৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৫৭/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৫৬২
সম্মতি ব্যতীত ঋতুমতীকে ত্বলাক্ব প্রদান হারাম, যদি ত্বালাক্ব দেয় তবে ত্বালাক্ব হয়ে যাবে এবং ত্বালাক্ব প্রদানকারীকে রাজ‘আতের (স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যুবায়র (রহঃ)
তিনি আযযাহ-এর মাওলা (আজাদকৃত গোলাম) আবদুর রহমান ইবনু আইমান (রহঃ)-কে ইবনু উমর (রাঃ)-এর কাছে প্রশ্ন করতে শুনলেন, আবু যুবাইর (রহঃ) তখন শুনছিলেন– “যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে হায়েজ অবস্থায় তালাক দিল তার সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?”ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে ইবনু উমর (রাঃ) তাঁর স্ত্রীকে তালাক দিল যখন সে ঋতুমতী ছিল। উমর (রাঃ) এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, ‘‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) তার স্ত্রীকে হায়েজ অবস্থায় তাকে তালাক দিয়েছে। নবী (ﷺ) তাঁকে বললেন, সে যেন তাকে পুনঃগ্রহণ করে নেয়। সুতরাং (এভাবে) তিনি তাকে (স্ত্রীকে) ফিরিয়ে নিলেন। তিনি (ﷺ) আরও বললেন, যখন (হায়েজ হতে) পবিত্র হয়ে যাবে তখন (ইচ্ছা করলে) যেন তালাক দেয় কিংবা রেখে দেয়।ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, এবং (এ সময়) নবী (ﷺ) তিলাওয়াত করলেনঃ (অর্থ) “হে নবী! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীদের তালাক দিতে ইচ্ছা কর তখন তাদের তালাক দিও তাদের ইদ্দতের (সময় আগমনের) অগ্রভাগে”- (সূরা আত-তালাক ৬৫:১)।
৩৫৬৩
সম্মতি ব্যতীত ঋতুমতীকে ত্বলাক্ব প্রদান হারাম, যদি ত্বালাক্ব দেয় তবে ত্বালাক্ব হয়ে যাবে এবং ত্বালাক্ব প্রদানকারীকে রাজ‘আতের (স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যুবায়র (রহঃ)-এর সূত্রে ইবনু ‘উমার (রাঃ)
পূর্বোক্ত বর্ণনার ন্যায় রিওয়ায়াত করেছেন।
৩৫৬৪
সম্মতি ব্যতীত ঋতুমতীকে ত্বলাক্ব প্রদান হারাম, যদি ত্বালাক্ব দেয় তবে ত্বালাক্ব হয়ে যাবে এবং ত্বালাক্ব প্রদানকারীকে রাজ‘আতের (স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ যুবায়র (রহঃ)
তিনি উরওয়া (রহঃ)-এর আজাদকৃত গোলাম আবদুর রহমান ইবনু আইমান (রহঃ)-কে ইবনু উমর (রাঃ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করতে শুনেছেন এবং আবু যুবাইর (রহঃ) তখন হাজ্জাজ (রহঃ)-এর হাদিসের অনুরূপ শুনছিলেন এবং তাতে কিছু অধিক তথ্য রয়েছে। ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন, উরওয়ার মাওলা বলে রাবী বিচ্যুতির শিকার হয়েছেন। মূলত হবে আযযার মাওলা।
৩৫৬৫
তিন ত্বলাক্ব প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘‘আব্বাস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে এবং আবু বকর (রাঃ)-এর যুগে ও উমর (রাঃ)-এর খিলাফাতের প্রথম দুই বছর পর্যন্ত তিন তালাক এক তালাক সাব্যস্ত হত। পরে উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বললেন, লোকেরা একটি বিষয়ে অতি ব্যস্ততা দেখিয়েছে যাতে তাদের ধৈর্যের (ও সুযোগ গ্রহণের) অবকাশ ছিল। এখন যদি বিষয়টি তাদের জন্য কার্যকর সাব্যস্ত করে দেই...(তবে তা-ই কল্যাণকর হবে)। সুতরাং তিনি তা তাদের জন্য বাস্তবায়িত ও কার্যকর সাব্যস্ত করলেন।
৩৫৬৬
তিন ত্বলাক্ব প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
ত্বাউস (রহঃ)
আবু আস্ সাহবা (রহঃ) ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বললেন, আপনার সে সব (বিরল ও অভিনব প্রকৃতির হাদিস) হতে কিছু উপস্থাপন করুন না! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং আবু বকর (রাঃ)-এর যুগে তিন তালাক কি এক (তালাক) ছিল না? তিনি বললেন, ‘তা ছিল তো’; পরে যখন উমর (রাঃ)-এর যুগে লোকেরা বেধড়ক ও উপর্যুপরি তালাক দিতে লাগল তখন উমর (রাঃ) সেটিকে (অর্থাৎ তিন তালাকের যথার্থ বিধি)- তাদের জন্য কার্যকর করলেন।
