৭৪৫৩
মোট হাদিস
৭৪৫৩
দেখানো হচ্ছে
১৩৭৪
অধ্যায়
২৬১৯
বর্ণনাকারী
৩৫২/৭৪৬
পৃষ্ঠা
১৯৯
পছন্দ
ইসলামিক ফাউন্ডেশন

মুসলিম শরীফ

অধ্যায়: সকল উপ-অধ্যায়: সকল হাদিস নং: সকল বর্ণনাকারী: সকল হাদিস সংখ্যা: ৭৪৫৩
৩৫১২
ক্বায়িফ কর্তৃক পিতার সাথে সন্তানের সম্পর্ক নিরূপণ পরিচ্ছেদ নাই
হারমালাহ্ ইবনু ইয়াহ্ইয়া ও ‘আব্দ ইবনু হুমায়দ (রহিমাহুমুল্লাহ)
সকলেই যুহরী (রহঃ) সূত্রে তাঁদের সানাদে হাদীসের মর্মানুযায়ী বর্ণনা করেন। তবে ইউনুস বর্ণিত হাদীসে অতিরিক্ত আছে, তিনি ছিলেন একজন কাইফ।
৩৫১৩
বাসর ঘর উদ্যাপনের পর স্ত্রী বাকিরা বা সায়্যিবা হলে স্বামীর সাথে থাকার ব্যাপারে কী পরিমাণ সময় লাভের অধিকারিণী পরিচ্ছেদ নাই
উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উম্মু সালমাকে বিবাহ করেন, তখন তিনি তাঁর কাছে তিন দিন অবস্থান করেন এবং তিনি বলেন, “তোমার ব্যাপারে তোমার স্বামীর (পক্ষে) কোনো প্রকার অবজ্ঞা নেই। তুমি যদি চাও তাহলে আমি তোমার কাছে সাত দিন থাকব। যদি আমি তোমার কাছে সাত দিন থাকি তবে আমার অন্যান্য স্ত্রীদের সঙ্গেও সাত দিন করে থাকব।”
৩৫১৪
বাসর ঘর উদ্যাপনের পর স্ত্রী বাকিরা বা সায়্যিবা হলে স্বামীর সাথে থাকার ব্যাপারে কী পরিমাণ সময় লাভের অধিকারিণী পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাক্‌র ইবনু ‘আবদূর রহমান (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উম্মু সালামা (রাঃ)-কে বিয়ে করলেন এবং তিনি (উম্মু সালামা) (রাত যাপনের পরে) নবী (ﷺ)-এর নিকট থাকা অবস্থায় যখন সকাল হল তখন নবী (ﷺ) তাঁকে বললেন, “তোমার প্রতি তোমার স্বামীর কোন অনাদর অনাগ্রহ নেই। তুমি চাইলে তোমার কাছে সাতদিন (একাধারে) অবস্থান করব এবং তুমি চাইলে তিনদিন করব, এরপর (পালা করে) পরিক্রমা করব।” উম্মু সালামা (রাঃ) বললেন, “তিনদিন অবস্থান করুন।”
৩৫১৫
বাসর ঘর উদ্যাপনের পর স্ত্রী বাকিরা বা সায়্যিবা হলে স্বামীর সাথে থাকার ব্যাপারে কী পরিমাণ সময় লাভের অধিকারিণী পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাক্‌র ইবনু ‘আবদুর রহমান (রা:)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উম্মু সালামা (রাঃ)-কে বিয়ে করলেন এবং তাঁর সঙ্গে বাসর যাপনের পর বের হয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন উম্মু সালামা তাঁর কাপড় টেনে ধরলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি চাইলে তোমার এখানে (অবস্থানের মেয়াদ) বাড়িয়ে দিব এবং তোমার নামে তা হিসাবে ধরব। (নিয়ম হল নব বিবাহিতা) কুমারীর জন্য সাতদিন ও বিধবার জন্য তিনদিন (প্রাথমিক অধিকার)।
৩৫১৬
বাসর ঘর উদ্যাপনের পর স্ত্রী বাকিরা বা সায়্যিবা হলে স্বামীর সাথে থাকার ব্যাপারে কী পরিমাণ সময় লাভের অধিকারিণী পরিচ্ছেদ নাই
‘আবদুর রহমান ইবনু হুমায়দ (রহ:)
এ সনদে অনুরূপ হাদিস রিওয়ায়াত করেছেন।
৩৫১৭
বাসর ঘর উদ্যাপনের পর স্ত্রী বাকিরা বা সায়্যিবা হলে স্বামীর সাথে থাকার ব্যাপারে কী পরিমাণ সময় লাভের অধিকারিণী পরিচ্ছেদ নাই
আবূ বাক্‌র ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনুল হারিস ইবনু হিশাম (রহঃ)-এর সূত্রে উম্মু সালামাহ্‌ (রাঃ)
তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বিয়ে করলেন এবং তিনি কতিপয় বিষয় উল্লেখ করেছেন যার মাঝে এ কথাটিও রয়েছে যে, নবী (ﷺ) বলেছেন: তুমি যদি চাও তবে আমি তোমাকে সাতদিন সময় দিব এবং আমার অন্য স্ত্রীদেরও সাতদিন করে সময় দিব। তোমাকে সাতদিন সময় দিলে আমার অন্য স্ত্রীদেরও সাতদিন করে সময় দিতে হবে।
