৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৬০/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৫৯১
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
আবূ সালামাহ্‌ (রাঃ)
আমি ফাতিমা বিনতে কাইস (রাঃ)-কে (তাঁর স্বামী কর্তৃক তালাক সম্পর্কে) জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে জানালেন যে, তাঁর মাখযূমী স্বামী তাঁকে তালাক দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তাঁকে খোরপোষ প্রদানে অনীহা প্রকাশ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তোমার জন্য কোনো খোরপোষ নেই। তুমি সেখান থেকে সরে পড় এবং ইবনে উম্মে মাকতুমের ঘরে গিয়ে অবস্থান কর। কারণ সে একজন অন্ধ মানুষ। সেখানে তুমি প্রয়োজনবোধে তোমার গাত্রবস্ত্র খুলে রাখতে পারবে।”
৩৫৯২
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
যাহ্‌হাক ইবনু ক্বায়স-এর ভগ্নী ফাত্বিমাহ্‌ বিনতু ক্বায়স (রাঃ)
তাঁর স্বামী আবু হাফস ইবন মুগীরা (রাঃ) তাঁকে একত্রে তিন তালাক প্রদান করেন। এরপর তিনি ইয়ামান চলে যান। তখন তাঁর (আবু আমর-এর) পরিবারের লোকজন তাঁকে (ফাতিমা কে) বলল, তোমার জন্য আমাদের দায়িত্বে কোন খোরপোষ নেই। এরপর খালিদ ইবন ওয়ালিদ (রাঃ) একদল লোকসহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এলেন। তখন তিনি মায়মূনা (রাঃ)-এর ঘরে অবস্থান করছিলেন। তাঁরা বললেন, (হে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)!) আবু হাফস তাঁর স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছেন। এখন তাঁর স্ত্রী কি খোরপোষ পাবে?! তিনি বললেনঃ না, তাঁর জন্য কোন খোরপোষ নেই; তাঁর উপর ইদ্দত পালন করা ফরজ। তিনি তাঁকে বলে পাঠালেন যে, তুমি আমাকে না জানিয়ে বিবাহের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না।তিনি তাঁকে ইদ্দত পালনের জন্য উম্মু শরীক-এর ঘরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি তাঁকে লোক মারফত জানিয়ে দিলেন যে, উম্মু শরীক এমন একজন মহিলা যার কাছে প্রাথমিক হিজরতকারী সাহাবীগণ যাওয়া আসা করে থাকেন। সুতরাং তুমি অন্ধ ইবন উম্মু মাকতূম-এর ঘরে চলে যাও। কারণ সেখানে তুমি প্রয়োজনে তোমার ওড়না নামিয়ে রাখলে সে তোমাকে দেখতে পাবে না। যখন তাঁর ইদ্দত পূর্ণ হল তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উসামা ইবনু যায়দ ইবনু হারিসা (রাঃ)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে দিয়ে দিলেন।
৩৫৯৩
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
ফাত্বিমাহ্‌ বিনতু ক্বায়স (রাঃ)
আমি বানু মাখযুম গোত্রের এক ব্যক্তির স্ত্রী ছিলাম। তিনি আমাকে বায়িন তালাক দিলেন। তখন আমি তাঁর পরিবারপরিজনের কাছে লোক পাঠিয়ে ভরণপোষণের দাবী জানালাম। এরপর তাঁরা (বর্ণনাকারীত্রয়) আবু সালামার সূত্রে ইয়াহিয়া ইবনে কাসীরের হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করে গেলেন। তবে মুহাম্মাদ ইবনে আমর বর্ণিত হাদিসে “আমাকে বাদ দিয়ে তুমি তোমার সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত নিও না” বলে উল্লেখ রয়েছে।
৩৫৯৪
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
ফাত্বিমাহ্ বিনতু ক্বায়স (রাঃ)
তিনি আবু আমর ইবনে হাফস ইবনে মুগীরা (রাঃ)-এর স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাঁকে চূড়ান্ত তিন তালাক দিলেন। তখন তিনি [ফাতিমা বিনত কয়স (রাঃ)] ভাবলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে যাবেন এবং তাঁর স্বামীর ঘর থেকে অন্যত্র অবস্থানের ব্যাপারে তাঁর নিকট থেকে সিদ্ধান্ত জেনে নিবেন। তিনি (ﷺ) নির্দেশ দিলেন যে, তুমি অন্ধ ইবনে উম্মু মাকতুমের ঘরে চলে যাও। মারওয়ান (উমাইয়া গভর্নর) তালাকপ্রাপ্তা মহিলার (স্বামীর) ঘর থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে তার (আবু সালামার) বর্ণনার সত্যতা অস্বীকার করেন। উরওয়া (রহঃ) বলেন, আয়িশা (রাঃ)-ও ফাতিমা বিনত কায়স-এর বিষয়টি (স্বামীর ঘর ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করা) প্রত্যাখ্যান করেছেন।
৩৫৯৫
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু শিহাব (রহঃ)
উরওয়াহর উক্তিসহ বর্ণনা করেছেন যে, আয়িশা (রাঃ) ফাতিমার উক্ত ঘটনা অস্বীকার করেছেন।
৩৫৯৬