৩৫৬৭
তিন ত্বলাক্ব প্রসঙ্গে পরিচ্ছেদ নাই
আবূ আস্‌ সাহ্‌বা (রহঃ)
তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ)-কে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বকর (রাঃ)-এর সময়ে কি তিন তালাককে এক তালাক ধরা হত? তিনি বলেন, হ্যাঁ, এরূপই ছিল। তবে উমর (রাঃ)-এর যমানায় লোকেরা বেধড়ক ও উপর্যুপরি তালাক দিতে লাগল। অতঃপর তিনি সেটিকে যথার্থভাবে কার্যকর করেন (অর্থাৎ তিন তালাককে কার্যকর করেন)।
৩৫৬৮
ত্বালাক্বের নিয়্যাত না করে স্ত্রীকে ‘হারাম’ সাব্যস্ত করলে তার উপর কাফ্ফারাহ্ ওয়াজিব হবে পরিচ্ছেদ নাই
সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে (লিখিতরূপে) বর্ণিত, সাঈদ বলেছেন যে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম করা সম্বন্ধে বলতেন যে, তা কসম সাব্যস্ত হবে, এর কাফফারা আদায় করবে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) এ প্রসঙ্গে আরও বলেছেন, (পবিত্র কুরআনের) আয়াত উদ্ধৃত করে “তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” (সূরা আল আহযাব ৩৩:২১)
৩৫৬৯
ত্বালাক্বের নিয়্যাত না করে স্ত্রীকে ‘হারাম’ সাব্যস্ত করলে তার উপর কাফ্ফারাহ্ ওয়াজিব হবে পরিচ্ছেদ নাই
সা’ঈদ ইবনু জুবায়র (রহঃ)
তিনি ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, কোন পুরুষ তার স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম (ঘোষণা) করলে তা কসম সাব্যস্ত হবে, তার কাফ্‌ফারা আদায় করবে। তিনি আরও বলেছেন, তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।
৩৫৭০
ত্বালাক্বের নিয়্যাত না করে স্ত্রীকে ‘হারাম’ সাব্যস্ত করলে তার উপর কাফ্ফারাহ্ ওয়াজিব হবে পরিচ্ছেদ নাই
উবায়দ ইবনু ‘উমায়র (রহঃ)
তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে এ মর্মে হাদীসের খবর প্রদান করতে শুনেছেন যে, নবী (ﷺ) (আসর পরবর্তী সময় হুজরাসমূহে আবর্তনকালে) যায়নাব বিনত জাহশ (রাঃ)-এর গৃহে অবস্থান করে সেখানে মধু পান করেন। আয়েশা (রাঃ) বললেন, আমি ও হাফসা মিলে এরূপ যুক্তি-পরামর্শ করলাম যে, আমাদের দুইজনের মাঝে যার কাছেই নবী (ﷺ) (প্রথমে) আগমন করবেন, সে বলবে- “আমি আপনার মুখে মাগাফীর-এর দুর্গন্ধ পাচ্ছি। আপনি মাগাফীর খেয়েছেন।” পরে তিনি এদের কোন একজনের কাছে গেলে সে তাঁকে অনুরূপ বলল। নবী (ﷺ) বললেন, বরং আমি তো যায়নাব বিনত জাহশ-এর ঘরে মধু পান করেছি এবং পুনরায় কখনো পান করব না।তখন নাযিল হল- (অর্থ) “হে নবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা বৈধ করেছেন, আপনি তা হারাম করছেন কেন? আপনি আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি কামনা করছেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। আল্লাহ তোমাদের শপথ হতে মুক্তি লাভের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহ তোমাদের সহায়; তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। স্মরণ কর-নবী তাঁর স্ত্রীদের একজনকে গোপনে কিছু বলেছিলেন। অতঃপর যখন সে তা অন্যকে বলে দিয়েছিল এবং আল্লাহ নবীকে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তখন নবী এ বিষয় কিছু ব্যক্ত করলেন; কিছু অব্যক্ত রাখলেন। যখন নবী (ﷺ) তা তার সে স্ত্রীকে জানালেন তখন সে বলল, কে আপনাকে তা অবহিত করল? নবী (ﷺ) বললেন, আমাকে অবহিত করেছেন তিনি যিনি সর্বজ্ঞ, সম্যক অবগত। যদি তোমরা উভয়ে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যেহেতু তোমাদের হৃদয় ঝুঁকে পড়েছে- আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করবেন”- (সূরা আত তাহরীম: ৬৬ : ১-৪)। এতে “যদি তোমরা উভয়ে তওবা কর (অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর) দ্বারা আয়েশা ও হাফসা (রাঃ) উদ্দেশ্য। এবং “যখন নবী (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদের একজনকে তিনি গোপনে কিছু বলেছিলেন”- দ্বারা ‘বরং আমি মধুপান করেছি এবং আর কখনো পান করবো না’ উদ্দেশ্য”।
