৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৫৪/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৫৩২
কুমারীর পানিগ্রহণ মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
কোন এক যুদ্ধে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা যখন প্রত্যাগমন করতে লাগলাম তখন আমি আমার একটি ধীরগামী উটে করে দ্রুত চলার চেষ্টা করলাম। আমার পিছন থেকে একজন আরোহী আমার সঙ্গে মিলিত হল এবং সে তার হাতের একটি ছোট বর্শা দিয়ে আমার উটকে খোঁচা দিল। ফলে আমার উটটি তোমার দেখা উটপালের শ্রেষ্ঠ উটের ন্যায় দ্রুতগতিতে চলতে লাগল। আমি তখন পিছনের দিকে তাকালাম- দেখি যে, আমি রয়েছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পাশে।তিনি বললেন, হে জাবির! তোমার এ ব্যস্ততা কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি ঘরে নতুন স্ত্রী রেখে এসেছি। তিনি বললেন, তুমি কি কোন কুমারীকে বিয়ে করেছো না কোন বিধবাকে? জাবির (রাঃ) বলেন, আমি বললামঃ বিধবাকে। তিনি (ﷺ) বললেন, কোন তরুণীকে (কুমারীকে) কেন বিয়ে করলে না- যার সঙ্গে তুমি ক্রীড়া-কৌতুক করতে এবং সেও তোমার সঙ্গে আমোদ-আহলাদ করত।জাবির (রাঃ) বলেন, আমরা যখন মাদীনার সন্নিকটে উপনীত হয়ে সেখানে প্রবেশ করতে উদ্যত হলাম তখন তিনি (ﷺ) বললেন, একটু অবকাশ দাও, রাত পর্যন্ত অর্থাৎ ইশার সময় আমরা প্রবেশ করব- যাতে এলোকেশিনী তার কেশ বিন্যাস করে নিতে পারে এবং স্বামী প্রবাসিনী পরিচ্ছন্নতা অর্জনের প্রস্তুতি নিতে পারে। জাবির (রাঃ) বলেন, তিনি (ﷺ) আরো বললেন, তুমি যখন পৌঁছে যাবে তখন সঙ্গ সুখ লাভ করবে।
৩৫৩৩
কুমারীর পানিগ্রহণ মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে একটি যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমার উটটি আমাকে ধীর গতির শিকার বানাল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আমার কাছে এসে আমাকে বললেন, “হে জাবির!” আমি বললাম, “জি!” তিনি বললেন, “তোমার ব্যাপার কী?” আমি বললাম, “আমার উট আমাকে ধীর গতিতে ফেলে দিয়েছে এবং পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছে। ফলে আমি পিছনে পড়ে গিয়েছি।”তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নেমে পড়ে তার (বাঁকানো মাথা) লাঠি দিয়ে উটকে গুঁতো দিলেন, এরপর বললেন, “আরোহন করো।” আমি তখন আরোহন করলাম। আমি (উটটিকে তার অতি দ্রুত গতির কারণে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অতিক্রম করে যেতে দেখে ঠেকাতে লাগলাম।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তুমি কি বিয়ে করেছ?” আমি বললাম, “হ্যাঁ।” তিনি (ﷺ) বললেন, “কুমারী না বিধবা?” আমি বললাম: “বিধবা!” তিনি (ﷺ) বললেন, “তবে কোনো কুমারীকে কেন বিয়ে করলে না, যার সঙ্গে তুমি খেলা-ধুলা বা কৌতুক করতে, সে-ও তোমার সঙ্গে আমোদ-ফুর্তি করত?” আমি বললাম, “আমার বেশ কয়েকটি বোন (অবিবাহিতা) রয়েছে। তাই আমি এমন নারীকে বিয়ে করা পছন্দ করলাম যে তাদের গুছিয়ে রাখবে, তাদের মাথা আঁচড়ে দিবে এবং তাদের দেখাশোনা করবে।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “তুমি তো (মদিনায়) উপনীত হতে যাচ্ছ; তাই যখন পৌঁছে যাবে তখন স্ত্রীর সাথে মিলিত হবে।” পরে তিনি বললেন, “তোমার উটটি বিক্রি করবে কি?” আমি বললাম, “জি হ্যাঁ।” তিনি তখন আমার নিকট হতে এক উকিয়্যাহ (চল্লিশ দিরহাম সমমূল্যের) বিনিময়ে কিনে নিলেন।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যথাসময়ে মদিনায় পৌঁছলেন। আমিও সকালে উপস্থিত হয়ে মসজিদে (নববীতে) পৌঁছলাম এবং তাঁকে মসজিদের দরজায় পেয়ে গেলাম। “আমি যখন এলাম তুমি কি তখন এসেছ?” আমি বললাম, “জি হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “তবে তোমার উটটি রেখে দাও এবং (মসজিদে) প্রবেশ করে দুই রাকাত সালাত আদায় করে নাও।”জাবির (রাঃ) বলেন, “আমি প্রবেশ করে সালাত আদায় করলাম। পরে ফিরে এলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এক উকিয়্যাহ ওজন করে দেয়ার জন্য বিলাল (রাঃ)-কে হুকুম করলেন। বিলাল (রাঃ) তখন আমাকে ওজন করে দিলেন এবং ওজনে পাল্লা বাড়িয়ে দিলেন।”জাবির (রাঃ) বলেন, “তখন আমি চলে যেতে লাগলাম। আমি কিছু দূরে চলে গেলে তিনি (ﷺ) বললেন: ‘জাবিরকে আমার কাছে ডেকে আন।’ তখন আমাকে ডাকা হল। আমি (মনে মনে) বললাম, এখন উটটি আমাকে ফিরিয়ে দেবেন, অথচ আমার কাছে ওর চেয়ে অধিক অপছন্দনীয় আর কিছু ছিল না।” তিনি বললেন, “তোমার উট তুমি নিয়ে যাও আর তোমার মূল্য তোমারই রইল।”
