি ঢেলে দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে গেলাম। তখন আমি সেই প্রশ্নের কথা স্মরণে আনলাম। এরপর আমি তাঁকে বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! সে মহিলা দুইজন কারা ছিলেন? তখন আমার কথা শেষ না হতেই তিনি বললেন, সে দুইজন ছিলেন আয়িশা (রাঃ) ও হাফসা (রাঃ)।
৩৫৮৭
স্ত্রী হতে দূরে থাকার কসম করা, স্ত্রী হতে বিরত থাকা ও তাদের অবকাশ দেয়া এবং আল্লাহ তা‘আলার বানী- “যদি তারা যিহারে লিপ্ত হয়” ইত্যাদি প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)
আমি নবী (ﷺ)-এর স্ত্রীগণের মধ্যে থেকে যে দুইজন মহিলা সম্পর্কে উমর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করার জন্য বহুদিন যাবৎ আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিলাম যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেনঃ “তোমাদের দু’জনের হৃদয় অন্যায় প্রবণ হয়েছে মনে করে তোমরা যদি অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসো তাহলে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন”। (সূরা আত-তাহরীম ৬৬ : ৪) পরিশেষে উমর (রাঃ) হজ্জ পালনের জন্য ঘর থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং আমিও হজ্জ পালনের জন্য তাঁর সফরসঙ্গী হলাম। এরপর (হজ্জ সমাপন করে ফেরার পথে) আমরা কোন এক রাস্তা দিয়ে চলার সময় উমর (রাঃ) এক পার্শ্বে মোড় নিলেন। আমিও পানির বদনাসহ তাঁর সঙ্গে রাস্তার পাশে গেলাম। তিনি তাঁর হাজত পূরণ করলেন এবং আমার কাছে এলেন। আমি তাঁর উভয় হাতে পানি ঢাললাম, তিনি ওযু করে নিলেন। তখন আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! নবী (ﷺ)-এর স্ত্রীগণের সে দুইজন মহিলা কারা ছিলো যাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেনঃ (إِنْ تَتُوبَا إِلَى اللَّهِ فَقَدْ صَغَتْ قُلُوبُكُمَا) উমর (রাঃ) বললেন, হে ইবনু আব্বাস! এতো তোমার জন্য আশ্চর্যের বিষয় বলে মনে হচ্ছে (তুমি এত বিলম্বে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে কেন?) যুহরী (রহঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! তিনি [উমর (রাঃ)] জিজ্ঞাসিত বিষয়টি (ইবনু আব্বাসের এ বিষয়ে বিলম্বে প্রশ্ন করাকে) অপছন্দ করলেও তা বর্ণনা করতে কিছুই গোপন করলেন না। তিনি বললেন, তাঁরা দুইজন ছিলেন হাফসা ও আয়িশা (রাঃ)। এরপর তিনি ঘটনার বিবরণ দিতে লাগলেন।তিনি বললেন, আমরা কুরায়শ বংশের লোকেরা (জাহিলিয়্যাত যুগে) আমাদের স্ত্রীদের উপর প্রভুত্ব করে চলতাম। যখন আমরা মদীনায় এলাম তখন এমন লোকদের দেখতে পেলাম যাদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রভাব বিস্তার করছিল। এমনি পরিবেশে আমাদের নারীরা তাদের (মদীনাবাসীদের) নারীদের অভ্যাস রপ্ত করতে শুরু করে দেয়। সে সময় মদীনার উচ্চভূমির অধিবাসী বানূ উমাইয়্যাহ ইবন যায়দের বংশধরদের মধ্যে আমার বসতবাটি ছিল। এরপর একদিন আমি আমার স্ত্রীর উপর রাগান্বিত হলাম। সে আমার কথার প্রত্যুত্তর করতে লাগল। আমি আমার সঙ্গে তার প্রত্যুত্তর করাকে খুবই অপ্রিয় মনে করলাম। সে বলল, আপনার সঙ্গে আমার কথার প্রত্যুত্তর করাকে অপছন্দ করছেন কেন? আল্লাহর কসম! নবী (ﷺ)-এর স্ত্রীগণও তো তাঁর সঙ্গে কথার প্রত্যুত্তর করে থাকে। এমনকি তিনি তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে।তখন আমি রওনা করে (আমার মেয়ে) হাফসার কাছে চলে এলাম। এরপর আমি তাকে বললাম, তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে প্রত্যুত্তর কর? সে বলল, হ্যাঁ। আমি বললাম, তোমাদের মধ্যে কি কেউ তাঁকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে? সে বলল, হ্যাঁ। আমি বললাম, তোমাদের যে কেউ এরূপ আচরণ করে সে আসলেই দুর্ভাগা ও ক্ষতিগ্রস্ত। তোমাদের মধ্যে কি কেউ বিপদমুক্ত ও নিরাপদ হতে পারে যদি আল্লাহ তাঁর রাসূলের ক্রোধের কারণে ক্রুদ্ধ হন। এরূপ হলে তো তার ধ্বংস অনিবার্য। তুমি কখনো রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে তাঁর কথার প্রত্যুত্তরে লিপ্ত হয়ো না এবং তাঁর কাছে কোন কিছু দাবী করবে না, তোমার মনে যা চায় তা আমার কাছে চাইবে। তোমার সতীন তোমার চাইতে অধিকতর সুন্দরী এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট তোমার তুলনায় অধিকতর প্রিয়পাত্রী। সে যেন তোমাকে ধোঁকায় পতিত না করে ফেলে। এর দ্বারা তিনি [উমর (রাঃ)] আয়িশা (রাঃ)-কে বুঝাতে চাইছেন।আমার একজন আনসারী প্রতিবেশী ছিলেন। আমরা দুই বন্ধু পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে (তাঁর মজলিসে) যেতাম। একদিন তিনি উপস্থিত থাকতেন, অপরদিন আমি উপস্থিত হতাম। এভাবে তিনি আমাকে ওহী ইত্যাদির খবর দিতেন, আমিও অনুরূপ খবর তাকে পৌছাতাম। সে সময় আমরা বেশ করে আলোচনা করতে ছিলাম যে, গাসসানী বাদশাহ নাকি আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা জন্য ঘোড়ার ক্ষুরে নাল লাগাচ্ছে।একদিন আমার বন্ধু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গেলেন এবং ইশার সময় (রাত্রিকালে) আমার কাছে (ফিরে) এলেন। তিনি এসে আমার ঘরের দরজা খটখটালেন এবং আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর ডাক শুনে তাঁর কাছে ছুটে এলাম। তিনি বললেন, একটি বিরাট কাণ্ড ঘটে গেছে। আমি বললাম, সে কী? গাসসানীরা তাহলে এসে গেছে নাকি? তিনি বললেনঃ না, তারা আসেনি বরং ব্যাপার তার চাইতেও সাংঘাতিক ও দীর্ঘতর। নবী (ﷺ) তাঁর সহধর্মিনীদের তালাক দিয়েছেন। তখন আমি বললাম, হাফসা হতাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি পূর্ব থেকেই ধারণা পোষণ করে আসছিলাম যে, এমন একটা কিছু ঘটতে যাচ্ছে।এরপর আমি ফজরের সালাত আদায় করে প্রয়োজনীয় কাপড়-চোপড় পরিধান করলাম। আমি ঘর থেকে বেরিয়ে সরাসরি হাফসার কাছে উপস্থিত হলাম। তখন সে কাঁদছিল। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি তোমাদেরকে তালাক দিয়েছেন। সে (শ্বাসরুদ্ধ করে) বলল, আমি জানি না। তবে তিনি তাঁর ঐ বালাখানায় নির্জনবাস করছেন। আমি তাঁর কৃষ্ণাঙ্গ খাদিমের কাছে বললাম উমরের (প্রবেশের) জন্য অনুমতি প্রার্থনা করো। এরপর সে ভিতরে প্রবেশ করল এবং পরক্ষণেই বেরিয়ে এসে আমার দিকে তাকাল। এরপর সে বলল, আমি তাঁর (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর) কাছে আপনার কথা উত্থাপন করেছি কিন্তু তিনি নীরব আছেন (কিছুই বলছেন না)। অতঃপর আমি চলে এলাম এবং মিম্বারের কাছে এসে বসে পড়লাম। তখন আমি দেখতে পেলাম সেখানে একদল লোক বসা আছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। আমি খানিকটা বসলাম। এরপর আমার মনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা আমার উপর প্রভাব বিস্তার করল।