৩৫৭১
ত্বালাক্বের নিয়্যাত না করে স্ত্রীকে ‘হারাম’ সাব্যস্ত করলে তার উপর কাফ্ফারাহ্ ওয়াজিব হবে পরিচ্ছেদ নাই
হিশামের পিতা (‘উরওয়াহ্) সূত্রে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিষ্ট দ্রব্য (হালুয়া) ও মধু পছন্দ করতেন। তাঁর নিয়ম ছিল- আসরের সালাত আদায়ের পরে স্ত্রীদের ঘরে ঘরে এক চক্কর দিয়ে আসতেন এবং তাঁদের সান্নিধ্য-সন্নিকটে গমন করতেন। এভাবে তিনি হাফসা (রাঃ)-এর কাছে গেলেন এবং তাঁর কাছে স্বাভাবিকভাবে আবদ্ধ থাকার সময়ের চেয়ে অধিক সময় আবদ্ধ রইলেন। আমি (‘আয়িশাহ্) এ বিষয় জিজ্ঞেস করলে আমাকে বলা হল- তাঁকে (হাফসাকে) তাঁর গোত্রের কোনো মহিলা এক পাত্র মধু হাদিয়া দিয়েছিল। তাই সে তা থেকে কিছু রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে পান করিয়েছিল। (‘আয়িশাহ্ বলেন) আমি বললাম, ওহে! আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তাঁর জন্য কৌশলের ফাঁদ পাতব। আমি বিষয়টি সাওদা-এর সঙ্গে আলোচনা করলাম এবং তাঁকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তোমার কাছে আগমন করলে তিনি তো তোমার সন্নিকটে আসবেন, তখন তুমি তাঁকে বলবে, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি মাগাফীর খেয়েছেন। তখন তিনি তো তোমাকে বলবেন- ‘না’। তখন তুমি তাঁকে বলবে, (তবে) এ দুর্গন্ধ কিসের?- আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হতে দুর্গন্ধ পাওয়া যাবে- এটা ছিল তাঁর কাছে অতি অসহনীয় বিষয়। তখন তিনি তোমাকে বলবেন- হাফসা আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। তুমি তখন তাঁকে বলবে, ‘ঐ মধুর মৌমাছি- উরফুত (গাছের কষ) চুষেছে।” আর আমিও তাঁকে এভাবেই বলব। আর তুমিও হে সাফিয়া! তাই বলবে। পরে যখন নবী (ﷺ) সাওদা (রাঃ)-এর কাছে গেলেন- আয়িশা (রাঃ) বলেন, সাওদা (রাঃ)-এর বর্ণনা- “কসম সে সত্তার যিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই! তুমি আমাকে যা কিছু বলেছিলে তা তাঁর কাছে প্রকাশ করেই দিচ্ছিলাম প্রায়- তিনি (ﷺ) তখন দরজায়- তোমার ভয়ে (তা আর করা হল না)। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর নিকটবর্তী হলে সে বলল, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি মাগাফীর খেয়েছেন? তিনি বললেন, ‘না’। সে (সাওদা) বলল, “তবে এ ঘ্রাণ কিসের? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হাফসা আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। সাওদা বলল, (তবে-তাই) তার মৌমাছি উরফুত বা মাগাফিরের ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করেছে।” পরে নবী (ﷺ) আমার নিকট আগমন করলে আমিও তাঁকে অনুরূপ বললাম। অতঃপর সাফিয়া (রাঃ)-এর কাছে গেলে সেও অনুরূপ বলল। পরে (আবার) নবী (ﷺ) হাফসা-এর নিকট গেলে সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আপনাকে তা পান করতে দিব না? নবী (ﷺ) বললেন, “তার প্রতি আমার কোন চাহিদা নেই।” আয়িশা (রাঃ) বলেন, সাওদা (রাঃ) বলতে লাগল, ‘আল্লাহর কসম! আমরা তো তাঁকে (একটি প্রিয় পানীয় হতে) বঞ্চিত করে দিয়েছি। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, চুপ থাক।