৩৫৩৪
কুমারীর পানিগ্রহণ মুস্তাহাব পরিচ্ছেদ নাই
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)
আমরা কোন এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে ছিলাম। আমি ছিলাম আমার একটি (পানিবাহী) উটের পিঠে। ওটি ছিল কাফিলার পশ্চাদ্বর্তীদের মাঝে। জাবির (রাঃ) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে পিটুনি দিলেন কিংবা (বর্ণনায় দ্বিধা) তিনি বলেছেন যে, তাকে খোঁচা দিলেন- আমার (আবু নাযরা) ধারণা তিনি (জাবির) বলেছেন যে, কোন কিছু দিয়ে যা তাঁর সঙ্গে ছিল। জাবির (রাঃ) বলেন, এরপর সে (উট) কাফিলার লোকদের আগে আগে চলে যেতে লাগল এবং আমাকে (আমার ধরে রাখা লাগামসহ) টেনে নিয়ে যেতে লাগল। এমন কি আমি তাকে ঠেকিয়ে রাখছিলাম।জাবির (রাঃ) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-বললেনঃ এত এত-এর বিনিময়ে এটি তুমি আমার কাছে বেচবে কি? এবং আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি বললামঃ এটি আপনার জন্য, হে আল্লাহর নবী! তিনি বললেন, এত এত-তে সেটি তুমি আমার কাছে বেচবে কি? এবং আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, এটি আপনার। জাবির (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) আমাকে আরও বললেন, তোমার পিতার (মৃত্যুর) পরে তুমি কি বিয়ে করেছ? আমি বললাম, জ্বি হ্যাঁ। তিনি বললেন, বিধবা না কুমারীকে? জাবির (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, বিধবাকে। তিনি বললেন, “তবে তুমি কোন কুমারীকে বিয়ে করলে না কেন- যে তোমাকে আমোদ-প্রমোদে রাখত আর তুমি তার সঙ্গে ক্রীড়া স্ফূর্তি করতে।”(রাবী) আবু নাযরা (রহঃ) বলেন, এ কথাটি (অর্থাৎ আল্লাহ তোমার মাগফিরাত করুন!) ছিল একটি বাক্যাংশ যা মুসলিমগণ তাদের কথাবার্তায় (কথার মাত্রা ও বাচনভঙ্গী রূপে) উচ্চারণ করতেন। তারা বলতেন এরূপ ও এমন কর...আল্লাহ তোমার মাগফিরাত করুন।
৩৫৩৫
দুনিয়ার সর্বোত্তম সম্পদ সতী নারী পরিচ্ছেদ নাই
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাযিঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: দুনিয়া উপভোগের উপকরণ (ভোগ্যপণ্য) এবং দুনিয়ার উত্তম উপভোগ্য উপকরণ পুণ্যবতী নারী।
৩৫৩৬
মহিলাদের সদুপদেশ দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নারী পাঁজরের হাড়ের ন্যায় (বাঁকা)। যখন তুমি তাকে সোজা করতে যাবে তখন তা ভেঙে ফেলবে আর তার মাঝে বক্রতা রেখে দিয়েই তা দিয়ে তুমি উপকার হাসিল করবে।
৩৫৩৭
মহিলাদের সদুপদেশ দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
ইবনু শিহাব যুহরী (রহঃ)
অনুরূপ রেওয়ায়াত করেছেন।
৩৫৩৮
মহিলাদের সদুপদেশ দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের একটি হাড় দিয়ে। সে কখনো তোমার জন্য কোনো নিয়মতান্ত্রিকতায় স্থির থাকবে না। সুতরাং তুমি যদি তাকে দিয়ে উপকৃত হতে চাও তবে তার বক্রতা অবশিষ্ট রেখেই তাকে দিয়ে উপকৃত হতে হবে। আর তাকে সোজা করতে গেলে তুমি তাকে ভেঙে ফেলবে- আর তাকে ভেঙে ফেলা অর্থ হলো তাকে তালাক দেয়া।
৩৫৩৯
মহিলাদের সদুপদেশ দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যখন কোন বিষয় প্রত্যক্ষ করবে তখন হয়তো উত্তম কথা বলবে, অন্যথায় চুপ থাকবে। আর নারীদের প্রতি কল্যাণের (ও সদাচরণের) অঙ্গীকার গ্রহণ কর। কেননা পাঁজরের একটি হাড় দিয়ে নারী সৃষ্ট হয়েছে এবং পাঁজরের সবচেয়ে বেশি বাঁকা হলো তার উপরের অংশ। তুমি তাকে সোজা করতে গেলে তা ভেঙে ফেলবে। আর তাকে (যথাবস্থায়) ছেড়ে রাখলে তা সদা বাঁকা থেকেই যাবে। নারীদের কল্যাণের নাসিহাত গ্রহণ ও অঙ্গীকারাবদ্ধ হও।
৩৫৪০
মহিলাদের সদুপদেশ দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মুমিন পুরুষ কোন মুমিন নারীর প্রতি বিদ্বেষ-ঘৃণা পোষণ করবে না; (কারণ) তার কোন চরিত্র অভ্যাসকে অপছন্দ করলে তার অন্য কোন (চরিত্র-অভ্যাস) টি সে পছন্দ করবে। অথবা বলেছেনঃ "غيره"।
৩৫৪১
মহিলাদের সদুপদেশ দেয়া পরিচ্ছেদ নাই
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নবী (ﷺ) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।