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
উবায়দুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উত্‌বাহ (রাঃ)
আবু আমর ইবন হাফস ইবন মুগীরা (রাঃ) আলি ইবন আবু তালিব (রাঃ)-এর সঙ্গে ইয়ামানে গমন করেন। এরপর তিনি তার স্ত্রী ফাতিমা বিনত কায়সকে অবশিষ্ট এক তালাকের কথা বলে পাঠালেন (দুই তালাক আগেই দিয়েছিলেন)। তিনি হারিস ইবন হিশাম ও আইয়াশ ইবন আবু রবীআকে নিজের পক্ষ থেকে তার (স্ত্রীকে) খোরপোষ হিসেবে কিছু দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন। তখন তারা দু’জন তাকে (ফাতিমাকে) বললেন, আল্লাহর কসম! তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই, তবে তুমি গর্ভবতী হলে ভিন্ন কথা।এরপর তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছে এলেন এবং তাদের দু’জনের উক্তি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলেন। তখন তিনি বললেন, “তোমার জন্য কোন খোরপোষ নেই।” এরপর তিনি নবী (ﷺ)-এর কাছে স্বামীর ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি কোথায় যাব? তিনি বললেন, “ইবন উম্মু মাকতুমের কাছে চলে যাও। সে অন্ধ মানুষ। তুমি প্রয়োজনবোধে তার নিকট গাত্রবস্ত্র খুলতে পারবে এবং সে তোমাকে দেখতে পাবে না।”এরপর যখন তার ইদ্দত পূর্ণ হল তখন নবী (ﷺ) তাকে উসামা ইবন যায়দের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিলেন। পরবর্তীকালে মারওয়ান এ হাদিসের সত্যতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার উদ্দেশে কাবিসা ইবন জুয়াইবকে তার কাছে পাঠান। তখন তিনি তার (কাবিসার) কাছে এই হাদিস বর্ণনা করেন।এ খবর শুনে মারওয়ান বললেন, “একজন মহিলা ছাড়া অন্য কারো কাছে আমি এ হাদিস শুনিনি। আমরা এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ মত গ্রহণ করব যার উপর আমরা মুসলিম জনসাধারণকে পেয়েছি।” ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ)-এর নিকট মারওয়ানের মন্তব্য পৌঁছলে তিনি বলেন, “আমার ও তোমাদের মধ্যে কুরআনই চূড়ান্ত মীমাংসাকারী। আল্লাহ বলেছেনঃ “তোমরা তাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়ো না।” তিনি বলেন, “এ আয়াত সে সব মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য যাদের জন্য রুজআতের অধিকার আছে। তাই তিন তালাকের পর নতুন করে আর কী থাকতে পারে? এরপর তোমরা কী করে বলতে পার যে, যে মহিলা গর্ভবতী নয় তার জন্য কোন খোরপোষ নেই? এরপরও তোমরা তাকে কিসের ভিত্তিতে তোমাদের ঘরে আটক করে রাখবে?”
৩৫৯৭
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
শা’বী (রহঃ)
"আমি ফাতিমা বিনতে কায়সের কাছে গেলাম এবং তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করলাম।" তিনি বলেন, "তার স্বামী তাকে বায়েন তালাক দিলেন।" তিনি বলেন, "এরপর আমি বাসস্থান ও খোরপোশের জন্য তার বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে বিচারপ্রার্থী হলাম।" তিনি বলেন, "তিনি আমার পক্ষে বাসস্থান ও খোরপোশের রায় দেননি। উপরন্তু তিনি আমাকে ইবনু উম্মু মাকতূমের ঘরে ‘ইদ্দত পালনের নির্দেশ দিলেন।"
৩৫৯৮
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
শা’বী (রহঃ)
আমি ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। এরপর পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন।
৩৫৯৯
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
শা’বী (রহঃ)
আমরা ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ)-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি আমাদের ইবনু তাব নামক টাটকা খেজুর দ্বারা আপ্যায়িত করলেন এবং গম ও যবের ছাতুর শরবত পান করালেন। এরপর আমি তাঁকে তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, সে ইদ্দত পালন করবে কোথায়? তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়েছিলেন। তখন নবী (ﷺ) আমাকে আমার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে ইদ্দত পালনের অনুমতি দিলেন।
৩৬০০
বায়িন ত্বলাক্বপ্রাপ্ত[৬১] স্ত্রীর জন্য খোরপোষ নেই পরিচ্ছেদ নাই
ফাত্বিমাহ্ বিনতু ক্বায়স (রাঃ)
নবী (ﷺ) থেকে তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলা সম্পর্কে বর্ণিত। তিনি (ﷺ) বলেন, তার জন্য বাসস্থান ও খোরাকপোষ কোনোটাই নেই।