৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৫৫/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৫৪২
হাওয়া (‘আঃ)-এর অপরাধ না ঘটলে কোন নারীই স্বামীর খিয়ানাত করত না পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) সূত্রে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
যদি হাওয়া (আঃ) না হতেন তবে যুগ যুগান্তরে কোনো নারী তার স্বামীর বিশ্বাস ভঙ্গ করত না।
৩৫৪৩
হাওয়া (‘আঃ)-এর অপরাধ না ঘটলে কোন নারীই স্বামীর খিয়ানাত করত না পরিচ্ছেদ নাই
হাম্মদ ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ)
এ হল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে আমাদের কাছে আবু হুরাইরা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদিস। তিনি অনেক হাদিস উল্লেখ করেছেন। তার মাঝে অন্যতম ..... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেছেনঃ বনি ইসরাইলরা না হলে খাদ্য নষ্ট হত না এবং গোশত বিকৃত দুর্গন্ধযুক্ত হত না এবং হাওয়া (আঃ) না হলে যুগ যুগান্তরে কোন নারী তার স্বামীর বিশ্বাসভঙ্গ করত না।
৩৫৪৪
সম্মতি ব্যতীত ঋতুমতীকে ত্বলাক্ব প্রদান হারাম, যদি ত্বালাক্ব দেয় তবে ত্বলাক্ব হয়ে যাবে এবং ত্বালাক্ব প্রদানকারীকে রাজ‘আতের (স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
নাফি’ (রহঃ)-এর সূত্রে ইবনু ‘উমার (রাঃ)
নবী (ﷺ)-এর সময়কালে তিনি (ইবন উমর) তাঁর স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলেন। তখন উমর (রাঃ) এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন, তাকে [‘‘আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ)-কে] আদেশ কর, যেন সে তাকে (স্ত্রীকে) রাজ‘আত করে (পুনঃ স্ত্রীরূপে গ্রহণ করে) নেয়।অতঃপর তার (হায়েজ হতে) পবিত্র হবার পরে পুনঃ হায়েয এবং তার পরে পুনঃ পবিত্র (তুহর) হওয়া পর্যন্ত তাকে স্থিতাবস্থায় রেখে দেয়। এরপর পরবর্তী সময় তার ইচ্ছা হলে তাকে (স্ত্রী রূপে) রেখে দিবে। আর ইচ্ছে হলে সহবাসের পূর্বে তাকে তালাক দিবে। এটা হল সে ‘ইদ্দত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তালাক দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ আদেশ করেছেন।
৩৫৪৫
সম্মতি ব্যতীত ঋতুমতীকে ত্বলাক্ব প্রদান হারাম, যদি ত্বালাক্ব দেয় তবে ত্বলাক্ব হয়ে যাবে এবং ত্বালাক্ব প্রদানকারীকে রাজ‘আতের (স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
নাফি’ (রহঃ) সূত্রে ‘‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)
তিনি তাঁর এক স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় এক তালাক দিয়ে দেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে হুকুম দিলেন যেন সে স্ত্রীকে রাজআত করে নেয়। অতঃপর পবিত্র হওয়ার পরে পুনঃ আর একটি হায়েয হওয়া পর্যন্ত তাকে নিজের কাছে রেখে দিবে। এরপর তার (এ পরবর্তী) হায়েয হতে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে। তখন যদি তাকে তালাক দেয়ার ইচ্ছা হয় তবে পবিত্র হবার সময় তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার আগে তাকে তালাক দিবে। এটাই হল সে ইদ্দত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তালাক প্রদানের আদেশ আল্লাহ দিয়েছেন।