তখন আমি সেই কৃষ্ণাঙ্গ যুবকটির কাছে চলে এলাম এবং তাকে বললাম, উমরের জন্য ভিতরে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে এসো। সে ভেতরে প্রবেশ করল এবং বেরিয়ে এসে আমাকে বলল, আমি আপনার বিষয়টি তাঁর সামনে উত্তাপন করেছি কিন্তু তিনি নীরব আছেন। আমি যখন পিছনে ফিরে চললাম অমনি সে কৃষ্ণাঙ্গ যুবকটি আমাকে ডাক দিয়ে বলল, আপনি প্রবেশ করুন; তিনি আপনাকে অনুমতি দিয়েছেন। আমি ভিতরে প্রবেশ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সালাম দিলাম। আমি দেখতে পেলাম, তিনি খেজুর পাতার তৈরি একটি চাটাই এর উপর হেলান দিয়ে আরাম করছেন যা তাঁর পাঁজরে চাটাইয়ের দাগ বসিয়ে দিয়েছে। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আপনার সহধর্মিনীগণকে তালাক দিয়েছেন? তিনি তাঁর মাথা উঁচিয়ে আমার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেন এবং বললেন, না। আমি বললাম, আল্লাহু আকবার। আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বিষয়টি ভেবে দেখুনঃ আমরা যখন মদীনায় এলাম তখন দেখতে পেলাম, এখানকার পুরুষ লোকদের উপর তাদের স্ত্রীরা প্রভুত্ব বিস্তার করে আসছে। এতে তাদের দেখাদেখি আমাদের স্ত্রীরাও তাদের অভ্যাস রপ্ত করতে শুরু করেছে। একদিন আমি আমার স্ত্রীর প্রতি রাগান্বিত হলাম। অমনি সে আমার কথার প্রত্যুত্তর শুরু করে দিল। আমি তার প্রত্যুত্তর করাকে খুবই খারাপ মনে করলাম। সে বলে ফেলল, আপনার সঙ্গে প্রত্যুত্তর করাকে আপনি এত খারাপ মনে করছেন কেন? আল্লাহর কসম! নবী (ﷺ)-এর স্ত্রীগণও তো তাঁর কথার প্রত্যুত্তর করে থাকে, এমনকি তাঁদের কেউ কেউ তাঁকে সারা দিন রাত বিচ্ছিন্ন করে রাখে। আমি বললাম, তাঁদের মধ্যে কেউ এমন আচরণ করলে সে হতভাগ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে থেকে কারো উপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগান্বিত হওয়ার কারণে যদি আল্লাহ ক্রদ্ধ হয়ে যান তাহলে তার পতন ও ধ্বংস অনিবার্য।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃদু স্বরে হেসে উঠলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি হাফসার কাছে গিয়ে তাকে বলে দিয়েছি যে, তোমার সতীন সৌন্দর্যে তোমার তুলনায় অগ্রগামিনী এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে তোমার চাইতে অধিকতর আদরিনী- তা যেন তোমাকে ধোঁকার জালে আবদ্ধ করতে না পারে। এতে আবার তিনি মুচকি হাসি দিলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সঙ্গে একান্তে আলাপ করতে চাই। তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, করতে পার। অতঃপর আমি বললাম এবং মাথা উঠিয়ে তাঁর কোঠার (এদিক ওদিক) তাকিয়ে দেখলাম। আল্লাহর কসম! আমি সেখানে তিনখানি চামড়া ব্যতীত নয়ন জুড়ানো তেমন কিছু দেখতে পাইনি।আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আপনার উম্মাতকে প্রাচুর্য দান করেন। পারসিক ও রোমকদের তো বৈষয়িক সুখ সমৃদ্ধি দান করা হয়েছে অথচ তারা আল্লাহর ইবাদত করে না। তখন তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং বললেন, হে খাত্তাবের পুত্র! তুমি কি সন্দেহের জালে আচ্ছন্ন আছো। আসলে তারা তো এমন সম্প্রদায় যাদের পার্থিব জীবনে ক্ষণিকের তরে সুখ সমৃদ্ধি দান করা হয়েছে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি তাঁর সহধর্মিনীগণের আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে কসম করেছিলেন যে, দীর্ঘ একমাস তাদের সঙ্গে একত্রে অতিবাহিত করবেন না। শেষাবধি আল্লাহ তাঁকে এ আচরণের জন্য তিরস্কার করেন।
৩৫৮৮
স্ত্রী হতে দূরে থাকার কসম করা, স্ত্রী হতে বিরত থাকা ও তাদের অবকাশ দেয়া এবং আল্লাহ তা‘আলার বানী- “যদি তারা যিহারে লিপ্ত হয়” ইত্যাদি প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
যুহরী (রহঃ) বলেন, ‘উরওয়াহ্ (রাঃ) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
আমাকে যুহরী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাকে উরওয়া, আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। যখন ঊনত্রিশ দিন অতিবাহিত হল তখন প্রথমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট আসলেন। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো কসম করেছিলেন একমাস পর্যন্ত আমাদের কাছে আসবেন না, অথচ ঊনত্রিশ দিন পরই আপনি আমাদের কাছে ফিরে এলেন। আমি এই দিনগুলো হিসাব করে রেখেছিলাম। তিনি বললেন, মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়। এরপর তিনি বললেন, হে আয়েশা! আমি তোমাকে একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, সে সম্পর্কে তোমার পিতামাতার সঙ্গে পরামর্শ না করে তাড়াতাড়ি উত্তর দেয়ার প্রয়োজন নেই। তখন তিনি আমাকে এই আয়াত তিলাওয়াত করে শোনালেনঃ “হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও এর ভূষণ কামনা কর তাহলে আসো আমি তোমাদের ভোগ বিলাসের উপকরণের ব্যবস্থা করে দেই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় করে দিই। আর যদি তোমরা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকাল কামনা কর তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণা আল্লাহ তাদের জন্য মহা প্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন”- (সূরা আল আহযাব ৩৩ : ২৮-২৯)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, এটা নির্ঘাত সত্য যে, আমার পিতামাতা কস্মিনকালেও আমাকে তাঁর (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরামর্শ দিবেন না। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ বিষয়ে কি আমি আমার পিতামাতার সাথে পরামর্শ করতে যাব? নিশ্চয়ই আমি আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও পরকাল কামনা করি। মা’মার (রহঃ) বলেন, আইয়ুব আমাকে জানিয়েছেন যে, আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, (হে আল্লাহর রাসূল!) আপনি আপনার অন্যান্য সহধর্মিনীদের কাছে বলবেন না যে, আমি আপনাকেই ইখতিয়ার করে নিয়েছি। তখন নবী (ﷺ) তাকে বললেন, আল্লাহ আমাকে মুবাল্লিগ (সত্য প্রচারক) রূপে প্রেরণ করেছেন, বিপদে নিক্ষেপকারীরূপে পাঠাননি। কাতাদাহ (রহঃ) صَغَتْ قُلُوبُكُمَا এর অর্থ مَالَتْ قُلُوبُكُمَا “তোমাদের হৃদয় (অন্যায় প্রবণতার দিকে) ঝুঁকে পড়েছিল” বলে উল্লেখ করেছেন।