৩৫১৮
বাসর ঘর উদ্যাপনের পর স্ত্রী বাকিরা বা সায়্যিবা হলে স্বামীর সাথে থাকার ব্যাপারে কী পরিমাণ সময় লাভের অধিকারিণী পরিচ্ছেদ নাই
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
বিধবা (স্ত্রী ঘরে থাকা অবস্থায়) কুমারীকে বিয়ে করলে তার কাছে (প্রথমবারে লাগাতার) সাতদিন অবস্থান করবে এবং কুমারী স্ত্রী থাকা অবস্থায় বিধবাকে বিয়ে করলে তার কাছে তিনদিন অবস্থান করবে। খালিদ (রাঃ) বলেন, যদি আমি বলি যে, তিনি (ঊর্ধ্বতন রাবী আনাস) হাদীসটির সানাদ নবী (ﷺ) পর্যন্ত উন্নীত করে মারফূ‘ করেছেন তবে আমি তা সত্য বলেই জানব। কিন্তু তিনি বলেছিলেন, (নতুন সহধর্মিণীর নিকট) অবস্থান করা সুন্নাতসম্মত।
৩৫১৯
বাসর ঘর উদ্যাপনের পর স্ত্রী বাকিরা বা সায়্যিবা হলে স্বামীর সাথে থাকার ব্যাপারে কী পরিমাণ সময় লাভের অধিকারিণী পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
সুন্নাত পদ্ধতি হল (নব বিবাহিতা) কুমারীর নিকট সাতদিন অবস্থান করা। খালিদ (রহঃ) বলেন, আমি চাইলে বলতে পারি যে, তিনি [আনাস (রাঃ)] হাদীসটি নবী (ﷺ) পর্যন্ত মারফূ' সনদে উন্নীত করেছেন।
৩৫২০
রাত যাপনে স্ত্রীদের মাঝে পালাবন্টন এবং প্রত্যেকের কাছে এক রাত পরের দিবাভাগ সহ অবস্থান করা সুন্নাত পরিচ্ছেদ নাই
আনাস (রাঃ)
শেষ পর্যায়ে নবী (ﷺ)-এর নয়জন সহধর্মিণী ছিলেন। নবী (ﷺ) তাদের মাঝে পালাবণ্টন কালে নয় দিনের আগে (পালার) প্রথম স্ত্রীর কাছে পুনরায় পৌঁছাতেন না। প্রতি রাতে নবী (ﷺ) যে ঘরে অবস্থান করতেন সেখানে তারা (নবী পত্নীগণ) সমবেত হতেন।একরাতে তিনি যখন আয়িশা (রাঃ)-এর ঘরে ছিলেন তখন যায়নাব (রাঃ) সেখানে আগমন করলে নবী (ﷺ) তার দিকে নিজের হাত প্রসারিত করলেন। আয়িশা (রাঃ) বললেন, ও তো যায়নাব! ফলে নবী (ﷺ) তাঁর হাত গুটিয়ে নিলেন। তখন তারা দুইজন (আয়িশা ও যায়নাব) কথা কাটাকাটি করতে লাগলেন। এমনকি তাদের কথা কাটাকাটি চরমে পরিণত হলো, ইতিমধ্যে সালাতের ইকামাত (এর সময় উপস্থিত) হলে আবু বকর (রাঃ) সেখান দিয়ে (সালাতে) যাচ্ছিলেন। তিনি ঐ দুইজনের আওয়াজ শুনতে পেয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বের হয়ে আসুন এবং ওদের মুখে ধূলা-মাটি ছুঁড়ে (দিয়ে মুখ বন্ধ করে) দিন। তখন নবী (ﷺ) বের হয়ে এলেন।আয়িশা (রাঃ) বললেন, এখন নবী (ﷺ) তাঁর সালাত আদায় করবেন, তার পরে তো আবু বকর (রাঃ) এসে আমাকে বকাঝকা ও গালমন্দ করবেন, পরে (তা-ই হল)। নবী (ﷺ) তাঁর সালাত সমাধা করলে আবু বকর (রাঃ) আয়িশা (রাঃ)-এর নিকটে এসে তাকে কড়া কথা বললেন এবং বললেন, তুমি এমনটা করে থাক!
৩৫২১
সতীনকে নিজের পালা হিবা করা বৈধ পরিচ্ছেদ নাই
আয়িশাহ্‌ (রাঃ)
সাওদা বিনত যামআ (রাঃ)-এর চেয়ে অধিক পছন্দনীয় কোন নারীকে আমি দেখিনি যার দেহের মধ্যে আমি আমার অবস্থান পছন্দ করব- এমন এক নারী যার মাঝে ছিল (ব্যক্তিত্ব সুলভ) তেজস্বিতা। আয়িশা (রাঃ) বলেন, বৃদ্ধা হয়ে গেলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট তাঁর প্রাপ্য (পালার) দিনটি আয়িশা (রাঃ)-কে হিবা করে দিলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে আমার পালার দিনটি আয়িশার জন্য দিয়ে দিলাম। ফলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়িশার জন্য দুই দিন পালা বন্টন করতেন, তার নিজের (এক) দিন এবং সাওদা (রাঃ)-এর (এক) দিন।