ইবন রুমহ (রহঃ) তাঁর রিওয়ায়াতে অধিক বলেছেন- এবং এ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হলে আবদুল্লাহ (রাঃ) তাঁদের (প্রশ্নকর্তাদের) যে কাউকে বলতেন: দেখ, তুমি তোমার স্ত্রীকে (যতক্ষণ) একবার কিংবা দুবার তালাক দিলে তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এরূপ (রাজআত) করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তুমি তাকে তিন তালাক দিয়ে দিলে তবে সে (স্ত্রী) তোমার জন্য হারাম হয়ে যাবে- যতক্ষণ না তুমি ব্যতীত অন্য কাউকে সে বিয়ে করে। আর তোমার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ব্যাপারে আল্লাহ তোমাকে বিধান দিয়েছিলেন তাতে তুমি তাঁর প্রতি অবাধ্যতা দেখালে। ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেছেনঃ রাবী লায়স (রহঃ) (কুতায়বাহ প্রমুখের শায়খ) তাঁর ‘একটি তালাক’ কথাটি স্পষ্ট করে দিয়ে উত্তম কাজ করেছেন।
৩৫৪৬
সম্মতি ব্যতীত ঋতুমতীকে ত্বলাক্ব প্রদান হারাম, যদি ত্বালাক্ব দেয় তবে ত্বলাক্ব হয়ে যাবে এবং ত্বালাক্ব প্রদানকারীকে রাজ‘আতের (স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু ‘উমার (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম, তখন সে ঋতুমতী ছিল। উমর (রাঃ) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আলোচনা করলে তিনি বললেন, তাকে আদেশ কর সে যেন তাকে রজ'আত (পুনঃগ্রহণ) করে।অতঃপর পবিত্র হয়ে পুনরায় আর একটি মাসিকে ঋতুমতী হওয়া পর্যন্ত তাকে স্থিতাবস্থায় রেখে দিবে। পরে যখন পবিত্র হবে তখন তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার আগে (যৌন সঙ্গম মুক্ত তুহর কালে) তাকে তালাক দিবে কিংবা তাকে (স্ত্রীরূপে) রেখে দিবে। কেননা, এটাই হল সে ইদ্দাত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তালাক দেয়ার জন্য আল্লাহ তা'আলা আদেশ করেছেন। রাবী উবাইদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, আমি শায়খ নাফি' (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, সে তালাকটির কী হল? তিনি বললেন, একটি; তা ধার্য করা হল।
৩৫৪৭
সম্মতি ব্যতীত ঋতুমতীকে ত্বলাক্ব প্রদান হারাম, যদি ত্বালাক্ব দেয় তবে ত্বলাক্ব হয়ে যাবে এবং ত্বালাক্ব প্রদানকারীকে রাজ‘আতের (স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
উবায়দুল্লাহ (রহঃ)
অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। তবে নাফি (রহঃ)-এর উদ্দেশ্যে, উবাইদুল্লাহ (রহঃ)-এর বক্তব্যটি এতে উল্লেখিত হয়নি। এছাড়া ইবনুল মুসান্না (রাঃ) তার রিওয়ায়াতে বলেছেন فَلْيَرْجِعْهَا ‘সে যেন প্রত্যাহার করে’ এবং আবু বকর (রহঃ) বলেছেন فَلْيُرَاجِعْهَا ‘সে যেন ফিরিয়ে নেয়’।
৩৫৪৮
সম্মতি ব্যতীত ঋতুমতীকে ত্বলাক্ব প্রদান হারাম, যদি ত্বালাক্ব দেয় তবে ত্বালাক্ব হয়ে যাবে এবং ত্বালাক্ব প্রদানকারীকে রাজ‘আতের (স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
নাফি’ (রহঃ)
ইবন উমর (রাঃ) তাঁর স্ত্রীকে তার ঋতুকালীন অবস্থায় তালাক দিলেন। তখন উমর (রাঃ) নবী (ﷺ)-কে (এ বিষয়ে) জিজ্ঞেস করলে তিনি তাঁকে (ইবন উমরকে) হুকুম দিলেন যে, স্ত্রীকে সে রজ‘আত (পুনঃগ্রহণ) করে নিবে। এরপর তাকে অপর একটি ঋতুতে ঋতুমতী হওয়া পর্যন্ত অবকাশ দিবে। অতঃপর (ঋতু হতে) পবিত্র হওয়া পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে। পরে তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার আগেই তাকে তালাক দিবে। এটাই হল সে ইদ্দত যার প্রতি লক্ষ্য রেখে স্ত্রীদের তালাক দেয়ার জন্য মহামহীয়ান