৩৫৮৯
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
ফাত্বিমাহ্‌ বিনতু ক্বায়স (রা:)
আবু আমর ইবনু হাফস (রাঃ) (তাঁর স্বামী) অনুপস্থিতিতে তাঁকে বায়িন তালাক দেন। এরপর সামান্য যবসহ উকিলকে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেন। এতে তিনি [ফাতিমা (রাঃ)] তাঁর উপর ভীষণভাবে অসন্তুষ্ট হন। সে (উকিল) বলল, “আল্লাহর কসম! তোমাকে (খোরপোষরূপে) কোন কিছু দেয়া আমাদের দায়িত্ব নয়।”তখন তিনি [ফাতিমা বিনত কাইস (রাঃ)] রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁর নিকট সব খুলে বললেন। (তাঁর কথা শুনে) তিনি বলেন, “তোমার জন্য তার [তোমার স্বামী আবু আমর ইবনু হাফস (রাঃ)-এর] দায়িত্বে কোন খোরপোষ নেই।”এরপর তিনি তাঁকে উম্মু শরীক-এর ঘরে গিয়ে ‘ইদ্দত পালনের নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি এও বললেন, “সে মহিলা (উম্মু শরীক) এমন একজন স্ত্রীলোক যার কাছে আমার সাহাবীগণ ভীড় করে থাকেন। তুমি বরং ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ)-এর বাড়িতে গিয়ে ‘ইদ্দত পালন করতে থাক। কেননা সে একজন অন্ধ মানুষ। সেখানে প্রয়োজনবোধে তুমি তোমার পরিধানের বস্তু খুলে রাখতে পারবে। ‘ইদ্দত পূর্ণ হলে তুমি আমাকে জানাবে।”তিনি বলেন, যখন আমার ‘ইদ্দত পূর্ণ হল তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জানালাম যে, মুয়াবিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান (রাঃ) ও আবু জাহম (রাঃ) আমাকে বিবাহের পায়গাম পাঠিয়েছেন।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ “আবু জাহম এমন একজন লোক যে, তার কাঁধ থেকে লাঠি নামিয়ে রাখে না। আর মুয়াবিয়া তো কপর্দকহীন গরীব মানুষ। তুমি উসামা ইবনু যায়দের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হও।” কিন্তু আমি তাঁকে পছন্দ করলাম না। পরে তিনি আবার বললেন, “তুমি উসামাকে বিয়ে কর।” তখন আমি তাঁর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম। আল্লাহ এতে (তার ঘরে) আমাকে বিরাট কল্যাণ দান করলেন। আর আমি ঈর্ষার পাত্রে পরিণত হলাম।
৩৫৯০
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
ফাত্বিমাহ্‌ বিনতু ক্বায়স(রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় তাঁর স্বামী তাঁকে তালাক দেন। এরপর তাঁর স্বামী তাঁর জন্য (ইদ্দতকালীন সময়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য) সামান্য পরিমাণ খোরপোষ দিয়েছিলেন। তিনি তা দেখে বললেন, “আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই এ বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গোচরে আনব। যদি খোরপোষ আমার প্রাপ্য হয় তবে আমি তা এ পরিমাণে আদায় করব যাতে সুচারুভাবে আমার প্রয়োজন পূরণ হয়। আর খোরপোষ আমার প্রাপ্য না-ই হয় তাহলে আমি তাঁর নিকট থেকে কিছুই গ্রহণ করব না।” তিনি বলেন, এরপর আমি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে উত্থাপন করলাম। তিনি আমাকে বললেন, “তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই, বাসস্থানও নেই।”