আল্লাহ হুকুম করেছেন। রাবী (নাফে) বলেন, পরবর্তীতে স্ত্রীর হায়য অবস্থায় তালাক প্রদানকারী পুরুষ (এর মাসআলা) সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে ইবন উমর (রাঃ) বলতেন, যদি তুমি একটি কিংবা দুইটি তালাক দিয়ে থাক, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে হুকুম দিয়েছেন যে, সে তাকে রজ‘আত করে নিবে। অতঃপর আর একটি হায়েযে ঋতুমতী হওয়া পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে, এরপর পবিত্রতা (তুহর) পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিবে। অতঃপর স্পর্শ (যৌন সঙ্গম) করার আগেই তালাক দিবে (যদি ইচ্ছা কর)। আর যদি তুমি তাকে তিন তালাক দিয়ে থাক তবে তুমি তোমার প্রতিপালকের অবাধ্য হয়েছো- তোমার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ব্যাপারে তিনি তোমাকে যে আদেশ করেছেন সে ব্যাপারে এবং সে স্ত্রী তোমার সঙ্গ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
৩৫৪৯
সম্মতি ব্যতীত ঋতুমতীকে ত্বলাক্ব প্রদান হারাম, যদি ত্বালাক্ব দেয় তবে ত্বালাক্ব হয়ে যাবে এবং ত্বালাক্ব প্রদানকারীকে রাজ‘আতের (স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
সালিম ইবনু ‘‘আবদুল্লাহ (রহঃ)
ইবন উমর (রাঃ) বলেছেন, আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম- তখন সে ঋতুমতি ছিল। উমর (রাঃ) তা নবী (ﷺ)-এর নিকট উল্লেখ করলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগান্বিত হলেন। পরে বললেন, তাকে আদেশ কর সে যেন তাকে রজআত করে নেয়- যতক্ষণ না যে হায়েজ কালে তাকে তালাক দিয়েছে সেটি ব্যতীত আর একটি হায়েজে সে ঋতুমতি হয়।তখন যদি তাকে তালাক দেয়া তার মনপুত হয় তবে যেন তার হায়েজ থেকে পবিত্র হওয়া অবস্থায় তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করার আগে তাকে তালাক দেয়। তিনি আরো বললেন, এটিই হল ইদ্দতের (সময় নির্ধারণের) জন্য তালাক প্রদান যেমন আল্লাহ হুকুম করেছেন।(সালিম বলেন) “আবদুল্লাহ (রাঃ) তাকে এক তালাক দিয়েছিলেন। সেটি তার তালাক গণনা করা হল (অর্থাৎ এক তালাক ধরা হল) এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নির্দেশ অনুসারে আবদুল্লাহ (রাঃ) তাকে (স্ত্রীকে) রজআত করে নিয়েছিলেন।”
৩৫৫০
সম্মতি ব্যতীত ঋতুমতীকে ত্বলাক্ব প্রদান হারাম, যদি ত্বালাক্ব দেয় তবে ত্বালাক্ব হয়ে যাবে এবং ত্বালাক্ব প্রদানকারীকে রাজ‘আতের (স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
(পূর্বোক্ত সনদের ন্যায়) যুহরী (রহঃ)
তবে এতে রাবী (সরাসরি ইবনু উমর (রাঃ)-এর উক্তি উদ্ধৃত করে) বলেছেন যে, ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেন, পরে আমি তাকে রজ‘আত করে নিলাম এবং তাকে যে তালাকটি দিয়েছিলাম তা তার জন্য একটি তালাকরূপে হিসাব করা হল।
৩৫৫১
সম্মতি ব্যতীত ঋতুমতীকে ত্বলাক্ব প্রদান হারাম, যদি ত্বালাক্ব দেয় তবে ত্বালাক্ব হয়ে যাবে এবং ত্বালাক্ব প্রদানকারীকে রাজ‘আতের (স্ত্রী ফিরিয়ে নেয়ার) নির্দেশ দিতে হবে পরিচ্ছেদ নাই
সালিম (রহ) সূত্রে ‘উমার (রাঃ)
তিনি নিজের স্ত্রীকে তার ঋতুমতী অবস্থায় তালাক দিলেন। তখন উমর (রাঃ) বিষয়টি নবী (ﷺ)-এর কাছে আলোচনা করলেন। তিনি বললেন, “তাকে আদেশ কর যেন সে তাকে রাজ‘আত করে নেয়। পরে যেন তাকে তুহর (পবিত্র) অবস্থায় কিংবা গর্ভাবস্থায় (অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে) তালাক দেয়।”